ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 10

লেখক: Farjana and fatema

এদিকে ইফরাও অফিসে পৌঁছে গেছে।

আজ সে তার নতুন আরেকটা ডিজাইন অনুযায়ী ড্রেস তৈরি করবে। আর মাত্র দুই দিন পর সেটি তিনটি দেশের জাজদের সামনে প্রেজেন্ট করতে হবে।

সেখানে থাকবে কোরিয়া, কানাডা আর ইস্তাম্বুল থেকে আসা তিনজন বিচারক।

তাই আজ সে পুরো মন দিয়ে কাজে নেমে পড়ল।

ডিজাইনিং রুমে গিয়ে সে তার তিনজন হেল্পিং হ্যান্ডকে ডাকল।

তাদের দিয়ে কালো রঙের উনিশটি ফ্যাব্রিক আনাল।

তারপর ধীরে ধীরে নিজের কল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে শুরু করল।

শেষ পর্যন্ত সে এমন একটি ড্রেস তৈরি করল যেখানে ওয়েস্টার্ন এলিগ্যান্স আর বাঙালি ঐতিহ্য একসাথে মিশে গেছে।

লম্বা ব্ল্যাক ওয়েস্টার্ন কাটের ড্রেস, তার উপর সূক্ষ্ম গোল্ডেন ডিজাইন, আর একপাশে এমনভাবে কাপড়ের ফ্লো রাখা হয়েছে যেন শাড়ির আঁচলের ছোঁয়া আছে।

সব মিলিয়ে কাজটা ছিল চোখে পড়ার মতো সুন্দর।

সব শেষ করে সে ড্রেসটা যত্ন করে রেডি করে বিশেষ রুমে তালা মেরে রাখল।

তারপর ছবি তুলে ইয়েরিনের রুমে গিয়ে দেখাল।

ইয়েরিন ছবিগুলো মন দিয়ে দেখে হেসে বলল,
— “ইফরা… এবারও তুই নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছিস। সবচেয়ে ভালো লেগেছে তুই শুধু ওয়েস্টার্ন করিসনি, আবার পুরো ট্র্যাডিশনালও রাখিসনি। দুটাকে এমনভাবে মিশিয়েছিস যে আলাদা একটা পরিচয় তৈরি হয়েছে।”

তারপর আবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলল,
— “এটা যদি ঠিকমতো প্রেজেন্ট করতে পারিস… তাহলে সবাই মনে রাখবে।”

সময় এগিয়ে গেলো,,
--- আজ ইফরার ড্রেস টা রিপ্রেজেন্ট করার দিন,, তবে আজ তার মডেল হয়ে ড্রেস টা রিপ্রেজেন্ট করবে তার সবচেয়ে কাছের মানুষটা,, হ্যাঁ ইয়েরিন রিপ্রেজেন্ট করবে পোশাক টা,,।।।

-"রিন এই রিন উঠ না,, আজ একটা বিশেষ দিন ভুলে গেলে চলবে না আজকের জন্য তুই আমার মডেল কোম্পানির ceo না উঠ বলছি,,।। "

-"কি সমস্যা রাই চেচাচ্ছিস কেন,, একটু ঘুমাতে দে এখনো হাতে অনেক সময় আছে,,।।"

-"আমি কিছু জানি না তুই এক্ষুনি উঠবি,,,।।"

-"বাচ্চাদের মতো জেদ করছিস কেনো বেয়াদ্দব,,।।। "

-"চুপচাপ উঠ রিন আমার রাগ হচ্ছে,,।। "

-"আচ্ছা উঠছি চেঁচাস না, ।। "

-"হুম তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় খাবার খেয়ে বেরোতে হবে,,।।"

-"যা তাড়াহুড়ো করছিস মনে হচ্ছে ঠিক করে খেতেও দিবি না..।।"

-"আরে না না বাড়ি থেকে না খেয়ে বের হলে ইসরাত ধরে পেটাবে,,।।"

-"ঠিক আছে তুই নিচে যা আসছি আমি,,।।।"

-"ইসরাত ওওও ইসরাত মরলি নাকি নিচে আয়,,।।"

-" এই ইফরা সমস্যা কি তোর এমন গরুর মতো ডাকছিস কেন,,।।"

-"কিহ্ আমি গরুর মতো ডাকি?"

-"তা নয়তো কি! সকাল সকাল কোনো মানুষ এভাবে ডাকে না...।"।"

-"ইসরাতের বাচ্চা ভালো হবে না বলে দিলাম মার খাবি তুই,,,।।"

-"কি করবি দেখা যাবে, এখন বল ডাকছিলি কেন,,?? "

-"আজ আমার ডিজাইন করা ড্রেস টা অফিসিয়ালি রিপ্রেজেন্ট করা হবে,,।। "

-"তো কি হয়েছে??এটা প্রথম বার নাকি?? "

-"তো কি হয়েছে মানে কত বড় বড় জাজ রা আসবে কত লোক আসবে তুই যাবি না?"?? "

-"হু ভাবছি যাবো,,।।"

-"ভাবছি মানে কি তুই যাবি এটাই ফাইনাল,,।।"

-"ঠিক আছে যাবো রিন কই??"

-"আর বলিস না এতক্ষণ ধরে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিলো,, অনেক কষ্ট তুলেছি,,।।"

-"হু আমি মেইড দের খাবার দিতে বলছি টেবিলে আয়,,।।"

-"যাচ্ছি দাঁড়া,,"

-"দাঁড়াতে পারবো না এমনি আয়,,,।।"

-" রাতের বাচ্চা রাত তোর ত্যাড়ামি আমি ছোটাবো দেখিস,,।।"

-"আচ্ছা ছোটাস, তার আগে শোন আমি সিঙ্গেল মানুষ শুধু ইসরাত ইসরাতের বাচ্চা না,,।।"

-"রিন আসুক একবার আজ তোর হচ্ছে,,।। "

ইসরাত হেসে ডাইনিং এর দিকে চলে গেলো,,।।

তখনই সিঁড়ি দিয়ে ইয়েরিন কে নামতে দেখে ইফরা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠলো,

-"রিন রেেেে দেখ দেখ যেখানে পুরো দুনিয়ার মানুষ আমাকে সম্মান করে চলে সেখানে এই ইসরাত আমাকে উঠতে বসতে অপমান করে যাচ্ছে,,৷। "

-"তো তুই কি ঘোড়ার ঘাস কাটছিস নাকি? তোর মুখ নেই??"

-"তুইও অপমান করছিস?  থাকবোই না এই বাড়িতে এখানে আমার কোনো সম্মানই নেই....।।।"

ইয়েরিন আর ইসরাত দুজনেই হেসে উঠলো ইফরার এমন নাটক দেখে,,।। তারপর ইসরাত বললো,,
-"স্টার জলসা আর জি বাংলাও তোর সামনে ফেইল,,।।"

ইয়েরিন বললো,,
-" অনেক হয়েছে ঢং বাদ দিয়ে এসে খেতে বস নয়তো তোকে ফেলেই আমি চলে যাবো,,।।"

-"কিহ্ আমাকে ছাড়া আমার ডিজাইন রিপ্রেজেন্ট করবি তুই???"

-"অবশ্যই তুই যদি আর একটাও ফালতু কথা বলিস তাহলে আমি তাই করতে বাধ্য হবো,,"।।"

ইফরা ইনোসেন্ট মুখ বানিয়ে বললো,,
-"আর কথা বলবো না সরি,,,।।"

তারপর সবাই খাওয়া শুরু করলো,,।।

অন্যদিকে ইসরাত এর মন কিছু টা অন্য খেয়ালে ডুবে আছে,,সে ভাবছে সিফাত আজ খেতে এলো না কেন??কোথায় গেলো আবার?? কাল থেকে আর একবারও দেখা হলো না,,।।

তার এমন হাঁসফাঁস করা ইয়েরিন আর ইফরা কারোই নজর এড়ালো না,, দুজন ইশারায় কিছু বললো তারপর মুচকি হাসলো,,,।।

-"কিরে রাত এমন ছটফট করছিস কেনো? "

-"কই না তো!!"

-"উহু আমি স্পষ্ট দেখছি তোর চোখ কাউকে খুঁজছে...।।"

-"হ্যাঁ হ্যাঁ রিন ঠিক বলেছে আমিও দেখছি,,।।"

-"বাই এনি চান্স তুই কি সিফাত কে খুঁজছিস হ্যাঁ..??"
বলেই ইফরা চোখ টিপল,,।।

সিফাত এর নাম শুনতেই ইসরাত লজ্জায় লাল হতে লাগলো,,।।

-"এই রাই চুপ কর তুই এটা আবার বলার কি আছে,, ইসরাত সিফাত কেই খুঁজছে মানে মিস করছে আর কি...!!"

কথাটা বলেই ইয়েরিন আর ইফরা হেসে উঠলো,,।।
তাদের এমন কথায় ইসরাত লজ্জায় গুটিয়ে গেলো,,।।।

তারপর বললো,,
-" তোরা আবারও ফাজলামো শুরু করলি? এমন করলে আমি খাবোই না,,,।।"

-"আরে না না আর কিচ্ছু বলবো না তুই খা,,।।"

তারপর ডাইনিং টেবিল জুড়ে শুধু নিরবতা বিরাজ করলো,,।।
খাওয়া শেষে ইয়েরিন আর ইফরা রেডি হয়ে নিলো অফিস যাওয়ার জন্য,, আজ আর তারা গাড়িতে যাবে না,, বাইক নিয়ে যাবে,,।।

ইয়েরিন নিচে নেমে দেখলো ইসরাত সোফায় বসে ফোন ঘাঁটছে,,

কন্ঠ স্বর গম্ভীর করে ইয়েরিন বললো,,
-"আমি আর রাই অফিস যাচ্ছি ওখানে গিয়ে আমাদের কিছু কাজ করতে হবে তাই আগে যাচ্ছি,, তোকে এখন নেবো না,,।।। "

-"কিহ্ তাহলে আমি যাবো কীভাবে,?? "

-"হু সেই ব্যবস্থা করা আছে,,
তুই রেডি হয়ে থাকিস সিফাত এসে তোকে ঠিক সময় মতো নিয়ে যাবে...।।"

সিফাত এর কথা শুনে ইসরাত একটু চমকালো কিন্তু ইয়েরিনের এমন গম্ভীর মুখ দেখে আর কিছু বললো না।।।
ছোট করে বললো,,-" আচ্ছা,,।। "

এমন সময় ইফরা নেমে এলো তারপর দুজন বেরিয়ে গেলো অফিস এর উদ্দেশ্যে,,,।। 

অফিসে পৌঁছেই দেখলো সমস্ত স্টাফ রা ছোটাছুটি করছে,, ইফরা হালকা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,,-" সব রেডি??"
একটা মেয়ে স্টাফ উত্তর দিলো

-"ইয়েস ম্যাম,,।।"

ব্যাস এটুকু শুনেই দুজন আর দাঁড়ালো না,,।।

ডিজাইন করা ড্রেস টা যে রুমে ছিলো সেখানে এসে থামলো দুজন,,।।

ড্রেস টা সত্যিই অসাধারণ হয়েছে....।।

ইফরা বললো,, -"ড্রেস টা ঠিক আছে তো?? আজ এ্যাওয়ার্ড টা জিততে পারবো?? "

-"এসব বিষয় নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার দরকার নেই,, আমরাই জিতবো,,, বাস্তবতার যুদ্ধে যারা জিতে যায় তারা কখনো হারতে পারে না,,।। "

ইয়েরিন হালকা হেসে আস্বস্ত করলো ইফরা কে তারপর ড্রেস টা নিয়ে চেঞ্জিং রুমে চলে গেলো.....।।

প্রায় মিনিট দশেক পর ইয়েরিন বেরিয়ে এলো,, পোষাকটি একদম নিখুঁত ভাবে মিশে গিয়েছে তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে,,।। একদম নিখুঁত ভাবে,,,

রুমে থাকা প্রতিটি স্টাফ কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো,,তবে কোনো কথা বললো না,,,কারণ তাদের জানা মতে ইয়েরিন বেশ রাগি আর বেশি কথা একদম পছন্দ করে না.
অফিসের সব কাজ গুছিয়ে শেষ করেই সিফাত বের হতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই ইফরা এসে বলল,
— “কী গো সিফাত ভাই, তুমি এখনও রাতকে আনতে যাওনি?”

সিফাত একটু অবাক হয়ে বলল,
— “রাত আবার কে?”

ইফরা হেসে বলল,
— “আরে, ইসরাতকে নিয়ে আসো যাও!”

সিফাত যেন হঠাৎ করেই মনে করল। এত কাজের ভিড়ে সে পুরো বিষয়টাই ভুলে গিয়েছিল। আর দেরি না করে ইসরাতকে আনতে রওনা হয়ে গেল।

এদিকে বাসায় ইসরাত শুনেছে সিফাত তাকে নিতে আসবে। খবরটা শোনার পর থেকেই তার মনটা অদ্ভুত রকম অস্থির হয়ে উঠল। কী করবে, কী পরবে— কিছুই যেন ঠিক করতে পারছিল না। অনেক ভেবে শেষ পর্যন্ত আইশ রঙের একটা শাড়ি বের করল। যত্ন করে পরে নিল।

তারপর খুলে দিল চুলগুলো। কোমর ছোঁয়া লম্বা চুলগুলো যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো এদিক-ওদিক দুলছিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই কয়েকবার দেখে নিল সে।

ঠিক তখনই ইফরার ফোন এলো।

ইসরাত কল ধরতেই ওপাশ থেকে ইফরা বলে উঠল,
— “কত সময় লাগে তোর? সিফাত বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তাড়াতাড়ি আয়! আর তোর নাম্বারটাও দিয়ে দিস ওকে, দরকারে কাজে লাগবে।”

ইসরাত ছোট করে বলল,
— “আচ্ছা, আসছি।”

ফোন রেখে দ্রুত ফুপ্পিকে বলে বাইরে বেরিয়ে এল।

বাইরে এসে দেখল, সিফাত বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখেই ইসরাতের পা যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন ধকধক করে উঠল।

ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতেই সিফাত সংক্ষিপ্তভাবে বলল,
— “ওঠো।”

ইসরাত চুপচাপ গিয়ে বাইকে উঠে বসল।

সিফাত বাইক স্টার্ট দিতেই হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ইসরাত একটু সামনে ঝুঁকে সিফাতের পিঠে গিয়ে ঠেকে গেল।

সিফাত হালকা হেসে বলল,
— “ধরে বসো।”

ইসরাত কিছু না বলে আস্তে করে নিজেকে সামলে নিল।

তারপর দুজন রওনা দিল গন্তব্যের উদ্দেশে।

অফিসে পৌঁছে দেখল— সবকিছু আগেই সুন্দর করে প্রস্তুত করা আছে… ✨

ওদিকে ইয়েরিন ড্রেস টা পড়ার পর কয়েকটা স্টাফ মিলে তাকে হালকা সাজিয়ে দিলো,,বেশি সাজানোর দরকার হলো না অল্প সাজেই সে মোহনীয় সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠলো,,৷।
সাহস করে একটা স্টাফ বলেই ফেললো ম্যাম আপনাকে ভীষণ চমৎকার লাগছে ড্রেস টা আপনার সৌন্দর্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে,,।।
ইয়েরিন তার দিকে ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকালো,,।।  তারপর বললো দ্রুত সব শেষ করো,।।
তখনই রুমে ইফরা প্রবেশ করলো,, ইয়েরিন কে দেখে সে কিছু মুহূর্ত থমকে দাঁড়িয়ে রইলো,,।।এগিয়ে এসে ইয়েরিন কে জড়িয়ে ধরে বললো
-"আমার পরিশ্রম সফল হয়েছে অ্যাওয়ার্ড টা পাই বা না পাই আমার কিছু যায় আসে না,,,।।"

-"তোকে মারাত্মক সুন্দর লাগছে রিন,,।।"

-"ঢং বাদ দে এসব তোর পরিশ্রম এর ফল,,।।"
এবার চলে যেতে হবে,,।।।

আজকের শো তে ৭ টি দল রয়েছে,,
প্রত্যেকেই উপস্থিত,, পুরো হল রুম ভর্তি মানুষ সামনে তিন জন বিচারক,,,।।।
ইসরাত পৌঁছেই প্রথমে ইফরাদের কাছে গেলো তারপর ইয়েরিন কে দেখে সেও মুগ্ধ হয়ে বললো
-"রিন তোকে মাশাআল্লাহ লাগছে,,।। "

-"হু জানি,,এখনই শো শুরু হবে তুই যা সিফাত তোকে তোর সিট টা দেখিয়ে দিেবে,,।।"

কিছু সময় পরই মাইক হাতে একটা লোক উঠে এলো স্টেজে,,,তারপর বললো

-"আসসালামু আলাইকুম,,
আজকের শো তে উপস্থিত সবাইকে জানাই শুভ সন্ধ্যা,,।।। আজ আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে উপস্থিত হয়েছেন আমাদের ফ্যাশান শো তে তার জন্য ধন্যবাদ,,,।।
তো আজকের শো তে performance করবে ৭ জন প্রতিযোগি,,।। এক্ষুনি শুরু হবে আমাদের ফ্যাশান শো তার আগে প্রতিযোগি ও তাদের ডিজাইনার এর নাম জেনে নেই,,,।।

প্রথম প্রতিযোগি হলেন তিথি রায়,,,ডিজাইনার মিস অহনা,,,,

দ্বিতীয় প্রতিযোগি,,, লুবণা,,,ডিজাইনার মিস তুলি,,,

তৃতীয় প্রতিযোগি রাইসা,,,ডিজাইনার মিস রিনা,,

চতুর্থ প্রতিযোগি রিমা,,,ডিজাইনার মিস আমিরা,,

পঞ্চম প্রতিযোগি মিনা,,,ডিজাইনার মিস আশা,,

ষষ্ঠ প্রতিযোগি আহিলা,,,ডিজাইনার আইরিন,,,

এবং আমাদের সপ্তম ও শেষ প্রতিযোগি হলো মিস ইয়েরিন, ডিজাইনার মিস ইফরা,,,।।।

বেশি কথা না বাড়িয়ে শুরু করছি আজকের ফ্যাশান শো,,।।।"""

এক দুই করে সবাই নিজেদের ডিজাইন রিপ্রেজেন্ট করলো,,
সবশেষে অ্যানাউজ করা হলো ইয়েরিন এর নাম,,
ইয়েরিন স্টেজে উঠতেই সব আলো নিভে গিয়ে জ্বলে উঠলো ড্রিমি লাইট ইয়েরিন হাঁটা শুরু করতেই ব্যাকরাউন্ড এ হালকা আওয়াজে বেজে উঠল "From the star" গান টা,,।।
---

কালো ড্রেসটার প্রতিটি সোনালি নকশায় যেন লুকিয়ে ছিল আরেকজন মানুষের শ্রম, ভালোবাসা আর কল্পনা। র‍্যাম্পের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি জানত, আজ সে শুধু নিজের কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করছে না; সে তুলে ধরছে তার সবচেয়ে কাছের মানুষের শিল্পকেও।

প্রায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার সেই তরুণীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি কাড়ছিল। তার ফর্সা গায়ের রঙের সঙ্গে কালো ড্রেসের গাঢ় সৌন্দর্য মিলে তৈরি করেছিল এক অপূর্ব বৈপরীত্য। কোমর ছুঁয়ে থাকা হালকা বাদামী চুলগুলো বাতাসের মৃদু স্পর্শে দুলছিল, আর তার দৃঢ় দৃষ্টিতে ছিল এমন এক বিশ্বাস, যা শুধু নিজের ওপর নয়, প্রিয় মানুষের প্রতিভার ওপরও রাখা যায়।

পায়ে স্টিলেটো হিল পরে সে যখন ধীর পদক্ষেপে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তার মনে বারবার ভেসে উঠছিল সেই বন্ধুর মুখ—যে অসংখ্য রাত জেগে এই ডিজাইনটিকে নিখুঁত করে তুলেছিল। ড্রেসটার প্রতিটি ভাঁজ, প্রতিটি সোনালি কারুকাজ যেন সেই পরিশ্রমের নীরব সাক্ষী।

দর্শকদের চোখে এটি ছিল একটি সুন্দর ডিজাইন। কিন্তু মেয়েটির কাছে এটি ছিল বন্ধুত্বের গল্প, বিশ্বাসের গল্প। তাই তার মুখের আত্মবিশ্বাস কেবল একজন মডেলের আত্মবিশ্বাস ছিল না; ছিল এমন একজন বন্ধুর গর্ব, যে পৃথিবীকে বলতে চায়—

"দেখো, এই সৌন্দর্য আমার নয়, আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষের সৃষ্টি। আমি শুধু সেটিকে সবার সামনে তুলে ধরার সৌভাগ্য পেয়েছি।"

সেই মুহূর্তে র‍্যাম্পের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছিল, সাফল্যের সবচেয়ে সুন্দর রূপ হলো—যখন নিজের স্বপ্নের সঙ্গে প্রিয় মানুষের স্বপ্নকেও সমানভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়।।।

পুরো ফ্যাশন শো টা কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে রইলো,, প্রতিটি মানুষের নজর সামনে স্টেজে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর দিকে তার গায়ের পোশাক আর তার সর্গীয় সৌন্দর্য মিলে তৈরি করেছে এক মোহনীয় পরিবেশ সমস্ত ক্যামেরা আর লাইটের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠলো ইয়েরিন,,।।

বিচারক দের দৃষ্টিও সামনেই নিবদ্ধ,,, তারা অবাক হয়ে দেখছে বাঙালি আর ওয়েস্টার্ন মিশ্রিত ডিজাইনের পোশাক পড়া মেয়েটাকে,,,।।

তবে ইয়েরিন নিশ্চল রইলো সে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে যেনো একটুও তাড়াহুড়ো নেই তার,,,

সে তার প্রিয় মানুষটার ডিজাইন করা ড্রেস টা বিশ্বের সামনে প্রদর্শিত করতে ব্যস্ত মুখে তার আত্মবিশ্বাসী হাসি,,।।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 10 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন