ড্রেস টা রিপ্রেজেন্ট করা শেষে ইয়েরিন ধীর পায়ে নেমে এলো স্টেজ থেকে,,।।
কিছুক্ষণ ব্রেক এর পর হোস্ট আবার স্টেজ এ উঠে এলো তারপর বললো৷,,
-"আজকের প্রতিটি ডিজাইন অসাধারণ ছিলো,,,।।"
আজকের এই সুন্দর সন্ধ্যায় আমরা দেখলাম কিছু সুন্দর প্রতিভাবান শিল্পীদের,, যারা নিজেদের শ্রম দিয়ে আমাদের জন্য নতুন গল্প শুরু করে,,।।
ইতিমধ্যেই আমার হাতে চলে এসেছে আজকের বিজয়ীর নাম,,,।।
বেশি ভণিতা না করে বলে ফেলি,,
তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো
আর আজকের আমাদের এই ফ্যাশান শো এর বিজয়ী হলেন,,"
কিছুক্ষণ নিরবতা চললো হোস্ট উত্তেজিত জনতার উত্তেজনা আরও একটু বাড়িয়ে দিলো,, চারিদিকে চাপা গুঞ্জন শুরু হলো,,,
প্রতিটা ডিজাইনার উত্তেজনায় ঘামতে লাগলো,,, কে বিজয়ী হবে এই চিন্তায় মগ্ন হয়ে উঠলো,,।।
তারপর সব অপেক্ষার অবশান ঘটিয়ে উচ্চস্বরে হোস্ট বলে উঠলো,,,
-"আজকের বিজয়ী হলেন মিস ইয়েরিন,, ডিজাইনার মিস ইফরা,,""
তীব্র করতালি তে ফেটে পড়লো চারপাশ,,,।।
ইয়েরিনের ঠোঁটে এখনও সেই আত্মবিশ্বাসী হাসি যেনো সে জানতো এটাই হবে...।।
তাদের স্টেজে ডেকে নেওয়া হলো,,,।।।।
এরপর আবার অ্যানাউন্স করা হলো আজকে বিজয়ীর হাত এ্যাওয়ার্ড তুলে দেবেন তিনটি দেশ থেকে আগত বিচারক গণ,,।।
আবারো চারিদিকে থেকে করতালির আওয়াজ ভেসে এলো,,।।
এ্যাওয়ার্ড দেওয়া শেষে ইয়েরিন আর ইফরা কে কিছু বক্তব্য দিতে বলা হলো,,
প্রথমে ইফরা মাইক্রোফোন হাতে তুলে নিলো
ধীরে ধীরে বলা শুরু করলো,,,
-"আজকের এই পোশাক শুধু একটি পোশাক নয়,, এটি আমার সপ্ন আমার কল্পনা,,।।
একে বাস্তব রুপ দিতে আমায় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে তবে আজ আমার পরিশ্রম সফল,,।।
সবই সম্ভব হয়েছে ইয়েরিনের জন্য,, ও শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নয় ও আমার আত্মার আরেক রুপ যার থেকে আমি শক্তি পাই,,।। ধন্যবাদ আপনাদের আমার পাশে থাকার জন্য,, সবাইকে সালাম জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি,,,।।"
এরপর মাইক্রোফোন হাতে তুলে নিলো ইয়েরিন,,
শীতল কণ্ঠে বললো,,,
-"আমি শুধু একটি ড্রেস প্রদশর্ন করি নি, আমি প্রদশর্ন করেছি একজনের সপ্ন,,,
এর প্রতিটি ভাঁজে মিশে আছে একটা মানুষের পরিশ্রম আমার খুব প্রিয় একজন মানুষের পরিশ্রম,,,।।
আমি শুধু চেয়েছি পুরো পৃথিবী জানুক তার পরিশ্রমের গল্প তার সফলতার গল্প,,,
আজকে এই পর্যন্ত আসার জন্য আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে,,,
তবে আজ সত্যি আমরা নিজেদের নিয়ে গর্বিত,,,।। "
বলেই ইয়েরিন মাইক্রোফোন টা রেখে দিলো কাউকে ধন্যবাদ দেওয়া বা এক্সট্রা ফরমালিটি করার প্রয়োজন মনে করলো না,,।৷
তার মতে এই সাফল্য শুধুই তাদের পরিশ্রমের ফল কারণ আজ তারা সফল না হলে এই মানুষ গুলো কখনো তাদের তাকিয়েও দেখতো না যারা এখন ম্যাডাম ম্যাডম করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলছে,,,।।
শো শেষ হতেই ইসরাত এসে ইয়েরিন আর ইফরা কে জড়িয়ে ধরলো,, তারপর বললো,,,
-"তোরা সত্যি অসাধারণ,, তোদের দেখলে মনে হয় তোদের আত্মা একই,,।।"
ইয়েরিন আর ইফরা কেবল হালকা হাসল,,,---!!
শো এর সব ফরমালিটি শেষ করে সবাই প্যালেসে ফিরে এলো,,।।
কিন্তু আজ ইয়েরিন আর ইফরা কে আরও একটা জায়গায় যেতে হবে তাই তারা তৈরি হয়ে নিলো,।।
__*__
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে খুনিয়া পালংয়ের জঙ্গলটা যেন বদলে যেতে শুরু করেছে।
দিনের বেলায় যে পথগুলো সাধারণ মনে হতো, অন্ধকার নেমে আসার পর সেগুলোকে মনে হচ্ছিল অজানা কোনো গোলকধাঁধার অংশ। বিশাল গাছগুলোর ছায়া জঙ্গলের মাটিতে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যেন শত শত কালো হাত নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে।
জঙ্গলের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাসাদটির জানালাগুলো একে একে অন্ধকার হয়ে এলো।
কিছুক্ষণ পর বিশাল প্রধান দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
প্রথমে বেরিয়ে এলো ইফরা।
তারপর ইয়েরিন।
কালো ওভারকোটে মোড়ানো ইয়েরিনকে দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল রাতেরই কোনো অংশ হেঁটে বেরিয়ে এসেছে।
দরজাটা আবার বন্ধ হয়ে গেল।
চারপাশে এমন নীরবতা নেমে এলো যে দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
ইফরা দু'হাত পকেটে ঢুকিয়ে ইয়েরিনের দিকে তাকাল।
-"তুই নিশ্চিত আজকেই?"
ইয়েরিন হাঁটতে হাঁটতে বলল,
-"কিছু হিসাব বেশিদিন বাকি রাখা ভালো না।"
-"আমার মনে হচ্ছে লোকটা কিছু আঁচ করতে পারছে।"
-"পারুক।"
-"তুই ভয় পাচ্ছিস না?"
ইয়েরিন থামল না।
তার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটল।
-"মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দেয় কোন জিনিস জানিস?"
-"কি?"
-"যখন সে বুঝতে পারে তার কাছে আর কোনো উত্তর নেই।"
গ্যারেজের বিশাল স্টিলের দরজা খুলতেই কালো মার্সিডিজটা চোখে পড়ল।
গাড়িটার চকচকে বডিতে আশপাশের অন্ধকার প্রতিফলিত হচ্ছিল।
ইয়েরিন চালকের সিটে বসল।
ইফরা পাশের সিটে।
ইঞ্জিন স্টার্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গভীর গর্জনের মতো শব্দ উঠল।
কয়েক সেকেন্ড পর গাড়িটা ধীরে ধীরে প্রাসাদের সীমানা পেরিয়ে অন্ধকার রাস্তার দিকে এগিয়ে গেল।
জঙ্গলের পথ শেষ হতে প্রায় বিশ মিনিট লাগল।
এই পুরো সময় কেউ কোনো কথা বলল না।
শুধু ড্যাশবোর্ডের ম্লান আলো আর সামনের রাস্তা।
হঠাৎ ইফরা নীরবতা ভাঙল।
-"তুই একটা কথা এখনও বলিসনি।"
-"কোনটা?"
-"ও তো শুধু একজন মধ্যস্থতাকারী ছিল। এত বছর পর হঠাৎ ওর পেছনে লাগলি কেন?"
ইয়েরিন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
-"কারণ আমি একটা জিনিস খুঁজে পেয়েছি।"
-"কি?"
-"একটা নাম।"
-"নাম?"
-"যে নামটা কোনো ফাইলে থাকার কথা ছিল না।"
ইফরা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
-"তুই কি বলতে চাচ্ছিস পুরো ঘটনাটা অন্য কেউ পরিচালনা করছিল?"
ইয়েরিন জানালার বাইরে তাকাল।
অন্ধকার রাস্তার ওপাশে গাছের সারি দ্রুত পেছনে সরে যাচ্ছে।
-"আমি এখনও নিশ্চিত না।"
-"আর যদি সত্যি হয়?"
ইয়েরিনের চোখে অদ্ভুত এক ঝিলিক দেখা দিল।
-"তাহলে আজ রাতে আমরা শুধু একজন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি না, ইফরা।"
-"তাহলে?"
ইয়েরিন ধীরে ধীরে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে শহরের দিকে ওঠা হাইওয়েতে গাড়ি তুলল।
-"আমরা একটা মিথ্যার শেষ প্রান্তে যাচ্ছি।"
আর ঠিক তখনই তার ফোনে একটি অজানা নম্বর থেকে একটি বার্তা ভেসে উঠল—
-"তুমি যতটা ভাবছো, সত্য তার চেয়েও ভয়ংকর।"
ইফরা বার্তাটা দেখেই চুপ হয়ে গেল।
আর ইয়েরিন...
শুধু মৃদু হাসল।
যেন সে অনেক আগেই এই বার্তার অপেক্ষায় ছিল।
মার্সিডিজটা শহরে ঢুকতে ঢুকতে রাত আরও গভীর হয়ে উঠল।
রাস্তার দু'পাশের আলো দ্রুত পেছনে সরে যাচ্ছিল। দূরে উঁচু বিল্ডিংগুলোর কাঁচে প্রতিফলিত হচ্ছিল শহরের অসংখ্য আলো।
কিন্তু ইয়েরিনের চোখ ছিল রাস্তার ওপর।
অস্বাভাবিকভাবে স্থির।
ইফরা কয়েকবার তার দিকে তাকাল।
শেষমেশ বলেই ফেলল,
-"তুই আজকে অদ্ভুত চুপচাপ।"
-"আমি ভাবছি।"
-"কি নিয়ে?"
-"লোকটা এখনও কেন শহর ছাড়েনি।"
ইফরা ভ্রু কুঁচকাল।
-"হয়তো ও জানে না তুই সব জেনে গেছিস।"
ইয়েরিন মৃদু হাসল।
-"না।"
-"তাহলে?"
-"ও জানে।"
-"জানে?"
-"অনেকদিন ধরেই জানে।"
ইফরা এবার চুপ হয়ে গেল।
কারণ সে জানত, ইয়েরিন কখনো অকারণে কিছু বলে না।
---
ক্লাবটার নাম শহরের প্রায় সবাই জানে।
ধনীদের আড্ডাখানা।
ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি—সবাই আসে এখানে।
মার্সিডিজটা ক্লাবের সামনে থামতেই কয়েকজন কর্মচারী এগিয়ে এলো।
কিন্তু ইয়েরিন তাদের দিকে তাকালও না।
কালো ওভারকোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সে সোজা ভেতরে ঢুকে গেল।
ইফরা তার পেছনে।
সঙ্গীতের তীব্র শব্দ, ঝলমলে আলো আর মানুষের হাসির মাঝেও ইয়েরিনকে অদ্ভুত ঠান্ডা লাগছিল।
যেন সে এই পৃথিবীর অংশ না।
একজন কর্মচারী তাদের নিয়ে গেল উপরের তলার একটি ব্যক্তিগত কক্ষে।
দরজার সামনে এসে সে থামল।
-"স্যার ভেতরে অপেক্ষা করছেন।"
ইয়েরিন মাথা নাড়ল।
দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকল।
---
রুমে একজন মানুষ বসে ছিল।
বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি।
দামী স্যুট।
সামনে আধা ভর্তি গ্লাস।
লোকটা ইয়েরিনকে দেখে হেসে উঠল।
-"অবশেষে দেখা হলো।"
ইয়েরিন বসল না।
কিছুক্ষণ শুধু লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
-"তোর সাহস আছে।"
লোকটা হাসল।
-"তুমি আমাকে মারতে এসেছো?"
-"না।"
-"তাহলে?"
-"কথা বলতে।"
লোকটা হো হো করে হেসে উঠল।
-"তোমার কথাবার্তা সবসময়ই নাটকীয় ছিল।"
ইফরা পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
-"তুই এখনও বুঝিস নাই।"
লোকটা তার দিকে তাকাল।
-"কি বুঝিনি?"
ইফরা ঠান্ডা গলায় বলল,
-"তুই এখন আর কথোপকথনের মধ্যে নাই। তুই এখন জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে আছিস।"
লোকটার হাসি মিলিয়ে গেল।
ইয়েরিন এবার চেয়ার টেনে বসল।
তারপর টেবিলের উপর একটা পুরোনো সোনালি লাইটার রাখল।
লাইটারটা দেখেই লোকটার মুখ বদলে গেল।
সত্যিকারের ভয় এবার প্রথমবারের মতো চোখে দেখা গেল।
ইয়েরিন সেটা লক্ষ্য করল।
-"চিনতে পারছিস?"
লোকটা কিছু বলল না।
-"অদ্ভুত।"
ইয়েরিন হালকা হাসল।
-"মানুষ সব ভুলে যায়। কিন্তু ভয়কে কখনো ভুলে না।"
-"এটা কোথায় পেয়েছো?"
-"তুই যেখানে লুকিয়ে রেখেছিলি।"
লোকটার গলা শুকিয়ে গেল।
-"অসম্ভব।"
-"অসম্ভব?"
ইয়েরিন সামনে ঝুঁকল।
-"তুই কি জানিস, এই লাইটারটার জন্য আমি তিন মাস সময় নষ্ট করেছি?"
লোকটা চুপ।
-"আর এই তিন মাসে আমি তোর সম্পর্কে এমন কিছু জেনেছি যা তোর স্ত্রীও জানে না।"
-"......"
-"তোর প্রথম কোম্পানির কথা।"
-"......"
-"তোর প্রথম প্রতারণার কথা।"
-"......"
-"আর সেই মানুষটার কথা, যে তোর কারণে জেলে গিয়ে মারা গিয়েছিল।"
লোকটার হাত কাঁপতে শুরু করল।
ইফরা মুচকি হাসল।
-"শুরু হইছে।"
---
ইয়েরিন এবার পেছনে হেলান দিল।
-"জানিস ইফরা, আমি আগে ভাবতাম মানুষ টাকার জন্য খারাপ হয়।"
-"এখন?"
-"এখন বুঝি মানুষ খারাপ হয় কারণ সে ভাবে কেউ তাকে ধরতে পারবে না।"
লোকটা দাঁত চেপে বলল,
-"তুমি কি চাও?"
-"সত্যি।"
-"আমি কিছু জানি না।"
ইয়েরিন এবার সত্যিকারের হাসল।
সেই হাসি দেখে লোকটার বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।
কারণ সেই হাসিতে আনন্দ ছিল না।
ছিল নিশ্চিততা।
-"এই কথাটা তুই সাত বছর আগে বলেছিলি।"
লোকটা স্থির হয়ে গেল।
-"কি?"
-"যেদিন আমাকে মারার পরিকল্পনা করেছিলি।"
তারপর তুই পালিয়ে গেলি,,
আর এখন আবার ফিরে এসেই আগের ভুলটাই করলি,,তাও ওই চুনোপুঁটি মানে সোহেল কে কাজে লাগিয়ে?? "
রুমটা আবার নীরব হয়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ড।
কেউ কথা বলল না।
তারপর ইয়েরিন ধীরে ধীরে বলল,
-"আমি শুধু একটা প্রশ্ন করব।"
-"......"
-"সোহেল ছিল সামনে।"
-"......"
-"তুই ছিলি পেছনে।"
-"......"
-"কিন্তু তোদের পেছনে কে ছিল?"
লোকটার চোখ মুহূর্তেই বড় হয়ে গেল।
আর ঠিক তখনই ইয়েরিন বুঝল—
সে সঠিক জায়গায় আঘাত করেছে।
কারণ প্রথমবারের মতো লোকটা ভয় পেয়েছে মৃত্যুকে নয়...
একটা নামকে।
আর সেই নামটাই হয়তো পুরো গল্পটাকে উল্টে দিতে চলেছে।
লোকটার চোখের মণি কেঁপে উঠল।
ইয়েরিন সেটা দেখেই বুঝে গেল।
প্রশ্নটা ঠিক জায়গায় আঘাত করেছে।
ইফরা ধীরে ধীরে দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়াল।
-"দেখছিস?"
ইয়েরিন চোখ না সরিয়েই বলল,
-"কি?"
-"লোকটার মুখের রঙ পাল্টে গেছে।"
লোকটা বিরক্ত গলায় বলল,
-"তোমরা দু'জন আসলে কি চাও?"
ইয়েরিন মৃদু হাসল।
-"সত্যি।"
-"আমি আগেও বলেছি, আমি কিছু জানি না।"
-"মজার ব্যাপার কি জানিস?"
-"কি?"
-"যখন মানুষ মিথ্যা বলে, তখন সে উত্তর দেয়।"
লোকটা ভ্রু কুঁচকাল।
-"আর যখন সত্য লুকায়?"
-"তখন প্রশ্ন বদলানোর চেষ্টা করে।"
রুমটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
বাইরে কোথাও দূরে সঙ্গীত বাজছে।
কিন্তু এই ঘরের ভেতর সময় যেন থেমে গেছে।
ইয়েরিন টেবিলের উপর আঙুল ঠুকতে শুরু করল।
একবার।
দু'বার।
তিনবার।
লোকটার চোখ অনিচ্ছাসত্ত্বেও সেই আঙুলের দিকে চলে গেল।
তারপর ইয়েরিন বলল,
-"২০২৬ সালের ১৭ই নভেম্বর।"
লোকটার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
-"রাত ২টা ১৪ মিনিট।"
-"......"
-"একটা ফোনকল।"
-"......"
-"ফোনের অপর প্রান্তে একজন মানুষ।"
ইফরা এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল।
-"তুই ওর ফোন রেকর্ডও পেয়েছিস?"
-"ফোন রেকর্ড না।"
ইয়েরিন শান্ত গলায় বলল।
-"ভয় পেয়েছি।"
লোকটা হঠাৎ বলে উঠল,
-"চুপ করো!"
ইয়েরিন থামল না।
-"সেদিন তুই প্রথমবার একটা নাম শুনেছিলি।"
লোকটার কপালে ঘাম জমতে শুরু করেছে।
-"আমি জানি না তুমি কি বলছো।"
-"জানিস।"
-"না।"
-"জানিস।"
প্রথমবারের মতো ইয়েরিনের কণ্ঠে ঠান্ডা কঠোরতা শোনা গেল।
-"কারণ সেই রাতের পর থেকেই তুই সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলি।"
লোকটা চুপ।
-"তারপর পরিকল্পনা।"
-"......"
-"তারপর দুর্ঘটনা।"
-"......"
-"তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা।"
ইফরা নিচু গলায় বলল,
-"কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছিল।"
ইয়েরিন মাথা নাড়ল।
-"হ্যাঁ।"
-"সে মরেনি।"
লোকটা এবার চোখ তুলে তাকাল।
আর সেই দৃষ্টিতে ভয় ছিল।
খাঁটি ভয়।