অন্যদিকে ইফরা সমুদ্রের কিনারা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে শেষ সন্ধ্যাটুকু উপভোগ করছিলো এমন সময় পেছন থেকে একটা চেনা আওয়াজ ভেসে এলো,,,
-"রাই!এখানে কি করছিস?"
ইফরা পেছন ঘুরলো না চুপ করে সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো,,
-"রাই কি হয়েছে?? "
-"ও এখানে এসেছে কেন রিন?"
-"দরকার আছে তাই!"
-"ওহ্ আচ্ছা,, "
-"কেন তোর কি খুব সমস্যা হচ্ছে? "
-"না না এমন কিছু না বাদ দে ওর কথা,,"
-"তাহলে হঠাৎ এমন চুপচাপ হয়ে গেলি কেন?"
-"আরে ইমুচুনাল হয়ে গেছি ব্রো আমার জন্য এত আয়োজন এত গিফট দেখে আমার হার্ট এক্কেরে লাড্ডুর মতো ফুটতেছে,,"
-"নাটক কম করিস মহিলা,,"
-"রিনের বাচ্চাাাাাাাাাাাাাাাাাাাাা আমি মহিলা? আমি?"
-"ইয়াহ্ গার্ল ইউ আর মহিল্লাাাাা,,"
ইফরা আবার কিছু বলতে যাবে তার আগে কোথা থেকে একটা ঈগলের ডাক ভেসে এলো,,
ইয়েরিন মুচকি হেসে বললো,,
-" আজকের চিপ গেস্ট এসে গেছে! Come on rapi bbz.."
মালিকের কন্ঠ শুনে rapi আবার তীক্ষ্ণ স্বরে ডেকে তাদের মাথার উপর কয়েকবার গোল গোল ঘুরলো,,
আর ইয়েরিন ততক্ষণে নিজের হাতে একটা রুমাল পেঁচিয়ে হাতটা raptor এর দিকে এগিয়ে দিলো,,
ধীরে ধীরে rapi নিচে নেমে এলো তার থাবায় কিছু একটা ধরে রাখা দেখে ইফরা হাত বাড়িয়ে দিতেই ঈগলটা তার থাবায় ধরে রাখা সমস্ত ফুল ইফরার উপর ছড়িয়ে দিলো!ইফরা হাত বাড়িয়ে কিছু ফুল ধরে নিলো,,
চাঁদের হালকা আলোয় ফুলগুলো ঝাপসা ভাবে দেখা গেলো হয়তো কোনো পাহাড়ি ফুল! খুব সুন্দর,, ইফরা আগে কখনো এমন ফুল দেখেনি,,
আর rapi ইয়েরিনের হাতে বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
ইফরা এগিয়ে গিয়ে rapi এর শরীরে হালকা ভাবে হাত বুলিয়ে দিলো! তাতে তীক্ষ্ণ চোখের ঈগলটা চোখ বন্ধ করে ইফরার গালে মাথা ঘষে চুপচাপ আদর খেলো,,
------------------------------
৭ দিন কেটে গেছে,, সবকিছু এখন আগের মতোই চলছে,,
ইফরা নিজের নতুন ডিজাইন বানাতে ব্যস্ত হয়ে গেছে,, ইয়েরিনও কোম্পানির নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সিফাতও কোম্পানির কিছু কাজে জাপানে গেছে,,
আরমান সামনে মাস থেকে কোম্পানিতে জয়েন করবে কারণ Obsidian Rise company তে কাজ করতে গেলে বিশেষ ট্রেনিং করতে হয়,,,
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে ইয়েরিন কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ মিটিং শেষ করে বাইরে এসে দাঁড়াতেই দেখলো একটা কালো গাড়ি তীব্র গতিতে তার দিকে আসছে,,
সে ভয় না পেয়ে গাড়িটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঘাড় কাত করে মুচকি হাসলো,,
গাড়িটা ঠিক তার সামনে এসে হঠাৎ ব্রেক করলো,,তারপর ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো মেহরাব,,মুখে তার দারুণ হাসি,,
সে এগিয়ে এসে বললো
-"বাহ্ মিস ইয়েরিন তোমার তো খুব সাহস? এখন যদি আমি গাড়িটা তোমার উপর তুলে দিতাম? এইটুকু তো শরীর কোনো অস্তিত্ব থাকতো তোমার??"
ইয়েরিন তা শুনে চমৎকার হাসলো তারপর চোয়ালে হাত বুলিয়ে বললো,,
-"তো দিতে মেরে মুছে দিতে আমার অস্তিত্ব,,এতই সহজ? "
হুম জানি সহজ না এজন্যই থেমে গেলাম এত সহজে তোমাকে মেরে ফেললে সব মজা শেষ,,
ইয়েরিন শান্ত কন্ঠে বললো,,
-"যে মৃত্যুকে ভয় পায় তাকে নাহয় মৃত্যু ভয় দেখানো যায়,, "
তারপর একটু থেমে মেহরাবের কানের কাছে ঝুঁকে বললো,, -"কিন্তু যে নিজের মৃত্যুর সাথে বন্ধুত্ব করে নেয় তাকে কি আর মৃত্যু ভয় দেখানো যায়?"
-"যাই হোক মিস্টার মেহরাব রাফসান আমার প্যালেসে আর কতদিন থাকবেন?আপনি তো এতও গরিব না যে নিজের বাসায় মেইড রাখতে পারবেন না বা নিজের জন্য একটা বাড়ি কিনতে পারবেন না,,,
গাড়ি তো কিনেছেন বেশ দামি গাড়িই BMW,, "
মেহরাব হেসে বললো,,,
-" কেন অতিথি আপ্যায়ন করতে কি আপনার কষ্ট হয়ে যাচ্ছে?? আপনার তো টাকা পয়সার অভাব নেই আপনি হচ্ছেন The CEO of obsidian rise and
একটু থেমে থেমে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো Leader of The hell group,, "
ইয়েরিন বললো,,- হুম তা ঠিক আমার অনেক টাকা পয়সা কিন্তু আমি তো জানতাম না যে Wear wolf group এর owner এত গরিব যে শত্রুর প্যালেসে থাকতে হয়,,
ঠিক আছে আমি আবার উদার মনের মেয়ে চট্টগ্রামে আমার আরও দুই তিনটা বাড়ি আছে আপনি চাইলে একটা আমি আপনাকে দিয়ে দিতে পারি,,,"
মেহরাব ভ্রু কুঁচকে বললো,,
-" আমি তো শুধু তোমার একটা বাড়ি না কেড়ে নিতে চাই তোমার তৈরি গোটা সাম্রাজ্য তোমার অহংকার তোমার গর্ব আর সব শেমুছে দিতে চাই তোমার অস্তিত্ব,, "
তা শুনে ইয়েরিন বেশ শব্দ করে হাসলো তারপর বললো,,
-" আচ্ছা নিয়েন আপাতত আমার প্যালেস থেকে বিদেয় হোন আপনার জন্য আমি ভালো রাধুনি ঠিক করে দিবো নে,,"
এতকিছুর পরও মেহরাবের কেন জানি ইচ্ছে হলো না ওই প্যালেস ছেড়ে আসতে বার বার একট শান্ত মুখ তার মনে ভেসে উঠতে লাগলো,,
তারপর সে জোরে শ্বাস টেনে বললো,,
-" আচ্ছা চলে যাবো তার আগে একটা রেস হয়ে যাক??যদি আমি রেসে জিতি তাহলে আমি তোমার প্যালেসেই থাকবো আর যদি তুমি জেতো তাহলে আমি তোমার প্যালেস থেকে চলে আসবো ডান??"
ইয়েরিন বাঁকা হেসে বললো -"ওকে ডিল ডান,,,"
মেহরাব মনে মনে তাচ্ছিল্য করে হেসে বললো,,
-" তুমি আর যাই পারো আমার থেকে ভালো ড্রাইভ পারবে না যতই হোক তুমি একটা মেয়ে,,"
রেসের শেষ সীমানা ঠিক করা হলো সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক,,
Obsidian Rise Corporate Complex, Chattogram
সন্ধ্যার আলো তখন ধীরে ধীরে শহরের বুক থেকে সরে যাচ্ছে।
Obsidian Rise-এর বিশাল কালো-গ্লাসের ভবনের সামনে পাশাপাশি এসে দাঁড়ালো দুটো গাড়ি।
মেহরাব গাড়ির জানালা নামিয়ে ইয়েরিনের দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে আত্মবিশ্বাসী হাসি।
—শেষ পর্যন্ত হার মানতে হবে কিন্তু।
ইয়েরিন কোনো উত্তর দিল না। শুধু একবার তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ একটা হাসি ফুটিয়ে সামনে তাকাল।
গন্তব্য নির্ধারিত।
Sitakunda Eco Park.
দুজনের গাড়ি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল।
কাউন্টডাউন শুরু হলো।
৩...
মেহরাবের চোখে আত্মবিশ্বাস।
২...
ইয়েরিনের মুখে অদ্ভুত শান্তি।
১...
START!
দুটো গাড়ি প্রায় একই মুহূর্তে ছুটে বেরিয়ে গেল।
পেছনে পড়ে রইল Obsidian Rise-এর বিশাল ভবন, শহরের আলো আর মানুষের কোলাহল।
কিছুক্ষণ পর চট্টগ্রামের ব্যস্ত রাস্তা বদলে যেতে শুরু করল। চারপাশের দৃশ্য ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠল। দূরে পাহাড়ের রেখা দেখা গেল।
মেহরাব একবার পাশ ফিরে তাকাল।
ইয়েরিন তখনও তার কাছাকাছি।
সে মুচকি হাসল।
—ভালোই চালাচ্ছো গাড়ি।
ইয়েরিন শুধু সামান্য ভ্রু তুলল।
তারপর সামনে তাকাল।
রাস্তা যত পাহাড়ের দিকে উঠতে লাগল, পরিবেশ ততটাই নিস্তব্ধ হয়ে এল।
পাহাড়ি রাস্তা শুরু হতেই ইয়েরিন ধীরে ধীরে নিজের গাড়ির গতি কমিয়ে দিল।
মেহরাব বিষয়টা লক্ষ্য করতেই রিয়ারভিউ মিররে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
—ভয় পেয়ে গেলে?
সে আর পেছনে তাকাল না।
ইয়েরিনকে অনেকটা পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল সামনে।
কিন্তু ইয়েরিনের ঠোঁটের কোণের হাসিটা একটুও মিলিয়ে গেল না।
বরং তার চোখে ফুটে উঠল অদ্ভুত এক নিশ্চিন্ততা।
সে যেন রেসের মাঝখানে নেইই।
এক হাত স্টিয়ারিংয়ে রেখেই অন্য হাত বাড়িয়ে সাউন্ড সিস্টেম অন করল।
প্রথমে গাড়ির ভেতর খুব মৃদু একটা beat ভেসে উঠল।
ইয়েরিন চোখ সরু করে সামনের আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথটার দিকে তাকাল।
তার আঙুল স্টিয়ারিংয়ের ওপর খুব আস্তে আস্তে beat-এর সঙ্গে তাল মিলাতে শুরু করল।
গানের সুর একটু একটু করে স্পষ্ট হতে লাগল।
Freaked out
ইয়েরিনের ঠোঁটের কোণে হাসিটাও ধীরে ধীরে গভীর হলো।
সে খুব আস্তে গানের সঙ্গে গলা মেলাল।
Let me show you how to move,,
Let me show you how to,,
Get that bag, you ain't never comin' last,,
Fu**ck your man you know this gon' make him mad,,
Break that back , then we make a film on cam,,
Shake that ass, baby
Show them that you bad,,
একসময় তার expression পুরোপুরি বদলে গেল।
কিছুক্ষণ আগেও যে মুখটা ছিল সম্পূর্ণ শান্ত, সেখানে এখন ফুটে উঠেছে আত্মবিশ্বাস।
চোখে সেই পরিচিত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
সে সিটে আরাম করে গা এলিয়ে দিল।
যেন সামনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।
যেন এই রেসটা তার কাছে কোনো challenge-ই নয়।
গানের beat আরও জোরালো হলো।
ইয়েরিন এবার হালকা মাথা দোলাল।
তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সামনে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
মেহরাব তখন অনেকটা সামনে।
সে ভাবছে—রেসটা তার হাতের মুঠোয়।
পাহাড়ি পথের একের পর এক বাঁক পেছনে পড়ে যেতে লাগল।
ইয়েরিনের চোখ এবার স্থির।
গানের তালে তার আঙুলের tapping থেমে গেল।
হাসিটাও মিলিয়ে গেল।
শুধু চোখ দুটোতে রইল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।
সে সামান্য সামনে ঝুঁকে স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরল।
তারপর—
গানের beat-এর সঙ্গে যেন পুরো দৃশ্যটাই বদলে গেল।
কালো গাড়িটা হঠাৎ গতি বাড়িয়ে সামনে ছুটে গেল।
মেহরাব তখনও অনেকটা এগিয়ে।
তার ধারণা, ইয়েরিন অনেক পেছনে পড়ে গেছে।
কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর পাহাড়ি রাস্তার একটা বাঁক পেরিয়ে—
রিয়ারভিউ মিররে একটা কালো গাড়ির আলো দেখা গেল।
মেহরাবের ভ্রু কুঁচকে গেল।
আলোটা দ্রুত কাছে আসছে।
সে কিছু বোঝার আগেই—
কালো গাড়িটা তার পাশ দিয়ে ছুটে গেল।
মেহরাবের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
সে স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরল।
—অসম্ভব...
গাড়িটা ততক্ষণে অনেকটা সামনে চলে গেছে।
আর সেই গাড়ির ভেতর—
ইয়েরিন।
মুখে আবার সেই শান্ত, আত্মবিশ্বাসী হাসি।
গানের beat তখনও বাজছে।
ইয়েরিনের চোখে শুধু অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
যেন মেহরাব যতটা এগিয়ে গেছে, ঠিক ততটাই সে তাকে এগিয়ে যেতে দিতে চেয়েছিল।
তখন মেহরাব বুঝলো তার এগিয়ে থাকাটা ছিলো পরিকল্পনা।
ইয়েরিন তাকে ইচ্ছে করে আগে যেতে দিয়েছে আর মেহরাবও ইয়েরিনের পিছিয়ে পড়াটাকে সত্যি ভেবেছিল তার বোঝা উচিত ছিলো যে ইয়েরিন কোনো সাধারণ মেয়ে না ।
সে দেশের টপ বিজনেস ওম্যান আর একই সাথে মাফিয়া ওয়ার্ল্ডের একমাত্র লিডার তাকে সহজ ভাবে নেওয়া ঠিক হয়নি।
এতক্ষণে তার বোধগম্য হলো ইয়েরিন আসলে ড্রাইভিং এ কতটা পারদর্শী।