ফন্ট সাইজ:
থিম:
The rogue pair

পর্ব 44

লেখক: Farjana and fatema

তিন দিন কেটে গেছে।

এই তিনটা দিনে অনেক কিছুই বদলেছে, অথচ ইফরার নিজের কাছে মনে হচ্ছে—কিছুই বদলায়নি।

সকালটা বেশ শান্ত।

সমুদ্রের পাশের বাড়িটা এমনিতেই ভোরের পর থেকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ডুবে থাকে। দূর থেকে ভেসে আসা ঢেউয়ের শব্দ, হালকা বাতাস আর জানালার পর্দার মৃদু নড়াচড়া—সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশটা যেন নিজের মতো করে একটা গল্প বলে যাচ্ছে।

আজ অফিসে যায়নি ইফরা।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথায় একটা নতুন ড্রেসের ডিজাইন ঘুরপাক খাচ্ছিল। বিছানার পাশে রাখা স্কেচবুকটা খুলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে আঁকিবুঁকি করেছে সে। কখনো একটা ডিজাইন এঁকে আবার সেটা কেটে দিয়েছে, কখনো কাপড়ের কালার নিয়ে ভেবেছে, আবার কখনো নিজের আঁকা ডিজাইনের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বসে থেকেছে।

শেষমেশ স্কেচবুকটা বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ইফরা।

—“উফ! মাথাটা একদম কাজই করছে না।”

তারপর নিজেই হেসে উঠল।

কিছুক্ষণ পর একটা কফির মগ হাতে নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল সে।

চেনা সেই বারান্দা।

চেনা সেই সমুদ্র।

প্রতিদিনের মতো আজও বিশাল নীল জলরাশিটা নিজের ছন্দে ঢেউ তুলছে। সূর্যের আলো পানির ওপর পড়ে চিকচিক করছে। ইফরা রেলিংয়ে হেলান দিয়ে চোখ সরু করে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল।

এক চুমুক কফি খেল।

তারপর আবার সমুদ্রের দিকে তাকাল।

কেমন অদ্ভুত!

এই সমুদ্রটার দিকে তাকালেই আগে কত কথা মনে পড়ত তার।

আর আজ?

আজ যেন মাথার ভেতরটা অস্বাভাবিক রকমের ফাঁকা।

তবে হঠাৎ করেই পাশের বারান্দার দিকে চোখ যেতেই বুকের ভেতর কোথাও যেন একটা অদৃশ্য দরজা খুলে গেল।

মনে পড়ে গেল—

আগে এখানে একটা মানুষ দাঁড়িয়ে থাকত।

এই পাশের রুমটাতেই থাকত সে।

মেহরাব।

নামটা মনে পড়তেই ইফরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তার চোখ ধীরে ধীরে পাশের বারান্দার দিকে আটকে গেল।

কতবার যে এই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে মেহরাবকে দেখেছে!

কখনো চুপচাপ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকত সে, কখনো ফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, আবার কখনো ইফরার সঙ্গে দু-একটা কথা বলত।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো—

ইফরা তার অতীতের কষ্টগুলো মনে করতে পারছে না।

মেহরাব নামটা মনে পড়ছে, কিছু দৃশ্য মনে পড়ছে, কিছু কথা মনে পড়ছে…

কিন্তু সেই পুরোনো কষ্ট?

সেটা যেন কোথাও নেই।

বরং তার মনে হচ্ছে, তার মাথার ভেতর একটা ভূত নাচানাচি করছে।

মেহরাব নামক ভূত।

ইফরা নিজের অজান্তেই মুচকি হেসে ফেলল।

ঠিক তখনই—

ভ্র্র্ররররর…

ঘরের ভেতর থেকে ফোনটা কেঁপে উঠল।

ইফরা চোখ উল্টে বলল,

—“রিংটোন সেট করে লাভ কী, যদি নিজেই ফোন ভাইব্রেশনে রাখি!”

কফির মগটা হাতে নিয়েই ঘরের ভেতর ঢুকল সে।

বিছানার ওপর রাখা ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকাতেই দেখা গেল—

Cherry Pie 🍒

ইফরার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ইয়রিনের গলা—

—“রাইইইইই!”

ইফরা সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা একটু দূরে সরিয়ে নিল।

—“আস্তে! কানে পর্দা আছে আমার!”

ইয়রিন কোনো পাত্তাই দিল না।

—“তুই দুপুরে অফিসে আসিস।”

ইফরা ভ্রু কুঁচকে বলল,

—“কেন? হঠাৎ কী হলো?”

—“ইমিডিয়েট একটা মিটিং পড়ে গেছে।”

—“মিটিং?”

—“হ্যাঁ। আর তোর যে তিনটা ড্রেস সাবমিট করার কথা ছিল, ওগুলা আগামী সাত দিনের মধ্যেই সাবমিট করতে হবে।”

ইফরা স্বাভাবিক গলায় বলল,

—“ওটা তো কোনো ব্যাপার না। কিন্তু এত তাড়াহুড়ো করে মিটিং কেন?”

ওপাশে ইয়রিন কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,

—“কাজ আছে বলেই তো বলছি। তুই এসে পড়। দুপুর দুইটার আগেই অফিসে থাকবি।”

ইফরা একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—“আচ্ছা ঠিক আছে। আসতেছি।”

—“গুড গার্ল।”

—“বেশি কথা বলিস না।”

বলেই কল কেটে দিল ইফরা।

ফোনটা বিছানায় ছুড়ে রেখে আবার কফির মগটার দিকে তাকাল সে।

মগটা তখনও হাতে। সেটা নিয়েই নিচে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

—“ইসরাআআআআআত!”

কয়েক সেকেন্ড পর আবার—

—“রাআআআআআত!”

ইফরা এবার মগটা হাতে নিয়েই নিচে নেমে গেল।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতেই চেঁচিয়ে উঠল,

—“রাআআআত!”

ভেতর থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো,

—“এই গাধার মতো চিল্লাবি না তো, মুটকি!”

ইফরার চোখ কপালে উঠল।

—“কী বললি?”

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ইসরাত তার ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।

মুখে এমন একটা নিরীহ ভাব, যেন কিছুই বলেনি।

ইফরা মগটা কোনোভাবে টেবিলের ওপর রেখে দিল।

তারপর কোমরে হাত দিয়ে বলল,

—“এইদিকে আয়।”

ইসরাত একবার ইফরার দিকে তাকাল।

তারপর এক পা পিছিয়ে গেল।

—“কেন?”

—“আয় বলছি!”

—“না।”

—“ইসরাত!”

—“দৌড়!”

বলেই ইসরাত দৌড় লাগাল।

—“এইইইই!”

ইফরাও পেছন পেছন ছুটল।

করিডোরের ভেতর দিয়ে দুজনের দৌড়াদৌড়িতে বাড়িটাই যেন সরগরম হয়ে উঠল।

ইসরাত হাসতে হাসতে সামনে দৌড়াচ্ছে, আর পেছন থেকে ইফরা চেঁচাচ্ছে—

—“দাঁড়া! আজকে তোকে ছাড়ব না!”

—“ধরতে পারলে ধর!”

—“তোকে ধরলে তোর খবর আছে!”

ইসরাত করিডোরের একদম শেষ প্রান্তে গিয়ে থেমে গেল।

আর ঠিক তখনই ইফরা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।

—“আমাকে মুটকি বললি?”

ইসরাত হাসতে হাসতে বলল,

—“বলছি তো!”

—“আমি তোর থেকে স্লিম!”

—“হ্যাঁ, স্বপ্নে।”

—“শালি ঢ্যাপসিমুখী!”

—“তুই নিজে কী? হাওয়ায় উড়বি?”

দুজনের হাসাহাসির মাঝেই—

ঝনঝনাং!

একটা বিকট শব্দ হলো।

দুজনেই থেমে গেল।

হাসি মুহূর্তের মধ্যে উধাও।

ইফরা ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল।

শব্দটা এসেছে পাশের রুম থেকে।

সেই রুমটা—

যেটা একসময় মেহরাবের জন্য ঠিক করা হয়েছিল।

আর এখন…

সেখান থেকে একটা ফুলদানির পড়ে যাওয়ার শব্দ এসেছে।

ইফরা আর ইসরাত একে অপরের দিকে তাকাল।

ইসরাতের হাত আপনাআপনি ইফরার হাত খুঁজে নিল।

—“রাই…”

ইফরা নিচু গলায় বলল,

—“চুপ।”

কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বলল না।

তারপর ইসরাত ফিসফিস করে বলল,

—“ভেতরে কেউ আছে নাকি?”

ইফরা কোনো উত্তর দিল না।

শুধু শক্ত করে ইসরাতের হাতটা ধরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না।

ইফরা ধীরে ধীরে ঠেলে খুলল।

ঘরটা অন্ধকার।

সে হাত বাড়িয়ে সুইচ অন করল।

টিক।

সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘর আলোয় ভরে গেল।

মেঝেতে একটা ফুলদানি পড়ে আছে।

আর জানালাটা পুরো খোলা।

পর্দা বাতাসে উড়ছে।

ইসরাত সঙ্গে সঙ্গে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

—“দেখলি? জানালা খোলা ছিল। বাতাসে পড়ে গেছে।”

ইফরা মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ফুলদানিটার দিকে।

কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে সেটা দেখল।

ভ্রু কুঁচকে গেল তার।

—“বাতাসে?”

—“হুম।”

ইফরা ফুলদানিটা একটু ভালো করে  দেখে  বলল,

—“এটা কিন্তু পিতলের।”

ইসরাত চুপ।

ইফরা এবার জানালার দিকে তাকাল।

বাইরে বাতাস আছে ঠিকই।

কিন্তু এতটা?

তারপর নিজের মনেই হিসাব করতে লাগল।

—“কম করে হলেও দুই কেজি ওজন হবে।”

ইসরাত কিছু বলল না।

ইফরা তাকাল তার দিকে।

—“দুই কেজির জিনিস বাতাসে পড়ে যায়?”

ইসরাত আস্তে করে বলল,

—“হয়তো…”

ইফরা চোখ বড় বড় করে বলল,

—“আমি কি পাগল নাকি? নাকি আমার মাথা খারাপ?”

ইসরাত আর কথা বাড়াল না।

ইফরা হঠাৎ করেই অস্বস্তি বোধ করল।

এই বাড়িতে সে একা থাকলে হয়তো বিষয়টা নিয়ে একটু ভাবত।

কিন্তু ইসরাতকে নিয়ে কোনো রকমের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় সে।

তাই আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে না থেকে বলল,

—“আচ্ছা, যা-ই হোক। চল এখান থেকে।”

ইসরাতের হাত শক্ত করে ধরে বেরিয়ে এলো সে।

পেছনে পড়ে রইল খোলা জানালা।

আর মেঝেতে পড়ে থাকা সেই ভারী ফুলদানি।

---

নিচে এসে ইফরা ইসরাতকে বলল,

—“তুই কিছু স্ন্যাকস বানিয়ে রাখ। আমি উপরে যাচ্ছি।”

ইসরাত অবাক হয়ে বলল,

—“এখন?”

—“হ্যাঁ। আর দরজা-জানালা ঠিকমতো বন্ধ আছে কি না দেখিস।”

—“আচ্ছা।”

ইফরা আর কিছু না বলে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল।

ঘরে ঢুকেই ফোনটা হাতে নিল।

সঙ্গে সঙ্গে ইয়রিনকে মেসেজ করতে শুরু করল।

আঙুল এত দ্রুত চলছে যে বানান ঠিক আছে কি না সেটাও দেখছে না।

শেষমেশ মেসেজটা দাঁড়াল—

“রাত বলছে ফুলদানিটা বাতাসে পড়ে গেছে। কিন্তু ফুলদানিটা পিতলের ছিল। কম করে হলেও দুই কেজি ওজন হবে। দুই কেজির একটা জিনিস বাতাসে পড়ে? আমি কি পাগল নাকি আমার মাথা খারাপ? এখানে কিছু একটা গণ্ডগোল আছে।”

মেসেজটা পাঠিয়ে ফোনটা বিছানায় রাখল ইফরা।

তারপর নিজেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে রইল।

ঘরের নীরবতা আবার তাকে অদ্ভুতভাবে ঘিরে ধরল।

মেহরাবের কথা মনে পড়ল।

ঠিক তখনই নিচ থেকে ইসরাতের গলা ভেসে এলো—

—“রাইইই! খেতে আয়!”

ইফরা চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড বসে থাকল।

তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

—“আসছি!”

সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই রান্নাঘরের দিক থেকে খাবারের সুন্দর গন্ধ ভেসে এলো।

ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসতেই ইসরাত তার সামনে একটা প্লেট এগিয়ে দিল।

পাস্তা

ইফরার চোখ চকচক করে উঠল।

—“ওহ! এটা আমার জন্য?”

ইসরাত গর্বিত ভঙ্গিতে বলল,

—“না। পাশের বাড়ির বিড়ালের জন্য।”

ইফরা চামচ হাতে নিয়ে বলল,

—“তোরে আজকে মাফ করে দিলাম।”

ইসরাত হেসে ফেলল।

ইফরা পাস্তা থেকে এক চামচ তুলতে যাবে—

ঠিক তখনই দরজার দিক থেকে একটা পরিচিত গলা ভেসে এলো।

—“আমাকে রেখেই খাবি, ইফরা?”

ইফরার হাত মাঝপথে থেমে গেল।

সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে তাকাল।

দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আরমান।

দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সকালে মর্নিং ওয়াক করে ফিরেছে।

চুল এলোমেলো।

মুখে ঘামের ছাপ।

শ্বাসটা একটু ভারী।

এক হাতে দরজার ফ্রেম ধরে দাঁড়িয়ে আছে সে।

তারপর হাসতে হাসতে আবার বলল,

—“একটু আমাকেও দে।”

ইফরা কয়েক সেকেন্ড আরমানের দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর বিরক্ত হয়ে খাওয়ায় মন দিল।  সে কিছুই বলতে চায় না।

আরমানের সঙ্গে আর কথা না  বলে শেষমেশ নিজের ঘরে চলে গেল ইফরা।

আজ তাকে অফিসে যেতেই হবে।

ইয়রিন যেভাবে সকালে ফোন করে বলেছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে মিটিংটা হুট করে ডাকা হলেও বিষয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই ইফরা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

কয়েক সেকেন্ড নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থেকে চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করল।

—“দুইটার আগে অফিসে থাকতে হবে… আর আমার এখনো রেডি হওয়াই হয়নি!”

বলেই আলমারির দরজা খুলে দিল সে।

কিছুক্ষণ পোশাক দেখার পর একটা সিম্পল কিন্তু এলিগ্যান্ট অফিস আউটফিট বের করল। পোশাকটার সঙ্গে মানানসই কিছু অ্যাক্সেসরিজ বেছে নিল। অতিরিক্ত কিছু নয়—পুরো লুকটাই রাখল পরিপাটি আর প্রফেশনাল।

চুলগুলো গুছিয়ে নিল।

হালকা মেকআপ করল।

তারপর ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ঢুকিয়ে ফোনটা হাতে নিল।

সময় দেখে চোখ বড় হয়ে গেল।

—“ওহ শিট! ১২ টা বেজে গেছে!”

তাড়াতাড়ি বেরিয়ে নিচে নামল ইফরা।

ইসরাত তখনও কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত।

ইফরা যেতে যেতে বলল,

—“আমি অফিসে গেলাম। দুপুরের পর ফিরতে দেরি হতে পারে।”

ইসরাত মাথা তুলে বলল,

—“মিটিং আছে?”

—“হুম। বড় মিটিং।”

—“আচ্ছা, সাবধানে যাস।”

ইফরা হেসে বলল,

—“তুইও সাবধানে থাকিস।”

তারপর আর সময় নষ্ট না করে বেরিয়ে গেল সে।

---

অফিসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর প্রায় দেড়টার কাছাকাছি।

গাড়ি থেকে নেমে অফিস বিল্ডিংয়ের দিকে এগোতে এগোতেই ইফরার চোখে পড়ল—আজ পুরো অফিসটাই যেন অন্যরকম ব্যস্ত।

রিসেপশনে কয়েকজন নতুন মানুষ বসে আছে।

কেউ ফোনে কথা বলছে।

কেউ আবার হাতে ফাইল নিয়ে দ্রুত এদিক-ওদিক যাচ্ছে।

ইফরা লিফটে উঠে নিজের ফ্লোরে পৌঁছাতেই ইয়েরিন  তার দিকে এগিয়ে এলো।

—“রাই! অবশেষে আসছিস!”

ইফরা ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামিয়ে বলল,

—“আমি তো বলছিলাম দুইটার আগেই আসব।”

—“হ্যাঁ, কিন্তু তোর presentation-এর সবকিছু রেডি। শুধু তুই বাকি ছিলি।”

ইফরা অবাক হয়ে বলল,

—“ক্লায়েন্ট এসেছে?”

—“হ্যাঁ। Conference room-এ বসে আছে।”

ইফরা সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়াস হয়ে গেল।

—“কতজন?”

—“ওদের side থেকে চারজন। একজন project head, দুজন purchasing team থেকে আর একজন sales representative।”

ইফরা মাথা নাড়ল।

—“আর আমাদের?”

—“আমি, তুই, আর finance থেকে একজন।।”

ইফরা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,

—“ঠিক আছে। Presentation open করতে বল কাউকে।”

ইয়রিন বলল,

—“সব রেডি। PowerPoint-এ design concept, collection breakdown, costing, projected sales—সব দিয়েছি।”

ইফরা মুচকি হেসে বলল,

—“তাহলে চল। দেখি আজকে কার মাথা কতটা খাটে।”

ইয়রিন হাসল।

—“এই confidence-টাই দরকার।”

দুজন একসঙ্গে conference room-এর দিকে এগিয়ে গেল।

---

Conference room-এর দরজা খুলতেই ইফরা প্রথমেই পরিবেশটা লক্ষ্য করল।

বড় টেবিলের একপাশে ক্লায়েন্ট টিম বসে আছে।

সামনে একটা বড় screen।

টেবিলের ওপর sample folder, কিছু printed design sheet আর কয়েকটা fabric swatch সাজানো।

ইফরা ভেতরে ঢুকে বলল

—“Good afternoon, everyone. Sorry for the delay.”

ক্লায়েন্টদের একজন উঠে হেসে বললেন,

—“No problem. We were just reviewing the initial concepts.”

ইফরা নিজের জায়গায় গিয়ে বসল।

ইয়েরিন laptop-টা projector-এর সঙ্গে connect করল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই screen-এ PowerPoint presentation-এর প্রথম slide ভেসে উঠল।

NEW COLLECTION — DESIGN, MARKET & SALES PROPOSAL

ইফরা একবার screen-এর দিকে তাকিয়ে তারপর সবার দিকে তাকাল।

—“So, let’s begin.”

ঘরটা মুহূর্তেই নীরব হয়ে গেল।

প্রথম slide-এ ছিল collection-এর overall concept।

ইফরা ব্যাখ্যা করতে শুরু করল,

—“আমাদের নতুন collection-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন কিছু design তৈরি করা, যেগুলো দেখতে premium হবে, কিন্তু target customer-এর purchasing range-এর মধ্যেই থাকবে।”

পরের slide-এ collection-এর colour palette।

হালকা, গাঢ় আর neutral tone—তিন ধরনের colour combination দেখানো হয়েছে।

ইফরা বলল,

—“আমরা colour selection-এর ক্ষেত্রে শুধু aesthetic-এর দিকে তাকাইনি। কোন colour কোন season-এ বেশি বিক্রি হতে পারে, কোন colour repeat purchase বাড়াতে পারে—সেটাও consider করেছি।”

এরপর slide বদলাল।

এবার একে একে তিনটি dress design screen-এ ফুটে উঠল।

প্রথম design—

একটা elegant daywear collection।

দ্বিতীয়টা—

semi-formal occasion wear।

আর তৃতীয়টা—

একটু premium finishing-এর party collection।

ইফরা প্রতিটা design-এর details ব্যাখ্যা করতে লাগল।

কোথায় কোন fabric ব্যবহার হবে, কোন অংশে embroidery থাকবে, কোন জায়গায় minimal detailing রাখা হবে—সবকিছুই slide-এর মাধ্যমে দেখানো হলো।

একজন client sample sheet-এর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন,

—“এই design-এর production cost কত হতে পারে?”

ইফরা সঙ্গে সঙ্গে পরের slide-এ গেল।

সেখানে একটা পরিষ্কার cost breakdown দেওয়া।

Fabric Cost
Making Cost
Embroidery & Finishing
Packaging
Estimated Production Cost

ইফরা বলল,

—“Initial calculation অনুযায়ী, bulk production করলে প্রতি piece-এর production cost কিছুটা কমে আসবে। আমরা minimum order quantity অনুযায়ী pricing structure-টাও আলাদা করেছি।”

পরের slide-এ তিনটা pricing tier দেখা গেল।

Basic Quantity
Bulk Quantity
Large Order

ইফরা ব্যাখ্যা করল,

—“যদি আপনারা বেশি quantity confirm করেন, তাহলে unit cost naturally কমে যাবে। এতে আপনাদের margin improve হবে, আর আমাদের production planning-ও efficient হবে।”

ক্লায়েন্টদের একজন মাথা নাড়লেন।

—“What about the selling price?”

ইফরা পরের slide খুলল।

এবার একটা chart।

Production cost থেকে wholesale price, তারপর estimated retail price—সবকিছু আলাদা করে দেখানো।

ইফরা বলল,

—“আমাদের লক্ষ্য শুধু dress তৈরি করে দেওয়া না। আমরা চাই productটা market-এ এমন price point-এ যাক, যেখানে customer value feel করবে এবং retailer-ও reasonable margin পাবে।”

একজন sales representative প্রশ্ন করলেন,

—“আপনারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন যে collection launch-এর পর sales ভালো হবে?”

ইফরা চেয়ার থেকে সামান্য সামনে ঝুঁকে বলল,

—“শুধু design ভালো হলেই sales আসে না। তাই আমরা launch-এর আগে তিনটা বিষয় prioritize করছি—product positioning, visual promotion এবং stock planning।”

তারপর slide বদলাল।

Launch Strategy

১. Selected designs-এর limited initial production
২. Customer response analysis
৩. Best-performing designs-এর restocking
৪. Seasonal promotion
৫. Retail partner feedback

ইফরা বলল,

—“আমরা শুরুতেই অনেক stock তৈরি করতে চাই না। প্রথম batch controlled quantity-তে যাবে। Market response ভালো হলে দ্বিতীয় batch-এ best-selling design-এর quantity বাড়ানো হবে।”

ইয়রিন পাশে বসে মাথা নাড়ল।

ক্লায়েন্টদের একজন বললেন,

—“That sounds practical.”

ইফরা হালকা হাসল।

—“Exactly. আমরা risk কমিয়ে sales potential maximize করতে চাই।”

এরপর presentation-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে গেল তারা।

Sales Projection

Screen-এ একটা graph উঠে এলো।

প্রথম মাসে conservative target।

দ্বিতীয় মাসে increased sales।

আর collection-এর best-performing designs ধরে তৃতীয় মাসের projected growth।

ইফরা ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা করল,

—“এই projection guaranteed sales number না। এটা আমাদের current market research, previous sales pattern এবং proposed pricing-এর ওপর ভিত্তি করে একটা estimated target।”

তারপর আরও একটা slide।

Client Benefits

ইফরা একে একে points দেখাল—

—“Competitive pricing.”

—“Flexible bulk order.”

—“Consistent quality control.”

—“Design customization.”

—“Post-launch sales feedback.”

শেষ পয়েন্টটা বলার সময় ইফরা একটু থামল।

—“আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—collection launch করার পরও আমরা আপনাদের feedback অনুযায়ী design বা production strategy adjust করতে পারব।”

ঘরের পরিবেশটা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি relaxed।

প্রথমদিকে যারা নোট নিচ্ছিল, তারাও এখন মন দিয়ে ইফরার কথা শুনছে।

একজন client sample folder খুলে তিন নম্বর dress-এর design বের করলেন।

—“Personally, I like this one. But can you make the detailing a little simpler?”

ইফরা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

—“Absolutely. আমরা detailing reduce করতে পারি। এতে production cost-ও কিছুটা কমবে।”

—“And if we increase the order quantity?”

ইফরা হাসল।

—“Then we can offer a better unit price.”

ইয়েরিন সঙ্গে সঙ্গে laptop-এ pricing sheet খুলে দিল।

ইফরা কয়েকটা সংখ্যা দেখিয়ে বলল,

—“এই quantity range-এ গেলে আপনাদের প্রতি piece cost আরও reasonable হবে।”

ক্লায়েন্টরা নিজেদের মধ্যে কয়েক মিনিট আলোচনা করলেন।

ইফরা চুপচাপ বসে রইল।

তার চোখ মাঝে মাঝে screen-এর দিকে যাচ্ছে, আবার sample dress-এর দিকে।

অবশেষে project head বললেন,

—“I think we can move forward with the initial batch.”

ইফরার মুখে ছোট্ট একটা সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠল।

—“Great. তাহলে আমরা আজকের meeting-এর পর revised costing এবং final design sheet আপনাদের mail করে দেব।”

ক্লায়েন্ট মাথা নাড়লেন।

—“And we'd like the first samples as soon as possible.”

ইফরা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,

—“You'll have them within the agreed timeline.”

মিটিং শেষ হওয়ার আগে ইয়েরিন meeting-এর final notes নিয়ে নিল।

সবাই উঠে দাঁড়াল।

কেউ sample sheet গুছিয়ে নিল, কেউ আবার pricing document নিয়ে কথা বলতে লাগল।

ইফরা laptop বন্ধ করে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।

মিটিংটা শেষ হয়েছে।

কিন্তু কাজ?

সেটা এখনই শুরু।

ইয়রিন পাশে এসে আস্তে করে বলল,

—“রাই…”

ইফরা তাকাল।

—“হুম?”

ইয়েরিন মুচকি হেসে বলল,

—“তুই আজকে জমাইয়া দিছিস।”

ইফরা চেয়ার থেকে উঠে ব্যাগটা হাতে নিল।

মুখে আত্মবিশ্বাসী হাসি।

—“আমি তো জানিই।”

ইয়েরিন চোখ উল্টে বলল,

—“আবার শুরু করলি!”

ইফরা হেসে বলল,

—“চল, এখন কাজ করি। সাত দিনের মধ্যে তিনটা dress submit করতে হবে। Confidence দিয়ে তো dress বানানো যাবে না!”

দুজন conference room থেকে বেরিয়ে গেল।

আর তাদের পেছনে বড় screen-এ তখনও স্থির হয়ে আছে সেই তিনটা নতুন dress design—

যেগুলোর মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে তাদের পরবর্তী বড় সাফল্যের শুরু।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 44 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন