১৮তম পর্ব —
নতুন ঠিকানার অপেক্ষায়
সকালের আলো জানালার পর্দা ভেদ করে আভার ঘরে এসে পড়েছে। বিছানার পাশে রাখা নতুন ডায়েরিটা খুলে বসে আছে সে। গত কয়েক দিন ধরে ডায়েরির পাতায় জমেছে অনেক না বলা কথা। সামিরার অদ্ভুত মেসেজ, বাবা-মায়ের গোপন আলোচনা, আর সামনে অপেক্ষা করা নতুন জীবন—সবকিছু মিলিয়ে আভার মনটা কেমন অস্থির হয়ে আছে।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
—আভা, ঘুম থেকে উঠেছিস?
মায়ের গলা শুনে ডায়েরি বন্ধ করে দিল সে।
—হ্যাঁ, মা। আসো।
মাহমুদা বেগম ঘরে ঢুকে মেয়ের পাশে বসলেন।
—আজ তোর বাবার সঙ্গে ঢাকায় যেতে হবে।
আভা অবাক হয়ে তাকাল।
—ঢাকায়? আজই?
—হ্যাঁ। তোর বাবা নতুন বাসাটা দেখতে চায়। অফিসের কাছাকাছি একটা বাসার খবর পেয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেখানেই উঠব।
আভার মুখটা একটু মলিন হয়ে গেল।
—এত তাড়াতাড়ি?
—এখনো তো একেবারে চলে যাচ্ছি না। আগে বাসাটা দেখে আসি। তোরও ভালো লাগতে পারে।
আভা জানালার বাইরে তাকাল। যে জায়গাটাকে একসময় অচেনা মনে হয়েছিল, সেই গ্রামটাই এখন তার কাছে কত আপন! এই বাড়ি, পরিচিত রাস্তা, স্কুল, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়—সবকিছু ছেড়ে চলে যাওয়া কি এত সহজ?
মা মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
—সব পরিবর্তন খারাপ হয় না, মা। কখনো কখনো নতুন জায়গায় গিয়েই জীবনের সুন্দর অধ্যায় শুরু হয়।
আভা মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
—জানি, মা।
কিন্তু মনটা যে অন্য কথা বলছে, সেটা আর বলল না।
দুপুরের দিকে রাশেদ আহমেদ, মাহমুদা বেগম আর আভা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলো।
গাড়ির জানালার পাশে বসে আভা বাইরের দৃশ্য দেখছিল। রাস্তার দুপাশের গাছপালা, ছোট ছোট দোকান, পরিচিত বাজার—সব যেন পেছনে পড়ে যাচ্ছে।
বাবা গাড়ি চালাতে চালাতে বললেন,
—আভা, ঢাকায় গিয়ে কিন্তু নতুন স্কুলের ব্যাপারটাও দেখতে হবে।
—এখনই স্কুল?
—তোর পড়াশোনার ক্ষতি হোক, সেটা তো চাই না। নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়ার আগে সবকিছু ঠিক করে রাখতে হবে।
মা বললেন,
—আর নতুন জায়গায় গিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকলে চলবে না। নতুন বন্ধু বানাতে হবে।
আভা হালকা হেসে বলল,
—আমি কি এত সহজে বন্ধু বানাতে পারি?
বাবা আয়নায় মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
—তুই চাইলে পারবি। তবে নিজের মতো থাকিস, জোর করে কিছু করতে হবে না।
আভা আর কিছু বলল না।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রবেশ করল। চারদিকে গাড়ির শব্দ, মানুষের ভিড়, উঁচু উঁচু ভবন। চট্টগ্রামের শহুরে জীবনের কথা মনে পড়ে গেল তার। ছোটবেলায় এমন পরিবেশেই তো বড় হয়েছে সে। অথচ এত দিন পর আবার শহরে ফিরতে কেমন অচেনা লাগছে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়ি একটি আবাসিক এলাকার সামনে থামল।
বাড়িটি খুব বেশি বড় নয়, তবে দেখতে বেশ সুন্দর। সামনে ছোট্ট বাগান, চারপাশে কয়েকটি গাছ। বাড়ির নিচতলায় গাড়ি রাখার জায়গা, আর ওপরে কয়েকটি ফ্ল্যাট।
একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন।
—আসসালামু আলাইকুম, রাশেদ সাহেব?
—ওয়ালাইকুম আসসালাম। জি, আমিই।
—আমি কামরুল। ফোনে কথা হয়েছিল।
কুশল বিনিময়ের পর তিনি সবাইকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলেন।
ফ্ল্যাটে ঢুকেই আভার চোখ আটকে গেল বড় জানালাটার দিকে। জানালা দিয়ে পাশের গাছগুলো দেখা যাচ্ছে। ঘরগুলোও বেশ আলো-বাতাসপূর্ণ।
মাহমুদা বেগম রান্নাঘর দেখে বললেন,
—জায়গাটা তো বেশ ভালোই।
কামরুল সাহেব হেসে বললেন,
—এলাকাটাও শান্ত। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ভালো। পাশেই বাজার, মসজিদ, স্কুল—সব আছে।
আভা ধীরে ধীরে ঘরগুলো ঘুরে দেখছিল। একটি ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সে বাইরে তাকাল। নিচে ছোট্ট বাগানে একটি মেয়ে গাছের টবে পানি দিচ্ছে।
হঠাৎ মেয়েটি ওপরে তাকিয়ে আভাকে দেখে হাসল।
আভাও সামান্য হাসল।
মেয়েটি হাত নেড়ে ইশারা করল। আভা একটু অপ্রস্তুত হয়ে সরে এল।
বাবা ঘরে ঢুকে বললেন,
—কী রে, ঘরটা পছন্দ হয়েছে?
—হ্যাঁ। সুন্দর।
—তাহলে তোর ঘর এটা হতে পারে।
আভা জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
—এখান থেকে আকাশ দেখা যায়।
বাবা হেসে বললেন,
—তাহলে ঠিক আছে। তোর ঘর এটাই।
ফ্ল্যাট দেখা শেষ করে সবাই নিচে নামছিল, এমন সময় বাড়ির প্রবেশপথে একজন নারী এসে দাঁড়ালেন।
রাশেদ আহমেদকে দেখেই তিনি থমকে গেলেন।
—রাশেদ ভাই?
রাশেদ আহমেদও থেমে গেলেন।
—আপনি!
নারীটি এগিয়ে এসে বললেন,
—অনেক দিন পর দেখা হলো। শুনলাম আপনারা এই বাসায় উঠবেন?
—হ্যাঁ, এখনো চূড়ান্ত করিনি।
নারীটির চোখ এবার আভার দিকে গেল।
—এ কি আভা?
মাহমুদা বেগম একটু অস্বস্তি নিয়ে বললেন,
—জি। আমার মেয়ে।
নারীটি আভার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মৃদু হাসলেন।
—মাশাআল্লাহ! কত বড় হয়ে গেছে!
আভা সালাম দিল।
—আসসালামু আলাইকুম।
—ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি তোমার বাবার পরিচিত। আমার নাম নাসরিন।
রাশেদ আহমেদ বললেন,
—নাসরিন আপা এই বাড়িতেই থাকেন।
নাসরিন বেগম হঠাৎ মাহমুদা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন,
—তোমাদের সঙ্গে কি সামিরার যোগাযোগ হয়েছে?
প্রশ্নটা শুনে আভার বুকের ভেতর কেঁপে উঠল।
মা দ্রুত বললেন,
—এখানে এসব কথা না বলাই ভালো।
নাসরিন বেগম যেন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন।
—ওহ, ঠিক আছে। পরে কথা হবে।
আভা একবার বাবার দিকে, আরেকবার মায়ের দিকে তাকাল। দুজনের মুখেই অস্বস্তি স্পষ্ট।
এবার তার সন্দেহ আরও বেড়ে গেল।
ঢাকায় আসার আগেই সামিরার নাম এখানে কেন শোনা যাচ্ছে?
বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার পর আভা আর চুপ থাকতে পারল না।
—বাবা, নাসরিন আন্টি সামিরার কথা জানেন?
রাশেদ আহমেদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
—হ্যাঁ, চেনেন।
—তাহলে উনিও কি আমার ছোটবেলার কথা জানেন?
মা এবার বললেন,
—আভা, এখন এসব নিয়ে প্রশ্ন করিস না। বাসায় গিয়ে কথা বলব।
—তোমরা সব সময় বাসায় গিয়ে বলবে বলো। কিন্তু বাসায় গিয়েও তো কিছু বলো না!
কথাটা বলে আভা জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল।
মাহমুদা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
অন্যদিকে গ্রামের বাড়িতে আরিয়ানের ঘরে বসে চলছে অন্য রকম আলোচনা।
আরিশা বিছানায় বসে ফোন দেখছিল। আরিয়ান ঘরে ঢুকে বলল,
—আপু, তোমাকে একটা কথা বলব?
আরিশা ফোন থেকে চোখ তুলে তাকাল।
—বল।
—তুমি কি আভার সঙ্গে কথা বলেছ?
আরিশা ভ্রু উঁচু করে বলল,
—কেন? কথা বললে সমস্যা কী?
—না, সমস্যা নেই। এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।
আরিশা ফোনটা পাশে রেখে বলল,
—তুমি কি জানো, ওরা আজ ঢাকায় গেছে?
আরিয়ান একটু চমকে উঠল।
—ঢাকায়?
—হ্যাঁ। নতুন বাসা দেখবে নাকি।
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
আরিশা সেটা লক্ষ করে মুচকি হাসল।
—কী হলো? মন খারাপ?
—না তো।
—আমাকে মিথ্যা বলতে হবে না। তোমার মুখ দেখেই বুঝতে পারছি।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
—আপু, তুমি সবকিছু নিয়ে মজা করো কেন?
আরিশা এবার একটু গম্ভীর হলো।
—শোনো, একটা কথা বলি। কাউকে ভালো লাগলে শুধু দূর থেকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না। তার মনটাও বুঝতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হয়।
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
আরিশা আবার বলল,
—আভা হয়তো নতুন জায়গায় চলে যাবে। কিন্তু তাই বলে তোমাদের পরিচয় শেষ হয়ে যাবে, এমন তো নয়। তবে তার ওপর কোনো চাপ দেবে না।
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল,
—আমি জানি।
কিন্তু নিজের মনকে কতটা বোঝাতে পারবে, সেটা সে নিজেও জানে না।
সন্ধ্যার দিকে আভারা বাড়ি ফিরল।
গাড়ি থেকে নামতেই আভার ফোনে একের পর এক মেসেজ আসতে শুরু করল।
বন্ধুদের আড্ডাখানা
ইসরাত: “কই রে? ঢাকায় গিয়ে আমাদের ভুলে গেলি নাকি?”
তানু: “নতুন শহরের মানুষ হয়ে গেছিস বুঝি!”
তিথি: “বাসা কেমন দেখলি?”
নাইমা: “পছন্দ হয়েছে?”
আভা হেসে উত্তর দিল।
আভা: “হ্যাঁ, বাসাটা সুন্দর। হয়তো ওখানেই উঠব।”
ইসরাত সঙ্গে সঙ্গে লিখল,
ইসরাত: “তাহলে তোকে নিয়ে আমাদের চিন্তা আরও বেড়ে গেল।”
তানু: “কেন? ঢাকায় গিয়ে নতুন বন্ধু পেয়ে আমাদের বাদ দিয়ে দিবে!”
আভা: “তোদের বাদ দেব কেন?”
ইসরাত: “এই কথাটা মনে রাখিস। আরিয়ানকেও মনে করিয়ে দিস।”
আভা মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ফোনের স্ক্রিনে আরেকটি ব্যক্তিগত মেসেজ ভেসে উঠল।
আরিয়ান: “ঢাকায় পৌঁছেছ?”
আভা উত্তর দিল,
আভা: “হ্যাঁ। একটু আগে।”
আরিয়ান: “নতুন বাসা কেমন?”
আভা: “ভালো। হয়তো ওখানেই উঠব।”
আরিয়ান: “তাহলে তো সত্যিই চলে যাচ্ছ।”
আভা মেসেজটা পড়ে রইল। কী উত্তর দেবে বুঝতে পারল না।
কিছুক্ষণ পর লিখল,
আভা: “সবাই তো একদিন না একদিন কোথাও না কোথাও যায়।”
আরিয়ান অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিল না।
তারপর শুধু লিখল,
আরিয়ান: “কিছু মানুষ চলে গেলেও তাদের অভ্যাসটা থেকে যায়।”
আভা মেসেজটা পড়ে ফোনটা পাশে রেখে দিল।
কেন জানি কথাটা তার মনের ভেতর কোথাও গিয়ে লাগল।
রাত প্রায় দশটা।
আভা নিজের ঘরে বসে ডায়েরি লিখছিল। এমন সময় দরজায় টোকা দিয়ে বাবা ঢুকলেন।
—কী করছিস?
—ডায়েরি লিখছি।
বাবা মেয়ের পাশে বসে বললেন,
—আজকের দিনটা কেমন লাগল?
—ভালো। বাসাটা আমার পছন্দ হয়েছে।
—তাহলে হয়তো আগামী মাসেই কিছু জিনিসপত্র সেখানে পাঠিয়ে দেব।
আভা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর বাবা বললেন,
—আভা, তোকে একটা কথা বলার ছিল।
—কী কথা?
রাশেদ আহমেদ মেয়ের দিকে তাকালেন।
—তুই কি সামিরার সঙ্গে কথা বলেছিস?
আভা অবাক হয়ে গেল।
—হ্যাঁ। উনি আমাকে মেসেজ করেন।
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—উনি তোকে আবার মেসেজ করলে ভয় পাবি না। তবে একা একা কোথাও দেখা করতে যাবি না। আগে আমাকে জানাবি।
—কেন বাবা? উনি কি খারাপ কিছু করেছেন?
—না। কিন্তু কিছু পুরোনো ঘটনা আছে, যেগুলো এখনো পুরোপুরি মিটে যায়নি।
আভা বাবার হাত ধরে বলল,
—বাবা, আমি কি তোমাদের কোনো ভুলের ফল?
প্রশ্নটা শুনে রাশেদ আহমেদ যেন মুহূর্তের জন্য কথা হারিয়ে ফেললেন।
—এমন কথা কেন বলছিস?
—কারণ তোমরা আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছ। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলেই তোমরা চুপ করে যাও। আমার ছোটবেলায় কী হয়েছিল, সেটা জানার জন্য এত অপেক্ষা করতে হচ্ছে কেন?
বাবা মেয়ের হাত শক্ত করে ধরলেন।
—তুই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ, আভা। কখনো নিজের সম্পর্কে এমন ভুল ধারণা করবি না।
আভার চোখ ভিজে উঠল।
—তাহলে সত্যিটা বলো।
রাশেদ আহমেদ কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন,
—আগামী শুক্রবার আমরা ঢাকায় যাব। সেখানে একজনের সঙ্গে দেখা করতে হবে। সেই মানুষটার কাছ থেকেই তুই তোর ছোটবেলার কিছু প্রশ্নের উত্তর পাবি।
—কে সেই মানুষ?
বাবা উঠে দাঁড়ালেন।
—যার কথা তুই এত দিন ধরে জানতে চাইছিস।
আভা বুঝতে পারল, বাবা সামিরার কথাই বলছেন।
কিন্তু বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে আরেকটি কথা বললেন।
—আর একটা কথা, মা। তোর ছোটবেলার যে ছবিটা তুই দেখেছিস, সেটা আমাদের পরিবারের গল্পের পুরোটা নয়। সেই ছবিতে যে মানুষটা নেই, তার অনুপস্থিতিই আমাদের এত বছরের নীরবতার কারণ।
আভা স্থির হয়ে বসে রইল।
বাবা চলে যাওয়ার পর সে ধীরে ধীরে ডায়েরিটা খুলল। কলম হাতে নিয়ে লিখল—
“কিছু মানুষকে আমরা কখনো দেখিনি, অথচ তাদের অনুপস্থিতি আমাদের জীবনের অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকে। আমার জীবনেও কি তেমন কেউ আছে?”
ঠিক তখনই ফোনে একটি নতুন মেসেজ এল।
সামিরার নম্বর।
সামিরা: “আভা, শুক্রবার তোমার বাবার সঙ্গে আমার দেখা হবে। তবে তার আগে তোমাকে একটা কথা জানাতে চাই। তোমার জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার দিন তোমার সঙ্গে আরেকটি শিশুও ছিল।”
আভা মেসেজটা বারবার পড়ল।
আরেকটি শিশু?
তারপরই আরেকটি মেসেজ এল।
সামিরা: “তোমার বাবা-মা হয়তো তোমাকে এই কথাটা কখনো বলেননি। কিন্তু সেই শিশুটির সঙ্গে তোমার জীবনের সম্পর্ক এখনো শেষ হয়নি।”
আভার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
সে দ্রুত লিখল—
আভা: “সেই শিশুটি কে? আমার ভাই বা বোন?”
মেসেজ পাঠানো হলো।
কিন্তু এবারও সামিরা কোনো উত্তর দিলেন না।
আভা জানালার বাইরে তাকাল। অন্ধকার আকাশে একটিও তারা দেখা যাচ্ছে না।
তার মনে শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরতে লাগল—
তার জন্মের দিন আসলে কী ঘটেছিল? আর সেই অচেনা শিশুটির সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী?
অন্যদিকে, ঢাকার অন্য একটি বাড়িতে বসে সামিরা পুরোনো একটি অ্যালবাম খুলে বসেছিলেন। একটি ছবির ওপর আঙুল রেখে তাঁর চোখ ভিজে উঠল।
ছবিতে দুটি ছোট্ট শিশু পাশাপাশি শুয়ে আছে।
ছবির পেছনে লেখা—
“একই দিনে জন্ম, অথচ আলাদা দুটি ঠিকানা।”
সামিরা ছবিটা বুকের কাছে চেপে ধরে ফিসফিস করে বললেন,
—আর কত দিন এভাবে লুকিয়ে রাখব তোমাদের সত্যিটা?
চলবে…