ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমরণ আসক্তি

পর্ব 7

লেখক: হাসিবুল হাসিব

#আমরণ_আসক্তি

#অপূর্ব

#পর্বসংখ্যা_০৭

🚫❌

(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন। [সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]

⚠️

~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~

________________________________

পরেরদিন, সকাল দশটা ছুঁই ছুঁই..........

সারারাত মিলনে মত্ত থেকে অর্থ আর আয়াত ঘুমিয়েছে ভোর রাতের দিকে। তাই এখন দুজনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে আচ্ছাদিত। এতো বেলা যে হয়ে গেছে তাতে তাদের কোনো হুশ নেই।

———

আতিয়া আবরার গত ১৫ ধরে দরজা ধাক্কাচ্ছেন, তবে কারো কোনো সাড়া শব্দ নেই।

এবার বিরক্তিতে আতিয়া আবরারের ভ্রু কুঁচকে এলো। তিনি একটা বিরক্তির নিশ্বাস ফেলেন এরপর কয়েক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। কয়েক মুহূর্ত পর তিনি কিছু একটা ভেবে গলা ছেড়ে গায়ের সব জোড় খাটিয়ে সশব্দে চেচিয়ে বলতে শুরু করেন,

—বম, বম! কেউ বাঁচাও বম! বাঁচাও বাঁচাও!

অর্থ আয়াতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, কম্ফর্টার মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো। বম শব্দটা কানে পৌঁছাতেই অর্থ আতঙ্কিত হয়ে ধরফরিয়ে লাফ দিয়ে উঠে বসে। আতঙ্কিত কন্ঠে বলে,

—বম! কই বম? কার বম!

অতিরিক্ত শব্দে আয়াতের ঘুমও পালিয়েছে। সে চোখ ডলতে ডলতে বিছানায় উঠে বসে। অর্থর দিকে চোখ মুখ কুঁচকে তাকিয়ে বলে,

—কি হইছে? ষাড়ের মতো চিল্লাচ্ছেন কেন?

অর্থ লাফ দিয়ে খাট থেকে নেমে রুমের বাইরের দিকে যেতে যেতে বলে,

—আরে বাল আমি চিল্লাইনি! মম চেঁচাচ্ছে!

কথাটুকু বলে শেষ করতেই অর্থ দরজা খুলে দেখে, আতিয়া আবরার শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আতিয়া আবরার দেখেন তার সামনে স্বয়ং অর্থ আবরার শুধু একটা হাফ প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের ছেলেকে ফাস্ট টাইম এই অবস্থায় দেখে আতিয়া আবরারের মুখ হা হয়ে গেছে।

অর্থ কপালে ভাজ ফেলে বলে,

—কি হইছে মম? কই বম?

অর্থর কথায় আতিয়া আবরারের ভাবনার ছেদ ঘটলো। তিনি দাঁত কেলিয়ে হেসে বলেন,

—কই বম! নেই তো!

অর্থ চোখ গরম করে বলে,

—তাইলে বম বম করে, গলা ফাটাচ্ছিলে কেন?

আতিয়া আবরার মাথা চুলকাতে-চুলকাতে বলেন,

—আরে ওইটা তো তোদের ঘুম ভাঙানোর জন্য বলেছি। অনেকক্ষন থেকে ডাকতেছি,তোরা তো শুনতেই পাস না!

ততোক্ষণে আয়াত এসে অর্থর পাশে দাড়িয়েছে। মেয়েটার পড়নে একটা টি-শার্ট আর নুচের অংশে ছাঁয়া।

ছেলে আর ছেলের বউয়ের এমন অদ্ভুত ড্রেসআপ দেখে আতিয়া আবরারের চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। অবশেষে তিনি নিজেকে দমাতে না পেরে শব্দ করে হেসে ফেললেন।

আতিয়া আবরারের এমন কাণ্ডে অর্থর প্রচুর রাগ হলো। রাগে ছেলেটার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো!

আতিয়া আবরার অর্থর ভাব বুঝতে পেরে কোনো মতে হাসি দমিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,

—অনেক বেলা হয়েছে,নিচে খেতে আসো!

অর্থ আয়াতের আয়াতের হাত টেনে ঘরের ভেতর যেতে যেতে বলে,

—ইউ গো! আমরা আসছি!

কথাটুকু শেষ হতে না হতেই আয়াত শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিলো।

আতিয়া আবরার কয়েক মুহূর্ত হা হয়ে ছেলের কাণ্ড দেখলেন,অতঃপর আর দাঁড়ালেন না। নিচের দিকে এগিয়ে গেলেন।

———————————————————

সময় দুপুর ১২টা........

অর্থ আর আয়াত সকালের ব্রেকফাস্ট খাওয়া শেষ করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছে।

আয়াতের হাত ধরে এগিয়ে গিয়ে অর্থ নিজের ব্লাক ফেরারি গাড়িটিতে উঠে বসে। আয়াতের পরনে নীল রঙা একটা শাড়ি,ঠোঁটে হালকা গোলাপী লিপস্টিক, চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া।

অর্থ ড্রাইভিং সিটে বসে আছে পাশের সিটে আয়াত। অর্থ স্টেয়ারিংয়ে হাত রেখে ঘাড় কাত করে আয়াতের দিকে চেয়ে মাতাল কণ্ঠে বলে,

—ইউ নো? তোমাকে পুরো নীল পরী লাগছে! ইচ্ছা করছে খেয়ে ফেলি!

অর্থর প্রথম কথাটাতে আয়াত লজ্জা পেয়ে মাথা নুইয়ে নিতে চেয়েছিলো তবে শেষ কথাটা কানে আসতেই সে চোখ বড় বড় করে তড়াক করে মাথা তুলে অর্থ'র দিকে তাকালো।

ছেলেটা দিব্বি ভাবলেশহীন ভাবে বসে আছে,যেন এইমাত্র উল্টো-পাল্টা কিছুই বলেনি।

আয়াত মুখ বাকিয়ে বলে,

—অসভ্য লোক!

অর্থ তির্যক হেসে মৃদুস্বরে বলে,

—ইয়েস! জাস্ট ফর ইউ!

আয়াত কি বলবে বুঝলো না তাই বাধ্যগত ভাবে চুপ করে রইলো।

______________

প্রায় আধা ঘণ্টা পেরিয়েছে। অর্থ গভীর মনযোগ দিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছে। আয়াত মাথা নিচু করে আড় চোখে অর্থর দিকে চেয়ে আছে। ছেলেটার পরনে জিন্সের প্যান্ট আর একটা সাদা শার্ট উপরে আবার একটা ছাই রঙা হুডি। দেখতে বেশ সুদর্শন লাগছে ছেলেটাকে। আয়াতের দৃষ্টি আটকালো অর্থ'র নীলাভ মায়াবী চোখ জোড়ায়।

আয়াতের মনে প্রশ্ন জাগলো,

—একটা ছেলের চোখ এতো সুন্দর কিভাবে হতে পারে! আয়াতের কেন জানি হিংসা হচ্ছে! মেয়েটার দৃষ্টিতে মুগ্ধতা ধরা দিলো। মেয়েটা ঘোর লাগা দৃষ্টিতে অপলক ভাবে চেয়ে আছে,ওই দুটো চোখের।

আয়াতের দৃষ্টি লক্ষ্য করে অর্থ কিঞ্চিৎ হেসে বলে,

—এই যে এঞ্জেল! এভাবে চোখ বাকিয়ে রাখলে চোখ ব্যাথা হয়ে যাবে। সোজা হয়ে বসে আমাকে দেখো, আমি তো তোমারই!

অর্থ'র কথাতে আয়াতের ধ্যান ভাঙলো যেন। সে তড়িৎ গতিতে দৃষ্টি সড়িয়ে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালো।

অর্থর হাসি বিস্তার হলো। সে আগাম কোনো সংকেত ছাড়াই একটা হেচকা টান দিয়ে আয়াতকে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো।

অর্থর এমন কাজে আয়াত হতবম্ভ হয়ে চেঁচিয়ে বলে,

—এইই! এইই! কি করছেন?

অর্থ চোখ ছোট ছোট করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

—আমার বউ কে আমি কোলে নিয়েছি, তোমার কোনো সমস্যা?

অর্থর এমন দৃষ্টিতে আয়াত নেতিয়ে পড়লো,বোকা হেসে বলে,

—না,না আমার আবার কি সমস্যা থাকবে? কোনো সমস্যা নেই তো!

আয়াতের গলার ভাজে মুখ ডুবিয়ে অর্থ প্রতুত্তরে আওড়ালো,

—হুম সেটাই! সো, ইউ স্টপ ইট!

আয়াত কিছু বলল না, সেভাবেই চুপটি করে বসে রইলো।

অর্থ মুখ গুজে রেখে,চোখ উঁচিয়ে সামনের দিকে দৃষ্টি ফেলে কার ড্রাইভে মনযোগী হলো।

প্রায় ২০ মিনিট পর অর্থ গাড়ি থামালে,আয়াত সামনের দিকে কিছুটা হেলে পড়ে। পুনরায় নিজেকে স্বাভাবিক করে অর্থর দিকে চেয়ে বলে,

—কি হলো গাড়ি থামালেন কেন?

অর্থ নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে,

–শ্বশুর বাড়ি পৌঁছে গেছি তাই!

অর্থর কথাটুকু শোনা মাত্রই আয়াত ঘাড় ঘুরিয়ে পাশ ফিরিয়ে তাকালে দেখলো,ঠিক সামনেই সেই বাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে যেখানে আয়াত তার পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে।

আয়াত প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে অর্থর দিকে চেয়ে বলে,

—আপনি আমার বাড়ি চিনলেন কিভাবে?

অর্থ ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বলে,

— আই নো এভরিথিং!

আয়াত মুখ বাকিয়ে বলে,

—হুম জানেন ভালো কথা! এখন আমাকে নামতে দিন। সড়ুন তো বাল!

কথা টুকু বলেই আয়াত নিজের মুখ চেপে ধরে। কয়েক মুহূর্ত পর বিরক্তি কণ্ঠে বলে, সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে! প্রবাদটা একদম বাস্তব! এই আপনার মুখে বাল, বাল শুনতে শুনতে আমার মুখ দিয়েও বের হয়ে যাচ্ছে!

আয়াতের কথায় অর্থ শব্দহীন হাসলো। এরপর দরজা খুলে আয়াত কোলে নিয়েই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আয়াত কে নামিয়ে দিলো।

আয়াত সামনের বাড়িটার দিকে তাকিয়ে একটা শক্ত ঢোক গিলল। মুহুর্তেই মেয়েটার চেহারায় চিন্তার ছাপ পড়লো। অর্থ আয়াতের দিকে চেয়ে বিচলিত কণ্ঠে বলে,

—কি হয়েছে এঞ্জেল? এ'নি প্রবলভাবে?

আয়াত চোখ মুখ কুঁচকে অর্থর দিকে চেয়ে বিরক্তি কণ্ঠে বলে,

—আপনি মানুষটাই তো আস্ত একটা প্রবলেম!

অর্থ ইনোসেন্ট ফেইস বানিয়ে বলে,

—আমি আবার কি করলাম?

আয়াত চোখ গরম করে বলে,

—ধুপধাপ করে আমাকে বিয়ে করে নিলেন! আবার বলছেন, কি করেছেন! আমি এখন আমার মা, ভাইকে কি বলবো? কালকে তো ফ্রেন্ডের বাসায় আছি বলে কোনোভাবে ম্যানেজ করেছি।

অর্থ ডান হাতে টান দিয়ে আয়াতকে কাছে টেনে নিয়ে বলে,

—ডোন্ট প্যানিক এঞ্জেল! আ'ম হেয়ার!

আয়াত কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। এরপর ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে বাড়িটার দরজার ঠিক সামনে দাঁড়ালো, পাশেই অর্থ দাঁড়িয়ে আছে। সবকিছু শুনে মা আর ভাই কি রিয়েকশন দিবে এই এক চিন্তাতেই আয়াতের মাথা ফাটছে। বুক ধুকপুক করছে মেয়েটার।

সকল চিন্তাকে এক পাশে কবর দিয়ে আয়াত কাঁপা হাতে কয়েকবার কলিং বেল বাজালো।

অল্পক্ষণের মাঝেই আয়াশ এসে দরজা খুলে দেয়। বোনের সাথে অজ্ঞাত একটা ছেলেকে দেখে আয়াশের ভ্রু কুঁচকে আসলো, তবে সে কিছু বলল না। আয়াশ কিছুটা সড়ে দাঁড়ালে আয়াত আর অর্থ বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে।

সাফিয়া রহমান রান্না করছিলেন। দরজার কাছে শব্দ পেয়ে তিনি রান্না ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে, অচেনা একটা ছেলেকে দেখে কপালে ভাজ পড়লো তার।

সাফিয়া রহমান অর্থর দিকে চেয়ে বলে,

—কে তুমি বাবা? ঠিক চিনতে পারলাম না!

অর্থ এগিয়ে এসে সালাম দিয়ে বলে,

—আমি আপনার মেয়ের জামাই!

কথাটা শুনতেই সাফিয়া রহমানের মাথায় যেন বাজ পড়লো। তিনি নিজেকে সামলে হেসে বলেন,

—তুমি আমার সাথে ফাইজলামি করছো?

অর্থ রাশ ভারী কণ্ঠে উত্তর করে,

—আমি ফান করি না,আর আপনার সাথে কি আমার ফাইজলামির সম্পর্ক যে ফান করবো।

কথা গুলো শুনে সাফিয়া রহমান প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে আয়াতের দিকে তাকালে দেখলেন, আয়াত চুপ করে গুটিশুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে।

সাফিয়া রহমান আয়াতের উদ্দেশ্যে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

—আশ্মিন! কি শুনছি এসব? এটা কি সত্যি!

আয়াত কিছু বলল না শুধু ধীর গতিতে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। এবার সাফিয়া রহমানের রাগ বাঁধ ভাঙলো। তিনি তেড়ে গিয়ে আয়াত কে মারার জন্য হাত তুললেন তবে মারার ভাগ্য আর হলো না। অর্থ ঘপ করে সাফিয়া রহমানের হাত ধরে তির্যক হেসে শান্ত কণ্ঠে বলে,

—ওহে শাছুমা! আমার বউ কে মারার আশা বাদ দাও! নেক্সট টাইম এই ভুল আর কইরো না।

সাফিয়া রহমান রাগী কণ্ঠে বলেন,

—এই বেয়াদব ছেলে! আমার হাত ছাড়ো!

অর্থ আগের মতো করেই উত্তর করে,

—তোমার হাত ধরে রাখার কোনো শখ আমার নাই! আমি তো শুধু তোমার মেয়ের হাত ধরে রাখতে চাই!

সাফিয়া রহমান ঝটকা দিয়ে অর্থর থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। অর্থ মুচকি হেসে এগিয়ে গিয়ে সোফায় বসে।

সাফিয়া রহমান রাগ ঝেড়ে ফেলে আয়াতের উদ্দেশ্যে অসহায় কণ্ঠে বলে,

—কেন করলি মা, তুই এমন? তুই তো ভালো করেই জানিস মাসুদের সাথে তোর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।

আয়াত এবার মাথা তুলে মায়ের দিকে চেয়ে বিরক্তি কণ্ঠে বলে,

—মা! তোমাকে অনেকবার বলেছি ওই বুইড়া বেডারে আমি বিয়ে করতে পারবো না। আর এখন তো আমার বিয়ে হয়েই গেছে।

এই পর্যায়ে অর্থ ও বিরক্ত হলো। সে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে এসে বলে,

—এই মাসুদ আবার কোন ক্ষেতের মুলা? আর শাছুমা তোমার মেয়ে আমার বউ হলে প্রবলেম কোথায়?

সাফিয়া রহমান চিন্তিত কণ্ঠে বলে,

—সমস্যা আছে! অনেক সমস্যা আছে!

কথাটুকু বলে শেষ করে সাফিয়া রহমান পুরনায় রান্না ঘরে চলে যান। অর্থ ভ্রু কুঁচকে আয়াতের দিকে চেয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

—কি হইছে? আমাকে সব ক্লিয়ার করে বলো?

আয়াত একটা আক্ষেপের নিশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করে,

—আপনি এখন যেই বাড়িটাতে দাঁড়িয়ে আছেন, এটা একসময় আমাদেরই বাড়ি ছিলো। আর এখন আমরা নিজেদের বাড়িতেই ভাড়া থাকি! বাবার অসুখের সময় এই এলাকার প্রভাবশালী লোক মাসুদের কাছে অনেক টাকা ধার করতে হয়েছিলো। এরপর বাবা মারা গেলো, আমরাও আর ধার শোধ করতে পারিনি। একদিন ওই মাসুদ এসে আমার মাকে বলে, যদি আমি তাকে বিয়ে করি তাইলে সব ঠিকঠাক আর না হলে এই বাড়ি ছাড়তে হবে! আমি বুদ্ধি করে একটু সময় চেয়েছিলাম বলে এখনো ঠিক আছি না হলে ওকেই বিয়ে করতে হতো।

একনিশ্বাসে কথাগুলো বলে আয়াত একটা দীর্ঘশ্বাস চুপ হয়ে গেলো।

সবকিছু শোনার পরে অর্থ শান্ত কণ্ঠে বলে,

—কয় কোটি টাকা পায় ওই লোক?

আয়াত চোখ বড় বড় করে অর্থর দিকে চেয়ে বলে,

—আরে কোটি হবে কেন? আশি লাখ টাকা।

এবার অর্থ শব্দ করে হেসে ফেলে। বলে,

—মাত্র এই কটা টাকার জন্য এতো চিন্তা! তোমার কোটিপতি স্বামিকে কি, তোমার চোখে পড়ে না?

আয়াত বিরক্তি কণ্ঠে বলে,

—আরে বাল! চিন্তাটা টাকার নয়! ওই শালা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে আমার মাকে!

কথাটা শুনতেই রাগে অর্থর মাথায় রক্ত টকবক করে ফুটতে শুরু করলো, তবে আয়াতের সামনে সেসব প্রকাশ করলো না।

অর্থ শান্ত কণ্ঠে বলে,

—তুমি তোমার মায়ের সাথে এখানেই থাকো। আমি তোমার না হওয়া জামাইয়ের সাথে দেখা করে আসি।

কথাটুকু বলেই অর্থ দ্রুত গতিতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো, আয়াত কিছু বলতে চেয়েও সুযোগ পেলো না।

পাশেই আয়াশ দাঁড়িয়ে আছে। আয়াতের দৃষ্টি আয়াশের দিকে পড়লে দেখলো ছেলেটা চোখ ছোট ছোট করে অর্থর গমন পথে চেয়ে আছে। আয়াত এগিয়ে এসে ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বলে,

—কি হয়েছে বলতো? অনেকক্ষন থেকে দেখতেছি, তুই অদ্ভুত দৃষ্টিতে ওনার দিকে চেয়ে আছিস! ঘটনা কি?

আয়াশ গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

—ওই লোককে কই পেয়েছো তুমি?

আয়াত ভ্রু তে ভাজ ফেলে বলে,

—কেন বলতো?

আয়াশ ফের প্রশ্ন করে,

—তুমি জানো ওর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে?

এবার আয়াতের ভ্রুর ভাজ তীক্ষ্ণ হলো। সে চিন্তিত কণ্ঠে বলে,

—মানে?

আয়াশ শান্ত কণ্ঠে বলে,

—তোমার হঠাৎ হওয়া হাসবেন্ড, আন্ডারওয়াল্ডের অনেক বড় মাফিয়া!

আয়াশের কথা শুনে আয়াতের চোখ কপালে উঠলো। মেয়েটা বিস্ময় কণ্ঠে চেঁচিয়ে বলে,

—হোয়াটটটট! আর এটা তুই জানলি কিভাবে?

আয়াশ কয়েক মুহূর্ত থেমে উত্তর করে,

—হুম! আমি একবার টিভিতে নিউজে ওনাকে দেখেছিলাম। আসার পর থেকে ওটাই শিওর হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আর এখন আমি শিওর।

আয়াতের মাথায় হাত পড়লো। সে এগিয়ে গিয়ে ধপ করে সোফার উপর বসে,কপালে হাত ঠেকিয়ে রাখে।

আয়াশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বোনের মতিগতি বুঝতে চেয়ে বলে,

—আরো করো গুন্ডা কে বিয়ে!

আয়াত মাথা তুলে আয়াশের দিকে চেয়ে বিরক্তিতে 'চ' সূচক শব্দ করে বলে,

—আরে বাল আমার হাসবেন্ড গ্যাংস্টার এইটা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই! আমি চিন্তা করছি মাসুদ কে নিয়ে। একবার ভাব, ওর কি অবস্থা হবে?

এবার আয়াশেরও একটু চিন্তা হলো তবে সেসবে পাত্তা না দিয়ে ছেলেটা ভাবলেশহীন ভাবে বলে,

—কি আর হবে! বেশি কিছু হবে না তো, শুধু একটা লাশ পড়তে পারে!

আয়াত রাগী কণ্ঠে বলে,

—চুপ কর বে'দ্দপ!

.

.

.

[রিচেইক দেওয়া হয়নি,ভুল-ত্রুটি মাফ কইরা দিও🥲। গল্পটা কেমন লাগতেছে জানাতে ভুলবে না। এটার পাশাপাশি আমার অন্যান্য উপন্যাস (হৃদ মাঝারে), (বোকা পাখি), (রংধনু) পড়ে দেখতে পারো, ভালো লাগবে আশা করি😊]

[গল্পের নিয়মিত আপডেট পেতে আমার ফেইসবুক আইডি (Hasibul Hasib) ফলো দিয়ে রাখো]

\\এখন থেকে সপ্তাহে দুইটা করে পর্ব দেওয়া হবে। রবিবার আর বৃহস্পতিবার\\

🥰ধন্যবাদ সবাইকে🥰

~চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 7 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন