#আমরণ_আসক্তি
#অপূর্ব
#পর্বসংখ্যা_০৮
🚫❌
(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন।
[সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]
⚠️
~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~
⚠️🚫
{বিনা অনুমতিতে কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ}
________________________________
দুই ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেট নিয়ে, ভ্রুতে গভীর ভাজ ফেলে অর্থ গাড়ি ড্রাইভ করছে। কিছুক্ষণ পরপর ঠোঁটের সিগারেটে টান দিচ্ছে।
কয়েক মিনিট পর অর্থ ডান হাত স্ট্রেয়ারিংয়ে রেখে, বাম হাতে পকেট থেকে ফোন বেড় করলো। এরপর রাহাতের নাম্বারে কল মিলিয়ে ফোন লাউডে দিয়ে গাড়ির ডেস্কে রেখে দিলো। কয়েকবার রিং হয়ে কল রিসিভ হলো। রাগে অর্থর চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে। অর্থ রেগে কিছু বলবে তার আগেই রাহাত কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলে,
—স্যরি বস! স্যরি বস! বউয়ের সাথে ছিলাম তাই কল রিসিভ করতে একটু দেরি হলো!
অর্থর চেহারা কিছুটা শিথিল হলো। সে মুচকি হেসে বলে,
—এই যে ইমোশনাল করে দিলি তো! যা, এই যাত্রায় মাফ করলাম।
ফোনের ওইপাশ থেকে রাহাতের সশব্দে হাসি ভেসে আসলো।
অর্থ এবার চেহারায় স্বভাব'সুলভ গাম্ভীর্যতা এনে সিরিয়াস কণ্ঠে বলে,
—আচ্ছা, যে জন্য ফোন দিয়েছিলাম! আমি লোকেশন সেন্ট করছি, ২ কোটি টাকা নিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে আসবি।
রাহাত বিস্ময় কণ্ঠে বলে,
—দুইইই কোটি! এতো টাকা কি হবে বস?
এবার রাগ অর্থর মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বাজখাঁই কণ্ঠে বলে,
—এই মাদারচো*দ! তুই আমাকে প্রশ্ন করার সাহস কই পেলি! যা বলেছি তাই কর!
রাহাত অনুতপ্ত সুরে আওড়ালো,
—স্যরি বস! ওকে বস! আমি আসছি।
রাহাতের কথাটুকু শেষ হতে না হতেই অর্থ খট করে কল কেটে দিলো।
________________________
আরো প্রায় ১৫ মিনিট পর অর্থর গাড়িটা একটা ইটের ভাটার সামনে পৌঁছালো।
মাসুদ আর তার সাঙ্গ- পাঙ্গরা ইট'ভাটার একপাশে একটা বড় গাছের ছায়ায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। হর্নের শব্দে সামনে তাকালে তারা দেখে একটা গাড়ি ধুলো উড়িয়ে তাদের দিকেই আসছে। অর্থ'র গাড়িটা এসে তাদের ঠিক সামনে থামে। অর্থ ড্রাইভিং সিটে বসে ডেস্কের উপর থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে, সেখান থেকে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ঠোঁটের ফাঁকে পুড়ে শার্টের হাতা ফোল্ডগাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। সকলে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। অর্থ সিগারেটে একটা দীর্ঘ টান দিয়ে গভীর কণ্ঠে সকলের উদ্দেশ্যে বলে,
—তোদের মধ্যে মাসুদ কে?
কাছের বড় ভাইকে অজ্ঞাত একজন নাম ধরে সম্বোধন করছে, বিষয়টা বোধহয় আরিফের গায়ে লাগলো। সে তেঁতে উঠে অর্থর দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
—কে তুই বেহ্? মাসুদ ভাইকে.......!
কথাটুকু শেষ করা আর হলো না। অর্থ গায়ের সব শক্তি খাটিয়ে আরিফের কানের গোড়ায় একটা কষে থাপ্পড় মারে।
এমন শক্ত থাপ্পড় খেয়ে আরিফ চোখে একরকম অন্ধকার দেখছে,কানের ভেতর মনে হচ্ছে পিয়ানো বাজছে।
অর্থ দাঁত কিরমির করে বলে,
—ফাও প্যাচাল আমার পছন্দ না! আমি বলেছি,মাসুদ কে?
প্রশ্নটা আরিফের উদ্দেশ্যে হলেও সে কোনো উত্তর করতে পারলো না। মাথা ধরে মাটিতেই বসে পড়লো ছেলেটা।
মাসুদ আর বাকিরা প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলো। অচেনা একটা ছেলের তরফ থেকে হঠাৎ কাণ্ড কেউই আশা করেনি।
মাসুদ বাইকে বসে ছিলো। উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
—আমি মাসুদ! তুই কে?
অর্থ এগিয়ে গিয়ে মাসুদের কাঁধে হাত রেখে বাইকে হেলান দিয়ে বসে। মাসুদ আড় চোখে সবটাই দেখলো। তার রাগ হচ্ছে ভীষণ এরপরেও সে দাঁতে দাঁত চেপে সব সহ্য করলো। অর্থ ঘাড় বাঁকিয়ে মাসুদের দিকে চেয়ে হাতের সিগারেটে একটা টান দিয়ে তির্যক হেসে বলে,
—আমি তোর হবু বউয়ের বর্তমান জামাই!
অর্থর কথাটা মাসুদের কাছে ত্রিকোণমিতির সুত্রের মতো হলো। সব মাথার উপর দিয়ে গেছে।
মাসুদ অর্থর দিকে তাকিয়ে রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে,
—এই বাল! যা বলবি, সোজাসুজি বল। এতো প্যাচ বুঝি না, আমি অংকে কাঁচা।
মাসুদের কথায় অর্থ শব্দহীন হাসলো। মাসুদের একটা চ্যালা দৌড়ে গিয়ে একটা বাঁশ নিয়ে এসে মাসুদের উদ্দেশ্যে বলে,
—ভাই একবার শুধু অর্ডার করেন, এই হালারে এইহানেই পুইত্তা ফেলবো!
অর্থ ভ্রু কুঁচকে লোকটা দিকে তাঁকিয়ে ডেভিল হাসি হেসে ভাবলেশহীন কণ্ঠে বলে,
—কেরে আমারে পুতবে! বাছা একটু সামনে আসো তো!
কথাটুকু বলতে বলতে অর্থ প্যান্টের সাইড পকেট থেকে পিস্তল বের করে লোকটার পায়ে গুলি করে দেয়। মুহূর্তেই লোকটার আত্মচিৎকার চারিদিকে অনাগত ঝড়ের জানান দিলো।
এবার উপস্থিত সবাই ঘাবড়ে গেলো। নড়েচড়ে সতর্ক হয়ে দাঁড়ালো সকলে।
মাসুদ কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো পাশে চোখ পড়তেই। ইট ভাটার প্রবেশ পথ দিয়ে ঝড়ের গতিতে ধুলো উড়িয়ে পাঁচটা সাদা রঙের গাড়ি প্রবেশ করেছে। অল্পক্ষণের মধ্যে গাড়ি গুলো এসে তাদের কাছেই থামলো। গাড়ি থেকে অর্থর বডিগার্ডদের হেড রবিন, রাহাতসহ আরো ১৫-২০ জন বেড়িয়ে আসে। গার্ডেরা এসে সবাইকে ঘিরে দাঁড়িয়ে মাসুদ এবং তার লোকেদের দিকে বন্দুক তাক করে।
মাসুদ খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা সাধারণ কোনো গুন্ডা-মাস্তান না। মাসুদ একটা শক্ত ঢোক গিলে। ওই দিকে তার লোকেদের ভয়ে নাজেহাল অবস্থা, একেকটার হাঁটু কাঁপছে থরথর করে। শুধু প্যান্ট ভেজা বাকি বোধহয়! মাসুদ অর্থর উদ্দেশ্যে কাঁপা কণ্ঠে বলে,
—কে তুমি ভাই?আমি কি করেছি?
অর্থ শান্ত কণ্ঠে বলে,
—আন্ডারওয়াল্ড গ্যাংস্টার অনিকেত আবরার অর্থর নাম শুনেছিস কখনো?
মাসুদ মনের মাঝে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে দৃঢ় কণ্ঠে বলে,
—হুম শুনেছি তো! উনি ইন্টারন্যাশনাল মাফিয়া!
অর্থ তাচ্ছিল্যময় হেসে রসিক সুরে বলে,
—আমার নাম শুনেছিস অথচ আমাকে দেখেও চিনতে পারলি না!
মাসুদের হয়তো এটা শোনায় বাকি ছিলো। এবার মাথা ঘুরাচ্ছে তার। মাসুদ একলাফে অর্থর থেকে খানিকটা দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
—আমি কি করেছি ভাই? আর, আমি কিছু করে থাকলে মাফ করে দেন!
অর্থ কিছু বলল না শুধু রাহাত কে হাত দিয়ে একটা ইশারা করলো। রাহাত এগিয়ে গিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে দুই হাতে দুইটা, দুইটা করে মোট চারটা ব্রিটকেস নিয়ে এসে অর্থর কাছাকাছি দাঁড়ালো।
অর্থ এবার হাতের সিগারেটে শেষ টান দিয়ে সেটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে এরপর মাসুদের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অতিশীতল কণ্ঠে বলে,
—শুনলাম তুই নাকি, আমার বউ আয়াতের দিকে নজর দিয়েছিস।
কথাটা শুনে মাসুদের চোখ কপালে উঠলো। সে দুই হাত জোড় করে বলে,
—স্যরি ভাই! স্যরি! আমি জানতাম না আয়াতের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক আছে!
মাসুদের কথাটুকু শেষ করতে দেরি হলেও অর্থর তাকে থাপ্পড় দিতে দেরি হলো না। অর্থ একহাতে মাসুদের কলার ধরে চেঁচিয়ে বলে,
—আয়াত না! ভাবী বল!
মাসুদ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে উচ্চারণ করলো,
—স্যরি স্যরি ভাইইই! ভাবী, ভাবী!
অর্থ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে মাসুদের কলার ছেড়ে দিয়ে বলে,
—গুড বয়!
মাসুদও প্রতুত্তরে জোড়'পূর্বক হাসলো!
অর্থ রাহাতের দিকে তাকিয়ে বলে,
—ব্যাগ গুলো ওদের দে!
রাহাত চারটা ব্রিটকেস মাসুদের লোকেদের হাতে ধরিয়ে দিলো।
মাসুদ জড়তা নিয়ে প্রশ্ন করলো,
—ব্যাগ গুলোতে কি আছে ভাই!
অর্থ গম্ভীর স্বরে আওড়ালো,
—আমি যতো দূর জানি, তুই আমার শাশুড়ী ম্র থেকে টাকা পাইতি! এই প্রত্যেকটা ব্যাগে ৫০ লক্ষ করে মোট দুই কোটি টাকা আছে! সব টাকা তোদেরকে দিলাম, বিনিময়ে নেক্সট টাইম আর আমার বউয়ের বাড়িটার দিকে দিকে তাকাবি না!
মাসুদ মাথা নুইয়ে মৃদুস্বরে বলে, ঠিক আছে ভাই!
অর্থ কপালে কয়েকবার স্লাইড করে পুনরায় বলে,
—আর হ্যাঁ! নেক্সট টাইম যদি আমার বউয়ের দিকে তাকাস, তাইলে তোর ওই স্বাধের দুই চোখ আর তাদের আগের জায়গা তে থাকবে না। তাদের স্থান হবে আমার পায়ের নিচে! আর আমি অর্থ যে ফাঁকা আওয়াজ দেই না, এই ধারণা হয়তো তোর আছে।
মাসুদ কিছু বলল না শুধু ঘাপটি মেরে চুপ করে সব শুনে গেলো! অর্থ আর কথা বাড়ালো না। এগিয়ে গিয়ে নিজের ব্লাক ফেরারি গাড়িটিতে বসে স্থান ত্যাগ করলো। যাওয়ার আগে অবশ্য আহত দুই ব্যক্তির চিকিৎসা করাতে বলতে ভোলেনি। অর্থর গার্ডেরা আহত দু'জন ব্যক্তিকে নিজেদের সাথে নিয়ে অর্থর পরপরই ইট ভাটার এড়িয়া ত্যাগ করলো।
মাসুদ আর তার লোকেরা হতবম্ভ হয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে অর্থর গমনপথে। এছাড়া যে তাদের কিছু করার নেই।
_______________________________
আয়াত অনেকক্ষন যাবৎ থম মেরে সোফায় বসে আছে। আয়াশ আর কি করবে! সেও বোনের পাশে গাট্টি মেরে বসে আছে। কেউ টু শব্দটিও করছে না।দুই ভাইবোন কে এইসময় এইভাবে কেউ দেখলে নিশ্চয় ভাববে,এখানে নিরব থাকার প্রতিযোগিতা চলছে। এইসব ভেবে গাম্ভীর্যতার মাঝেই আয়াশ ফিক করে হেসে ফেললো। আয়াত ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি চোখে ভাইয়ের দিকে তাকালো, তবে কিছু বলল না। তড়াক করে উঠে দাঁড়িয়ে মায়ের রুমের দিকে পা বাঁড়ালো।
____________________________
সাফিয়া রহমান ঘরে ঢুকে সেইযে কাত মেরে শুয়েছেন আর নড়চড় করেননি!
আয়াত ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বিছানায় মায়ের পাশে বসলো। সাফিয়া রহমান অন্যদিকে ফিরে শুয়ে আছে।
আয়াত ঘাড় উঁচিয়ে, চোখ বাঁকিয়ে মায়ের মুখ দেখার চেষ্টা করলো তবে ব্যর্থ হলো।
আয়াত একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে,কয়েক মুহূর্ত চুপ করে বসে রইলো। এরপর কিছু একটা ভেবে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
—এই যে মিসেস সাফিয়া রহমান! আপনি কি বাঁইচা আছেন?
সাফিয়া রহমান রেগে গাল ফুলিয়ে ছিলেন এরপরেও মেয়ের এমন কথা ফিক করে হেসে ফেললেন। তবে তড়িঘড়ি করে নিজেকে স্বাভাবিক করে আবার চুপ করে শুয়ে রইলেন।
আয়াত বুঝলো মায়ের রাগ একটু একটু করে কমছে। সে মুচকি হাসলো! অতঃপর বলে,
—ওই আম্মু! অনেক হইছে এবার রাগ কমাও এইদিকে ঘোরোতো!
সাফিয়া রহমান কিছু বললেন না, আগের মতোই শুয়ে রইলেন!
আয়াতের ভেতর থেকে আবারও একটা দীর্ঘ নিশ্বাস বেড়িয়ে এলো। সে আবার বলে,
—আচ্ছা তুমি আগে শোনো আমার সাথে আসলে কি হইছে!
এবারও সাফিয়া রহমানের তরফ থেকে কোনো উত্তর এলো না।
আয়াত উত্তরের তোয়াক্কাও করলো না সে গতকাল এবং আজকে মিলিয়ে তার সাথে ঘটা সকল ঘটনা গরগর করে বলতে শুরু করলো। আয়াতের সব কথা বলা শেষ হতেই সাফিয়া রহমান ফট করে উঠে বসে আয়াতের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় কণ্ঠে বলে,
—কি বলছিস এসব!?"
আয়াত মাথা নুইয়ে বলে,
—হ্যাঁ মা! ঠিকই বলছি!
সাফিয়া রহমান রাগী কণ্ঠে বলে,
তাহলে তো ওই বেয়াদব ছেলের নামে পুলিশ কেইচ করা উচিৎ! ওই ছেলে তো তোকে একপ্রকার ধ*র্ষণ করেছে আবার জোড় করে বিয়ে করেছে।
আয়াত শান্ত কণ্ঠে বলে,
—সেসবের কোনো দরকার নেই! কারণ, প্রথমত আইন ওনাদের মতো ধনী লোকেদের কিছু করতে পারবে না! তারপর আবার উনি নাকি মাফিয়া! আর দ্বিতীয়ত যেভাবেই হোক উনি আমার স্বামী। তাই সবচেয়ে ভালো হলো, ওনাকে স্বামী হিসাবে মেনে নেওয়া আর আমি এখন সেটারই চেষ্টা করতেছি।
সাফিয়া রহমান মেয়ের কপালে শব্দ করে চুমু খেয়ে অসহায় কণ্ঠে বলেন,
—জানি না! আল্লাহ কি রেখেছে তোর কপালে?
আয়াত মৃদু হেসে উত্তর করে,
—চিন্তা করো না! যা হবে ভালোর জন্যই হবে!
সাফিয়া রহমান চিন্তিত কণ্ঠে বলে,
—কিন্তু মাসুদ!
আয়াত বাঁকা হেসে বলে,
—ওই যে বললাম, তোমার মেয়ের জামাই মাফিয়া! আর হ্যাঁ, তোমাকে তো বলায় হয়নি উনি মাসুদের সাথেই দেখা করতে গেছেন।
এবার কোনো এক অজানা কারণে সাফিয়া রহমান কিছুটা চিন্তা মুক্ত হলেন! এই অজ্ঞাত সাহসের কারণ তিনি খুঁজে পেলেন না! হয়তো ওই বেয়াদব ছেলেটাই এর কারণ! নিজের এমন ভাবনাতে সাফিয়া রহমান মৃদু হাসলেন। আয়াত বেশ বুঝতে পারছে, মায়ের মন গলেছে। সে সুযোগ বুঝে নিজের মাকে শক্ত করে ঝাপটে ধরে। সাফিয়া রহমান ও মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন পরম স্নেহে!
আয়াত চোখ বন্ধ করে নিলো, বন্ধ দুই চোখের পাতা বেয়ে গড়িয়ে পড়লো বিষাদময় অশ্রু!
~চলবে~