ফন্ট সাইজ:
থিম:
মির্জা সায়ান মুগ্ধ

৭৬(ক)

লেখক: জান্নাতুল ফেরদৌস মিথিলা

#মির্জা_সায়ান_মুগ্ধ — পর্বঃ৭৬(ক)

#jannatul_firdaus_mithila

( সামান্য ভায়ো*লেন্স যুক্ত ⚠️)

অন্তঃকোণের ঘনবর্ষায় জরাজীর্ণ রমণীর হৃৎপিণ্ড! অদৃশ্য বজ্রপাতে কাঁপছে মানসপট! থরথর করে কাঁপতে থাকা ক্ষুদ্র তনুতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে মৃদু তুষারপাতের মুক্তোর ন্যায় কণাগুলো। স্তব্ধ হয়ে আছে হরিণা চোখ দুটো! সামনেই একপ্রকার উচ্ছিষ্টের ন্যায় পড়ে আছে সদ্য বি*চ্ছি*ন্ন মাথাটা। লোহুর তীব্র উপস্থিতিতে লেপ্টে আছে বরফের সঙ্গে!

বুকটা কেমন দ্রিমদ্রিম শব্দ তুলছে মাহির। তিরতির করে কাঁপছে ওষ্ঠপুট! চোখ দুটো নির্বিকারে অশ্রু ঝরাতে মত্ত। গলার কাছটায় বইছে ঝড়! তার ঝাপসা দৃষ্টিযুগলের মানসপটে আনমনেই ভেসে উঠল—রোদ ভাইয়ের হাসিমাখা মুখটা! কানে যেন এখনো বাজছে তার কণ্ঠস্বর।

চঞ্চলার কাঁপতে থাকা হাত দুটো এগোল। ধীরে ধীরে ছুঁয়ে দেখতে চাইল মাথাটা। ঠিক তখনই এক নির্দয়, পাষণ্ডের বুট পরিহিত পায়ের লাথিতে বি*চ্ছি*ন্ন মাথাটা কেমন হুট করেই সরে গেল রমণীর সামনে থেকে। তক্ষুনি ভড়কে গেল মাহি! চকিতে দৃষ্টি তুলে তাকাতেই দেখল—পাষণ্ড রূঢ় মানব বড্ড আগ্রাসী ভঙ্গিতে নিজের সুশ্রী মুখমণ্ডল থেকে মাস্কের আবরণ টেনেহিঁচড়ে খুলে নিচ্ছে। মাথার টুপিটা এক ঝটকায় নামিয়ে এনে ছুড়ে ফেলেছে অদূরে! অতঃপর শক্ত চোয়ালে কটমট করতে করতে আবারও পা বাড়াল অদূরের মা*থাবি*হীন আগন্তুকের পানে। কয়েক কদম এগোতেই আচমকা পেছন থেকে ভেসে এলো রমণীর করুণ আত্মচিৎকার!

“নোওওও! নো... নো। আমার... আমার!”

জুড়িয়ে আসা কণ্ঠ ফুঁড়ে কেমন এলোমেলো বাক্য বেরোচ্ছে মাহির। বিধ্বস্তের ন্যায় দুহাত-পায়ে ভর দিয়ে ছুটতে চাইছে বিচ্ছিন্ন মাথাটার কাছে। পথিমধ্যে হুট করেই তার পথ আগলে দাঁড়াল নতমুখী এডউইনসহ আরও কয়েকজন বাধ্য অনুচর। অসহায় মানবী উদ্ভ্রান্ত এ পর্যায়ে। ভাইয়ের কাছে ছুটতে চেয়েও না পারার দুঃখে সহসা দুহাত জোড় করল এডউইনের অভিমুখে। কাতর কণ্ঠে শুধাল,

“প্লিজ, এডউইন! আমায়... আমায় একটু যেতে দিন তার কাছে।”

নতমুখে দাঁড়িয়ে থাকা গম্ভীর মানবের চোয়াল শক্ত! কোমর-পিঠে বেঁধে রাখা হাত দুটোও মুষ্টিবদ্ধ। যাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে স্বয়ং নির্দয় মাফিয়া শ্যাডো মনস্টারের হাত থেকে বাঁচিয়ে, রুশদী'স সিগনোরা বানাতে অলক্ষ্যে একের পর এক দাবার গুটি চালিয়ে গিয়েছে এডউইন, ধারণা ছিল সেই বোকা মানবীর অন্তরজুড়ে কেবল একজনেরই বসবাস! আজ কি না চোখের সামনে তার এমন দুঃসাহস দেখতে হলো তাকে! এবার কোন মুখে আয়নার সামনে দাঁড়াবে এডউইন? কোন মুখে?

নাকের পাটা ফুলিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস টানলো এডউইন! অতঃপর কটমট কন্ঠে আওড়াল,

“ আপনার কাছ থেকে অন্তত এমন কিছু আমি আশা করিনি , মনস্তার'স সিগনোরা!”

ক্রন্দনরত মাহির কানে অতো কথা থোড়াই ঢুকল। কাঁদতে কাঁদতে বোধবুদ্ধিহীনের ন্যায় সহসা দুহাতে জড়িয়ে ধরতে চাইল এডউইনের পাদুকা। অমনি দমকা হাওয়ার বেগে একজোড়া শক্তপোক্ত হাত এসে আচমকা খামচে ধরল রমণীর তুলতুলে হাত দুটো। প্রাণভয়ে তৎক্ষণাৎ কদম পেছাল এডউইন! বাধ্য অনুচরদের নিয়ে তক্ষুনি হাঁটু গেড়ে নত করল ঘাড়। তাদের অভিমুখে স্বয়ং রুশদী কিং ঝুঁকে আছেন, ধরে রেখেছেন নিজ চঞ্চলার হাত। তাঁর সামনে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকার সাধ্যি থোড়াই আছে তাদের!

কাঁদতে থাকা মাহির যেন হুঁশ নেই! ছটফট করার মুহূর্তে আচমকা রূঢ় মানবের রুক্ষ হাতটা এসে আঘাত হানলো তার নরম চোয়াল বরাবর। মুহূর্তেই মাহির কান্নার স্বর খানিক কমে এলো যেন! দৃষ্টি থমকাল অভিমুখের অগ্নিদৃষ্টিযুগলের পানে। নির্দয় মনস্টার দাঁত কিড়মিড় করে শুধালেন,

“আমি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও আমার চোখের সামনে অন্য একজনকে স্পর্শ করার স্পর্ধা দেখাচ্ছিস কীভাবে, বান্দীর মেয়ে?”

চঞ্চলা চড়ুই বাকরুদ্ধ! ছলছল চোখে তাকিয়ে থেকে ভেঙে আসা কন্ঠে কোনমতে আওড়াল,

“ বিস্ট...ক-কি করলেন এটা আপনি? কেনো করলেন তার সঙ্গে এমনটা? কেনো করলেন? ও আমার....”

বাকিটা জিভ খসানোর পূর্বেই রূঢ় মানবের হিং স্র থাবা আচানক আঘাত হানলো মাহি'র সুকোমল কন্ঠায়! মুহুর্তেই গলার ব্যথায় ককিয়ে উঠল ব্যথায়। দাঁতে চাপলো দাঁত! তক্ষুনি কর্ণকুহরে ধেয়ে এলো মুগ্ধের বিকট হুংকার!

“ ও তোর মানে? এই বেয়াদবের বাচ্চা, ও তোর মানে? আবার বল...আমি বিনে কাকে ‘ আমার ’ বললি? কাকে আমার বললি? ও কে তোর? ও কে, কু***বাচ্চা?”

কণ্ঠ ফুঁড়ে বাক্য বেরোনোর জো নেই মাহির। দুহাতে ছাড়াতে চাইছে নিজের কণ্ঠা! সম্মুখের ক্ষিপ্ত মানব ফোঁসফোঁস করছে। মুহূর্তব্যয়ে হঠাৎই তার বিচক্ষণ মস্তিষ্কে টনক নড়ল কিছু একটা। যার পরিপ্রেক্ষিতে রমণীর গলা টেনে তার মুখটা নিজের মুখের কাছে বড্ড এগিয়ে এনে সন্দিহান গলায় হিসহিসিয়ে শুধাল,

“ ওয়েট আ মিনিট! ঐ বাস্টা'র্ডটা তোর পরিবারের কেউ নয় তো, বান্দীর মেয়ে?”

সহসা আঁতকে উঠল মাহি। বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্ত নির্বাক তাকিয়ে থাকতেই দাঁতে দাঁত পিষল মুগ্ধ। হিংস্র রাগে চিড়বিড়িয়ে বলল,

“সত্যিটা বলে দে, বান্দীর মেয়ে! আই সোয়্যার—তুই সত্যি বললে আমি তোকে ছেড়ে দিব, কিন্তু...”

একমুহূর্ত থেমে পরক্ষণেই ঘাড় কাত করে রহস্যময় বাঁকা কণ্ঠে আওড়াল সে,

“তার বদলে আমার প্যালেসে আসার দুঃসাহস দেখানোর জন্য তোর পরিবারের সবগুলো কুকুরছানাকে এখানে এনে তোরই চোখের সামনে টুকরো টুকরো করব! মাইন্ড ইট। আর ভুলেও মিথ্যে বললে—তোকে টুক-রো টুকরো করে গ*রম তেলে ভালোভাবে ফ্রাই করে চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলব!”

অন্তঃকোণে ঝংকার বইছে মাহি'র। লোকটার কথায় তার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে চাপ পড়ছে ভীষণ। মেয়ে হয়ে পুরো পরিবারকে কীভাবে বিপদে ফেলবে সে? কীভাবে বলবে সত্যিটা? তাছাড়া সত্যিটা বলে দিলে উম্মাদটা যদি সত্যি সত্যি ক্ষতি করে ফেলে তাদের, তখন?

নিজ ভাবনায় সহসা ঘাবড়ে গেল মাহি। যত্রতত্র ঘাড় নাড়িয়ে ক্ষীণ কন্ঠে শুধালো —

“ না না! আমার পরিবার সম্পূর্ণ নির্দোষ! আমার পরিবার থেকে কেউ আসেনি। কেউ না!”

“ তাহলে এই কু**বাচ্চাটা কে?”

“ ও.. আসলে...”

সম্মুখের রূঢ় মানবের মুখ অভিব্যক্তি ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে। বেপরোয়া উন্মত্ততায় তক্ষুনি ঝটকা মে'রে ছেড়ে দিলো মাহি'র কন্ঠা। পরক্ষণেই গটগটিয়ে ছুটে গেল অদূরের আগন্তুকের নি*থর দেহটার কাছে। বরফের কোলে কোনমতে ঢেকে আছে দেহটা! চারপাশে থমথমে নীরবতা বিরাজমান। মাহি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। আশেপাশে নতমুখী বাধ্য অনুচরদের ঢল! হঠাৎই উপস্থিত সকলকে বিস্মিত করে দিয়ে মৃ*তদে-হটির একেবারে সম্মুখে গিয়ে দাঁড়াল মুগ্ধ। ঘাড় বাকিয়ে একবার তাকালো মাহি'র পানে। চোখেমুখে উপচে পড়া দম্ভ নিয়ে হিসহিসিয়ে শুধালো,

“ ওর বুকে মাথা রেখে খুব গরম হয়েছিস, তাই না বান্দীর মেয়ে?”

মাহি স্তম্ভিত! রূঢ় মানব তা দেখেও ভ্রুক্ষেপহীন ভঙ্গিতে সোজা করল ঘাড়। অতঃপর কোনরূপ বাক্য বিনিময় ছাড়া আচমকা ডানহাত উঁচিয়ে চুটকী বাজালো সে। এ যেন এক চিরচেনা বাকহীন নির্দেশ! যা পালন করতে মুহুর্তেই তৎপর হলেন কয়েকজন বাধ্য অনুচর। একজন ছুটে এসে তক্ষুনি দুহাঁটু বরফের কোলে ঠেকিয়ে, কুর্নিশ জানানোর ভঙ্গিতে সিগার উঁচিয়ে ধরলেন মনস্টারের সামনে। আরেকজনের হাতে লাইটার! কাঁপছে বেচারার কব্জিসন্ধি! রূঢ় মানব ধীরলয়ে সিগার গুঁজলেন ঠোঁটের ফাঁকে। পাশ থেকে ধরিয়ে দেওয়া হলো লাইটার! অতঃপর লম্বা এক টানে মুখভর্তি সিগারের কলুষিত ধোঁয়া টেনে আচমকা পরম ঔদ্ধত্যের বশে নিজের নিম্নভাগ পোশাকের চেইন খুলে, কোনো রকম দ্বিধা কিংবা সংকোচের লেশমাত্র ছাড়াই মৃ*তদে*হটির ওপর মূ*ত্রত্যাগ করে দিলো সে। তার এরূপ চরম অবজ্ঞা দেখে হতবিহ্বল মাহি! চোখেমুখ তার কুঁচকে যাচ্ছে এক আকাশসম ঘৃ*ণার তাড়নায়। হঠাৎই গা গুলোতে লাগল মাহি'র। নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে আচানক ভকভক করে উগড়ে দিলো পেটের ভেতর যা ছিলো সব!আশপাশের বাধ্য অনুচরেরা নড়চড়বিহীন! অথচ দাম্ভিক পুরুষ একবারও পেছন ফিরে তাকাল না। যেন সদ্য করা কাজটি তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ কোনো ব্যাপার স্যাপার!

প্রায় মিনিট পাঁচেক অনর্গল ব*মি করতে থাকায় ক্লান্ত মাহি। দূর্বল শরীরটা মুহুর্তেই এলিয়ে দিলো আবর্জনা সমৃদ্ধ বরফের কোলে। অদূরের রূঢ় মানব শব্দ করে নিজ পোশাকের চেইন আটকাচ্ছে এতক্ষণে। ঠোঁটের ফাঁকে সিগার চেপে বাহাতটা পাশে বাড়াতেই একখানা তলোয়ার উঠল তার হাতে! পরক্ষনেই তলোয়ারের হাতলটা শক্ত করে চেপে ধরে নি*থর দেহটার বুক বরাবর সজোরে আঘাত হানলেন রূঢ় মানব! তার এহেন পৈ*শা*চিক কর্মকাণ্ডে ফের চিৎকার দিয়ে ওঠে মাহি।

“ নো! বিস্ট...বিস্ট, প্লিজ ডোন্ট ডু দিস। অন্তত দেহটাকে অক্ষত রাখুন, বিস্ট!”

শুনছেন না মাফিয়া বিস্ট! বরং নির্দমনীয় ক্রোধানলে ফুঁসতে ফুঁসতে অনবরত আঘাত করছেন নি*থরের গায়ে। আচমকা ঘাড় বাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় কন্ঠে শুধালেন,

“ ছলনাময়ী! এখনো তোর চোখে ওর জন্য এতো কাতরতা? কু***বাচ্চা! আমার সঙ্গে এতবড় বিশ্বাসঘাতকতা করেও ওর জন্য কাঁদছিস? তোর মোহে পড়ে আমি বোধহয় ভুলেই গিয়েছিলাম —বিশ্বাসঘাতকের ঔরসজাত সন্তান সবসময় বিশ্বাসঘাতকই হয়!”

থমকায় মাহি! বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেই সম্মুখের লোকটার পা*গলামি বেড়ে গেল বহুগুণে। তার সর্বাঙ্গ লেপ্টে আছে নি*থ-রের লোহুর দাগে! উম্মুক্ত বুকখানা থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে সেই রঞ্জিত তরল। ঘাড় বাকিয়ে ধীরপায়ে এগোতে এগোতে ফের দাঁত খিঁচে শুধাল,

“ অবশ্য দোষটা তোর-ও না। যার বাপের নাই চরিত্রের ঠিক, তার মেয়ে হয়ে তুইই - বা কতবড় চরিত্রবতী হবি?”

কথার বিষাক্ত তীরে মুহুর্তেই বিদ্ধ হলো রমণীর নরম হৃদয়টা। চোখদুটো ভুলে গেল কান্নার পথ! অসহ্যরকমের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণায় মুখ হা করে নিঃশ্বাস টানতে লাগলো মাহি। তখনি রূঢ় মানব এগিয়ে এসে হাঁটু গেঁড়ে বসল তার অভিমুখে। শক্ত হাতে মায়াবিনীর চুলের গোছা খামচে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,

“ আর-ও শুনবি তুই যার র*ক্ত, তার গুণকীর্তন?”

প্রস্তরখন্ডের ন্যায় জমে গিয়েছে মাহি! ক্ষুব্ধ মানব আবারও তীব্র ঘৃণা নিয়ে বলতে লাগলো,

“ তোর গায়ে প্রবাহিত হওয়া র*ক্তগুলো ঠিক কতটা দূষিত জানিস? ঘরে বউ রেখে যেই রে*পিস্ট জানোয়া**বাচ্চা আমার আম্মার নি*থর দেহটাকেও বিলকুল ছাড়েনি, তারসন্তান তুই। যার চরি*ত্রহীণ ক্ষুধার শিকারে পরিণত হয়েছে আমার আম্মা, তার সন্তান তুই!”

মুহুর্তেই অন্তঃকোণ চৌচির হয়ে যাবার যোগাড় হলো মাহি'র। সহসা হাত উঠিয়ে খামচে ধরল নিজ কানদুটো। অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আর্তনাদ করে উঠল,

“ আল্লাহর দোহাই লাগে, বিস্ট! আর বলবেন না। এরচেয়ে বরং আপনি আপনার তলোয়ারটা দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিন আমার হৃদ*য়টা, তারপরও আমার সামনে আমার আব্বুকে নিয়ে এভাবে বলবেন না। আমার... আমার সহ্য হচ্ছে না। আমার কষ্ট হচ্ছে!”

তৎক্ষনাৎ হাতের জোর বাড়ালো মুগ্ধ! সহসা রমণীর ক্ষুদ্র মুখখানা বড্ড উঁচিয়ে এনে মোটা কন্ঠে আওড়াল,

“ তোর কষ্ট? কষ্ট তোর একারই হয়? আর আমার কষ্টগুলো? তিলে তিলে যন্ত্রণা দিয়ে তোর বাপ আমার জীবনটাকে নর*ক বানিয়েছে, তোর বাপের জন্য আমার আম্মা শেষ হয়ে গেল! যেখানে তোর বাপের প্রতি একবুক ঘৃণা নিয়েও তোর মতো শত্রুর মেয়েকে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের একমাত্র কারণ বানিয়েছিলাম,সেখানে বিনিময়ে তুই আমায় কি দিলি? তোর বাপ তো তা-ও পর ছিলো! ক্ষমতা, প্রতিপত্তির লোভ আর চরিত্রের দোষের কারণে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল আমার সঙ্গে, আমার আম্মার সঙ্গে কিন্তু... কিন্তু তুই তো আমার পর ছিলি না। তুই তো আমার একমাত্র বেঁচে থাকার কারণ ছিলি, তারপরও কি করে পারলি আমার সঙ্গে ছলনা করতে? দেহ দিলি অথচ দেহের মাঝখানে লুকিয়ে থাকা অন্তরটায় অন্য একজনকে এতোটা সন্তর্পণে কি করে লুকিয়ে রাখতে পারলি বান্দীর মেয়ে? তুই এতোটা নিখুঁত অভিনয় কবে থেকে শিখে গেলি, ছলনাময়ী? যেখানে আজ পর্যন্ত তুই বিনে অন্য কারো প্রতি আমার এ চোখদুটো সামান্য মোহিত হওয়ার দুঃসাহস অব্ধি দেখাতে পারেনি, সেখানে তুই কি-না আমার সামান্য অনুপস্থিতিতে অন্যের বুকে সুখ খুঁজতে লেগে পড়লি? রুশদী'স সিগনোরার গৌরবময় তকমা পাওয়ার চাইতে রেপি**স্ট তায়েফ এহসানের মেয়ের কলঙ্কিত নামটা নিজের গায়ে মাখতে এতোটা তৎপর হলি?বিশ্বাসঘাতকের বাচ্চা!”

অপমানের তীব্র যন্ত্রণায় চোখদুটো আপনা-আপনি বুঁজে এলো মাহি'র। কম্পিত অধরযুগল সামান্য নাড়িয়ে ক্ষীণ কন্ঠে শুধালো,

“ আমি বিশ্বাসঘাতক নই, বিস্ট! না আমি ছলনাময়ী।”

“ তাহলে বল...কার বুকে লেপ্টে ছিলি তুই? কিসের অভাবে তার সান্নিধ্যে গেলি তুই?”

রূঢ় মানবের কন্ঠটা বড্ড কাতর শোনালো। মাহি পারলোনা চোখ খুলে তাকাতে। কেবল অস্ফুটে আওড়াল,

“ বলতে পারবোনা, বিস্ট!”

সহসা পুনরায় চোয়াল শক্ত করল মাফিয়া বিস্ট! এক ঝটকায় বলিষ্ঠ হাতে রমণীকে কাঁধে তুলে উঠে দাঁড়ায় সে। মাহি নড়চড়বিহীন পড়ে রইল সেথায়। মুখ বুঁজে দিতে লাগলো অশ্রু বিসর্জন!

___________________________________________

প্যালেসের সুউচ্চ টাওয়ারে নির্মিত এক রহস্যময় গোপন কামরা! যেখানে এর আগে প্রবেশ হয়নি মাহি'র। সুবিশাল কক্ষটির চারপাশের দেয়াল জুড়ে র*ক্তিম লালবর্ণের রঙ! ঘরের লালচে ড্রিম লাইটের মৃদু আলোয় গা ছমছমে ভাব সেথায়। পায়ের তলায় কালো রঙের তকতকে মার্বেলের মেঝে। সে কী ঠান্ডা তার পরশ! ভীত রমণী তটস্থ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে দরজার অভিমুখে। পেছন দুয়ার বন্ধ। কক্ষের ঠিক বামদিকে বিছিয়ে রাখা বড়সড় একটা কালোরঙা পিয়ানো! কেউ কি বাজায় না-কি তা?

সন্দিগ্ধ মাহি'র পাদু’টো এগোচ্ছে ধীরলয়ে। খানিক এগোতেই দৃষ্টিপটে হুট করেই ভেসে উঠল — অদূরের সুবিশাল দেয়াল জুড়ে থাকা হাতে আঁকা পেইন্টিংটা। যেথায় এক অপ্সরার ছবি স্পষ্ট! মাহি বিস্মিত দৃষ্টে তাকিয়ে রইলো কয়েকপল। এই ছবির মানুষটার আরেকটা ছবি না কলকাতায় দেখেছিল সে? আবার এখানেও?

বিচক্ষণী রমণীর ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে হুট করেই ভাবনা এলো — উনিই হয়তোবা বিস্টের মা। ভাবনার ডোর ছিঁড়ে ক্ষুদ্র নিশ্বাস ফেলে ছোট ছোট পায়ে আবারও এগোতে লাগলেই আচানক সামনে এসে দাঁড়ালো মুগ্ধ! হাতে করে এনেছে একখানা লাল পাড়ের সাদা মসলিন শাড়ি। তার ওমন হুটহাট আবির্ভূত হওয়ায় হকচকিয়ে উঠল মাহি। চকিতে দৃষ্টি তুলতেই সম্মুখের রূঢ় মানব তার নরম কব্জিসন্ধিটা চেপে ধরল জোরালো ভঙ্গিতে। অতঃপর এক হেঁচকায় রমণীকে কক্ষের ঠিক মাঝখানে দাঁড় করিয়ে, হাতে থাকা মসলিন শাড়িটার ভাঁজ ধীরে ধীরে খুলতে লাগলো সে। মাহি নির্বাক তাকিয়ে রইলো!

খানিকবাদেই তার পরনের পোশাকটা খুলে দিতে তৎপর হলো মুগ্ধ। মাহি আগ বাড়িয়ে বারণ করতে গেলেই আচমকা এক ভয়ংকর ভঙ্গিতে নিজ ঠোঁটের ওপর আঙুল চেপে ধরল রূঢ় মানব!

“ হুশশশশশ!”

স্তম্ভিত মাহি! করলো না আরেকটা টুঁশব্দও।

★

সময় প্রবাহ বোধহয় মিনিট দশেক গড়ালো! তবুও অদক্ষ হাতে রমণীর মসৃণ নারী কায়ায় শাড়ির আবরণ জড়ানোর কাজে মত্ত মুগ্ধ। অন্যসময় হলে এতক্ষণে চোখেমুখে বিমুগ্ধতার উপচে পড়া ছাপে কামুক হতেন তিনি, অথচ আজ যেন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। লোকটার চোখেমুখে তীব্র ক্ষোভ! মাহি অপলকভাবে তাকিয়ে আছে তার পানে। চঞ্চলার ছলছল দৃষ্টিতে আজ হুট করেই রূঢ় মানবের জন্য জমেছে এক আকাশসম ঘৃ ণার ছাপ। চোখের সামনে বারংবার ভেসে উঠছে ভাইয়ের করুণ পরিণতির কথা। অন্তঃকোণে না চাইতেও জমে উঠেছে তীব্র বিষাদের হাহাকার! চোখদুটো কান্নার ভারে দূর্বল হতে চাইলেই যথাতথা অন্যত্র মাথা ঘোরায় মাহি। অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কাতর কন্ঠে বলে,

“ কারো চোখে এতোটাও ঘৃণিত হওয়া উচিত নয়, যেন তার কথা মনে পড়তেই প্রতিটি নিশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে, না চাইতেও অন্তরের গভীর থেকে কেবল হাহাকার আর অভিশাপ বেরিয়ে আসে।”

তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে ফেলল মুগ্ধ। অপরিপক্ক হাতে শাড়ির কুঁচির অংশটুকু মুঠো করে রমণীর উদর বরাবর রুক্ষ হাতে গুঁজে দিতে দিতে, তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে আওড়াল —

“ অথচ মানবহৃদয় জীবনের কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে তার ভালোবাসার মানুষটিকে একবার না একবার ভুলে গেলেও, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও মনে রাখে কেবল তার ঘৃণ্য মানুষটিকে। তোর চোখে আর তোর হৃদয়ের প্রতিটি কোণে আধিপত্য বিস্তার করে থাকা সেই ঘৃণ্য মানুষটা নাহয় শেষমেশ আমিই হলাম!”

মুক হা করে নিঃশ্বাস টানতে লাগলো মাহি। বুকটা এতো ব্যথা করছে কেনো কে জানে! ক্ষণকাল বাদে আনমনে নিজের দিকে তাকায় সে। অমনি কপালে উঠল চোখ! শাড়ি থেকে কেমন একটা উটকো গন্ধ বেরুচ্ছে। মায়াবিনী মুখ কুঁচকে শুধালো,

“আপনি... আপনি আমাকে এটা কিসের শাড়ি পরালেন,বিস্ট? কার শাড়ি এটা?”

যুবকের নির্লিপ্ত চাহনি! ছলছল করছে বোধহয় অক্ষিকোটর। মাথা তুলে সদ্য নিজ হাতে সাজিয়ে দেওয়া রমণীর পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সে। পিয়ার্সিং করা ঠোঁট দুটো কেমন কাঁপছে! মেঝেতে লুটিয়ে থাকা অবহেলিত শাড়ির আঁচলটা ধীরলয়ে তুলে এনে পেঁচিয়ে দিল চঞ্চলার গায়ে। ততক্ষণে অলক্ষ্যে তার অক্ষিকোটর বেয়ে একফোঁটা নোনাজল টুপ করে গড়িয়ে পড়ল মাহির হাতের উল্টোপিঠে।

মাহি টের পেলো না তা। নড়েচড়ে উঠতেই রূঢ় মানবের বলিষ্ঠ হাত দুটো এক ঝটকায় তাকে বক্ষপিঞ্জরে আবদ্ধ করে নিল। তার পাহাড়সম বলিষ্ঠ দেহটা হঠাৎই ভীষণ কাঁপছে! মাহি স্পষ্ট টের পেয়ে গেল সে-ই কম্পন। নিজ চিরায়ত স্বভাবের বশিভূত হয়ে তড়িঘড়ি করে লোকটার উম্মুক্ত পিঠে হাত রাখতেই যাবে তখনি মস্তিষ্ক জানিয়ে বসল তীব্র বিরোধ! মাঝপথে হাওয়ায় থেমে গেল হাতদুটো। কপট কঠিন কন্ঠে জিজ্ঞেস করল —

“ এটা কার শাড়ি?”

প্রত্যুত্তরে ক্ষণকাল নিস্তব্ধ রইল রূঢ় মানব! বাঁ হাত দিয়ে কোমর থেকে ধীরলয়ে নিজের রি*ভ*লবারটা মুঠোয় পুরে, তা রমণীর উদরপানে নিঃশব্দে বাড়াতে বাড়াতে শান্ত অথচ ভয়ানক কণ্ঠে শুধাল,

“যাকে হারিয়ে আজ আমার এই দুরবস্থা, মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও যাকে এ পৃথিবীর মানুষগুলো তুলেছিল জ্বলন্ত চিতায়, যার ভুবনমোহিনী সৌন্দর্যের কারণে তোর বাপ তার নিথর দেহটাকেও শেষ রেহাই দেয়নি! এটা তারই শাড়ি! আমার আম্মার শাড়ি।”

বলতে বলতেই মাহি'র উম্মুক্ত উদরে আচমকা পরশ বসল রি*ভ*লবারের ধাতব নলের ডগাটার। মাহি ভড়কানোর বদলে কেমন অদ্ভুতভাবে শব্দ করে হেসে উঠল। তার চোখদুটো সিক্ত! অথচ ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের সুর।

“ মা'রবেন আমায়? ঠিক আছে! মে'রে ফেলুন। আপনার মতো নির্দয়ের কাছ থেকে এরচেয়ে বেশি কিছু আশা করা নিতান্তই বোকামি!”

চোয়াল শক্ত হলো মুগ্ধের। রি*ভল*বারের গ্রিপ বরাবর জোর বাড়ালো হাতের। চিড়বিড় কন্ঠে আওড়াল,

“ আমি নির্দয় হলেও তোর মতো ছলনার আশ্রয় নেই নি, বান্দীর মেয়ে!”

“ অথচ প্রতিটি মুদ্রার এপিঠ - ওপিঠ থাকে। চোখ যা দেখে তা যদি সবসময় সত্যি হতো, কান যা শোনে তা যদি সবসময় সঠিক হতো — তাহলে আপনার মতো হিং স্র মানবকে মন দেওয়ার মতো বিরাট দুঃসাহসিক কাজ আমি কখনোই করতাম না।”

বাঁকা হাসে মুগ্ধ! মুহুর্তেই হাতের রি*ভলবারটা অদূরে ছুঁড়ে ফেলে, রমণীর ঘাড়ের ত্বকে বসালো আক্রমণ! হিসহিসিয়ে শুধালো,

“ ছলনাময়ীদের আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, কথার জাল ঠিকই থাকে!”

মাহি নিশ্চুপ হয়ে কিয়তক্ষন তাকিয়ে রইলো। অতঃপর ঠোঁটের কোণে একটুকরো ব্যথাতুর হাসির রেশ টেনে, আহত কন্ঠে শুধালো,

“ রাগের মাথায় এতোটা উম্মা*দ হতে নেই বি...ওপস সরি! নির্দয় অধীর রায়! মনে রাখবেন — কিছু কিছু উন্মাদনা ভালোবাসার বদলে বরাবরই ঘৃ*ণা বাড়ায়। সাবধান! এই ঘৃ ণার অনলে আপনি আবার পুড়ে না যান।”

ঠোঁটের কোণে দাঁত বসায় মুগ্ধ! মায়াবিনীর ঘাড় টেনে তাকে একপ্রকার উচ্ছিষ্টের মতো ছুঁড়ে ফেলল সম্মুখের মখমলি গোলাকার বিছানায়। নরম তুলতুলে বিছানায় ব্যথা পাবার বদলে ডুবে গেল মাহি। ধীরে ধীরে চিৎ ভঙ্গি ধরতেই বিছানার পানে ঝুঁকে এলো মুগ্ধ। পাশের বেডসাইড টেবিলের ওপর পড়ে আছে কিছু উদ্ভট সরঞ্জাম। ল্যাম্পশেডের আলোয় খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না সেসব। মুগ্ধ হাত বাড়াল টেবিলের ওপড়ে। সেখানে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা কালো রঙের বেড রেস্ট্রেইন্টসের সেটটি ধীরলয়ে নিয়ে এলো বিছানার ওপর। অতঃপর বিছানায় একহাঁটু ভর দিয়ে চওড়া কালো স্ট্র্যাপগুলো ম্যাট্রেসের নিচ দিয়ে বিছিয়ে চার কোণে নরম প্যাডিংযুক্ত কাফগুলো সময় নিয়ে স্থাপন করল সে। মায়াবিনীর বিস্মিত দৃষ্টির সম্মুখেই ধাতব বাকলগুলোতে মৃদু শব্দ তুলে একে একে স্ট্র্যাপের দৈর্ঘ্য ঠিক করে নিলো বরাবর। ঠোঁটের কোণে একটুকরো দুর্বোধ্য হাসির রেশ ফুটিয়ে রমণীর হাত-পা বাঁধতে উদ্যোত হলো। সন্দিগ্ধ মাহি তক্ষুনি দাঁত খিঁচে বলে উঠল,

“ কি করছেন আপনি এসব?”

কর্মে বহাল মুগ্ধ। শক্ত কন্ঠে প্রতুত্তর করল —

“ তোকে বোঝাচ্ছি যে তুই আগাগোড়া কার!”

“ এগুলো কোনো স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মানুষের বোঝানোর মাধ্যম নয়, অধীর রায়! এগুলো একপ্রকার বিকৃত...”

বাকিটা বলার আগেই নরম তুলতুলে পা-টায় হেঁচকা টান অনুভুত হলো মাহি'র। ভড়কে তাকাল সম্মুখে। রূঢ় মানবের বুকের বাঁপাশে থেমেছে তার পা! সে কেমন দাঁত খিঁচে আওড়াচ্ছে,

“ যত দ্রুত সম্ভব! আমার বুকের বাঁপাশে থাকা বেয়াদবটাকে সর্বশক্তি দিয়ে পিষে ফেল,বান্দীর মেয়ে! কেননা তোর নাম নেয়া শত্রুটা আমার অন্তরে প্রশান্তির বদলে ক্ষিপ্রতার আগু*ন জ্বালাচ্ছে কেবল!”

মাহি'র চোখে বিরহের আগুন! একবুক যন্ত্রনা নিয়ে বলল,

“ আপনার তো কেবল একটা অঙ্গই আমার নাম জপছে, আর আমার? আমার যে প্রতিটি নিশ্বাসপ্রশ্বাস আপনার নাম জপে! এটাকে কীভাবে আটকাবো আমি?”

পা-টা বুক থেকে নামালো মুগ্ধ। ধীরে ধীরে ঝুঁকে এলো রমণীর ওপর।

“ তাহলে ম'রে যা!”

“ মে'রে ফেলুন তবে!”

সঙ্গে সঙ্গে রমণীর মসৃণ দেহসৌষ্ঠব থেকে আঁচলখানা টেনে সরিয়ে দিলো সে। উম্মুক্ত কন্ঠায় মুখ ডুবিয়ে বসাল ধারালো দাঁত! মাহি দাঁতে দাঁত চাপলো পুনরায়। ওদিকে মুগ্ধ তখন হিসহিসিয়ে বলছে,

“ অতঃপর... তুই যদি কোনোদিন আমার কাছ থেকে হারানোর দুঃসাহস করিস, তবে এ পৃথিবীর বুকে নতুন করে জন্ম নেবে “ দ্য মাফিয়া শ্যাডো মনস্টারের ” ভয়ংকরতম হিং স্র দানবসত্তা! যার ধ্বংসলীলার দাবানলে পুড়ে ছারখার হতে বাধ্য হবি তুই, তোর অস্তিত্ব, এমনকি তোর গোটা সাম্রাজ্যও! আর সে-ই ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা হবে তোকে হারানোর পরমুহূর্ত থেকেই!”

দমিয়ে রাখা কান্নাগুলো উগড়ে দিলো মাহি। শুকনো অধরকোণ জিভ ঠেলে সামান্য ভিজিয়ে আওড়াল,

“ ধ্বংসের আর বাকি রাখলেন কি? এবার কেবল আমার মরণ বাকি। তা হয়ে গেলেই...”

মুহুর্তেই চঞ্চলার অধরের ডগায় দাঁত বসালো মাফিয়া বিস্ট! জখমের ওপর পুনরায় জখম পড়ায় তৎক্ষণাৎ র*ক্তা*ক্ত হয়ে গেল চঞ্চলার নরম ওষ্ঠপুট। জিভ দিয়ে ক্ষারীয় উষ্ণ তরল আস্বাদন করে হিসহিসিয়ে আওড়ায় সে,

“ হুঁশশ! নাউ, লেট দ্য গেম অভ ডেস্ট্রাকশন বিগিন, মা'ই ফা'কিং রোজি-হ!”

ক্ষণকাল পেরুতেই ফিসফিসানো বন্ধ হলো তার। পুনরায় মত্ত হলো নিজ বিধ্বংসী আদিম খেলায়। এবারে তার প্রতিটি ছোঁয়ায় বিকট ঔদ্ধত্য! কেবলমাত্র ক্ষুধার্ত হিং স্র প্রাণীর ন্যায় নিজেকে পরিবেশন করছে সে। প্রথম প্রথম ওমন রুক্ষ পরশের অভিঘাতে দাঁতে দাঁত চেপে সবটুকু যন্ত্রণা সয়ে গেলেও এবার যেন তা অসহনীয় তার জন্য। কন্ঠ ফুঁড়ে বেরুচ্ছে আত্মচিৎকার! যেই চিৎকারে কেঁপে কেঁপে উঠছে কক্ষের প্রতিটি দেয়াল। রূঢ় মানবের প্রতিটি রুক্ষ কার্যক্রমের অভিঘাতে বাড়ছে তার কাতর ধ্বনি! টাওয়ারের খোলা জানালা দিয়ে বাতাসের তালে তালে বেরুচ্ছে সেই চিৎকার ধ্বনি!

প্যালেসের সুবিশাল প্রবেশদ্বারের অভিমুখে এগোচ্ছে নিরু। অদূরেই দাঁড়িয়ে আছে এডউইন। কথোপকথনে মত্ত বাকিদের সঙ্গে। অষ্টাদশী খানিক এগোতেই তার দিকে ঘাড় বাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল গম্ভীর মানব। কপাল গুছিয়ে খেঁকিয়ে উঠল,

“ হোয়্যার দ্য হেল আর ইউ কামিং টু?”

সহসা থেমে গেল নিরু। খানিক কাচুমাচু করে জবাব দিলো —

“ না মানে...”

“ আআআআআ! না....আম...আমি....”

পুরো প্যালেসের সুউচ্চ সিলিং হতে ভেসে আসা মায়াবিনীর বিকট আত্মচিৎকারে আঁতকে উঠে নিরু। বাক্য থামিয়ে ভড়কানো কন্ঠে বলে ওঠে,

“ একি! ঐ মেয়েটা এমন চিৎকার... ”

“ করুক! এরজন্য সে নিজেই দায়ী। সামান্য একটা মিথ্যে, সামান্য কিছু লুকোচুরির চেষ্টা একটা সম্পর্ককে ঠিক দূর্বিষহ বানাতে পারে, তা বোঝা উচিৎ ওনার। বোঝা উচিৎ — দ্য মাফিয়া শ্যাডো মনস্টার ঠিক কতটা হিং স্র।”

চোয়াল শক্ত করে কথাগুলো অনর্গল বলে গেল এডউইন। নিরুপমার বিস্ময় যেন আজ কাটছেই না। যেই লোক উঠতে বসতে, শত প্রতিকূলতায় মনস্টারের সিগনোরা'র ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আজ তার কন্ঠে এতো বিতৃষ্ণা?

___________________________________________

কয়েকজোড়া ব্যস্ত কদম জঙ্গলের গহীন পথে এগোচ্ছে। কালো পোশাকধারী গম্ভীর লোকগুলোর হাতে তুলে রাখা মা*থাবিহীন আগন্তুকের দেহ। আরও খানিকটা গভীরে এসে আচমকা উচ্ছিষ্ট বস্তুর ন্যায় দে*হটাকে ছুড়ে ফেলল অদূরে। অতঃপর হাত ঝাড়তে ঝাড়তে তারা চলে গেল উল্টোপথে।

প্রায় বেশকিছুক্ষণ পর, জঙ্গলের গহীনে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা সুবিশাল ওক গাছের পেছন থেকে বেরিয়ে এলো কালো হুডিপরা এক যুবক। ধীরলয়ে এগোলো অদূরের নি*থর দেহটার পানে। দেহটার চারপাশে ইতোমধ্যেই ভীড় জমিয়েছে হিং স্র কিছু পশু। হাতে টর্চ লাইট থাকায় সেটি তৎক্ষনাৎ অন করল যুবক। আলো ছুড়ল প্রাণী গুলোর দিকে। প্রানীগুলো অতিষ্ঠ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে গেল লেজ গুটিয়ে। যুবক থামলো এবার। কয়েকমুহুর্ত নির্বাক ভঙ্গিতে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে মাথা থেকে নামালো হুডির আবরণ। পরপরই হাঁটু গেঁড়ে বসে বাঁকা হেসে শুধালো,

“ ম'রে গেলি? অথচ তোকে ভরসা করে পাঠিয়েছিলাম আমার সানবার্ডের কাছে!”

বোঝা গেল যুবক আর কেউ নয়, বরং কমান্ডার মায়াঙ্ক। অন্ধকারে পাশের স্যাতস্যাতে জমিন হাতড়ে একটা কাঠি সংগ্রহ করে, তা দিয়ে খোঁচাতে লাগল নি*থ*র দেহটা। খানিকবাদে আচমকা কটমট কন্ঠে আওড়াল,

“ ও তোর বোন হলেও, আমার জন্য ও আমার জীবনের সব। যাকে পেতে দুনিয়ার সবাইকে বলির পাঠা বানাতে হলে, তাই সই!”

থামল সে। আনমনে হাসতে হাসতে হুট করেই শক্ত করে নিলো মুখ। খানিকক্ষণ কাঁপতে কাঁপতে আচমকা কঠোর কন্ঠে শুধালো,

“ রুশদী! এই বিধ্বংসী খেলার শুরুটা তুই করলেও, এর শেষ চালটা চালবো আমি। আমার একমাত্র দূর্বলতা, আমার ভাই! যেভাবে ওকে শেষ করেছিস তারচেয়েও বহুগুণ কষ্ট দিয়ে তোর কাছ থেকে তোর একমাত্র দূর্বলতা অর্থাৎ আমার সানবার্ডকে ছিনিয়ে আনবো আমি। সো লেট দ্য গেম বিগিন, বাস্টা'র্ড!”

চলবে তো নাকি?...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭৬(ক) শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন