ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

37

লেখক: ফারজানা মনি

মেঘরেগে গিয়ে হন্ততন্ত হয়ে ছুটলো নিজের রুমের দিকে। আবির ঘন ঘন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো। তার বউ আজ ভয়ংকর ভাবে রেগে গেছে এই রাগ কিভাবে কমাবে আল্লাহ মালুম।

তানভীর এসে আবিরের পাস ঘেসে সোফায় বসলো। অতঃপর বলল: ভাইয়া আমার পক্ষ থেকে রাকিব ভাইয়াকে একটা চুমু দিয়ে দিও, ভাইয়া আজকে সেই একটা কাজ করছে।

আবির তানভিরকে ধরতে নিলেই তানভীর দৌরে পালালো।

আলি আহাম্মেদ খান, মোজাম্মেল খান, হালিমা খান, মালিহা খান সহ সকলেই ওদের কান্ড দেখে হাসলো। এই বয়সে এসেও এদের দুস্টামি কমে না। তৃধা নাস্তা করতে বসেছে একটু পরেই ওকে ভার্সিটির জন্য বেরোতে হবে। ওর সাথে সকলেই ডাইনিং টেবিলে এসে বসলো। বন্যা ও রাই সকলকে খাবার পরিবেসন করছে। মেঘ তো অনেক আগেই তার রুমে চলে গেছে তার একটু পরে আবিরও চলে গেছে রুমে। সবাই খাওয়ায় ব্যাস্ত এর মঝেই আলি আহাম্মেদ খানের সেল ফোন ✆ বেজে উঠলো দেখলো আহিয়ান কল দিয়েছে। সকলের সাথেই ছেলেটা কথা বলল তৃধা চুপ চাপ খেয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

রুমে গিয়ে দেখলো নিজের ফোন বাজছে জুই ফোন দিয়েছে

~~ হ্যালো~~

জুই: হ্যাঁ হ্যালো তৃধা কই তুই....?

তৃধা খানিকটা অবাক হয়ে বললো: এই সময় যেখানে থাকার কথা সেখানেই আছি.. বাড়িতে...

জুই: আজকে একটু তারাতাড়ি বের হ প্লিজ...

তৃধা:কোন খুশিতে? আজকে আমার দাদার বিয়ে না নানার বিয়ে...?

জুই : আরে দোস্ত রাগ করতাসোস কেন? আজকে মেহেদী আসবে ভার্সিটির সামনে তাই ক্লাস শুরু হওয়ার আগে দেখা করতাম।

বিরক্তি নিয়ে তৃধা: তোর বয়ফ্রেন্ড আসবে তুই আগে জা... আমাকে টানছিস কেনো?

জুই: ওরে আমার টিয়া পাখি টা... তোমাকে ছাড়া আমার একলা একলা লাগবে।

ওর কথা সুনে তৃধা মজা করে বলল : তাহলে বাসর ঘরেও আমাকে নিয়ে জাশ নাহলে আবার তোর একলা একলা লাগবে।

জুই হেসে বলল: মেহেদীর একটা ভাই আছে ভাবছি ওর সাথে তোর প্রেম করাই দেবো... তারপর দুই বান্ধুবি একবারির দুই ছেলেকে বিয়ে করে একবারির বউ হয়ে জাবো।

তৃধা: দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর আর কল কাট আমি রেডি হয়ে বের হচ্ছি। তুই তারাতাড়ি আয়। আর শোন আজকেই লাস্ট বার।

জুই: থাং ইউ বান্ধুবি....উম্মা

তৃধা আর এই পাগলের সাথে কথা বাড়ালো না। প্রেমে পড়ে এই মেয়েটার মাথা একদম গেছে। আহিয়ানের সাথে রাগারাগি হবার পর থেকে আর তৃধা বোরখা পরে না। তাই আলমারি থেকে একটা কালো থ্রি পিস বের করে পরে নিলো। এবং হিজাব বাধলো। যৌবনে পা দেওয়া তৃধা কে আজকাল একটু বেশি সুন্দর লাগে। এর পর ভার্সিটির উদ্দেশ্য বেরিয়ে পরলো। বাড়ির গাড়িটি ভার্সিটির সামনে আসতেই খেয়াল করলো তার বন্ধু বান্ধুবিরা দাড়িয়ে আছে। তৃধা খুসি মনে এগিয়ে গেলো। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর তৃধা ও জুইয়ের ৩টা ছেলে আর ২টা মেয়ে ফ্রেন্ড হয়েছে।যেদিন ভার্সিটিতে প্রথম পা দিয়েছিলো সেদিন ওদের সাথে পরিচয় হয়েছিলো

প্রথম তৃধা আর জুই ছেলেদের সাথে মিসতে ইতস্তত বোধ করতো। কিন্তু ওদের বন্ধু সত্যি খুব ভালো। সজিব, নাজমুল, আশিক, শোভা, নিল। ওরা আগে থেকেই ফ্রেন্ড ছিলো জুই ও তৃধা নতুন জয়েন করেছে। বন্ধুদের দেখে তৃধা খুশি মনে এগিয়ে গিয়ে ওদের পাশে দারালে। ওর বন্ধুরা সবাই মজার মানুষ।

নাজমুল সজিবেকে বলল: ওই জে মামা দেখ আইছে আমাদের খালাম্মা।

তৃধা: এই অসভ্য.. বেয়াদব... তোকে না বলছি আমাকে খালাম্মা ডাকবি না।

নাজমুল: সজিবকে তো এই মাএ মামা ডাকলাম কই তো চেতলো না তুই এতো চেতস কেন।

তৃধা: ওরে দেখতে মামার মতো লাগে আমাকে দেখতে কি খালাম্মার মতো লাগে।

সজিব: নারে তোরে খালাম্মা লাগে না...তোকে আমাদের স্মার্ট আন্টি লাগে।

ওর কথা শুনে নাজমুল ও আশিক হাসতে হাসতে সজিবের গায়ে ঢলে পরলো।

তৃধা রাগে কটমট করে বলল: এই বাবলা তোর আমার হাতে মাইর খাওয়ার সখ জাগছে..?

তৃধার হুমকি সুনে বাবলা আশিক সোজা হয়ে দারালো।

এর মধ্যে জুইয়ের ফোনের ম্যাসেজ টিউন বেজে উঠলো...

জুই তৃধার হাত ধরে বললে : তোরা থাম তো। তোরা ক্লাসে জা আমি আর তৃধা একটু বাহিয়ে জাচ্ছি। দ্বিতীয় ক্লাসে দেখা হচ্ছে।

নাজমুল : তোর কালা চান আইছে বুঝি।

জুই: ও মেটেও কালা না ও শ্যামলা উজ্জল।

এই বলে তৃধার হাত ধরে চলে গেলো। তৃধা হাটতে হাটতে বললে: আমরা না খুব ভয় করে তোর সাথে বেরোতে... কে কবে দেখে তারপর বাড়িতে ভুলভাল বিচার দিবে।

জুই: তোর থেকে বেশি ভয় আমার করে। তোর টা তো দেশের বাহিরে থাকে। আর আমার কাজিন রিহান ভাইয়া সব সময় আমার খোজ খবর নিয়ে থাকে। একদিন তো আমার আম্মুকে বলে দিয়েছে তুই আর আমি নাকি ৩টা ছেলে বন্ধুর সাথে ঘুরি। তার পর আমি আম্মু আব্বু কে বুঝিয়ে বলেছি।

রিহান ভাইয়া সেদিনের পর আমাকে থ্রেট দিয়েছে।

আহিয়ানের কথা মনে পরতেই তৃধার মন খারাপ হলে আর বলল: থাক বাদ দে আর তুই মেহেদী ভাইয়ার সাথে একটু কম দেখা করার চেস্টা করিস।

জুই: ওকে।

অতঃপর দুই বান্ধুবি কথা বলতে বলতে একটা কফি সপে ডুকলো। দেখলো মেহেদী ভাইয়া আর তার সাথে একটা ছেলে বসে আছে।

মেহেদী ভাইাকে আজ গোছানো লাগলো তাদর দুজন দেখে তৃধার কেনো জানি মনে হলো তারা সাধারন দোকানে কাজ করে না।

তৃধার ভাবনা ভেঙে হটাৎ গিয়ে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করলো। এবং অন্য একটা সিটে গিয়ে বসতে চাইলো এর মধ্যে মেহেদী ডাকদিলো। তৃধা এগিয়ে আসলো আসার পর মেহেদী সামনের ছেলেটিকে দেখিয়ে দিয়ে বললো ও আমার বন্ধু এহসান নেওয়াজ। তারপর এহসানকে বলল: ও জুইয়ের friend তৃধা খান।

এহসান তৃধার দিকে তাকিয়ে দারিয়ে হাত এগিয়ে দিয়ে বলল: Hlw miss trida.

তৃধা হ্যান্ডশেক করলো না বরং বলল: আসসালামু আলাইকুম।

এহসান হাত গুটিয়ে নিলো এবং তাকিয়ে আছে তৃধার পুতুলের মতো মুখের দিকে। এর পর বললো cutie doll.

তৃধা বুঝতে না পেরে বলল: কিছু বলেছেন ভাইয়া...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 37 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন