অত:পর মেহেদী এহসান কে জুইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। প্রথম পরিচয়েই এহসান জুইকে ভাবি বলে ডেকেছে। সেটা নিয়ে জুই বিব্রত আছে। তৃধা চুপচাপ পাসের টেবিলে গিয়ে বসলো। ওয়েটার কিছুখনের মধ্যে সেই টেবিলে দুকাপ কফি দিলো। তৃধা খানিকটা ভ্রু কুচকে কফির কাপ দুইটাকে দেখলো। ঠিক তখনি সামনের চেয়ারে এহসান নেওয়াজ বসলো। তৃধা মাথা তুলে ওনাকে দেখা মাএই মাথা নিচু করে ফেললো।সময়ের তালে তালে পরিস্থিতি যেনো বিব্রতকর হয়ে পড়ছে। এহসান হয়তো বুঝলো মেয়েটা বিব্রতবোধ করছে তাই স্বাভাবিক করার জন্য বলল : সেখানে তারা দুইজন কথা বলছে তাই তাদের প্রাইভেসি দেওয়ার জন্য আমি এখানে এসে আপনার কাছে বসলাম। তৃধা কপির কাপে চুমুক দিতে দিতে বলল: It's ok
এহসান মনোযোগ সহকারে তৃধার কফি খাওয়া দেখছে তারপর বললো: if you don't mind আমি কি আপনাকে তুমি করে বলতে পারি?
তৃধা মাথা তুলে তাকালে কি অসভ্য লোকটা মেয়ে দেখলেই তুমি করে বলতে ইচ্ছে করে কিন্তু লোকটার মুখের ওপর কিছু বলতেও পারছে না তাই মিনমিনিয়ে বলল: হুম!
এহসান সালাস পো সালা মনে হয় খুশি হয়েছে তা ওই ব্যাটার চেহারা দেখেই বোঝা জাচ্ছে তৃধা রাগে কটমট করছে সেটা দেখে।
অতঃপর এহসান আবারো বলল: আমি এখানে বসে তোমাকে ডিসটার্ব করছি।
তৃধা কিছু বললো না।
এর পর ওরা দুজন নিরবতা পালন করলো তারপর তৃধা হাত ঘরটির দিকে তাকিয়ে জুইকে তারাদিল তাদের সেকেন্ড ক্লাস শুরু হয়ে জাবে বলে। তাই জুইও তারাদিলো জাওয়ার জন্য ।
এরপর দুই বান্ধুবি মিলে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
তৃধার জতখন পর্যন্ত চলে জেতে লাগলো ততক্ষন পর্যন্ত এহসান তৃধার দিকে তাকিয়ে রইলে এবং বিরবির করে বলল: cutie doll
মেহেদী বলল: আমার শালির দিকে নজর দেওয়া বন্ধ কর।
এহসান: আম্মুকে বলতে হবে এবার বিয়ে টা আমি করেই ফেলছি।
মেহেদী বলল: শুনেছি অনেক বড়ো বারিড় মেয়ে অকে পটানো এতো সহজ হবে না..
এহসান: আমার কোন দিক দিয়ে অর্থ সম্পদ কম আছে..?
এর মধ্যেই এহসানের ফোন বেযে উঠলো: ok new কোনো আপডেট থাকলে আমাকে জানাবে।
মেহেদী : এতোক্ষণে নিশ্চই সব জেনে ফেলেছিস।
এহসান: হুম বউয়ের আগে শশুরদের কে পটাতে হবে...ইন্টারেস্টিং...
দুপুর বেলা রিহান নিজের তৈরি করা নতুন অফিসে নিজের পার্সোনাল কেবিনে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে বসে আছে। আব্বুর থেকে অনেক গুলো টাকা নিয়ে নিজের বিজনেস স্টারট করেছে। কিন্তু আপাদত লাভের কোনো আশংকা দেখতে পাচ্ছে না। আপদত কয়েক জায়গা থেকে শেয়ার কিনে রেখেছে। ভাগ্য ভালো থাকলে সেগুলো থেকে ভালো প্রফিট পাওয়া যেতে পারে সেই আশায়। দেখতে দেখতে সময় কেটে যাচ্ছে। আহিয়া দেশে ফেরার সময় হয়ে গেছে আহিয়া আর ৬মাস পরে দেশে ফিরবে। কিন্তু এদিকের পরিস্থিতি দেখে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে রিহান নিজেকে এর মধ্যে গোছাতে পারবে না। সেটা নিয়েই মূলত প্রতিদিন রিহানের এতো টেনশন। আহিয়া ১৬-১৭ বছরি কিশোরী না যে তাকে বুঝিয়ে লেখা পড়া করতে বলবে। এর মাঝে সে নিজেকে গুছিয়ে নেবে। আহিয়ার যতেষ্ঠ বিয়ের বয়স হয়েছে এই বার দেশে ফিরলেই আংকেল আন্টি হয়তো ওর বিয়ে নিয়ে ভাববে। তখন যদি রিহান প্রস্তুত না থাকে তাহলে কিভাবে সামালাবে... ভাবতেই ছেলেটা নিজের মাথার চুল টেনে ধরলো
আজকাল এসব কিছু নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করলে ওর মাথার ভিতরে প্রচুর পেইন হয়। এরমধ্যে ফোন বেজে উঠলো কল রিসিভ করলো আহিয়া কল দিয়েছে।
আহিয়া: আসসালামু আলাইকুম...
রিহান: ওয়ালাইকুমুস সালাম...কেমন আছো আহিয়া পাখি...?
আহিয়া: আলহামদুলিল্লাহ.. আপনি..?
রিহান: আলহামদুলিল্লাহ.. লেখা পড়া কেমন জাচ্ছে তোমার...?
আহিয়া: আমার কথা বাদ দিন তো আপনা কথা বলুন..
রিহান: 🙂🙂 কি_বলবো,,?
আহিয়া: চেহারাটা এতো মলিন দেখাচ্ছে কেনো...?
রিহান কিছুক্ষন ফোনের ক্যামেরায় উকিঝুকি দিয়ে দেখলো অত:পর বলল: কই আমি তো তেমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না...!
রিহানের কথা শুনে আহিয়া খিলখিল করে হেসে উঠলো 😄
আহিয়ান কিছুক্ষন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো। আহিয়ার মুখটা দেখলে রিহানের সকল চিন্তা দূর হয়ে জায়। সারাদিনের ক্লান্তি চলপ জায়।
রিহান হঠাত করে বলে উঠে : ভালোবাসি আহিয়া পাখি....খুব ভালোবাসি
আহিয়া হাসি থামিয়ে কতোখন তাকিয়ে রইলো রিহানের পানে। রিহান সব সময় ভালোবাসি ভালোবাসি বলে না তবে হঠাৎ করে যখন বলে তখন সারা সরিলে শিহরন বয়ে জায়। আহিয়া মৃদ্যু কেপে উঠে।
সে ফোনের এপাস থেকে বুঝলো আহিয়ার হৃদয়ের ব্যাকুলতা তার পর আবারো বলল: ভালোবাসি আহিয়া পাখি....
আহিয়া এবার লাজুক চেহারাটা হালকা নত করে মিন মি নিয়ে বলল: আমিও ভালোবাসি।
রিহান হালকা বাকা হেসে কিছু না শোনার ভান করে বলল: তুমি কি কিছু বললে এই মাত্র...
আহিয়া আমতা আমতা করে : কই কিছু নাতো...
রিহান ওকে জ্বালানের জন্য বললো আমার তো মনে হচ্ছে এই মাএ তুমি কিছু বললে।
আহিয়া: আপনি অনেক দুস্টামি করেন আপনার সাথে কথাই বলবো না আমি।
রিহান কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিলো। রিহান চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো অতঃপর মৃদু হাসলো। এই ময়েটাকে জ্বালাতে, লজ্জা দিতে, ভালোবাসতে, রাগাতে সবকিছু করতেই ভালো লাগে তার। আহিয়ার মাঝে অন্য রকম এক প্রশান্তি পায় রিহান।
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো খান বাড়ির সকল পুরুষ রা নিজেদের কাজ থেকে একএকজন বাড়ি ফিরছেন। আবির বাড়ি এসেই নিজের রুমে ডুকলেন। দেখলো মেঘ ব্যালকুনিতে দাড়িয়ে আছে। সকাল থেকে মেঘ যে রেগে বোম হয়ে আছপ তা তার অজানা নয়। সকালে বউয়ের রাগ ভাংগানোর অনেক চেষ্টা করেছে পারেনি জরুরি মিটিং থাকায় টাইমলি অফিসে জেতে হয়েছে। মিটিং না থাকলে আজকে বাড়ি থেকে বউয়ের রাগ ভাংগানো যেতো। কিন্তু কি আর করার সারাদিন যেহেতু বাড়িতে ছিলো না তাই তো বউ এখন আরো রেগে আছে ভাবনার মাঝেই ব্যালকুনিতে গিয়ে বউকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো। আবিরের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মেঘ নরেচরে নিজেকে ছারাতে চাইলো কিন্তু পারলো না। আবির ছারলো না। আবির শক্ত করে বউকে জরিয়ে ধরে রাখলো। তার শক্ত বাহুর বন্ধনে।
অতপর মুখ রাখলো তার বউয়ের ডান কাধে। মেঘ মুখ ফুলিয়ে সামনের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আবির তার কানের কাছে ঠোট নিয়ে হালকা করে কানে কিস করে বলল: sorry sparrow. আমি জানতাম না যে মেয়েগুলো এমন কাজ করবে। ওরা আমার মেয়ের বয়সি। তা ছারা আজকে সব কয়টাকে রেজিংনেশন দিয়ে এসেছি। ওরা আর এমন কিছু করতেই পারবে না। রাগ করে থাকো কিন্তু কথা না বলে থেকো না।।
মেঘ কিছুই বললো না চুপচাপ দারিয়ে আছে
আবির: ওই বউ... বউ গো... ও আহিয়ার আম্মু... একটু কথা বলো প্লিজ তোমার জামাইয়ের মনটা আনচান আনচান করছে। প্রতি বছর তুমি এইদিন টাতে কতো কিছু করো but আজকে নিজের দেশে নিজের বাড়িতে থেকেও আমার মন ভালোনেই...
মেঘ আবির কে সরিয়ে দিয়ে হনহন করে রুমে জেতে জেতে বলল: বেড সাইডের পাসে গিফট রাখা আছে। কেউ জেনো নিয়ে নেয়।
অনেক্ষন পর মেঘের মুখে কথা শুনে আবিরের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এই বয়সে এসেও বউয়ের সাথে পাগলামি করতে তার ভালোই লাগে ভাবলেই তার হাসি পায়। কিন্তু এখন তার বউয়ের রাগ কমাতে হবে। ভেবেই বউয়ের পেছন পেছন দৌর দেয়। বেড সাইডে টেবিলের ওপর সত্যি গিফট বক্স রাখা আছে। মেঘ বাহিরে জাচ্ছিল আচমকা আবির ভাই আমাকে বউদের মতো করে কোলে নিলো..... হি হি হি হি হি সরি মজা করে বললাম মেঘকে কোলে নিলো। তারপর বিছানার কাছে এসে বলল : নিজে খুলে দেখাও কি আছে গিফট বক্সে।
মেঘ: আমি পারবে না নিজে দেখুন....
আবির তবুও মেঘের হাতে দিলো...
মেঘ জানে নিজে খুলে না দেখালে আবির ওর পিছু ছারবে না। তাই নিজেই গিফট বক্স খুলে একটা সুন্দর দামিও ঘরি বের করলে...
আবির: পরিয়ে দাও
মেঘ পরিয়ে দিতে দিতে বললো : অফিসে এতো স্মার্ট হয়ে জাওয়ার কি আছে। এখন থেকে আয়রন ছারা কম দামি কুচকানো সার্ট পরে জাবেন, আর পচা ঘড়ি পরে জাবেন। সানগ্লাস ভুলেও চোখে লাগাবেন না।
আবির চোখ বড়ো বড়ো করে রইলো এই বয়সে এসেও বউ তাকে নিয়ে জেলাস ফিল করে ভেবেই ঠোটের কোনে হাসি ফুটে ওঠে....