পরের দিন সকাল দশটা। রাকিব গতকাল অফিসে আসেনি। রাসেল জানিয়েছে রাকিবের নাকি হালকা জ্বর হয়েছে। কিন্তু আবির খুব ভালো করেই জানে তার বন্ধু আজ অফিসে না আসার কারন।
সকালবেলা অফিসে ডুকেই রাকিব কে নিজের কেবিনে ডাকলো আবির। কিন্তু বেলা দশটা বেজে গেলো ওর কোনো খবর না। তাই নিজেই গেলো রাকিবের কেবিনে। যেতে যেতে অনেক স্টাফ রা সালাম দিলো। কালকে অনেকের চাকরি চলে গেছে তাই সবাই আজ ভয়ে আছে কার কখন চাকরি চলে যায় বলা যায় না। এই প্রথম সবাই আবিরের রাগ দেখলো। অফিসের সবাই সান্ত।
আবির অনুমতি ব্যাতিত রাকিবের রুমে ডুকেই রাকিবের কলার চেপে ধরলো। আচমকা কাজে রাকিব হকভকিয়ে উঠলো। অত:পর ভয় পাওয়ার অভিনয় করে বলল: কিরে সকাল বেলা বউয়ের কফির সাথে ম্যানারস গুলিয়ে খেয়েছিস?
এভাবে এসে কলার ধরছিস যে.....
আবির রাগে কটমট করতে করতে বলল: চেয়ার থেকে উঠে আয় তোকে আমি আজ ম্যানারস সেখাবো।
রাকিব একটু ভাব ধরে আবিরের দিকে তাকালো।
অতঃপর আবিরের হাত ঝারা মেরে চেয়ারের পেছনে গিয়ে দাড়ালো।
আর হাসতে হাসতে বলল : মেঘবতি কি দিয়া পিটাইছে দোস্ত...? তোর কি খুব লাগছে....
ওর কথা সুনে আবির আরো রেগে গেলো। ধাওয়া করলো রাকিবকে ধরতে। আবির বলল তুই দারা বলছি আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। এগুলো দেখে একজন স্টাফ রাসেল কে খবর দিলো। অন্য কারো রুমে ঢোকার সাহস নেই। রাসেল এসেই রাকিবের কেবিনে ডুকে দেখলো কেবিনের সব এলো মেলো। রাসেল কে দেখা মাত্র ওর পিছনে গিয়ে দাড়ালো । হাপাতে হাপাতে আবিরকে বললো: এইবার থাম ভাই আমাদের বয়স হয়েছে এই বয়সে এতো ছোটাছুটি আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আবির দাঁতে দাঁত পিসে বললো : সেটা তোর আগে মনে ছিল না...?
তুই তো শালা হিটলারের ছোট ভাই.. এই বয়সে আমার সংসার ভাঙ্গার শখ হইছিলো তাই না..
রাসেলের পিছনে দাড়িয়ে রাকিব দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল :তোর সংসার ভাঙ্গবো নারে ভাই: বউ রাগ করে আর যাবে কই..? বাপের বাড়ি তো এইটাই ।
ওর কথা শুনে আবির তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো : আমার বউ রাগ করে বাপের বাড়ি যাওয়া লাগে না সে আমার খেয়ে আমার পড়ে আমর রুমে থেকেই আমর উপর লাঠি ঘুরাতে পারে।
ওর কথা শুনে না চাইতেও। ফিক করে হেঁসে দেয়।
বিপদ বুঝতে পেরে ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে বললো : সরি দোস্ত.. হাসতে চাইনি কিন্তু বেরিয়ে গেছে।
আবির রেগে বললো : তুই সামনে থেকে সর, আগে তোর পিছনের টার ব্যবস্তা করি। পরে তোকে দেখে নিবো। রাকিব রাসেলের কানের কাছে গিয়া বলল : এবার বাচিয়ে দে ভাই... তোরে রং চা ট্রিট দিব..
রাকিব বলল : তুই আর মানুষ হলিনা, ভালো কিছু ট্রিট দে তাহলে বাঁচাবো। আবির আবার ও তেরে আসতে চাইলো তখনি রাকিব চিৎকার দিয়ে বলল : দোস্ত তোরে কাচ্চি খাওয়াবো.. বাচিয়ে দে।
রাসেল বলল : ছাইড়া দে বন্ধু আমাদের বন্ধু মানুষ তাই দুষ্টমি করেছে।
আবির এবার রাসেলের দিকে তাকিয়ে বলল : ছাড়তে পারি শর্ত আছে..
রাসেল ও রাকিব প্রশ্ন করল : কি..?
আবির বলল : ওরে বল সবাইকে ট্রিট দিতে । বউের রাগ ভাঙ্গাতে অনেক এনার্জি ওয়েস্ট হয়েছে।
রাকিব দাঁত কেলিয়ে বলল : আচ্ছা..বাড়ির এখন খবর কি? মেঘবতীর রাগ কমেছে..?
আবির : হুম অনেক কষ্টে..
রাসেল আবিরকে বলল : তোর ছেলে মেয়ের খবর কি..
আবির : দুজনেই দেশের বাইিরে... তোর ছেলের খবর কি..?
রাকিব: আমারো ওই একই অবস্থা। ছেলেটা নিজের বিজনেস স্টার্ট করবে বলে অনেক গুলো টাকা নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো ফল দেখতে পাচ্ছি না। কতবার বললাম আমাদের অফিসে জয়েন্ট করতে কিন্তু সে নারাজ। সে নিজেকে প্রমান করতে চায়।
আবির: রিহান নিজের উদ্দেগে কিছু করতে চায় ভালো কথা। তোর তো ওকে সাপোর্ট করা উচিত। কি কারনে অর লাভ হচ্ছে না সেগুলো ধরিয়া দে।
রাকিব: সত্যি বলতে ছেলেটা আমার কাছে কিছু শেয়ার করতে চায় না.. আসলে ওর দোষ না আমি ছোটবেলা থেকেই ওকে সময় দিতে পারি নাই ব্যস্ততার কারণে ওর মায়ের সঙ্গ পেয়েছে বেশী। তাই ওর মায়ের সাথে অনেক ফ্রি...
আবির কিছু একটা ভেবে বলল : তুই যদি চাস আমি রিহানের সাথে কথা বলে দেখতে পারি আমার জানা মতে রিহান একজন ইন্টেলিজেন্ট বয় আমার মনে হয় ওর সমস্যাগুলো ধরিয়ে দিলে ও সহজেই সল্ভ করে ফেলতে পারবে।
রাকিব বললো: ঠিক আছে ... আমি ওকে বলবো তোর সাথে দেখা করতে দেখ তোকে কিছু বলে কিনা... ছেলেটাকে নিয়ে আজকাল খুব চিন্তা হয়।
দুপুর দুইটা বাজে ভার্সিটির সহিদ মিনারের সিরির ওপরে বসে আছে সাতজন ভবিষ্যত ডাক্তার। সাতজন একসাথে বসে গল্প করছে। হঠাৎ আশিকের পায়ের উপরে একটা ঘাস ফড়িং এসে বসলো আশিক হাতে ধরে নাজমুলের মুখের সামনে ধরে বলল : নে বন্ধু,এটার পোস্টমর্টেম কর.... সাবধানে করিস এটা কিন্তু তোর লাইফের ফাস্ট পেশেন্ট....
নাজমুল আশিকের হাত থেকে ঘাসফড়িং টা নিয়ে মেয়েদের দিকে ছুড়ে মেরে বলল:এইডা মাইয়া পেশেন্ট।
এইডার পোস্টমর্টেম করতে আমার সরম লাগবো তার থেকে ভালো মেয়েদের মধ্যে কেউ করুক।
ইতিমধ্যেই ঘাসফড়িং গাঁয়ে পরায় মেয়েরা চিৎকার দিয়ে দাঁড়িয়েছে ।
ওদের কান্ড দেখে আশিক, নাজমুল হেসে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।
সজিব বলল: একটা ঘাসফড়িং দেখে এরা এমন করে এরা নাকি আবার গাইনী ডাক্তার হবে। এরা মানুষের পেট কেটে ভয়ে পেটের মধ্যে কেচি রেখে পেট সেলাই করে দিবে।
নাজমুল বলল: ঠিকই কইছছ মামা...এরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে কি করে চান্স পাইলো সেইটা ভাবতেছি।
ওর কথা শুনে শোভা বলল:এই নাজমুইল্লা ... একদম আমাদের এবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলবি না.. আমরা লেখাপড়ায় যথেষ্ট ভালো তাই চান্স পাইছি....
শোভার কথা শুনে নাজমুল হাসতে হাসতে সিঁড়িতে শুয়ে পড়ল । ওকে দেখে মনে হচ্ছে কোন হাসির কৌতুক শুনেছে.. অতঃপর পেটে হাত দিয়ে বলল:বইন চাপা মারা বন্ধ কর। একটা ঘাসফড়িং দেখে যারা ও মাগো বলে চিৎকার করে তাদের এবিলিটি নিয়ে আমারা কথা বলতেও চাইনা।....
তৃধা কিছু বলবে তার আগেই লক্ষ্য করলো দূরে রিহানের মতো কাউকে দেখা যাচ্ছে।রিহান একটা ছেলের সাথে কথা বলছে। তৃধা চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে জুঁইকে বলল: জূই দেখতো ওটা রিহান ভাইয়া না....?