ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

40

লেখক: ফারজানা মনি

তৃধা চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল :জুই ওটা রিহান ভাইয়া না...?

জুঁইসহ উপস্থিত সকলেই সেদিকে তাকালো। রেহান পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে একটা ছেলের সাথে কথা বলছে। দেখামাত্রই জুই তৃধার পিছনে লুকিয়ে যায় আর বলল : আরে ভাই এখানে কি করছে...?

গতকালকে যে মেহেদির সাথে দেখা করতে গিয়েছি সেটা কি ভাইয়া জেনে গিয়েছে।

তৃধা জুইয়ের সামনে থেকে সরে গেল তারপর বিরক্তিকন্ঠে বললো : এত ভয় পাওয়ার কি আছে? নিশ্চয়ই কোন জরুরী কাজে এসেছে....

জুয়ের অবস্থা দেখে নাজমুল কপাল কুঁচকে বলল : আরে মেরি মা, এমনে

ঈসা মাসের মত লাফাইস না..... তাহলে সবার আগে ধরা খাবি...

বাবলা নাজমুল এর কাজে এক হাত রেখে দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বলল : বুঝস না মামা, চোরের মনে পুলিশ....

হঠাৎ করে সজীব সকলকে ধমক দিয়ে বলল :আমাদের ফ্রেন্ডের ভাইয়ের সামনে আমাদের সকলের উচিত ভদ্র হয়ে থাকা। তাই সবাই দাঁত না কেলিয়ে সভ্য ভাবে দাঁড়া।

এবার সব বাস সজীবকে সাপোর্ট করে বলল : সজীব একদম ঠিক বলেছে.... জুয়েল ভাই মানে আমাদেরও ভাই আমাদের উচিত ওনার সামনে ভদ্র ভাবে থাকা.... যাতে পরবর্তীতে জুটি কিছু বলতে না পারে....

বাবলা আসিক ওদের কথা শুনে ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে ভদ্র হয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু নাজমুল ওদের কথায় বিরক্তিতে না কুঁচকে বলল : এত অভিনয় করতে পারবো না বাল.... আমি যা মানুষের সামনেও তাই দেখাইতে পছন্দ করি। এতে কারো পছন্দ হইলে হোক না হইলে না হোক।

এই কথা শুনে যে অসহায় মুখ নিয়ে নাজমুলের উদ্দেশ্যে বললো : এবারের মতো চুপ কইরা যা আব্বা..... ভাইয়ার সামনে আমার মান সম্মান খাস না |

ইতিমধ্যে রিহান ওদের কাছাকাছি চলে এসেছে | রিহান ওদেরসামনে এসে দাঁড়ানো মাত্রই ওরা সাতজনে সালাম দিল | এইহান সকলের সালামের উত্তর দিল অতঃপর নাজমুল,আশিক ও সজীবের সাথে হ্যান্ডশেক করলো |

তৃধা মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে রেহানের উদ্দেশ্যে বললো : কেমন আছেন ভাইয়া?

রিহান : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমি কেমন আছো?

তৃধা : আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি!!

অতঃপর রিহান সকলের উদ্দেশ্যে বলল : তোমাদের সকলের লেখাপড়া কেমন যাচ্ছে..?

সজীব মেদু হেসে জবাব দিল : ভালো যাচ্ছে ভাইয়া।

তখন জুই সামনে এগিয়ে এসে রেহান কে বলল : তুমি এদিকে ভাইয়া আমাদের ভার্সিটিতে কাজ ছিল?

রিহান : হুম, এদিকে একটা কাজ ছিলো তাই এসেছিলাম...

যাওয়ার সময় ভাবলাম তোদের একটু খোঁজ খবর নিয়ে যাই...

জুঁই আমতা আমতা করে বলল : ও, ভা...ভালো করেছো ভাইয়া.....

রিহান: এভাবে চোর ধরা পড়ে যাওয়ার মত আমতা আমতা কেন করছিস...?

জুই কিছু বলার আগেই নাজমুল বলল : বড় ভাই, আপনার বোনের ভেতর নিশ্চয়ই কোন ঘাপলা আছে... ঠিকমতো খোঁজ নিয়ে দেখেন।

ওর কথা শুনে রেহান মৃদু হাসলো।

অতঃপর নাজমুল এর কাছে এই খাত রেখে বলল : তোমরা বন্ধুরা আছো তো, জুঁই ও তৃধা বিপথে গেলে বাধা দেবে প্রয়োজনে আমাকে জানাবে।

নাজমুল জুই এর দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিল। দেখল যে কটমট করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নাজমুল চোখ ঘুরিয়ে রেহানের দিকে তাকিয়ে বলল : হ্যাঁ ভাইয়া অবশ্যই....

রিহান তৃধার উদ্দেশ্যে বলল : তৃধা বাড়িতে কখন ফিরবে...?

তৃধা : ড্রাইভার আংকেল জ্যামে পড়েছে ভাইয়া তাই আসতে একটু লেট হচ্ছে। বাড়ির গাড়ি আসলেই চলে যাব।

রিহান : ঠিক আছে তাহলে আমি অপেক্ষা করছি। তোমাকে বিদায় জানিয়ে জুঁইকে নিয়ে আমি ওর বাড়ির দিকেই যাব।

তৃধা : না ভাইয়া, আপনার শুধু শুধু টাইম ওয়েস্ট করে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। বাড়ির গাড়ি চলে আসবে.....

ওর কথা শুনে রিহান মৃদু হেসে বলল : ঠিক আছে তাহলে আমরা যাচ্ছি আবার দেখা হবে।

রিহান ও জুইকে সকলেই বিদায় দিলো। ওরা দুইজন যাওয়ার পর সকলেই বড় একটা নিশ্বাস ফেলে আবারো মেতে উঠল নিজেদের আড্ডায়।

নীল তৃধার উদ্দেশ্যে বলল : এই হ্যান্ডসাম ছেলেটা তোর কি হয় রে.....?

তৃধা আচমকা উত্তর দিল : আমার দুলাভাই....

নীলআবারক কন্ঠে বলল : ফাজলামো করিস....ওনাকে দেখে মনে হচ্ছে না উনি married...

বাবলা আসিক হালকা গলা খাকারি দিয়ে নীলের উদ্দেশ্যে মজা করে বলল : এত চিরুনি তল্লাশি কেন নিচ্ছেন মেরি মা...? আপনি কি ক্রাশ ক্রাশ খাইছেন নাকি বড় ভাইয়ের উপর....?

নীল কিছু বলার আগেই তিতা বলে উঠলো : রেহান ভাইয়া দিকে ভুলেও তাকাস না উনি আমার আপুর পার্সোনাল প্রপার্টি। ওদের কথাবার্তা শুনে নাজমুল আচমকা ফিক করে হেসে দিয়ে বলল : আহারে মাইয়াটা প্রেমের নদীতে পড়ার কিচ্ছা আশা করে ডুবে গেছে।

নাজমুল এরকমের ঠ্যাশ মারা কথা শুনে নীল রেগে মেরে বাড়ির পথে রওনা দিল। বাকি পাঁচ বন্ধু ওর অবস্থা দেখে পেট চেপে হাসছে।

দেখতে দেখতে সপ্তাহ গড়িয়ে আজ শুক্রবার স্থান পরিবারের সকলে আজকে বাড়িতে। সকাল সকাল পুরো বাড়ি মেতে আছে আনন্দে। সপ্তাহের এই দিনে আদিবা অনেক খুশি থাকে। এই দিনে ওর দাদুরা পাপারা এবং ওর আপু তৃধা বাড়িতে থাকে।

আলী আহমেদ খান মোজাম্মেল খান ও ইকবাল খান একসাথে বসে চা খাচ্ছেন। বয়সের ভারে আলী আহমদ খানের শরীর টা আজকাল ভালো থাকে না, তাই মালিহা খান নিজের রুম থেকে কম বের হন।

শেষ বয়সে এসে এই দুইজন কপোত কপতিকে একসাথে গল্প করতেই বেশি দেখা যায়। হালিমা খানুয়ার হালিমা খান মাঝে মাঝেই রান্না ঘরে এসে মেঘ বন্যা ও রাই কে অনেক কাজকর্ম শিখিয়ে দেন। তবে মেঘ ভুলে ওনাদেরকে কোন কাজে হাত দিতে দেয় না।

তৃধা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ছাদে গেছে। এটা তার প্রতি শুক্রবার সকালের অভ্যাস। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে জেগে ছাদের ফুলগুলোকে না দেখলে মনে হয় দিনটাই সুন্দর যায় না।

পাপা..অ পাপা...

আদিবার আধো আধো ডাকে আদি ভাইয়েদের সাথে আলোচনা ছেড়ে মেয়েকে কোলে নিল। আদিবা তার পাপার গলা জড়িয়ে ধরে কোমল কণ্ঠে বললো : জানো পাপা... মামমাম আমায় বকেছে...

আদি : কবে বকেছে?

আদিবা : এই শুক্রুবারে...

আদি: এটা এই শুক্রবার হবে না মা গত শুক্রবার হবে....

আদিবা : ওকে।

এর মধ্যে তানভীর বলে উঠলো ভাইয়া এমপির কথা মনে আছে যার সাথে আমি রাজনীতি করতাম...?

তানভীর এর কথা শুনে আবার ভুরু কুঁচকে বলল : মনে থাকবে না কেন? তাছাড়া তুই ও নাকি এমপি কেন বলছিস শুনেছি উনি এখন মন্ত্রী হয়েছেন....

তানভীর : হ্যাঁ এখন মন্ত্রী। তোমার চেনার সুবিধার জন্য এভাবে বলেছি।

আবির : ok কি হয়েছে এখন সেটা বল।

তানভীর: গতকালকে মন্ত্রী সাহেব কল দিয়েছিলেন, পরে তোমার কথাও জিজ্ঞেস করল। আমি বলেছি তুমি দেশে ফিরেছো। উনি আগামী শুক্রবার আমাদের কে ওনাদের বাড়িতে ইনভাইট করেছেন। বলেছেন আমাদের ছেলে মেয়ে এবং ওয়াইফকে নিয়ে যেন যাই। আমি নিষেধ করেছিলাম বলেছি আমরা দুজন গিয়ে এক সুযোগে ওনার সাথে দেখা করে আসবো । কিন্তু উনি মানতে নারাজ।

অনেক রিকোয়েস্ট করে বললেন সবাইকে নিয়ে যেতে। আবে শুনল অতঃপর বলল: হঠাৎ করে সবাইকে নিয়ে ওনার বাড়িতে ইনভাইট করার কারণ কি..?

তানভীর: আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিন্তু উনি বলেছে তেমন কোন কারণ নেই। অনেক বছর ধরে দেখা সাক্ষাৎ হয় না তাই উনি আমাদেরকে ইনভাইট করেছে দেখতে চাই সেজন্য।

শুনেছি অনেকদিন অসুস্থ ছিলেন তাই এর মানা করতে পারিনি। তাই আমি তোমার অনুমতি ছাড়াই বলে দিয়েছি আগামী শুক্রবার আমরা যাব।

আবির কিছু একটা ভেবে বলল :আচ্ছা ঠিক আছে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 40 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন