ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

41

লেখক: ফারজানা মনি

সারাদিনের কাঠপোড়া রোদকে বিদায় জানিয়ে ধরণীতে নেমে আসলো শান্ত বিকেল। তৃধা ড্রয়িং রুমে আদিবেকে কোলে নিয়ে টিভি দেখছিল। হঠাৎ কলিং বেল শুনে গিয়ে দরজা খুলল। দরজার ওপারের মানুষটিকে দেখি তৃধা চোখ বড় বড় করে তাকালো। অতঃপর সালাম দিল। এবং জিজ্ঞেস করল কেমন আছেন ভাইয়া...?

দরজার ওপারে রিহান দারিয়ে আছে। ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত। আবির আঙ্কেল তাকে কেন দেখেছেন সেটা জানে না। নার্ভাস ফেস নিয়ে মৃদু হেসে জবাব দিল : আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি কেমন আছো?

তৃধা : আমিও ভালো আছি।

রিহান : বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখবে?

তৃধা লজ্জিত কন্ঠে বলল : ছি ছি ভাইয়া.... কি বলছেন? প্লিজ ভেতরে আসুন....

বলি দরজার সামনে থেকে তৃধা সরে দাঁড়ালো।কে এসেছে তৃধা ,,,,?

হালিমা খানের কন্ঠে তৃধা চিৎকার করে বলল: রিহান ভাইয়া এসেছে দাদু।

রিহান ভেতরে ডুকেই সকল কে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করলো।

মেঘ রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বলল: এতো শুকিয়ে গেছো কেন বাবা? খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করো না নাকি...?

রিহান মৃদু হাসলো।

মেঘ আবার বলল : আমার ছেলেটারো এক‌ই অবস্থা এ ফিরে অনেক শুকিয়ে গেছে। আমি নেই তাই আর ও নিজেও শরীরের যত্ন নেয় না ...রিহান ছোট করে নি‌ঃশ্বাস ছারলো ও মনে মনে বলল : আপনার ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দেন আন্টি। বিয়ের পর ব‌উয়ের হাতের রান্না খেয়ে এমনি মোটা হয়ে যাবে।

বন্যা পদ্মকে বলল নাস্তা নিয়ে আসতে। কিন্তু রিহান বলল : না আন্টি কিছু খাবো না... আসলে আবির আংকেল আমাকে আসতে বলেছিলেন সেই কারণে এসেছি। উনি কি বাড়ি আছেন ...?

মেঘ: হ্যাঁ। আসলে উনি একটু আগে সাদে গেছেন তুমি বরং সাদেই চলে যাও।রিহান কিছু বলল না বড়ো বড়ো পা ফেলে ছাদে চলে গেল।

তৃধা ওর যাওয়ার পানে চেয়ে র‌ইলো । রিহান যাওয়ার পর পরই মৃধা নিজের রুমে চলে গেলো । গিয়ে কল করলো আহিয়ার নাম্বারে।

ভিডিওর সামনে আহিয়া আসতেই তৃধা জিজ্ঞেস করল: রিহান ভাইয়াকে বড়ো পাপা কি জন্য ডেকেছে তুমি কি জানো ...?

আহিয়া ভাবুক ভংগিতে বলল: বুঝতে পারলাম না ....রিহানকে পাপা ডেকেছে ক‌ই আমাকে তো রিহান এব্যাপারে কিছু বলেনি।

তুই বুঝিয়ে বলতো কি হয়েছে....

আসলে একটু আগে রিহান ভাইয়া আমাদের বাসায় আসছে এবং বলেছে যে বড়ো পাপা নাকি তাকে আসতে বলেছে ।

এখন বড়ো পাপা ও রিহান ভাইয়া ছাদে কথা বলছে।

আহিয়া কিছু টা চিন্তিত হলো কিন্তু তৃধা কে বুঝতে দিলো না । তার পর স্বাভাবিক ভাবে বলল: চিন্তা করিস না আমি পরে রিহানাকে ফোন দিয়ে জেনে নেবো।

তৃধা তবুও কিছু নিয়ে চিন্তা করছে সেটা দেখে আহিয়া তৃধাকে প্রশ্ন করলো : কিরে এখনো কি নিয়ে ভাবছিস।

তৃধা: না মানে আপু...?

আহিয়া: কিছু বলবি...?

তৃধা : আসলে আহিয়ান ভাইয়া কেমন আছে .? উনি নাকি আগের থেকে শুকিয়ে গেছে উনি কি ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করে না...?

আহিয়া ফিক করে হেসে দিয়ে বলল : সেটা তুই ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করে নিস ...?

তৃধা আহিয়ার দুষ্টুমি বুঝতে পেরে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল: জিবনেও না .. তোমার ওই ভন্ড ভিইকে আমি জিবনেও কল দিবো না ...

ওর কথা শুনে আহিয়া মিট মিট হাসছে তখন তৃধা অসহায় কন্ঠে বলল: আপু ওনাকে প্লিজ ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে ব‌ইলো ..

আহিয়া: ওকে আমি ভাইয়াকে বলবো, যে তৃধা তোমাকে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে বলেছে ।

তৃধা: এই না.. না... আমি কিছু বলিনি... প্লিজ আমার কথা কিছু ব‌ইলো না ।

আহিয়া মৃদু হেসে ফোন কাটলো...

তৃধা রাগে ফুঁসছে এবং মোবাইল টাকে বিছানার উপরে আছার দিলো ...।

রাত প্রায় এগারোটা খান বাড়ি থেকে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেছেআহি এতক্ষণে অনেকগুলো কল দিয়েছে কিন্তু ফোন সাইলেন্ট থাকা সে শুনতে পায়নি। ‌ ছাদের এক কর্নারে দাঁড়িয়ে আছে রিহান আহিয়াকে কল দিল কল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করলো আহিয়া‌। রিহানের মনে হচ্ছে আহিয়া তার কলের অপেক্ষায় করছিল।

কল রিসিভ করি সঙ্গে সঙ্গে বললো: রিহান.... পাপা কেন ডেকেছিল তোমায়...?

আসি আর উদ্দীপ্ত তা বুঝতে পেরে রিহান বলল: রিল্যাক্স আহিয়া আঙ্কেল আমাকে বিজনেসের ব্যাপারে কথা বলার জন্য ডেকেছিল। ভয়ের কোন কারণ নেই। তুমি যে বিষয় নিয়ে ভয় পেয়েছিলে তার কিছুই হয়নি।

আহিয়া বলল: অফ গড আমি তো চিন্তায় দুদন্ড বসতে পারিনি...

রিহান মৃদু হেসে বলল: আমি তো সেই কারণেই তোমাকে আগে কিছু জানাই নি কিন্তু তৃধা রানী সব বলেই দিল।

রেহান কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল আহিয়ার দিকে অতঃপর বলল: আই মিস ইউ আহিয়া..

আহিয়া: মিস ইউ টু..

ওদের কথার মাঝখানেই হঠাৎ আসিয়ান রিহানকে কল করলো। রিহান লক্ষ্য করল আহিয়ান কল দিচ্ছে তারপর আহিয়ার উদ্দেশ্যে বলল: সম্বন্ধে কল দিয়েছে তোমার সঙ্গে পরে কথা বলছি। বলেই রিহান আহিয়ার কল কেটে দিল এবং আহিয়ান কল রিসিভ করল কল রিসিভ করার সাথে সাথেই রেহান বলল: কিরে বন্ধু হঠাৎ হঠাৎ কই হাওয়া হয়ে যাস

আহিয়ান বলল: মরি নাই বেঁচে আছি তাই একটু হাজিরা দিতে আসলাম।

ওর কথা শুনে জিহান সশব্দে হেসে উঠলো এবং বলল: কেমন আছিস...?

আহিয়ান: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুই কেমন আছিস...?

রিহান : এইতো আলহামদুলিল্লাহ... তারপর বল তোর দিনকাল কেমন কাটছে...?

আহিয়ান: আমার দিনকাল তো আলহামদুলিল্লাহ.. তুই বল তোর দিনকাল কেমন যাচ্ছে এই মধ্যরাতে ফোন ওয়েটিং কেন তোর প্রেমে পড়ে কোন মেয়ের কপাল পুড়লো।

রিহান দাঁত কেলিয়ে বলল: তোর বোনের কপাল পোড়লো.....

আহিয়ান কপাল কুঁচকে বলল: তুই কিন্তু ভুলেও আমার আগে পরীর দিকে নজর দিবি না দূর থেকে ওর খোঁজ খবর নিবি কিন্তু ধারে কাছেও ঘেষবি না ...

রিহান বলল : আস্তাগফিরুল্লাহ জিদা আমার ছোট বোনের মত...

আহিয়ান : ও তাই বল... তাহলে বাংলাদেশে আবার তুই আমার বোন পেলি কোথায়...?

রিহান কথা এড়িতে বলল: আমার বউকে তোর বোন বানিয়ে দিয়েছি....

আহিয়ান: ওহ তাই বল আমি তো ভাবছিলাম কালকেই দেশে ফিরব।

রিহান: না না তোকে দেশে ফিরতে হবে না তৃধাতো আমার মায়ের পেটের পাতানো বোন। আর আমি তো দুষ্টুমি করছিলাম আমি এক ফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলছিলাম।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 41 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন