ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

42/43

লেখক: ফারজানা মনি

আহিয়ান: তুই কি আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছিস ...?

রিহান: হ্যাঁ কিন্তু একটু একটু...?

আহিয়ান: তার মানে আমার সন্দেহ ঠিক তুই রিলেশনে আছিস..?

রিহান: ওকে অনেক ভালোবাসি রে....

আহিয়ান: তোর ভালোবাসা পেয়ে কোন হতভাগীর কপাল পুড়লো..?

রিহান: সে হতভাগী কিনা জানিনা তবে আমি ভাগ্যবান তাকে পেয়ে....!!

আহিয়ান:OMG 😱 এত প্রেম..

রিহান : হুম.

আহিয়ান: তাহলে বিয়ে করছিস কবে....?

রিহান: যেদিন ভিলেন শশুর ও সম্বন্ধীর যোগ্য হয়ে উঠবো সেদিন...?

আহিয়ান: তুই তো তোর শ্বশুরের সমনদিকের ডিরেক্ট ভিলেন উপাধি দিলি।

[২১/১২ ১১:৩১ AM] Hafez Imran: রিহান হতাশা গ্রস্থ অবস্থায় আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল: তুই কি তোর বোনকে কোন অসফল ব্যবসায়ির কাছে বিয়ে দিবি...?

আহিয়ান বলল: প্রত্যেকটা মানুষের উচিত নিজের কাছে নিজেকে যোগ্য করে তোলা তুই যদি অন্য কারোর জন্য নিজেকে যোগ্য করে তুলিস যখন সে তোকে ছেড়ে যাবে তখন তুই নিজের যোগ্যতায় ভুলে যাবি... আর যদি তুই নিজেকে নিজের জন্য যোগ্য করিস তাহলে তোর ভিলেন শ্বশুরের সম্বন্ধে এমনিতেই তোর প্রিয় মানুষটাকে তোর হাতে তুলে দিবে... আর যদি তারা না দেয় তুই তোর পাওয়ার রে তোর প্রিয় মানুষটাকে নিজের করে নিতে পারবি। আর রইল বাকি আমি আমার বোনকে বিয়ে দিব কিনা ? আমার উত্তর হবে হ্যাঁ... যদি সেই ছেলে পরিশ্রমী এবং সৎ হয় সে যদি পরিশ্রম এবং সৎ হয় তাহলে সেদিন সফল হবেই আর আমি আমার বোনকে টাকার কাছে দিয়ে দেব না আমি আমার বোনকে একটু ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেবো। টাকা তো এই আছে এই নেই কিন্তু সততা সারা জীবন থাকে।

[২১/১২ ১১:৪৩ AM] Hafez Imran: আহিয়ানের দীর্ঘ কথা শুনে রিহান হঠাৎ বলল: বাদ দে এসব... তোর কি খবর সেটা বল..?

আহিয়ান: আলহামদুলিল্লাহ। আর তাছাড়া আমার সকল খবর তোর কাছেই ।

আরো অনেক কথা বলে ওরা ফোন কেটে দিল....

আজ শুক্রবার তৃধা না চাইতো ওকে আজ মন্ত্রীর বাড়িতে যেতে হচ্ছে সবার সঙ্গে। মন্ত্রীর বাড়ির বড় সিংহলা গেট দিয়ে সবাই প্রবেশ করল ওদেরকে আসতে দেখে কয়েকজন ওদেরকে এগিয়ে নিল...

অনেকদিন পর আবির তানভীর এর সাথে মন্ত্রীর দেখা হাওয়ায় মন্ত্রী বেশ খুশি। আগের মত তরতাজা দেহ এখন আর নেই অনেক নেতিয়ে পড়েছে উনি।

সবাই যখন পরিচিত হচ্ছিল তৃধা তখন বাগানের ফুল গুলো দেখছিল... হঠাৎ লক্ষ করলেও সবাই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাই সেও একটু জোরে হাটা দিয়ে সবার সাথে তাল মিলালো। ওদের সবাইকে বিশাল ড্রয়িং রুমের সবাই বসানো হলো। পুরো বাড়িটি আধুনিক কারুকার্য দিয়ে সাজানো বলোনা সবাই কথা বলছে তাই তৃধা সব বিরক্ত লাগছে তাই এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। মন্ত্রী সাহেব আচমকা কাউকে ইশারা করে সবাইকে বলল ও আমার নাতি একমাত্র নাতি (CID) কাজ করে এহসান নেওয়াজ...

এহসান নেওয়াজ সবাইকে সালাম দিয়ে আবির ও তানভীর এর সাথে হ্যান্ডশেক করলো।

তৃধা এহসানের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এহসান নেওয়াজ তৃধাকে উদ্দেশ্য করে বলল : কেমন আছো তৃধা..?

তৃধা: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি কেমন আছেন..?

এসানেওয়াজ বলল: আলহামদুলিল্লাহ..

তৃধার মনে ভয় হচ্ছে পাপা মামা বুঝে গেলে না তো যে এহসান নেওয়াজ তার পূর্ব পরিচিত ।

[২১/১২ ১১:৫২ AM] Hafez Imran: কিন্তু সে তাকিয়ে দেখল মা ও ফুপি এহসান নেওয়াজের মায়ের সঙ্গে কথা বলছে। এর মধ্যে হঠাৎ তৃধা জানতে পারে মন্ত্রী সাহেব তার নাতি এহসান নেওয়াজের সাথে তৃধার বিয়ের সম্বন্ধ রেখেছে। আবির তানভীর তেমন কিছুই জানায়নি। শুধু বলেছে ওর মেয়ে ডক্টর হতে চায় তারপর ভেবে দেখবে। এহসান সপ্তাহখানেক পর এসেছিল রিদার ভার্সিটিতে তখন তৃধা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল সে ডাক্তার হতে চায় সে এখন বিয়ে নিয়ে কিছুই ভাবছে না।

এহসান নেওয়াজ বলেছিল: অপেক্ষায় থাকবো।

তৃধা: সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না...

দেখতে দেখতে কেটে গেল দেড় বছর । তৃধা (MBBS) second year এর স্টুডেন্ট। আর আহিয়ান final year।

আহিয়ার মাস্টার কমপ্লিট হয়েছে গত বছর কিন্তু সে এখনো বাড়ি ফিরেনি। এ বছর পর দেশে ফিরবে। রিহানের বিজনেসের অবস্থা এখন অনেক ভালো কয়েকটা কোম্পানির সঙ্গে ডিল হয়েছে। আর তার বাবার কাছ থেকে যে টাকা এনেছিল সেটাও ফেরত দিয়ে দিয়েছে।

রাকিব এখন খুব খুশি তার ছেলের কাজ দেখে। সেও ভাবতে পারিনি তার ছেলেটা এতটাই এগোতে পারবে।

দুপুরের কড়া রোদে ভার্সিটির গেট দিয়ে বের হলো তৃধা ... একটু সামনে যেতে লক্ষ্য করলো একটু দূরে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে ফোনে কথা বলছে এহেসান নেওয়াজ। চোখে সানগ্লাস ও হাতে দামি ঘড়িটা রোদের চিকচিক করছে। চোখে পড়তেই তৃধা চোখ নামিয়ে নিল। একটু আগে পাপা কল দিয়ে জানিয়েছে এহসান নেওয়াজ দেখা করতে আসবে।তৃধা সত্যিই জানেনা এহসান এই দের বছর কোথায় ছিল। এই দেড় বছরে তার এহসানের সাথে একবারও দেখা হয়নি। আজ হঠাৎ করে তার পাপার সাথে দেখা করার আবদার কেনো করেছে সেটাও তার অজানা। আর পাপাই বা কেন উনার সাথে দেখা করতে বলেছে..? উফস ভাবতেই বিরক্ত লাগছে।

ঠিক তখনই ওদের সামনে এসে দাঁড়ালো এহসান।

এহসান: হাই কেমন আছো cutie doll...

এহনের মুখে এমন কথা শুনে তৃধা কিছু বলতে যাবে তার আগেই নাজমুল বলল: ওই মিয়া_আপনি ওরে cutie dollবলে ডাকলেন কেন...?

দিনে দুপুর বেলা ইভটিজিং করছেন আমাদের বন্ধুকে। তাও আবার আমাদের সামনে সাহস তো কম না আপনার....

এবার সজীব ও বাবলা সামনে এসে বলল: কিরে নাজমুল কি হয়েছে...?

সজীব কিছু বলার আগেই তৃধা বলে উঠলো, তোরা এত প্যানিক করিস না উনি আমার পরিচিত। তাদেরকে বলেছিলাম না (CID) কাজ করে এহসান নেওয়াজ... উনি সে....

তৃধার কথায় ওরা সবাই এহসান নেওয়াজকে সালাম দিল। এহসান নেওয়াজ ওদের উদ্দেশ্যে বলল: তোমাদের কাজকর্মে আমি সত্যিই খুব খুশি। তোমাদের বন্ধুকে প্রোটেক্ট করার জন্য কোন কিছু না ভেবেই ‌তোমরা এগিয়ে এসেছো বিষয়টা সত্যিই মনমুগ্ধকর।

নাজমুল হেসে বলল: sorry sir. আমরা আপনাকে চিনতে পারিনি।

এহসান মৃদু হেসে নাজমুলের উদ্দেশে বললো: it's okay .

তারপর সবার সাথে কুশল বিনিময় করে সবাইকে লাঞ্চের অফার করলো। কিন্তু সবার নিজস্ব ব্যস্ততার কারণে কেউই অফারটি এক্সেপ্ট করতে পারল না। তারপর ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসসান তৃধা কে নিয়ে চলে গেল এক বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে। তারপর একটি প্রাইভেট কেবিনে তাদের লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হলো। তৃধা কিছুটা ইতস্তত বোধ করল এভাবে একা এহসানের সাথে লাঞ্চ করতে কিন্তু কিছু করার নেই। পাপার থেকে এহেসান পারমিশন নিয়ে এসেছে।

এহসান বলল: তৃধা ওইদিকে ওয়াশরুম তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি বরং অপেক্ষা করছি। এহসানের কথা মত তৃধা ফ্রেশ হতে চলে গেল। বাড়ি থেকে বের হয়েছে সেই কখন এখন একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার। তাছাড়া বাহিরে আজকাল অনেক রোদ পড়েছে।

ফিরে এসে দেখল ফোনে এহসান কথা বলছে। তৃধা এহসানের সামনের চেয়ারে বসলো। তৃধাকে দেখে এহসান ফোন কেটে দিল। অতঃপর ফোন পকেটে রেখে দিলো । এরপর তৃধা কে জিজ্ঞেস করল কি খাবে....

তৃধা চুপ রইলো সে বুঝতেই পারছে না এহসানের সাথে কিভাবে কথা বলবে। বাহিরের কারো সাথে গল্প বা কথা বলার অভ্যাস তৃধার নেই। ছেলে বলতে ভার্সিটির তিন বন্ধুর সাথে তার ওঠাবসা। আরেকজন ছিল যে কিনা কয়েকদিনের অতিথি হয়ে এসেছিল তার জীবনে। আবার অতিথি পাখির মতোই ফিরে গেছে তার গন্তব্যে। কথাগুলো মাথায় আসতেই তৃধা বড়ো করে নিঃশ্বাস ফেলল।

এহসান: cutie doll...

এহসানের ডাকে তৃধা মাথা তুলে তাকালো। এহেসান ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। তৃধা এহেসানের কথায় উত্তর দিয়ে বলল: হুম...

এহসান তৃধার উদ্দেশ্যে বলল: তুমি কি আমাকে কোন ভাবে ভয় পাচ্ছো বা আমাকে দেখে বিব্রত বোধ করছ।

তৃধা: আসলে তেমন কিছু না..?

এহসান: তাহলে কেমন কিছু...?

তৃধা: আসলে হাতেগোনা কয়েকটা ছেলে ছাড়া অন্য কারো সাথে তেমন মেশা হয়ে ওঠেনি তাই একটু নার্ভাস লাগছে।

এহসান: good habit.... But আমি কি তোমার পরিচিত নই...?তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল: তৃধা আমি তোমাকে কোন কিছু নিয়ে জোর করতে চাই না তুমি চাইলে মাঝেমধ্যে আমার সাথে দেখা করতে পারবে বা যোগাযোগ করতে পারো এটা আমাদের মধ্যে একটা ভাল ফ্রেন্ডশিপ তৈরি হবে। আমি মত দেড় বছরের মত বাকি তিন বছরও অপেক্ষা করতে পারব।

তৃধা, এবার মাথা তুলে তাকালো এবং বলল: দেখুন আপনি আমাকে নিয়ে একটু বেশিই ভাবছেন আমার এমবিবিএস পাশ করতে এখনো তিন থেকে চার বছর বাকি। আমি চার বছর পরের সিদ্ধান্ত চার বছর পরেও নিতে চাই আমি চার বছর পর সিদ্ধান্ত আগে নিতে চাই না যাতে আমাকে চার বছর পরে আফসোস করতে হয়।

এহেসান মৃদু হেসে জবাব দিল: তুমি একজন ব্রিলিয়ান্ট গার্ল অবশ্যই খান বাড়ির মেয়ে এমনটা হওয়াই উচিত । তোমাদের ফ্যামিলিকে আমার অনেক ভালো লাগে আর তোমাকেও ভালো লাগে। অতঃপর এহসান ত্রিধাকে প্রশ্ন করল কি খাবে...?

তৃধা : আপনার ইচ্ছা মতো অর্ডার দিন ...

এ হাসান কিছু খাবার অর্ডার দিল তৃধা অবাক হয়ে এহসানের দিকে তাকিয়ে রইল এহসান যে কয়টি খাবার অর্ডার দিয়েছে প্রত্যেকটি খাবার তৃধার খুব পছন্দের। এহসান ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। তৃধার ভাবতেই গলা শুকিয়ে আসছে।

খাবার এসেছে এহসান নিজের হাতে যত্ন করে খাবার সার্ভ করছে।

লাঞ্চ শেষে এহসান তৃধাকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে গেল এহসানকে বাড়ির ভিতরে আসতে বলেছিল কিন্তু এহসান আসেনি।

সন্ধ্যা বেলা তৃধা কোন দরকারি কাজে তার বাবা মায়ের রুমের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখনই বড়পাপার রুম থেকে শুনতে পেল রাগান্বিত স্বর । ফোনের পাস থেকে কি বলছে তা বুঝতে পারছে না কিন্তু বড় পাপা বলছে আহিয়ান এসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না এসব ভাবার জন্য আমরা বড়রা আছি। আহিয়ান নাম শুনতে তৃধা দাড়ালো ফোনের অফিস থেকে আবারো কি বলল শোনা গেল না কিন্তু বড় পাপা আবারো বলল: আমি যা বলেছি তাই হবে এসব নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। বাড়ির ভিতরে বিষয়গুলো দেখার জন্য আমরা বড়রা আছি।

তৃধা বুঝতে পারল না কি হয়েছে তার জানামতে বড় পাপা তার ছেলে মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডলি ব্যবহার করেন। কিন্তু আজকে নিয়ে বাপ ছেলের মধ্যে মান অভিমান চলছে বুঝতে পারল না।

তৃধা আর এসব নিয়ে মাথা ঘামালো না সে তার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে তার রুমে চলে গেল।

আসবো....?

তৃধা পিছনে তাকিয়ে দেখলো ওর পাপা এসেছে তারপর বলল এসব আবার ভেতরে এসো তুমি কষ্ট করে তৃতীয় তলায় আসতে গেলে কেন আমাকে বলতে আমি চলে যেতাম।

তানভীর বলল: তোর কি আমাকে বুড়ো মনে হয়...

তৃধা বলল: আমার পাপ্পাকে কেন বুড়ো বুড়ো মনে হবে এখনো অনেক ইয়াং আমি শুধু শুধু আমার পক্ষে কষ্ট দিতে চাইনি তাই বলেছিলাম।

তানভীর বলল: আমার মেয়েটা কবে এত বড় হয়ে গেছে আমি তো বুঝতেই পারিনি।

তৃধা এবার তানভীরের দিকে তাকিয়ে ছলছল চোখে বলল: পাপা আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি আমি তোমাদের সঙ্গে সব সময় থাকতে চাই।

তানভীর নিচে এবার মেয়ের দিকে ছলো চোখে তাকিয়ে বলল:‌ ক্ষমতা থাকলে তোকে আমার কাছে রেখে দিতাম না কিন্তু মেয়ে হয়ে জন্মেছিস একদিন যেতেই হবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 42/43 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন