ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

44

লেখক: ফারজানা মনি

এই কথা শুনে তৃধা অভিমানী স্বরে অন্যদিকে তাকিয়ে বলল: আমি তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না বাবা আর কোনদিন বিয়েও করবো না।

তানভীর মেয়ের কথা শুনে হাসলো।

তৃধা আবার বলল: তুমি এহসান নেওয়াজ কে আমার সাথে দেখা কর পারমিশন কেন দিয়েছো পাপা...?

তানভীর মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলল: এহসান অনেক ভালো ছেলে মামমাম.... ও এই দেড় বছর দেশের বাইরে থেকেও আমাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছে। আর তোমার বড় পাপ পাও ওকে অনেক পছন্দ করে। কাল যখন দেশে ফিরে আমার কাছে আবদার করলো তোমার সাথে দেখা করার তখন আমি নিষেধ করতে পারিনি।

তৃধা: না পাপা আমিও জানি এহসান ভালো ছেলে... কিন্তু তুমি আমি আমরা দুজনে জানি এহসান খান পরিবারের সাথে সম্পর্ক কেন রেখেছে আমি চাই না তিন চার বছর পরের সিদ্ধান্ত আগে নিতে । আমি চাই না এহসান আমার অপেক্ষায় থাকুক।

তানভীর: তোর কি অন্য কোথাও পছন্দ আছে...?থাকলে বলতে পারিস ...

তৃধা: না পাপা... প্রথমতো আমি তোমাদের ছেড়ে যেতে চাচ্ছি না দ্বিতীয়ত আমি এহসান কে কোন কমিটমেন্ট করতে চাই না যে তিন বছর পরে আমি এহসানকেই বিয়ে করবো । ওনাকে বলো আমার অপেক্ষায় না থেকে অন্য কোথাও বিয়ে করে নিতে ।

তানভীর মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল: তা আমি এহসানের সাথে কথা বলে নেব। তুই মন দিয়ে লেখাপড়া কর।

তৃধা পাপার হাত ধরে বলল: thank you papa....

রাত এগারোটা টা । ডিনার শেষ করে মাত্র‌ই রুমে এসেছে রিহান... রুমে এসে আহিয়ার অনেক গুলো টেক্স দেখে কল দিল রিহান কল রিসিভ করতেই আহিয়ার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলো।

আহিয়া: আসসালামুয়ালাইকুম।

রিহান: ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছো জানেমান..?

আহিয়া খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো ও বলল: ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন..?

রিহান: ভালো নেই...

আহিয়া: কেন কি হয়েছে? অসুস্থ আপনি..?

রিহান: হুম অসুস্থ...

আহিয়া: কি হয়েছে... জ্বর এসেছে? মাথা ব্যাথা করে..? ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন..?

আহিয়ার উদ্বিগ্নতা বুঝতে পেরে রিহান বলল: হুম গিয়েছিলাম।

আহিয়া: কি বলেছে ডাক্তারে...?

রিহান: বলেছে যার কারণে বুকে ব্যথা তাকে বুকে নিলেই ব্যথা কমে যাবে। কথাগুলো প্রথমে আহিয়া বুঝতে না পারলেও পরবর্তী তে বুঝতে পেরে আহিয়া অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে রিহানের দিকে।

রিহান আবার ও বলল: এ মেডিসিন কোথায় পাবো এখন বলতো আহিয়া পাখি?

আমার যে বুকের ব্যথা রাতে ঘুম হয় না।

আহিয়া চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল: তুমি

দুষ্টুমি করছেন? আমি ভাবছি আপনি হয়তো অনেক অসুস্থ। যাক ভালই হয়েছে আপনি সুস্থ আছেন,,,,,

ঠিক তখনই রিহান কমল কন্ঠে ডাকলো :জান...

আহিয়া: হুম

রিহান: দেশে ফিরে আসো প্লিজ ।ইদানিং আম্মু বিয়ের জন্য অনেক চাপ দিচ্ছি আমায়। তার নাকি আর্জেন্ট ছেলের বউ লাগবে।

তুমি দেশে নাই তাই আমি কিছু বলতে পারছি না।

আহিয়া অভিমানী কণ্ঠে বললো: তাহলে বিয়ে করে নিন..

রিহান গর্জে উঠে বলল: দেশে ফেরো... একবার বিয়েটা করে নেই, তারপর শনি আছে তোমার কপালে,,,

বিয়ের পর সকাল বিকাল থাপ্পর মেরে যদি আমি তোমাকে না কাঁদিয়েছি তাহলে আমার নাম রিহান না।

রিহানের কথা শুনে আহিয়া মুখ ভেঙ্গচি দিল,

তারপর বলল: আমি ফিরব না, আরো এক বছর থাকবো।

রিহান এবার অসহায় কণ্ঠে বললো :ওই আহিয়া পাখি প্লিজ ফিরে আসো তোমার বাবাকে আমি মানিয়ে নেব

আহিয়া এবার দুষ্টুমি ছেড়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো:

আমার রানিং কোর্সের সাথে আরো একমাস লাগবে।

এটা শেষ হলেই চলে আসব।

কথাটা শেষ হওয়ার মাত্রই রিহানের ঠোঁটে হাসি ফুটল।

রেহান প্রশান্তিময় হেসে বলল; সামনের মাসের শেষে তো রমজান মাস.. তুমি কি তার আগেই ফিরবে?

রিহানের হাসি দেখিয়ে আহিয়া মৃদু হাসে বলল: চেষ্টা করব রমজানের আগে যাওয়ার যদি না পারি তো রমজানের সিওর ফিরব।

রিহান খুশিতে ভিডিও কলে আহিয়ার দিকে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিল আই লাভ ইউ পাখি,,

আহিয়া: লাভ ইউ টু.

পরের দিন সকাল বেলা তৃধা ঝটপট ফ্রেশ হয়ে নিচে নামছে।

ব্রেকফাস্ট করার জন্য। আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে তাই একটু তাড়াতাড়ি যাওয়া প্রয়োজন।

তৃধাকে নিচে নামতে দেখে বন্যা এগিয়ে আসলো।

মেয়ের উদ্দেশ্যে বলল: কিরে আজকে কি ভার্সিটি আছে?

তৃধা: তাড়াহুড়ো করে ডাইনিং টেবিলে বসতে বসতে বলল হ্যাঁ মামমা আমাকে একটা ইম্পর্টেন্ট ক্লাস আছে।

কিন্তু আমি ঘুম থেকে সজাগ পায়নি। প্লিজ তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও।

ইতিমধ্যেই মেঘ টেবিলে সকলের জন্য নাস্তা এনেছে।

তৃধার কথা শুনে মেঘ সাথে সাথে নাস্তা দিল।

বন্যা মেয়ের তাড়াহুড়ো বুঝতে পেরে বলল: আসতে ধীরে খা গলায় আটকে যাবে।

ধীরে ধীরে সকলেই ডাইনিং টেবিলে এসে বসলো ‌। মেঘ ও বন্যার সকলকে খাবার পরিবেশন করছে।

তৃধা লক্ষ্য করল আহিয়ান ভাই আজকের কারো ফোনে কল দেয়নি‌।

তৃধাএকটু অবাক হল।

প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর হয়ে গেছে আহিয়ান ভাই চলে গেছে।

কিন্তু মানুষটা প্রতিদিনই সকালে নিয়ম করে কল দেয়।

হয়তো তৃধার সাথে কথা হয় না ,,,কিন্তু কণ্ঠ শুনতে পায়।

প্রতিদিন আহিয়ান সবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে এই দেখেই তৃধা ভার্সিটিতে যায়।

তৃধা হাতে ঘড়ির দিকে তাকালো, লেট হয়ে যাচ্ছে তাই সে আর বেশিক্ষণ বসলো না।

মনের ভিতর কেমন জানি একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

গত আড়াই বছরে এই প্রথম সকাল বেলা আহিয়ান ভাইয়ের কন্ঠ শুনতে পায়নি।

উদাস মনে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।

পরপর তিনদিন কেটে গেল কিন্তু আহিয়ান ভাই আগেকার মত প্রতিদিন সকালবেলা ফোন দেয় না।

ছেলেটা দূরে থেকেও তৃধা কে পড়াচ্ছে।

তৃধা বুক ভরা হতাশা নিয়ে ভার্সিটির শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বসে আছে।

ঠিক তখনই এর ষষ্ঠ পাণ্ডব। ছয়জনে এসে হুর মরিয়ে তৃধার পাশে বসলো।

নাজমুল তৃধর দিকে তাকিয়ে বলল: কি হয়েছে ময়নার মা?

তৃধর চোখ গরম করে তাকাতেই নাজমুল ভুল শুধরিয়ে বলল : থুক্কু,,, লুল্লুর মা,, তোর কি লু্ল্লুর বাপের কথা মনে পড়ছে?

নাজমুলের মুখে এমন কথা শুনে সবাই হেসে দিল।

তৃধা রেগে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল: তোরা থাক আমি আর এখানে বসবোই না।

কিন্তু কেউ ওকে উঠতে দিল না টেনে বসিয়ে দিল আবার সিঁড়িতে।

জুই সিরিয়াস কণ্ঠে বললো: কি হয়েছে তোর আজকে?

বাসায় কোন প্রবলেম?

তৃধা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল: আহিয়ান ভাই গত তিনদিন হয়ে গেল বাড়িতে ফোন দিয়ে কারো সাথে কথা বলে না। তিন দিন হয়ে গেল ওনার কন্ঠ শুনতে পাইনা।

আসলে উনি অনেক খারাপ আমার শান্তি ও না সহ্য হয় না।

তৃধার কন্ঠে স্পট অভিমান বুঝতে পেরেছ জুই বললো: তুই ফোন দে.. তাহলেই তো হয়।

তৃধা অভিমানী দৃষ্টি নিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বলল: না আমি কেন ওনাকে কল দিতে যাব।

উনি কল না দিলে নাই।

ওদের দুজনের কথার মধ্যে বাবলা বলে উঠলো:, কিরে খালা আম্মারা আরা। এই আহিয়ান আব্বা জানটা আবার কেডা?

ওর কথা শুনে পাশ থেকে নীল গর্জে উঠে বলল: কিরে বাবলা, তুইও কি নাজমুলের মত কথা বলা শুরু করছিস?

বাবলা আসিক: তুই চুপ থাকলে লাল নীল!

ওদের দুজনের ঝগড়া শুরু হতে দেখে শোভা ধমক দিয়ে বলল: তোরা এখন আবার ঝগড়া শুরু করিস না প্লিজ।

এখানে একটা সিরিয়াস বিষয়ে কথা চলছে।

সজীব ওদের সবাইকে থামিয়ে দিয়ে তৃধার উদ্দেশ্যে বলল আহিয়ান ছেলেটা কে স্পষ্টভাবে বলতো।

তৃধা চুপ করে রইল,, নাজমুল বিরক্ত হয়ে বলল আরে আম্মা কথা ক,,, ময়নার বাপের নাম কি আহিয়ান,,?

তৃধা এবার নাজমুলের বাহুতে একটা চাপড় দিয়ে বলল: সম্মান দিয়ে কথা বল উনি তোদের তিন বছরের সিনিয়র! এবার এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ার।

ওর কথা শুনে জুঁই বাদে সবার চোখ বড় বড় করে তাকালো।

নীল আগ্রহ নিয়ে তৃধার দিকে আরেকটু চেপে বসে বলল: কিরে বান্ধবী ডুবে ডুবে জল খাস কিন্তু। আমরা কেউ জানিনা।

শোভা তৃধার হাত টেনে উঠাতে চেয়ে বলল: চল আজকে দেখাবি আমাদের শ্রদ্ধার সিনিয়র ভাইকে।

যার জন্য তুই আশিক দিওয়ানা হয়ে এখানে বসে আছিস।

তৃধা উত্তর দেওয়ার আগেই, হাসতে হাসতে নীলের গায়ে ঢলে পরল।

সজীব জুইয়ের মাথায় একটা থাপ্পর দিয়ে বলল: এমনি ভেটকি মাছের মত ভেটকাইতেছিস কেন?

বড় ভাইকে দেখতে যামু চল।

জুই হাসতে হাসতে বলল :তোর বড় ভাই গভীর জলের মাছ ।বাংলাদেশের পাওয়া যাবে না।

নীল বোকার মত প্রশ্ন করল: তাহলে কোথায় পাওয়া যাবে।

জুঁই আবারো হাসতে হাসতে বলল: সেই মাছ আপাতত লন্ডনে বসবাস করে।

ওর কথা শুনে সবাই আরেক দফা অবাক হয়ে তৃধার দিকে তাকালো।

তৃধা বোকা সেজে বসে আছে।

সত্যি বলতে, তৃধা সামান্য ও বুঝতে পারেনি, তার বন্ধুরা সামান্য একটু মন খারাপ নিয়ে জল এত ঘোলা করবে,

তাহলে সে ওদের কিছুই বুঝতে দিত না।

যেহেতু ওরা জেনে গেছে পুরোটা না জেনে আজকে তৃধা কে ভুলেও ছাড়বে না।

ভেবেই তৃধা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 44 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন