ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

50

লেখক: ফারজানা মনি

পরের দিন সকাল ১০টা। ড্রয়িং রুমে আহিয়া তৃধা ও আদিবা দুষ্টুমি করছে। তখনি কারো হাঁটার শব্দে তৃধা মাথা তুলে তাকালো। দেখলো আহিয়ান ভাই হাতে বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে শিরি দিয়ে নামছে। তৃধা তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলো।

আহিয়ান কিচেনের দিকে তাকিয়ে জোরে বলল: মাম্মা আমি বের হচ্ছি ফিরতে লেট হবে।

মেঘ কিচেন থেকে বলল: এই গরমের মধ্যে রোযা থেকে কোথায় যাচ্ছিস বাবা?

আহিয়ান যেতে যেতে বলল: রিহানের অফিস যাচ্ছি মাম্মা।

তৃধা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল আহিয়ানের যাওয়ার দিকে। গতবার যখন দেশে এসেছিলো তখন আহিয়ান ভাইয়ের চেহারা টা কিছুটা বাচ্চা শুলভ ছিল কিন্তু এবার পরিপূর্ণ যুবক হয়ে ফিরেছে। ফর্সা গালে খোঁচা খোঁচা চাপ দাঁড়ি তার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। তৃধা নিজেই হাসলো নিজের ভাবনায়। অতঃপর নিজে মনে মনে নিজেকে শাসালো: তুই এত আত্মসম্মান হিন কবে হলি তৃধা...? এই ব্যাটা না তোকে হাত ধরে রুম থেকে বের করে দিয়েছে, দেশে ফিরতেই ভুলে গেলি সব। ছি,ছি,ছি, তোর ভাবনা চিন্তায় আমি লজ্জিত তৃধা.....

ওর ভাবনার মাঝেই আহিয়া ডেকে বলল: আমার ভাইকে দেখে টাশকি খাওয়া বন্ধ কর। তোর রোযা হালকা হয়ে যাবে।

তৃধা থতমত খেয়ে বলল: তোমার ভাইকে দেখার কি আছে? আমি অন্য কিছু ভাবছিলাম।

আহিয়া মিট মিট হেসে বলল: হুম তাই ভাব নজর দিস না। আমি আমার ভাইয়ের জন্য একটা গার্লফ্রেন্ড খুঁজে দিবো ভাবছি।

কথাটা শোনা মাত্রই তৃধা চোখা দৃষ্টিতে দেখলো।আহিয়া ফোন হাতে উঠে যেতে যেতে বলল: ভাইকে আর কতদিন সিঙ্গেল ঘুরতে দেখবো বল। বোন হিসেবে একটা দায়িত্ব আছে না?

তৃধা চোখ ছোট করে বলল: তুমি আমার বোন হতেই পারো না নির্ঘাত তোমার রক্তে ঘসেটি বেগমের রক্ত আছে।

আহিয়া শয়তানি হেসে রুমের দিকে হাটলো.....

বেলা ১১টা, রিহান এই মাত্র একটি ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং শেরে কেবিনে ঢুকলো। কেবিনে ঢুকেই ওর মুখ হাঁ হয়ে গেছে।

অলক,মৃদুল,আহিয়ান ও নির্জন, বসে আছে।

রিহান এমন ভাব করলো যেন মনে হচ্ছে সে জানেই না আহিয়ান দেশে ফিরেছে। আহিয়ান কে দেখে গিয়ে জড়িয়ে ধরল তারপর বলল :what a present surprise...!!

আহিয়ান নিজের বন্ধুর পিঠে সে বলল :কেমন আছিস?

রিহান: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুই কেমন আছিস?

আহিয়ান: আলহামদুলিল্লাহ।

রিহান:দেশে ফিরলি কখন..? কিছু জানালে না যে...

আহিয়ান :পরশুদিন রাতে ফিরেছি... তোর কি অবস্থা ব্যবসা কেমন যাচ্ছে..?

রিহান : এইতো আলহামদুলিল্লাহ তোদের দোয়ায় ভালই যাচ্ছে,....

রিহান চেয়ার বসতে বলল : সবাই রোজা? নাকি কারো জন্য চা কফি আনতে হবে?

তারা সবাই সমসরে জানালো তারা সবাই রোজা...

রিহান মৃদুল এর উদ্দেশ্যে বলল : কিরে আমি ডাকলে তো আসতে চাস না আর আজ আহিয়ান ডাকতে না ডাকতে চলে এসেছিস?

মৃদুল : তুই আমাকে ভয়ংকর কাজে ডাকিস তাই আমি আসি না। তোর মনে শালা গন্ডগোল।

ওর কথা শুনে সবাই অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল আহিয়ান তো বলেই ফেলল : ও তোকে কেমন কাজ করতে ডাকে স্পষ্ট করে বল...

মৃদুল রিহানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল : ও আমাকে রিস্কি কাজ করতে ডাকে যে কাজটা করতে রিস্ক। ভালো সময় আমার খোঁজ খবর রাখেনা। জানিস একদিন কি করেছে....

সবাই একসঙ্গে বলল :জানিনা...

মৃদুল :একদিন মধ্যরাতে ওর গার্লফ্রেন্ডের বাড়িতে...

আর কিছু বলতে পারেন না রিহান এসে মুখ চেপে ধরল ও তারপরও কথা বলেই যাচ্ছে কিন্তু আর কথা বুঝা যাচ্ছে না শুধু ওর ঘোঙানির শব্দ আসছে। তার কিছুক্ষণ পর মৃদুল ওর মুখ ছেড়ে দিয়ে চোখ রাঙানি দিল।

আহিয়ান বুঝতে পেরে চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে বলল : আসতে দোস্ত আস্তে তুই তো শালা গভীর জলের মাছ তলে তলে এত দূর....

রিহান থতমত খেয়ে বলল :আরে তোরা যা ভাবছিস তেমন কিছুই না ও তোদের সামনে আমাকে ফাঁসাতে বলেছে...

আহিয়ান রিহানের উদ্দেশ্যে বলল :তোর গার্লফ্রেন্ড এর খবর কি?

রিহান :আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

আহিয়ান:কবে দেখা করাচ্ছিস?

রিহান :বিয়ের দিন..

অলোক হেসে বলল : তাহলে আপনি কবে বিয়ে করছেন আব্বা...

রিহান বলল; আর জাই ডাকিস না ডাকিস আব্বা ডাকিস না তোর মধ্যে বয়স্ক মায়ের সাথে আমাকে মানাবে না....

রিহানের কথা শুনে উপস্থিত সকলেই আবারো হাসলো।

ঠিক তখনই কেবিনের দরজায় নক করার শব্দ শোনা গেল,,,

রিহান হাসি মুখটা গম্ভীর করে বলল: coming...

দরজা ঠেলে ঢুকলো চিকন চাকন গড়নের শ্যাম বর্ণের একটা ছেলে।

রিহান কে সালাম দিয়ে বলল: আসসালামু আলাইকুম স্যার,,, পরবর্তী মিটিং এর সময় half hour পর,,

আপনি জানিয়ে দিতে বলেছেন,,,,

রিহান গম্ভীর মুখ নিয়ে ছেলেটাকে বলল: মিটিং ক্যানসেল করো আগামী কালকে দাও,,,,,

বল আমি বিজি আছি,,,

উত্তর পাওয়ার সাথে সাথে এই ছেলেটা চুপচাপ বেরিয়ে গেল।

নিজন বন্ধুর উদ্দেশ্যে বলল: শুধু শুধু মিটিং ক্যানসেল কেন করলে আমরা অন্য সময় আড্ডা দিতাম....

রিহান মৃদু হেসে বলল: no problem...

মিটিং আগামীকাল করে নিব,,, কিন্তু তোদের সাথে আড্ডা দেওয়া মিস করতে চাই না।

আহীয়ান মৃদু হেসে কিছু মনে করার ভঙ্গিতে বলল: তোর ভিলেন শ্বশুর সুমন্দির খবর কি?

মৃদুল চোখ বড় বড় করে রিহানের দিকে তাকালো,,,

রিহান মিঠুনের চাউনিকে পাত্তা না দিয়ে বলল: ভালো...

আহিয়ান: তবে বিয়ে কবে করছিস এখন তো তুই সাকসেস...

রিহান আবারো মেয়ে দু হাসলো অতঃপর বলল: ভাবছি আব্বু আম্মুকে ঈদের পর জানায়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো।

আহিয়ান যেখানে উদ্দেশ্যে বলল: খুব ভালো খবর,,,,

অলক দুষ্টুমি করে বলল: আমরা চার বন্ধু এখনো প্রেমের লাড্ডু খেতে পারছি না।

আর রিহান আমাদেরকে রেখে বিয়ের লাড্ডু খেয়ে ফেলতেছে....

এই জীবন নিয়ে কি করমু বন্ধু.....

নির্জন হেসে চারিদিকে গালি দিয়ে বলল: শীতলক্ষায় তোর জীবন ভাসাইয়া দে।

মুহূর্তে চারিদিকে হাসির ফোয়ারা বইলো।

মৃদুল মিটিমিটি হেসে, রিহানের উদ্দেশ্যে বলল: যদি তোর ভিলেন সম্বন্ধীয় শ্বশুর মেনে না নে।

রিহান কিছু বলার আগে আহিয়ান বলে উঠলো: আমরা বন্ধুরা আছি কোন দিনের জন্য...

রেহানের জন্য

সম্বন্ধির বোনকে তুলে নিয়ে আসব.....

আচমকা রিহান খুকখুক করে কিসে উঠলো,,,,

মৃদুল ট্যাবিল থেকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল:

আহিয়ান তোর বউকে তুলে এনে দিলে তোর তো আর কোন চিন্তা নেই রিহান। নিশ্চিন্তে পানি খা,,,,

রিহান পানি খেয়ে কথা ঘোরানোর জন্য বলল; তোর খবর কি আহিয়ান?

এক বছর আগেই দেশে ফিরিয়ে এলি কেন?

এবার আহিয়ানের মুখ গম্ভীর হয়ে এলো গম্ভীর স্বরে রিহানের উদ্দেশ্যে বলল: আমি এনহসান নেওয়াজ এর সাথে দেখা করতে চাই।

তুই ব্যবস্থা কর,,

বন্ধুরা এবার দুষ্টুমি ছেড়ে সবাই সিরিয়াস হল।

এহসান নেওয়াজ এর সাথে এভাবে হঠাৎ দেখা করা আমার ঠিক মনে হচ্ছে না।

উনি কিন্তু সাধারণ মানুষ নন।

আহিয়ান জিকে গিয়ে বলল: I don't care...

উনি কে সেটা জানতে আমি interested,না।

ওনার সাহস কি করে হলো তৃধা দিকে তাকানোর।

অলক নির্জন তৃধার কথা জানে কিন্তু এহসান নেওয়াজ কে চিনতে পারছিনা।

তাই ওরা দুজনে চুপচাপ শুনছে,,,

মৃদু আহিয়ান কে শান্ত হয়ে বসতে বলছে।

কিন্তু আহিয়ান অনেক উত্তেজিত,,, রিহানের উদ্দেশ্যে বলল: তুই যখন দেখেছিস তৃধা এহসান নেওয়াজ এর সাথে লাঞ্চে যাচ্ছে তখন ওকে বাধা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে গেলি না কেন?.

দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল :আরে ভাই শান্ত হও একটু প্লিজ।

আমি তো প্রথমে ভাবছিলাম তোদের পরিচিত কেউ।

কারণ তৃধাকে ওর বন্ধুরা বাঁধে অন্য কারো সাথে কখনো ঘুরতে দেখি নি।

পরে খবর নিয়ে জানতে পারলাম সব।

আর ভালই হয়েছে আমি তখন ওদের বাধা দেইনি।

যেখানে তোর মামা ও পাপা নিজে পারমিশন দিয়েছে তৃধা ওদের সাথে দেখা করার।

সেখানে আমি আউটসাইড হয়ে কথা বলাটা কেমন দেখায়।

তাছাড়া তুই তো সবই শুনেছিস তোদের বাড়ির সকলেই এহসানকে তৃধার জন্য পছন্দ করেছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 50 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন