আহিয়ান রক্ত লাল চোখে গর্জে উঠে বলল: তো আমি কি করবো ওরা পছন্দ করলে? ভাই হয়ে তৃধাকে এহসান এর হাতে তুলে দিব?. আর ওই তৃধারও খবর আছে... ওর সাহস কত বড় অচেনা অচেনা একটা ছেলের সাথে লাঞ্চে চলে যায়। সুযোগ মতো পাই এক থাবড়ে বেয়াদবটার দাঁতগুলো সব ফেলে দিব।
রিহান আহিয়ানকে ঠান্ডা করতে বলল: প্লিজ শান্ত,হ,,,
এই সময় একটা ভুল সিদ্ধান্ত তোদের পরিবারের ভাঙ্গন সৃষ্টি করতে পারে।
আহিয়ান রাগী কন্ঠে বলল: সেজন্য তো এখনো চুপচাপ আছি... নয়তো আরো দুই বছর আগে তৃধা কে বিয়ে করে রেখে আমি লন্ডনে চলে যেতাম।
অলক চিন্তিত কন্ঠে বলল: তুই বাড়িতে কথা বল তোর পাপা ও মামাকে বোঝা এহসানের সাথে বিয়েটা ভেঙে দিতে। তাহলেই তো হয়। ওই বাড়ির ছেলে হিসেবে তৃধা সম্পর্কে কথা বলার অধিকার তোর আছে,,,,,
সেটা কাজে লাগা"আহিয়ান তপ্ত স্বরে বলল: সেটা সম্ভব নয়।
রিহান প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করল: কেন সম্ভব নয়?
আমি যতদূর জানি এখন খান বাড়ির সকল সিদ্ধান্ত তোর পাপা নেয়।
উনার সাথে কথা বল জানাই এহসানকে তোর পছন্দ নয়""
আর তৃধার লেখাপড়া শেষ হলে পরেরটা সব পরে দেখা যাবে।
এহসানকে বুঝিনা রেখে একবার নিষেধ করে দিতে বল
আহিয়ান তাচ্ছিল হেসে বলল: এসব বলে হাসালি তোরা"আমার আর তৃধার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভিলেন হলো আমার ওই বাপ।
যাকে আমি গত একমাস আগেই অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
কিন্তু বাবা আমার সরাসরি বলে দিয়েছে আমি যেন এসব নিয়ে মাথা না ঘামাই।
এসব ভাবার জন্য নাকি তারা এখনো বেঁচে আছে।।
অতঃপর আহিয়ান বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে আবারো বলল: তোরাই বল পাপা যদি বলে এসব নিয়ে মাথা না ঘামাতে তাহলে আমি কি দ্বিতীয়বার কিভাবে এসব নিয়ে তাদের সাথে কথা বলি?
তাছাড়া সেদিনের রাগারাগির পর আমি বাড়িতে কারো সাথে প্রায় একমাস যোগাযোগ করিনি।
কিন্তু তবুও সে তার সিদ্ধান্তে অটল।
আহিয়ানের কথা শেষ হতে না হতেই নির্জন বলে উঠলো: তাহলে এখন কি করবি?
আহিয়ান গম্ভীর মুখ নিয়ে বলল: জানিনা!
রিহান আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল: আরে ভাই রিলাক্স।
এত প্যারা কেন নিচ্ছিস?
তৃধার এমবিবিএস পাশ করতে এখনো তিন বছর বাকি
এই সময়টুকু তো তুই পাচ্ছিস....
এর মাঝে নিজেকে প্রিপেয়ার কর....
কিন্তু বাড়িতে তৃধার থেকে একটু দূরে থাকার চেষ্টা করিস।
তোর পাপা মামা টের পেলে কিন্তু সময়ের আগেই তৃধাকে এহসানের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে।
মৃদুল ভাবুক ভঙ্গিতে বলল: তোরা যতটা টেনশন করতেছিস আমার কিন্তু আবির আংকেল কে ততটা মনে হচ্ছে না!
উনার সাথে তুই একান্তই কথা বল,, আশা করি উনি সমাধান নিজেই করে দিবে,,,,,,
আহিয়ান চিন্তিত ভঙ্গিতে কপালে স্লাইড করতে করতে বলল: আমার পাপা ছোটবেলা থেকেই সবকিছুতেই আমাদের সাথে ফ্রেন্ডলি ব্যবহার করে এসেছেন.....
কিন্তু এই বিষয়টা অনেক সেনসিটিভ।
তানভীর মামাকে পাপা অনেক ভালোবাসে।
আর মামার নিজের পছন্দ এহসান কে।
এই সময় যদি আমি পাপাকে জানাই তৃধাকে বিয়ে করতে চাই।
উনি আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করবেন: তোমার কি যোগ্যতা আছে আমার ভাইজি কে বিয়ে করার?
তখন আমি বাবার মুখের উপর কি জবাব দেব?
রিহান দীর্ঘটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল: আহি আর বিয়ের বিষয়টা এখানে ইম্পোর্টেন্ট না। তোর সকল সমস্যা শুনে আমি তোকে একটাই সলিউশন সাজেট করতে পারি,,,.
তুই যেভাবে যা চলছে চলতে দে।
আর সকলের আরে চেষ্টা কর তৃধার অভিমান ভাঙ্গানোর।
তৃধা ঠিক থাকলে ওই এহসান কিছু করতে পারবে না।
তাছাড়া সামনের বছরে তো তুই এমনিতেই ডাক্তার হয়ে যাবি।
তখন ফ্যামিলি না মানলেও তৃধা কে তুই ভালো রাখতে পারবি।
আহিয়ান চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে দিল খানিকটা শান্ত সাড়ে বলল: জানিনা সামনে কি হবে,,,
But I will try my best....
সেদিনের পর কেটে গেছে ১৫ টা দিন আজ ১৫ ই রমজান উপলক্ষে তৃধার ভার্সিটি বন্ধ।
তাই বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয় না।
তবে টুকটাক মাঝে মধ্যে কথা হয়।
তৃধা বাড়িতে সারাক্ষণ আহিয়া সাথে গল্প করতে ব্যস্ত থাকে।
রমজান মাসের দিনগুলো তার ভালই যাচ্ছে কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার জান যায় যায় অবস্থা।
ওর এই অবস্থা দেখে আহিয়া ও আদিবা হাসাহাসি করে একটুও কৃপণতা করে না।
কিন্তু আহিয়া নির্বাকার, আহিয়ান এর সাথে এখনো একবারও কথা হয়নি তৃধার।
দুজনের ভাব দেখলে মনে হয় কেউ কাউকে চিনেই না।
গত দুইদিন আগে,, আশিক, নাজমুল, সজীব, জুই , শোভা, নীল, ভিডিও কলে গ্রুপ আড্ডা দেওয়া হয়েছে।
তৃধার সাথে।
তৃধার বন্ধুরা জানিয়েছে ঈদের আগে সবাই একবার দেখা করতে চায়।
অনেকদিন তো হলো বন্ধুদের আড্ডা দেওয়া হয় না।
তারপর সকলেই সিদ্ধান্ত নিল আগামীকাল সবাই একসাথে ইফতার পার্টি করবে।
তৃধাও তখন বন্ধুদের সাথে সম্মতি জানিয়েছে।
কিন্তু এখন বুঝতে পারছে না বাড়ি থেকে কি বলে বের হবে।
অনেক ভাবনা চিন্তার পর তৃধা ইফতারের পর পা বাড়ানো মা-বাবার রুমে।
পাপা আসবো?
দরজার সামনে তৃধার কন্ঠ পেয়ে তানভীর বন্যা পিছন ফিরে তাকালো দেখল তৃধা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ।
তানভীর মৃদু হেসে মেয়েকে ভিতরে আসতে বলল।
তৃধা পাপার পাশে গিয়ে বসলো ""বন্যা অগোছালো কাপড় গুলো গোছাচ্ছিল''
কাজ করতে করতে আর চোখে কয়েকবার মেয়ের দিকে তাকালো।
তৃধা এখনো চুপচাপ বসে আছে দেখে তানভীর মেয়ের উদ্দেশ্যে বলল: কিছু বলবি?
তৃধা আমতা আমতা করে বলল না মানে হ্যাঁ পাপা..
তানভীর হেসে বলল: কি হয়েছে?
বন্যা মেয়ের উদ্দেশ্যে বলল: যা বলার বলে ফেলো এত আমতা আমতা করতেছো কেন?
তৃধা ঢোক গিলে পাপার দিকে তাকিয়ে বলল: আসলে বাবা, আগামীকাল আমার সব বন্ধুরা একসাথে দেখা করবে। আমিও তাদের সাথে দেখা করতে চাই।
তানভীর গভীর কন্ঠে বলল: কোথায় দেখা করবে তারা?
তৃধা মিনি মিলিয়ে বলল: এইতো সামনের একটা রেস্টুরেন্টে ইফতার পার্টি করবে সবাই...
তানভীর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ভাবল।
অতঃপর কিছু বলার আগেই লক্ষ্য করল।
দরজার করিডোর দিয়ে আহিরান তার পাবার রুমে যাচ্ছে।
তানভীর গলা উঁচু করে ডাকলো: আহিয়ান,
আহিয়ান এগিয়ে এসে বলল: আমাকে দেখেছ মামা...
তানভীর গভীর কন্ঠে বলল: হুম তুমি কি আগামীকাল ফ্রি আছো,,,?
আহিয়ান: জি মামা... কেন কিছু হয়েছে?
তানভীর: না তেমন কিছু না.... তৃধার বন্ধুদের সাথে আগামীকাল দেখা করতে চায় । ড্রাইভার দুই দিনের ছুটিতে গেছে।
তুমি ওকে ওর বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসবে আবার সবার মত কষ্ট করে নিয়ে আসবে।
তৃধা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলল: না পাপা আমি একাই যেতে পারবো...
আর ড্রাইভের আঙ্কেল না থাকলেও সমস্যা নেই আমি নিজেই ড্রাইভ করে চলে যাব।
ওদের কথার মাঝেই বন্যা বলে উঠলো,: রোজা থেকে বিকেলে বাড়িতেই তুমি অজ্ঞান হয়ে যাও। আর রোজা থেকে গাড়ি তো মানুষের গায়ের উপর তুলে দিবে।
আহিয়ানের সামনে মায়ের এমন কথা তৃধার সম্মানে লাগলো । তাই গাল ফুলিয়ে বসে থাকলো।
তানভীর বন্যাকে ধমক দিয়ে বলল: তুমি আমার মেয়েকে এভাবে বলবে না আমার মেয়ে ড্রাইভিং স্কিল যথেষ্ট ভালো.....
তৃধা এবার মৃদু হাসলো,,, কিন্তু তানভীর তখন আবারো বলল: তবুও তৃধা কাল আসিয়ানের সাথে যাবে।
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল: ঠিক আছে মামা...
তৃধার প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে।
সে আহিয়ান ভাইকে একটা সুযোগও দিতে চায় না তার সাথে কথা বলার।
যেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর লোকটার সাথে কোন কথা নেই। সেখানে কাল নাকি উনার সাথে যাবে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে।
আর সব থেকে বড় কথা ওর বন্ধুরা এসব নিয়ে ট্রল করবে।
তৃধা পাপার উদ্দেশ্যে বলল: প্লিজ পাপা আমি যেতে পারব একাই""
তানভীর এবার মেয়েকে মৃদু ধমক দিয়ে বলল; আর কোন কথা নয় রাস্তা ঘাটের পরিস্থিতি এমনিতেই ভালো না....
তুমি আগামীকাল আহিয়ান এর সাথেই যাচ্ছ।
আর যদি তোমার যেতে এতই অসম্মতি থাকে তাহলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তৃধা আর কথা বাড়ালো না। এক পলক আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে দূরত্ব পায়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।
নিজের রুমের সামনে গিয়ে থামতে আশঙ্কা ধাক্কা লাগলো আহিয়ার সাথে।।
আহিয়া ফোন স্ক্রল করতে করতে নিজের রুম থেকে বের হচ্ছিল।
আচমকায় তৃিধার সামনে আসায় লক্ষ করেনি।
যাইহোক আপাতত দুই বোন মেঝেতে বসে আছে।
আহিয়ার ফোনটা ছিটকে পড়ে আছে একটু দূরে।
তৃধা কোমরে হাত দিয়ে বলল: ইস আমার কোমরটা বুঝি এই যাত্রা শেষ....
ওর কথা শুনে আহিয়া বলে উঠলো: দেখে চলতে পারিস না এভাবে ছুটছিলি কেন...?
তৃধা মেজা থেকে উঠতে উঠতে সকল ঘটনা খুলে বলল
আহিয়া উঠে না দাঁড়িয়ে মেঝোতে হাসতে হাসতে লুতুপুটু খাচ্ছে।
তৃধা বিরক্তিতে নিজের ঘরে ঢুকে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিল।
আহিয়া আবারো হাসলো। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে বঝলো সেও কোমরে ব্যথা পেয়েছে।
কিন্তু সেদিকে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে গেল তার ফোনের দিকে।
মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়ে দেখল এই ত্রিধা তার ফোনের দফার রফা করে দিয়েছে।
তৃধাকে মৃদুস্বরে বকতে বকতে আহিয়া রুমে চলে গেল।
পরের দিন বিকাল চারটা। তৃধা টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হিজাব ঠিক করছে।সাদা শালওয়ার কামিজে হালকা গোলাপি ওড়না কাধের একপাশে ভাজ করে রাখা। মাথায় সাদা হিজাব ওর সাজে আজ সরলতা, কিন্তু তবুও চোখ ফেরানো যায় না। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে দেখতে পছন্দের হাত ঘড়িটি পরলো।
ঠিক তখনই কারো শীষ বাজানো শব্দে তৃধা দরজার দিকে তাকালো । দেখল আহিয়ান হাতে চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে শিষ বাজিয়ে নিচের দিকে যাচ্ছে। তৃধা মুখ বাঁকিয়ে আবারও আয়নার দিকে তাকালো। তারপর নিজেকে আরেকবার দেখে কাঁধে ছোট পার্টস ঝুলিয়ে বিছানার উপর থেকে ফোন হাতে নিল।অতঃপর কাউকে টেক্সট করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
তৃধা ড্রয়িং রুমে এসে দেখল কিচেনে ওর মামমাম সকলের সাথে ইফতারের আয়োজন করছে। ওকে দেখে বন্যা এগিয়ে সে বলল : তাড়াতাড়ি যা আহিয়ান অনেকক্ষণ ধরে বাহিরে অপেক্ষা করছে।
তৃধা মুখ বাঁকিয়ে কাঁদো কাঁদো করে বলল : প্লিজ মাম্মাম, আমি একা যাই।
বন্যা বললো : আহিয়ানের সঙ্গে যেতে হলে যা নয়তো যেতে হবে না।
সিধা কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো আহিয়ান এর সাথে এতদিন পর একসাথে যাওয়া অস্বস্তি লাগছে কেমন জানি। তখনই সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো আহিয়া ওকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধাক্কা দিয়ে বলল :best of luck ভাবি।
তৃধা চোখ ছোট করে তাকালো আহিয়ার দিকে। নিজেকে অনেক অসহায় লাগছে। মনে হচ্ছে সুযোগে সবাই সদ্ব্যবহার করছে।
ঠিক তখনই বাহির থেকে গাড়ির হর্ন শোনা গেল। তৃধা অসহায় চোখে একবার আহিয়ার আরেকবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে গেল। তৃধা সদর দরজা পেরিয়ে দেখল আহিয়ান কালো শার্ট কালো প্যান্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে। শার্টের স্লিপ দুটো ফোল্ড করা থাকায় ফর্সা হাতের কালো কুচকুচে পশম গুলো দেখা যাচ্ছে। আহিয়ানের ফ্যাশন সেন্ট সর্বদাই ভালো। যা তৃধার চোখে সর্বদাই নজর করা সুন্দর লাগে। চোখে সানগ্লাস দিয়ে কি সুন্দর বাইকে হেলান দিয়ে ফোনে স্কল করছে। আহিয়ানকে এই লুকে দেখে যে কোন মেয়েই ক্রাশ খাবে।
আচমকা ঘোর কাটতেই মনে মনে নিজেকে কয়েকটা গালি দিল। তারপর হকচকিয়ে সামনে তাকালো দেখলো আহিয়ান ভাই তাকে লক্ষ্য করছি কিনা....
সামনে তাকাতেই দেখা গেল আহিয়ান এখনো আগের মত ফোন স্কল করছে।
তৃধা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে আহিয়ানের সামনে দাঁড়ালো।
সামনের মানুষটার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তৃধা একটা হালকা গলা খাকারি দিল।
আহিয়ান চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো সামনে সাদা ড্রেস এক শুভকন্যা দাঁড়িয়ে আছে। আহিয়ান কয়েক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল। অতঃপর কালো হেলমেটটি পরে বাইকে উঠে বসলো। প্রায় মিনিট দুয়েক হয়ে গেছে আহিয়ান বাইকের মিনারের দিকে তাকিয়ে দেখলো তৃধা এখনো মাথার নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। নীরবতা ভেঙে আহিয়ান বলল : কারোর যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে বাইকে উঠতে পারে।
তৃধা কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ থেকে মিন মি নিয়ে চিকন মেয়েল কন্ঠে বলল : আমি বাইকে যাবনা আপনি গাড়ি নিয়ে আসুন।
আহিয়ান বাইকের মিররের দিকে তাকিয়ে বলল : কারো যেতে হলে বাইকে উঠুন আমার গাড়িতে যাওয়ার অভ্যাস নেই।
তৃধা এখনো চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আহিয়ান ধমক দিয়ে বলল : তুই কি যাবি নাকি আমি আমার মত বন্ধুদের সাথে দেখা করতে চলে যাব।
আচমকা ধমকে তৃধা খানিকটা কেঁপে উঠলো। তারপর আবারো বলল ; বাইক রেখে গাড়ি নিয়ে আসুন..
আহিয়ান এবার ঘাড় ঘুরিয়ে ভুরু কুসকে তাকালো। অতঃপর ওর এক হাত টেনে নিজের একটু সামনে দাঁড় করিয়ে হেলমেটটা পরিয়ে দিল অতঃপর আদেশের সুরে বলল : যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে উঠে বস। তৃধার হাত পা ছেড়ে কান্না করতে ইচ্ছে করলো। আচমকা চোখ গেল তৃতীয় তলার বেলকনিতে দেখলো আহিয়া দাঁড়িয়ে মিটমিট হাসছে। ওর আবারও মনে হলো আহিয়া ওর বোন হতেই পারে না।
আবারো ভেসে আসলো আহিয়ানের কর্কশ কণ্ঠস্বর : আমি কি চলে যাবো?
তৃধা আর কোন উপায় না পেয়ে যথেষ্ট দূরত্ব রেখে বাইকে উঠে বসলো । কিন্তু তার মনে হচ্ছে বাইক চল্লেই সে পড়ে যাবে। তবুও কোনক্রমে চোখ বন্ধ করে বসে রইল।
আহিয়ান সামনের মিররের দেখল তৃধার অবস্থান কিছু বলল না শুধু ঠোঁট বাকিয়ে একটু হাসলো। অতঃপর বাইক স্টার্ট দিয়ে টান দিতেই তৃধা হুমরি খেয়ে পড়লো আহিনের পিঠে । আচমকা কাজে ভরকে গিয়ে তৃধা শক্ত করে ওর পেট জড়িয়ে ধরল। আহিয়ান মৃদু হেঁসে একবার তাকালো মেয়েটার হাতের দিকে যেটা এখনো ওর পেটের কাছের শার্টটা শক্ত করে চেপে ধরে আছে।
তৃধা ভয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে আছে আচমকা দূর থেকে কানে ভেসে আসলো কারো গরতালির শব্দ তৃধা জানে এটা কে তাই আর পিছনে তাকানোর প্রয়োজন মনে করল না। মুহূর্তেই আহিয়ানের বাইককে খান বাড়ির গেট পেরিয়ে গেল। তৃধা নিজেকে কিছুটা সামলে পেট থেকে হাত সরিয়ে কাঁধে রাখল।
তখনই হেলমেটের ভিতর থেকে শোনা গেল ভালোভাবে ধরে বস না হলে পড়ে যাবি। তৃধা মুখ বাকিয়ে তাকালো। যা দেখে আহিয়ান মিচকি হাসলো যা তৃধারা অদেখাই রয়ে গেল।
বাইকটি গিয়ে থামল গুলশান ২এর ব্যস্তরডের রাস্তার পাশে অবস্থিত caif eden rooftop. এর সামনে।
এই রেস্টুরেন্টটি ঢাকার জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের মধ্যে একটি। এটা অনেক বড় তাই অনেক মানুষ থাকা সত্তেও এটি শান্ত।
তৃধার বন্ধুরা বাহিরে পার্কিংয়ে তৃধার জন্য অপেক্ষা করছে। ঢাকার রাস্তাগুলোতে অনেক জ্যাম থাকায় আহিয়ানের বাইকটি বিকেল পাঁচটায় ওদের সামনে এসে পৌছালো। তৃধা ওর বন্ধু শোভা নীল ও জুইকে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
সজিব ও নাজমুলের দৃষ্টি তৃধার সাথে থাকা ছেলেটির দিকে। সজীব নাজমুল তৃধার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করল : তোর সাথে যে ছেলেটি কে..?
তৃধা: আমার কাজিন...
হেলমেট পড়ে থাকায় আহিয়ান কে জুঁই চিনতে পারেনি...
ঠিক তখনই পিছন থেকে আহিয়ান বলল : তৃধা....
তৃধা পিছনে ঘুরে তাকাতেই আহিয়ান ওর হাত থেকে ফোন নিয়ে ঝট করে ওর ফোন নাম্বার টা তুলে সেইভ করে দিয়ে বলল: বাড়ি ফেরার আধ ঘন্টা আগে আমাকে কল দিস...
সজিব বান্ধবীর বড় ভাই বলে সামনে এগিয়ে এসে সালাম দিয়ে হ্যান্ডশ্যাক জন্য হাত বাড়ালো.... অত:পর বলল: ভাইয়া আমি সজিব তৃধার ফ্রেন্ড।
আহিয়ান সৌজন্য মূলক হেসে সালামের উত্তর দিয়ে হ্যান্ডশেক করে বললো : আমি মাহদিব খান আহিয়ান তৃধার কাজিন।
আহিয়ান নামটা সোনার সাথে সাথে বন্ধুরা একে অন্যের দিকে চোখাচোখি করলো সবাই এসে সালাম দিয়ে কুশলাদি বিনিময় করল নাজমু হ্যান্ডশেক করলো। আহিয়ান এক নজর তাকিয়ে সজীব নাজমুল ও আশিককে পরক্ষ করলো।
আহিয়ান সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অতঃপর বাইকে গিয়ে বসলো। অতঃপর বাইকের মিররের দিকে তাকিয়ে চুল ব্রাশ করে হেলমেট পরে নিলো।তৃধাবাদে উপস্থিত সকলেই তাকিয়ে রইল সেদিকে। তৃধার বন্ধুরা সকলেই আইয়ানকে ইফতার করার জন্য বলেছিলো। কিন্তু আহিয়ান রাজি হয়নি।
অতঃপর আহিয়ানের বাইক চলল ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
আহিয়ান যেতেই তৃধা বড় একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো। বন্ধুদের সকলের দৃষ্টি তৃধার দিকে । মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে ওকে গিলে খাবে। তৃধা ওদের নজর বুঝতে পেরেই বলল: চল ভেতরে যাই ,,,,
বলেই সে হাঁটলো রেস্টুরেন্টের ভেতরের দিকে। ওর পিছু পিছু সকলেই গেলো....