ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

70

লেখক: ফারজানা মনি

এদিকে আহিয়ান ও তৃধা রাস্তার পাশের ফুচকার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আহিয়ানের চোখে মুখে খানিকটা বিরক্ত থাকলেও ওর বউয়ের বেশ প্রফুল্ল মেজাজ আছে। ফুচকা ওয়ালা মামা এক প্লেট ঝাল ঝাল ফুচকা বানিয়ে দিলেন। তৃধা অবশ্য দুই প্লেট বানাতে বলেছিল। কিন্তু আহিয়ানের নিষেধে অবশেষে মামা এক প্লেট ফুচকা বানিয়ে দিল। তৃধা অধর্য ভঙ্গিতে একটা ফুচকা হাতে নিয়ে মুখে দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসলো। ওকে দেখে মনে হচ্ছে কোন মহা মূল্যবান রাজভোগ খাচ্ছে। প্রাণপ্রিয় বউয়ের খুশিতে আহিয়ান নিজেও খুশি 🙂 মোহ ময়দৃষ্টি নিয়ে সে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল....

তৃধা ফুচকালা মামার কাছ থেকে আরো ঝাল টক নিয়ে একটার পর একটা তৃপ্তি সহকারে মুখ দিচ্ছে। আচমকা আহিয়ানের দিকে নজর গেতে একটা ফুচকা মিষ্টিটকে চুবিয়ে আহিয়ানের সামনে ধরল।

তারপর বলল : হা করুন তো....

আহিয়ান কিছুটা চমকে গেল অতঃপর বুঝতে পেরে বলল : আমি খাব না তুমি খাও......

কিন্তু তৃধা মনে হয় আজকে ফুচকা না খায়িয়ে ছাড়বে না। নিষেধ করার সত্ত্বেও অনেক জোড়াজুড়ি শুরু করল। আহিয়ান হালকা ঝুকে ফুচকার সাথে সাথে মেয়েটার আঙ্গুলেও কামড় দিল।

মুহূর্তে তৃধা ব্যাথায় মৃদু আত্মনাত করলো। সেটা দেখে আহিয়ান হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল: এবার খুশি হয়েছেন.....? 😄

তৃধা কামড় দেয়া আঙ্গুলের ঠোঁট গোল করে ফু দিতে দিয়ে বলল : আপনি আস্ত ওটা রাক্ষস....একবার সুযোগ পাই আপনাকে আমি তিনটে কামড় দিয়ে দিব।

ছেলেটা ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে বলল: তাহলে আজকে রাতে আমার রুমে আসিস...😜আমাকে কামড় দেওয়ার জন্য তোকে আমি সুযোগ করে দেব।

আর আমি রাক্ষস কিনা সেটারও প্রুফ দিবো। তৃধা এই কথায় কোন জবাব না দিয়ে। অন্যদিকে তাকিয়ে ফুচকা খাওয়াই মন দিল। এই লোকের সাথে কথা বললেই ঝামেলা... কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে গড়ায় তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই.....!

শেষের ফুচকাটা মুখে পড়তেই তৃধা দুই হাত দিয়ে ঠোঁটে বাতাস করতে লাগলো....

সেটা দেখে আহিয়ান চিন্তিত মুখে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল : কি হয়েছে তোর....? এমন কেন করছিস....? মেয়েটার চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। গোলাপের ঠোঁড়জোড়া তির তির করে কাঁপছে।

আহিয়ান অস্থির কন্ঠে প্রশ্ন করল: এই পরী কি হয়েছে তোর বল....?

তৃধা কাপা কন্ঠে বিড়বিড় করে বলল : মরিচ ঠোটে লেগে অনেক ঝাল লাগছে...🥵

আহিয়ান ঝটপট ছুটে গেল পাশের দোকানের দিকে। এক বোতল ঠান্ডা পানি এনে এগিয়ে দিল ওর দিকে।

অতঃপর ফুচকা মামার বিল পে করে দুজনে গিয়ে বসল গাড়িতে। তৃধা এখনো অস্থির হয়ে আছে। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। সেটা দেখে আহিয়ানের অস্থিরতা বাড়ছে। ঠান্ডা পরিবেশেও কপাল থেকে দর দর করে ঘাম পড়ছে। আহিয়ান কে দেখে মেয়েটা এক মুহূর্তের জন্য নিজের কষ্ট ভুলে গেল। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে ওর ঘামে ভেজে অস্থির মুখের দিকে।। কিছু একটা মনে পড়তেই ছেলেটা নিজের পকেটে হাত দিয়ে একটা চকলেট বের করে আনলো। অতঃপর চকলেটটা ছিড়ে তৃধা মুখে পুরে দিল।

২ সেকেন্ড পার না হতেই অস্থির কন্ঠে প্রশ্ন করল : ঝাল কমেছে....?

তৃধা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল : চকলেট তো জিব্বার ঝাল কমাতে পারে...? কিন্তু আমার তো ঠোঁটে ঝাল লেগেছে ....সেটা কিভাবে কমাবে....?

আহিয়ান কিছুক্ষণ থমকে তাকিয়ে রইল অবুঝ মেটার মুখের দিকে।

অতঃপর তৃধা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের ঠোঁট দিয়ে। ওর ঠোঁট চেপে ধরল। ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে। নিজের ঠোঁট দিয়ে প্রিয়শীর ঠোঁটের ঝাল চুষে নেওয়া আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

কয়েক মিনিট পর সোজা হয়ে বসে বললো : এবার কমেছে....?

তৃধা এবার মাথা নিচের দিকে করে ফেলল।

অতঃপর মিনমিনিয়ে গলায় বলল: হুম.... আগের থেকে অনেকটা কমেছে....

আহিয়ান এবার আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল: এত ঝাল ফুচকা কেন খেয়েছিস....?তোর সাথে সাথে এখন মনে হচ্ছে আমার ঠোঁটটাও পুরে যাচ্ছে।

তৃধা মিট মিটিয়ে হেসে দিল। সেটা দেখে আহিয়ানো হাসলো।

ইফতারের পর জুঁই পড়ার টেবিলে বসেছে। কিন্তু তার মনোযোগ বইয়ের পাতায় নয় দূর আকাশের পানে।

মেহেদির সাথে কোন যোগাযোগ নেই। ব্লকলিস্ট চেক করছে বারবার। সেখানে মেয়েদের অগণিত ফোন কলযোগ হয়েছে। কিন্তু সে নিজের আত্মসম্মানে আঘাত করে। মেহেদির সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। ভেবেই বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

অতঃপর এক হাত সামনে বিছিয়ে আর এক হাত মাথার উপরে দিয়ে চুপচাপ বসে রইল জুই। তার কিছুই ভালো লাগছে না। এই পরিবেশে তার তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ইচ্ছে করছে ছুটে মেহেদির কাছে যেতে। কিন্তু তা সম্ভব না।

রাত আটটা বাজে চল্লিশ মিনিট। আহিয়ান আহিয়া ও তৃধা এইমাত্র বাড়ি ফিরছে। পদ্ম কে নিয়ে তৃধা ও আহিয়ান গাড়ির সব ব্যাগ বাড়ির ভিতরে আনলো।

এত ব্যাগ দেখে বাড়ির সকলেই হতভাগ। এই ছেলে তো পুরো শপিংমল তুলে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। সবগুলো ব্যাগ সোফার উপরে রাখা সেন্টার টেবিল। রেখে আহিয়ান নিজে বেছে বেছে কয়েকটা ব্যগ তৃধার হাতে দিয়ে বলল: এগুলো আমার রুমে কাভার্ডের ভেতরের রেখে আসবি। তৃধা বাধ্য মেয়ের মত নিয়ে উপরে চলে গেল।

আহিয়ান ভাই ফুচকা খাওয়ার পর আবারো শপিং মলে গিয়েছে। গিয়ে পরিবারের বাকি সদস্যদের জন্য জামা কাপড় কিনেছি। সব মিলিয়ে তৃধা এখন ভীষণ ক্লান্ত।

তাই ব্যাগগুলো আহিয়ান ভাইয়ের রুমে রেখে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেল।

এদিকে আহিয়ান ও আহিয়া বাড়ি ফেরায় আদিবা দৌড়ে এসেছে। ওকে দেখে আহিয়া অনেকগুলো চকলেট ও চিপস ধরিয়ে দিয়েছে। এখন আপাতত ছোট্ট আদিবা সোফায় বসে ওগুলো খেতেই ব্যস্ত।

আহিয়ান ধীরে ধীরে ঈদের গিফট সকলকে বুঝিয়ে দিল। ছেলের কান্দে আবির খুব খুশি হয়েছি। যদিও টাকাগুলো তার একাউন্ট থেকে গেছে। এতে তার কোন সমস্যা নেই। ছেলে যে বাড়ির সকলকে খুশি করার দায়িত্ব নিয়েছে এটাই তার কাছে অনেক। আহিয়ানের দাদু নানুরা অনেক খুশি হয়েছে গিফট পেয়ে। সেটা দেখে আবিরও অনেক খুশি। আদিবা একটা চিপসের প্যাকেট খুলে খেতে খেতে এসে দাঁড়ালো আহিয়ানের পাশে।

তারপর মিষ্টি করে বলল: আহিয়ান আমার গিফট কোথায়.....?

সকলেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আদিবার মুখে বড় ভাইয়ের নাম শুনে। কিন্তু এটা আজ নতুন নয় আদিবা বেশিরভাগ সময় আহিয়ানকে নাম ধরে ডাকে।

বাড়ির সকলেই অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু সে কথাই শোনে না। তাই আহিয়ান নিজেই নিষেধ করেছে ওকে এই বিষয়ে আর কিছু না বলতে।

একটু বড় হলে এমনিতেই সবকিছু বুঝে যাবে। তখন আর নাম ধরে ডাকবে না।

অতঃপর আহিয়ান কিছু ভুলে যাওয়ার ভঙ্গিতে বলল: ইস ছোট আপু তোমার জন্য গিফট আনতে তো আমি ভুলেই গেছি......

শেষে এই এক কথায় বাড়ির শান্তি শেষ....

ছোট মেয়েটার হাতের চিপস মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। এমন কি সে নিজেও মেঝেতে হাত পা সরিয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছে। আহিয়ান ওকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে ওর জন্য গিফট আনছে। কিন্তু মেয়েটা বুঝতে চাইছে না। হাতে দুইটা ড্রেসের ব্যাগ ভরিয়ে দিল। কিন্তু কাঁদতে কাঁদতে ছুঁড়ে ফেলে দিল মেঝেতে। মেঘ, আবীর বন্যা, তানভীর, রাই, আদি, ওকে কোলে নেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু মেয়েটা কারো কোলে উঠতে রাজি না। অবশেষে আহিয়া বহুত বুঝিয়ে নিজের কাছে আনলো।

আজকে ২৮ রমজান। সকলের অফিস ছুটি হয়ে গেছে গতকালকে। ভোর রাতে সেহরি খেয়ে জুঁই ঘুমিয়ে ছিল।

কিন্তু এখন বেলা এগারোটা বাজে, তার ঘুম থেকে ওঠার খবর নেই। সকাল সকাল ওদের বাড়িতে রিহান ভাইয়া এসেছে এটা তার অজানা। হঠাৎ করে ভাইপোকে বাড়িতে দেখে জান্নাত বেশ অবাক হয়েছে।

কিন্তু আসিফ ও আরিফ বেশ শান্ত। ওদের ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে ওরা আগে থেকেই জানতো রেহান আসবে।

রিহান ডাইনিং রুমে বসে জান্নাত কে বলল: খুবই বাকি সবাইকে আসতে বল। জরুরী কথা আছে। ওর কথা শুনে জান্নাত আরো বেশি অবাক হয়েছি।

সে চিন্তিত কন্ঠে বলল: কি হয়েছে....? বাড়িতে সব ঠিক আছে তো...? আমাকে বল... মায়ের শরীর ভালো আছে..?

রিহান মৃদু হেসে বলল: তুমি এত টেনশন করো না ফুপ্পি সবাই ভালো আছে...

জান্নাত আবার বলল: কি হয়েছে বলবি তো নাকি...

রিহানকে কিছু বলতে না দিয়ে আসিফ বলে উঠলো :

জান্নাত বাকি সবাইকে ডাকো।

স্বামীর আদেশ জান্নাতের কথা বাড়ালো না।

একে একে ড্রয়িং রুমে হাজির হলো: আরিফ মিম জান্নাত মাহমুদা খান ও তার হাজবেন্ড।কোন বিষয় নিয়ে রিহান ভাইয়ের সকলের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ করতেছেন। ঊষা তার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণ বড়দের সাথে দাঁড়িয়ে থেকে এসে বিরক্ত হয়ে গেল জুইয়ের রুমে।

জুইকে কয়েকবার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ডাকলো।

কিন্তু মেয়েটা যেন আজকে বেশি ঘুমে কাদা হয়ে আছে।

ঊষা এবার নিজেও বেশ বিরক্ত। ৭ বছরের স্টাডি টেবিল থেকে একটা ছোট কাগজ নিয়ে চিকন করে ভাস করল। অতঃপর সেটা দিয়ে জুয়ে নাকি সুড়সুড়িয়ে দিলো।

সঙ্গে সঙ্গে জুই বড় একটা হাছি দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলো।পরপর আরো দুইটা হাছি দিয়ে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো তার সামনে ছোট্ট উষা খিলখিলিয়ে হাসছে। সকাল সকাল মেজাজ প্রচন্ড গরম হলো ওর।

ঊষার উদ্দেশ্যে কিছু বলবে তার আগে ঊষা বলে উঠলো: আপু রিহান ভাই এসেছে... ড্রয়িং রুমে তোমাকে নিয়ে কি যেন আলোচনা করছে...জুই ভুরু কুচকালো সকাল সকাল তার গুনধর ভাইয়ের আগমনের খবর শুনে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 70 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন