ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

72

লেখক: ফারজানা মনি

তৃধা ভয়ে মৃদু চিৎকার দিয়ে বলল: নামান আমাকে... পড়ে যাব..

আহিয়ান ঠোঁটের কোন দুষ্টু হাসি লুকিয়ে বলল: তোর জামাই এতটা দুর্বল না যে তোর মত একটা চিংড়ি মাছ কি উঁচু করতে পারবে না।

মেয়েটা নাকফুলিয়ে বলল: আমি চিংড়ি মাছ?

আহিয়ান ওর নাকের সাথে নাক ঘষা দিয়ে বলল: হুম।

দেখলে ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলি।

এবার তৃধা বেশ লজ্জা পেয়েছে। লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে গেছে।

নিচের দিকে তাকিয়ে লাজুক কণ্ঠে বললো: নামান আমায়.....

আহিয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল মেয়েটা লাজুক চেহারার দিকে। অতঃপর ওকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ফ্লোররে দুই হাটু গেড়ে বসলো। তৃধা সামনে ওকে এভাবে বসতে দেখেই মেয়েটা বেশ অবাক।

তৃধা কে কিছু বলতে না দিয়ে, ওর দুটো হাত মুঠোবন্দি করে চুমু দিয়ে আহিয়ান বলল: ম্যাডাম এই অবেলায় আমার রুমে কেন এসেছেন?

এতক্ষণে লাজুকতা কাটিয়ে.... তৃধা কোন একটা কিছু মনে করার ভঙ্গিতে তাড়াহুড়া করে বলল: আপনি তখন ড্রয়িং রুমে কি বলতে ছিলেন....?

আহিয়ান ভাবি ভঙ্গিতে বলল: কি....?

তৃধা আবারও বলল: জুই কি আজকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে....?

আহিয়ান ভাবলেসহিন কণ্ঠের জবাব দিল: হুম...তো...?

তৃধা মেয়েদের ব্যাপারে প্রথমে বলতে চাইল কিন্তু কিছু একটা ভেবে কথা ঘুরিয়ে বলল: আমি জুয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে চাই। আপনার ফোনটা দিন না প্লিজ...

এত সুন্দর করে আবদার শুনে আহিয়ানের স্বামী মনটা নড়ে উঠলো।

ছেলেটা মৃদু হেসে বলল: আমার ম্যাডাম বললে তো আমার জান হাজির। সেখানে আপনি একটা সামান্য ফোন চাইছেন?

তৃধা লাজুক এসে বলল: আপনার দুষ্টুমি বন্ধ করেন... আমি জুইয়ের সাথে কথা বলতে চাই।

আহিয়ান এবার উঠে দাঁড়ালো তারপর নিজের ফোনটা তৃধার হাতে দিয়ে বলল: ফোনের পাসওয়ার্ড t2a forever...

তৃধা বেশ অবাক হল পাসওয়ার্ড শুনে। এটা তো তার ফোনের পাসওয়ার্ড। ওর ভাবনার মাঝে আহিয়ান বেড সাইড জয়ের থেকে একটা ফোনের প্যাকেট বের করে বলল :এই নে এটা তোর নতুন ফোন....

এটাতে নতুন সিম সেট করা আছে। আগের সিমটা আমি ভেঙ্গে দিয়েছি। এহসান আর কল দিতে পারবে না।

তৃধা এবার কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল: আপনি ভেঙ্গে দিলেন আমার সিমটা..... একটু কষ্ট হলো না?

এখন আমি আমার বন্ধুদের নাম্বার কোথায় পাবো।

এবার আহিয়ান এগিয়ে এসে ওর কপালে একটা টোকা দিয়ে বলল: তোর নতুন ফোনে আমি তোর প্রয়োজনিয় সকল নাম্বার সেভ করে দিয়েছি।

তৃধা রানীর কাঁদো কাঁদো মুখটা এবার শীতল হলো।

ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে বলল: থ্যাংক ইউ আহিয়ান ভা......

আহিয়ান ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে বলল: হ্যাঁ হ্যাঁ বল বল কি যেন বলছিনা....? একবার বলেই তো দেখ.. যে ঠোঁট দিয়ে বের হবে সেই ঠোঁটের আমি কি হাল করি..

তৃধা দুই হাতে মুখ চেপে ধরল: অতঃপর অস্পষ্ট কণ্ঠে বললো: আমি জীবনেও ভাই বলবো না.....।

আহিয়ান : মনে থাকবে তো....?

তৃধা ঘন ঘন মাথা উপর নিচ দুলাল যে তার মনে থাকবে....

আহিয়ান এবার ঘুরে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বললো : তুই কথা বল আমি গোসলে যাচ্ছি...

বের হতে হবে.... বলে এসে চলে গেল।

এদিকে তৃধা রানী ও এতক্ষণে হাফ ছেড়ে বাচলো।

অতঃপর আহিয়ানের ফোনটা বিছানার উপরে রেখে। নিজের নতুন ফোনটা নিয়ে হাঁটলেও নিজের রুমের দিকে।

বেলা তিনটা ছুই ছুই। জুই প্রচন্ড কান্নাকাটি করছে। একটু আগে জান্নাত একটা সুন্দর শাড়ি ও কিছু হালকা গহনা ওর রুমে রেখে গেছে। তারপর মাহমুদা খান এসে বলে গেছে সন্ধ্যার পর ছেলের পক্ষের লোক ওকে দেখতে আসবে ও জন্য রেডি হয়ে থাকে। সেই থেকে ঝুইয়ের মাথা নষ্ট। কি করবে কিছু বুঝতে না পেরে অনেকবার তৃধার নাম্বারে কল দিল। কিন্তু কোন কাজ হলো না। মেয়েটার নাম্বার বন্ধ। তারপর একবার আম্মুর কাছে যাচ্ছি। একবার আব্বুর কাছে যাচ্ছি। দাদুর কাছে গিয়ে দাদুকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। লেখাপড়া করতে চায়। ডাক্তার হওয়া ইচ্ছা টা সে পূরণ করতে চাই। ওর কান্নাকাটি দেখে মিম এসে ওকে বুঝিয়ে গেছে।

ওর লেখাপড়া নিয়ে ছেলেপক্ষের কোন সমস্যা নেই।

বিয়ের পর জুঁই লেখাপড়া করতে পারবে। তাছাড়া ছেলে যথেষ্ট ভালো। জুইয়ের জন্য উপযুক্ত। তাই ওরা না করেনি। কিন্তু জুই কান্নাকাটি করে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছে। সেই মুহূর্তে বিয়ে করতে চায় না।

কয়েকবার রিহান ভাইয়া কেউ বলতে চেয়েছে কিন্তু তার সাহস হয়ে ওঠেনি। ভাইয়া নির্বিকার কার ভঙ্গিতে সোফায় বসে ফোন এস কল করছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠতে মেয়েটা বেশ চমকে গেল। জুই উদভ্রান্তের মতো ছুটে গেল ফোনের দিকে। তার কেন জানি মনে হচ্ছে মেহেদী কল দিয়েছে। কিন্তু সেটা এ পর্যন্ত মেহেদির নাম্বার ব্লক থেকে খুলে নি। তাছাড়া মেহেদী অন্য যত নাম্বার থেকে কল দিয়েছে সব নাম্বার ব্লক করে ফেলেছে।

ফোন হাতে নিয়ে যেগুলো অপরিচিত একটা নাম্বার। জুইয়ের দেহে মনে হয় প্রাণ ফিরে এসেছে। হয়তো অন্য কোন নাম্বার থেকে এবার মেহেদী কল দিয়েছে। সে ঝটপট রিসিভ করল।

আসসালামু আলাইকুম...

ফোনের ওপাস থেকে তৃধা চট সালামের উত্তর দিয়ে বলল: জুই আমি যা শুনছি তা কি সত্যি.....?

জুঁই এবার ঝরঝর করে কেটে দিল এরপর কাঁদতে কাঁদতে বলল: আমি কাউকে বোঝাতে পারছি না রে..... আমি কি করবো.....? মেহেদী কে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

জুঁইয়ের এত কান্নাকাটি শুনে তৃধা বলল: তুই একটু শান্ত হও প্লিজ। সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই ভাইয়াকে বলেছিস এই ব্যাপারে কিছু....?

জুঁই আবারও কাঁদতে কাঁদতে বলল: না তার সাথে আমার ঝগড়া হয়েছে..... দুইদিন যাবত কথা হয়না তাই কিছু জানাইনি।

তৃধা এবার রেগে গিয়ে বলল: বলদ মেয়ে.. তুই দুইদিন আগের ঝগড়া নিয়ে এখনো বসে আছিস... এখনই ভাইয়াকে কল দেয়ার তাকে সবকিছু স্পষ্ট করে বল।

নাকি অন্য কাউকে বিয়ে করার শখ আছে....?

জুঁই অসহায় কন্ঠে বলল: তৃধা এরকম করে বলিস না প্লিজ.... আমার মাথা কাজ করছে না কি করব....

তৃধা আবারো ধমক দিয়ে বলল: এখনই হয়ে যাবে কল দিয়ে জানা.... উনি যদি আজকে কিছু করতে না পারে তবে পরবর্তীতে করবে।

আজকে দেখতে আসলেই তো আর বিয়ে হয়ে যাবে না।

জুঁই এখনো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। সেটা দেখে তৃধার

মেজাজ আরো গরম হলো।

আবারো আরেকটা ধমক দিয়ে বলল: সারা জীবন কাঁদতে না চাইলে এখনকার কান্না বন্ধ করে ভাইয়াকে কল দে ....আমি রাখছি।

রাখছি বলেই তড়িঘড়ি ভঙ্গিতে বলল: শোন জুই

জুই ফুপাতে ফুপাতে বলল :বল.....

তৃধা: এটা আমার নতুন নাম্বার কি হয় না হয় আমাকে আপডেট দিস। বলেই ফোন কেটে দিল। তৃধার কল কাটতে জুঁই চোখের পানি ঝটপট মুছে মেহেদিকে সবকিছু থেকে আনব্লক করলো। মুহূর্তে মেহেদির হাজার হাজার কল মেসেজ এসে জমা হলো। কিন্তু এখন এসব পড়ার সময় নয়। তাই জুই এক মুহূর্ত দেরি না করে মেহেদী কে কল দিল। কিন্তু একটা দুইটা তিনটা পাঁচটা দশটা বিশটা ৫০ টা মেহেদী কল রিসিভ করল না। জুইয়ের টেনশান যেন ক্রমে ক্রমে আরো বাড়ছে।

মেয়েটা ধর ধর করে ভাঙছে তবুও কল দেওয়া বন্ধ করছে না। পর্যায়ক্রমে একটার পর একটা টেক্সট দিতেই থাকে। কিন্তু এ তোর কোন লাভ হলো না। কোন টেক্সট ম মেহেদী সিন করলো না। হঠাৎ করে মানুষটা যেন হাওয়া হয়ে গেল। জুইয়ের ভেতরটা কাঁপছে।

মানুষটা তো গতকাল থেকে একটার পর একটা নতুন নাম্বার থেকে কল দিচ্ছিল। হঠাৎ কি হল এমন.... কল কেন রিসিভ করছে না।

বাহিরের ঘরে কাজের ধুম পড়েছে। যেহেতু রমজান মাস তাই আসিফ ও আরিফ ছেলের পক্ষে ডিনারে দাওয়াত দিয়েছে। সেই আয়োজনে ব্যস্ত বাড়ির বউ এরা। আসিফ ও আরিফ আইরিন কে আসতে বলেছিলেন।

কিন্তু আইরিন যেহেতু প্রেগন্যান্ট তাই সন্ধ্যার পর আসতে পারবে না। মাহমুদা খান বৌমাদের সবকিছু বলে বলে দিচ্ছেন। এদিকে জুই পাগলপ্রায় অবস্থা।

মেহেদী কেন কল রিসিভ করছে না এবং টেক্সট সিন করছে না। মেয়েটা কিছু বুঝতে না পেরে অবশেষে পোশাকে দিয়ে রিহান ভাইকে রুমে আসতে বলল।

রিহান দরজা খোলা থাকার সত্ত্বেও দুইবার নক করল।

জুঁইখোলা ও এলোমেলো চুলে বিছানা আর কোণে বসে আছে। রিহানকে দেখে সোজা হয়ে বসলো।

রিহান রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলল: ঈদের পর বিয়ে। আর বিয়ের কুনে এভাবে এলোমেলো হয়ে পাগলের মতো বসে আছে। ব্যাপারটা দেখতে কি বিশ্রী দেখাচ্ছে।

বলেই রিহান নাক মুখ কুঁচকে নিল।

জুই কাতর নয়নে এতক্ষন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। অতঃপর দুহাতে মুখ চেপে হু হু করে কেঁদে উঠলো। রিহান ঝটপট এগিয়ে এসে বনের মাথায় হাত রেখে বলল: কি হয়েছে....? এত কান্নাকাটি কিসের...? তোকে তো আজকেই দিয়ে দিচ্ছি না....এখনো হাতে কিছুটা সময় আছে আমাদের অন্ন ধ্বংস করার।

রিহানের ফাজলামি মূলক কথা শুনে জুইয়েল কান্নার গতি আরো বেড়ে গেল। সেটা দেখে রিহান এবার স্বাভাবিক কণ্ঠে প্রশ্ন করব: এত কান্নাকাটি কেন করছিস...?

জুই নিজের চোখের পানি হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে মুছে

ভেজা কন্ঠে বলল: ভাইয়া....

রিহান শান্তির কন্ঠে বলল: হুম...কি....?

মেয়েটা দুইবার ঢোঁক গিলে । অতঃপর কাবা কন্ঠে বলল: আমি বিয়ে করতে পারব না....

রিহান ভুরু কুচকে বলল: কেন কি সমস্যা....?

জুই আমতা আমতা করে বলল: আমি আরো লেখাপড়া করতে চাই...

রিহান: করবি কে ধরে রেখেছে... তোর লেখাপড়া নিয়ে ছেলের পক্ষে কোন সমস্যা নেই...।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 72 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন