ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

75

লেখক: ফারজানা মনি

সকলের মাঝে থেকে মেহেদির ছোট বোন মিশকা বলে উঠলো: আমার হবু ভাবীর রুমটা কোন দিকে... না মানে আমি তার সাথে দেখা করতে চাই…

ওর কথা শুনে সকলের দৃষ্টি ঘুরল সেদিকে।

মাহমুদা খান উষাকে ডেকে বলল: ঊষা তোমারে নতুন বোনকে জুঁই আপুর রুমে নিয়ে যাও।

বাধ্য মেয়ের মতো উষা, মিশকাতকে নিয়ে জুইয়ের রুমের দিকে হাটলো।জুঁই খুশিতে আত্মহারা। কিন্তু কাউকে বুঝতে দিচ্ছে না। রেডি হয়ে বিছানায় বসে তৃধার সাথে মেসেজ করছে… তৃধাকে এখানকার সকল আপডেট দিচ্ছে। ফোনের ওপাশ থেকে তৃধাও খুশি।

আসবো....? আচমকা কারো কণ্ঠস্বর শুনে জুঁই দরজার দিকে তাকালো। ছিমছাম গঠনের ফর্সা একটা টা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা কালো রংয়ের থ্রিপিস এর সাথে গোল্ডেন কালার হিজাব বেধেছে।

জুঁই এক তাকিয়ে বলল: জি ভিতরে আসেন…

মিসকা ভেতরে ঢুকতে জুই নিচু কন্ঠে বলল: আসলামু আলাইকুম আপু.....!

মিশকা সালামের উত্তর দিয়ে জুইয়ের সামনে দাঁড়ালো।

তারপরও থুত নিতে হাত দিয়ে মুখটা একটু উঁচু করে বলল: মাশাল্লাহ ভাবি, আপনি তো অনেক সুন্দরী। আমার ভাইয়ের জন্য, একদম পারফেক্ট। জুই মৃদু হেসে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।

মিশকা বলল : আমার পরিচয়টা তো দেওয়া হলো না।

আমি মিশকা, আপনার ওনার…একমাত্র ছোট বোন..

তবে মজার ব্যাপার কি জানেন....?

জুই মৃদু কন্ঠে বলল: কি....?

মিশকা মিষ্টি হেসে বলল: আমি আপনার ভার্সিটিতে আপনার জুনিয়র....

জুই মাথা তুলে তাকিয়ে বলল: তুমি আমাদের ভার্সিটিতে পড়ো...?

নিশকা মতামত প্রকাশ করে বলল: ইয়েস ম্যাম…

আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে। MBBS 1 st year আছি। জুঁই খানিকক্ষণ থেমে রইল। মেহেদী তাকে কখনোই বলেনি তার বোন ডাক্তারি পড়ছে।

তারপর জুইয়ের আবারো মনে পড়ে গেল মেহেদী তো তাকে কোন কিছুই সত্যি বলেনি। তাহলে এটা বলবে এটা ভেবে বিলাসিতা। ভেবেই মেয়েটার মন খারাপ হয়ে গেল। তখনই মিম রুমে এসে বলল: জুই কে নিয়ে যেতে চায় । মিশকা থাকার কারণে মিমকে কিছুই করতে হলো না। মিশকা নিজ দায়িত্বে তার হবু ভাবিকে নিয়ে গেল।

ডাইনিং রুমের দিকে জুই যত এগোচ্ছে। বুকের ভেতরটা তত যেন কাঁপছে। সে লজ্জায় কারো দিকে তাকাতে পারবেনা। মিস কা ওকে একটা সিঙ্গেল সোফায় বসিয়ে দিল। জুই নিচু কন্ঠে সকলের উদ্দেশ্যে সালাম দিল। মেহেদী কিছুতো ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে জুইয়ের দিকে। গারো বেগুনি শাড়িতে মেয়েটার ফর্সা মুখটা আরো পদ্ম ফুলের মত ফুটে আছে।

মুখে আলাদা কোনো প্রসাধনী নেই। তবুও মেহেদির কাছে সামনে বসে থাকা মেয়েটা তার চোখের সেরা সুন্দরী। জুঁই এখনো মাথা নিচু করে বসে আছে...

তার সামনে বসে থাকা মানুষটির ধারালো তীক্ষ্ণদৃষ্টি তার ভেতরের ছটপটানি আরো বাড়িয়ে তুলছে।

মেহেদির তাকিয়ে থাকা এহসান নেওয়াজের নজরে পড়তেই হালকা গলা খাঁকারি করে দিল। মেহেদী এবার চোখ ঘুরিয়ে নিল। তার দৃষ্টি এলোমেলো।

সুফিয়া বেগম এগিয়ে এসে জুইয়ের পাশের সোফায় বসলেন। অতঃপর মেয়েটার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলল: আলহামদুলিল্লাহ আমার মেয়ে পছন্দ হয়েছে... ভাইসাব আপনারা যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি আজকে আংটি পরিয়ে যেতে চাই।

আসিফ একটু আমতা আমতা করে বলল: আপা একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে না.... না মানে আমাদেরও তো রিলেটিভ আছে। আমার একটাই মেয়ে।‌আমি সবাইকে নিয়ে মেয়ের বিয়ের পুরো আয়োজন করতে চাই।

এই কথা শুনে মেহেদির আব্বু ইতস্ত কণ্ঠে বললো: ভাইজান মেহেদির আম্মুর কথায় কিছু মনে করবেন না। সুফিয়া অনেক সহজ সরল নারী। তাই আগে পরে কিছু না ভেবেই কথা বলে ফেলেছে। আলহামদুলিল্লাহ মেয়ে আমাদের অনেক পছন্দ হয়েছে। আশা করে ছেলের সম্পর্কে আপনারা সকল কিছু জানেন। এখন আপনাদের ছেলে কেমন লেগেছে আমাদেরকে জানান।

তারপর উনি রিহানের দিকে দেখিয়ে বলল: আপনাদের বাড়ির এই ছেলে তো আমাদের বাসায় একদিন গিয়েছিল। তাছাড়া আমার ছেলে ওর পূর্ব পরিচিত।

আপনারা বরং ওর থেকেই খোঁজখবর নিতে পারেন।

আসলে ঈদের পর আমার ছেলে জরুরী কাজে বিদেশে চলে যাবে। তাই ওর আম্মু একটু তাড়াহুড়ো করছে।

সকলের অনুমতি নিয়ে মাহমুদা খান জুইকে রুমে নিয়ে গেলেন। মেয়েটা বোধহয় এতক্ষণে হাত ছেড়ে বাঁচলো। লজ্জায় সেখানে বসে থাকতে পারছিল না।

তার কেন জানি মনে হচ্ছে সবাই তার দিকেই তাকিয়ে আছে। রুমে ঢুকে এই মেয়েটা বড় বড় কয়েকটা শ্বাস নিল। আসিফ মেহেদির আব্বু আম্মুর কাছে কিছুক্ষণ সময় চেয়ে নিল। নিজেদের মধ্যে সকলের সিদ্ধান্ত জানার জন্য। তারপর আরিফ আবির তানভীর আসিফ রিহানসহ ওদের বাড়ির সকলেই গেলে আলাদা রুমে।

মোটামুটি সকলেরই ছেলেপক্ষকে পছন্দ হয়েছে।

আবির যখন শুনলো মেহেদী এহসানের বন্ধু তখনই এই এহসেনকে কল দিয়ে মেহেদি সম্পর্কে সকল খোঁজখবর নিয়েছে। তাছাড়া রিহানের কাছে এই ছেলে আগাগোড়া সব খবরই আছে। তাই আর কেউ আমার প্রকাশ করলো না। কিন্তু জান্নাতের প্রচন্ড চিন্তা হলো মেয়েকে নিয়ে। সারাদিন ধরে মেয়েটা কান্না করেছে বিয়ে করবে না। এখন আবার কি করে কে জানে...?

জান্নাত সকলের উদ্দেশ্যে বলল: আমার তো ভালোই লেগেছে কিন্তু জুইয়েরও মতামত নেওয়া দরকার...

আসিফ জান্নাতকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে বলল…

কিন্তু হঠাৎ রিহান বলল: সে জিজ্ঞাসা করতে চায়। বলে এসে চলে গেল জুইয়েল রুমে। জুই নিজের রুমে চুপচাপ বসে ফোন চাপছে।

রিহান দরজায় নক করে প্রবেশ করল।

তারপর বিছানার কোণে বসে বসে বলল: তুই তো বিয়ে করতে চাস না। আর ছেলেকে তোর পছন্দ না। তাই ভাবছি বিয়েটা ভেঙ্গে দিই। জুঁই তড়িৎ মাথা তুলে তাকালো । কি বলে তার ভাইয়া...মেহেদির সাথে নাকি বিয়ে ভেঙ্গে দিবে... ভাবা যায়।

মেয়েটা অসহায় ফেস করে তাকালো ভাইয়ের দিকে।

রিহান মিটি মিটি হাসছে। তারপর জুঁই কে কিছু বলতে না দিয়ে নিজেই বললো: এইবারের অন্ন ধ্বংস আর কতদিন করবি। খুব শীঘ্রই মেহেদির সাথে বিয়ে দিয়ে তোকে বিদায় করব। বলেই রিহান রুম থেকে বেরিয়ে গেল। জুইয়ের ঠোঁটে প্রাপ্তির হাসি। তার ভাইয়াটা রেগে গেলে যতটা কঠোর। খুশিতে থাকলে ততটাই কোমল।

রিহান রুমের বাইরে গিয়ে জান্নাতে ও আসিফের উদ্দেশ্যে বলল: তোমার মেয়ে প্রথমে রাজি হতে চাইনি। আমার চারটা ধমক খেয়ে রাজি হয়েছে। ‌ওকে আর কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করতে যেও না। পরে আবার পল্টি খাবে। ‌ভালো ছেলে কি বারবার হাতের কাছে পাওয়া যায়। ‌ওর কথায় গুরুত্ব দিলে সকলে ই। তাই আজ জুইকেকে বিরক্ত করতে গেল না। ছেলে পক্ষকে গিয়ে জানালো। আলহামদুলিল্লাহ তাদের ছেলে ও ছেলের পরিবার দুটোকেই ভীষণ পছন্দ হয়েছে।

মেহেদির আম্মু মিষ্টি হেসে বললেন: আলহামদুলিল্লাহ..

এদিকে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ ছাদের কোন দাঁড়িয়ে আছে আহিয়ান। মেজাজ তার এখনো প্রচন্ড চটে আছে।

পরপর তিনটা সিগারেট খেয়েছে। তবুও মস্তিষ্ক ঠান্ডা হচ্ছে না। তখন এই ফোনে মেসেজ টিউন বেজে উঠলো। ছেলেটা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল তৃধা মেসেজ দিয়েছে ।কখন বাড়ি আসবেন....?

নিজের অজান্তেই ওর ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে তৃধা কে কল দিল।

কয়েক সেকেন্ড পর ফোনের ওপাশ থেকে মিষ্টি কন্ঠে ভেসে আসলো: আসসালামু আলাইকুম....

আহিয়ান ঘনঘন শাস ফেলে নিজেকে স্থির করে শান্ত কন্ঠে বলল ওয়ালাইকুম সালাম, কি করছিস....?

তৃধা : ভাবছি....

_কি...?

_আপনাকে....!

আহিয়ান মিঠু হেসে বলল: তারপর বল আমাকে নিয়ে এত ভাবনা কিসের তোর....?

তৃধার খিলখিলিয়ে হেসে তারপর বলল: আমার সকল ভাবনা তো আপনাকেই নিয়ে... যদি আপনাকে কেউ চুরি করে নিয়ে যায়।

আহিয়ার মৃদু হাসলো তারপর বলল: তোর মত ঝগড়াটে মেয়ের কাছ থেকে আমাকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সাহস কার আছে....?

তৃধা রেগে গিয়ে বলল: কি আমি ঝগড়াটে?

আহিয়ান: হুম...

তৃধা: ঝগড়া করি আপনার সাথে?

আহিয়ান: একদম নিঃসন্দেহে।

তৃধা: okay fine ... এখন থেকে আপনার সাথে কোন কথা বলবো না।

আহিয়ান কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে চিকন মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলো।

আহিয়ান পিছনে ঘুরে বলল: yes...

If you don't mind ... আমি কি এখানে দাঁড়াতে পারি...?

আহিয়ান এর ভ্রু জড়িয়ে এলো। তারপর কিঞ্চিত স্বরে বলল: পুরো সাথে অনেক জায়গা আছে তাহলে এখানে কেন....?

মেয়েটা মৃদু হাসলো। হালকা আলোয় আহিয়ান তা দেখে চোখ ঘুরিয়ে নিল।

ফোনের ওপাশ থেকে তৃধা বারবার বলছে :এই মেয়ে কি...?

একদম কল কাটার চেষ্টা করবেন না।

বেচারা আহিয়ান বিপদে আছে..... এদিকে ফোনের ওপারে বউ আরেকদিকেই মেয়ে। আহিয়ান জানি এটা মেহেদির বোন এই বাড়িতে প্রথম দিন বেড়াতে এসেছে।

এই মুহূর্তে এই মেয়ের সাথে বাজে ব্যবহার করা বা ধমক দিয়ে যেতে বলা বিষয়টা খুব খারাপ দেখাবে।

কিন্তু এই মেয়ের আশেপাশে থাকলে ওর বউ ওকে বাসর না করতে দিয়ে ডিভোর্স দিবে।

মেয়েটা আবার বলল: আমি মিশকা মেহেদী ভাইয়ের ছোট বোন... আপনি নিশ্চয় মহাদিব খান আহিয়ান।

নামটা একটু আগেই শুনলাম এহসান ভাই কি বলেছেন।‌ আহিয়ান এর শান্ত হয়ে আসা মেজাজটা আরো গরম হয়ে যাচ্ছে। ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলতে পারছে না।

আহিয়ান শুধু ছোট্ট করে বলল: হুম

নিস্তব্ধ রাতে আহিয়ানের ফোন থেকে মেহেদী কন্ঠস্বর ভেসে আসতে দেখে মিশকা প্রশ্ন করল: আপনার গার্লফ্রেন্ড.

আহিয়ান সরাসরি বলল :না

ওর এমন কথায় মিসকা মেয়ে এটা বোধহয় খুশি হল।

কিন্তু অন্যদিকে তৃধা রাগে ফুঁসছে। দুই পাশে দুইজন নারীকে অবাক করে দিয়ে আহিয়ান বলল: she is not my girlfriend... She is my wife....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 75 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন