আমতা আমতা করে বলল: আমার নাম মৃদুল...
সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ওপার থেকে বেশি আসলে সরি মিস্টার মৃদুল আমি এই নামে কাউকে চিনি না।
আপনি রং নম্বরে কল দিয়েছেন। মৃদুল ফোনটা কান থেকে নামিয়ে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বলল: কল তো কেটে দিয়েছি..এই মেয়ে কে আমি কিভাবে পটাবো....?
তাছাড়া কণ্ঠ শুনেই মনে হচ্ছে এই মেয়ে বোম্বাই মরিচ।
বেশি ঝাল।
ওর কথা শুনে বন্ধুরা সবাই হেসে দিল। অলক আরেক বার উৎসাহ দিল আরেকবার কল দিয়ে দেখ এবার পটে কিনা। অলোকের কথায় বাকি তিন জনের সহমত প্রকাশ করল। মৃদুল আবারো কল দিয়ে ফোন লাউড স্পিকারে দিল।এবার মেয়েটা কল রিসিভ করে সালাম দিল না।
সরাসরি বলল: অসভ্য বেয়াদব লোক মেয়ে মানুষ দেখলে কথা বলতে ইচ্ছে করে.. লুচ্চা বদমাশ আর একবার যদি কল দিস তোর।
তোর নামে আমি ইভটিজিং এর মামলা করব। মাইন্ডেড। বলেই মেয়েটা ফোন কেটে দিল। মৃদুলের তো কাঁদো কাঁদো অবস্থা। বন্ধুরা হাসতে হাসতে একদিন আরেকজনের উপর ঢলে পড়েছি।
রিহান হাসতে হাসতে মৃদুলের উদ্দেশ্যে বলল: তুই তোর টাস্ক কমপ্লিট করতে পারিস নি...তাহলে এখন শাস্তি স্বরূপ কি নিবি....
মুহূর্তে মিদুল সামনে রাখা গ্লাসের করলার রস ধক ধক করে খেয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে বলল: ইস এই করলা এত তিতো কেন।
ওর অবস্থা দেখে সবাই আরেক দফা হাসলো।
মূলত ওদের খেলার নিয়ম ছিল যে টাস্ক কমপ্লিট করতে পারবে না। সে করলার রস খাবে। তাই সত্য মত মৃদুলও খেয়েছে।
তখনই আহিয়ানের ফোনে মেসেজ টিউন বেজে উঠলো। পকেট থেকে ফোন বের করে দেখল তৃধার মেহেদি রাঙ্গা হাতের ফটো। ছবিটাতে একটা লাভ রিয়েক্ট দিল। দিয়েই মৃদু হেসে ফোন পকেটে রেখে দিল।
পাশ থেকে ওর বন্ধুরা বলে উঠলো:কিরে বন্ধু ভাবি টেক্সট দিচ্ছে নাকি...? যা যা তাড়াতাড়ি বাড়ি যা নতুন বিয়ে করেছিস বউকে একটু সময় দে।
এবার আহিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: এখন আমার কাছে অফুরন্ত সময় কিন্তু বউকে কাছে পাইনা। যখন পার্মানেন্টলি পাব তখন তাকে সময় দেওয়ার মতো সময় থাকবে না।
ওর আফসোস শুনে নির্জন বলে উঠলো: আহারে আমাদের নতুন জামাই... বিয়ের এক মাস হয়ে গেল এখনো বাসর করতে পারেনি...
ওদের এসব কথা শুনে রিহান দুই হাতে মুখ ঢেকে লজ্জা পাওয়ার ভান ধরে বলল: আরে তোরা থাম আমার লজ্জা লাগে..... যতই যাই হোক আহিয়ান ভাই আমার সম্বন্ধী লাগে। বড় ভাইয়ের বাসারের কথা আমার সামনে আলোচনা করিস না।
আহিয়ান রিহানের এক হাত মুচরে পিছান পাশে ধরে বলল: আগে আমার ভিলেন বাপটারে সামলা তারপর আমারে সমন্দি বানাতে আসিস। রিহান আহিয়ান এর হাত থেকে ছোটার জন্য অভিনয় করে জোরে চিৎকার দিল। তখনই আহিয়ান ওর হাত ছেড়ে দিল।
রিহান ওর হাত ঝাড়তে ঝাড়তে বলল: ছোট বোনের জামাইকে নির্যাতন করছিস ছি ছি কি অধঃপতন।
বিয়ের পর তোদের সাথে আমার আর আমার বউয়ের সকল সম্পর্ক ক্যানসেল। আহিয়ান ওর পিঠে আর একটা ঘুসি মেরে বলল: এখনো বোনকে তোর কাছে বিয়ে দিলাম না.. আর তুই বলছিস আমার বোনের সাথে আমাদের সকল সম্পর্ক ক্যানসেল।
হারামজাদা আমার বোনের জন্য আমি অন্য কোথাও ছেলে দেখব।
রিহান তাড়াহুড়ো করে আতঙ্কিত কন্ঠে বলল: আরে না না বড় ভাই আপনাদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করব। পাগলা কুত্তা আমারে কামড় দিছে,,,,, ? বিয়ের পর প্রতিদিন আমি নিয়ে যাব আপনাদের বাড়িতে। আপনাদের সাথে ওকে দেখা করাতে...
মৃদুল হেসে বলল: প্রতিদিন কেন দেখা করাতে নিয়ে যাবি,,,,,,? আহিয়া আপুকে ১৫ দিন বাপের বাড়িতে রাখবি আর ১৫ দিন তোর কাছে রাখবি বুঝলি।
রিহান তড়িৎ কণ্ঠে বললো : মাথা খারাপ আমার তিন বছরের সাধনার বউ। আমি তাকে এক রাতে বাপের বাড়িতে থাকতে দেবো না। আমার আহিয়া পাখি সবসময় আমার কাছেই থাকবে।
আহিয়ান এবার খুক খুক করে কেসে জানান দিল তার উপস্থিতি।
রিহান আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল: সরি দোস্ত.,,,,,
মৃদুল আরো কিছু বলতে চাইলো কিন্তু তার আগে আহিয়ান ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল: তোরা কি ভুলে গেছিস যাকে নিয়ে এত আলোচনা সে আমার বোন হয়,,,,,,,?
এবার সবাই চুপ হয়ে গেল। ঠিক তখনই শোনা গেল রে রিহানের ফোনের মেসেজ টিউন। ছেলেটা ফোন তুলে দেখল আহিয়ার মেহেদি দেওয়া হাতের ছবি পাঠিয়েছে।
তার সাথে ছোট্ট একটা মেসেজ লিখেছে: কেমন হয়েছে,,,,,,?
রিহান দুইটা লাভ রিয়েক্ট দিয়ে বলল: অনেক সুন্দর হয়েছে জান...
রাত এগারোটা বেজেছে। শীতের রাতে রাত ১১ টায় গভীর রাতের সমতুল্য। খাবার বেড়ে মাম মাম জেগে বসে থাকবে তাই । আহিয়ান আগে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে সে রিহানের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করে ফিরবে। তাছাড়া তৃধাকেও টেক্সট করে জানিয়ে দিয়েছে খেয়ে নিতে। খান বাড়ির সকলেই যার যার রুমে। তৃধার দরজা ভেতর থেকে লক করা দেখে ওকে ফোন দিল। মেয়েটা ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করে বলল: কত রাত হয়ে গেছে আপনি এখনো বাড়ি ফেরেননি কেন,,,,,?
তৃধার এমন পাকা গিন্নির মত কথা শুনে আহিয়ান একটু অবাক হয়েছিল প্রথমে। তারপর ধীরে কন্ঠে বলল: দরজা খোলো..,,...
কথাটা কানে আসা মাত্রই মেয়েটার ঘুম ছুটে গেল।
কোনমতে ওড়না গলায় পেচিয়ে এসে দরজা খুলে দাড়ালো। দাঁড়িয়ে আহিয়ান আছে। তার পরনে এখনো বাহিরের পোশাক। তারমানে লোকটা এখনো নিজের রুমে যায়নি। আহিয়ান তৃধাকে কিছু বলতে না দিয়ে রুমে প্রবেশ করলো। করে দরজাটা চাপিয়ে দিল।
তৃধা এখনো গলায় ওড়না ঝুলিয়ে কোমরে হাত দিয়ে থমতো খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আহিয়ান ড্রেসিং টেবিলের উপর হাত ঘড়িটা খুলে রাখতে রাখতে বলল: এমন ভাবে তাকিয়ে আছিস কেন,,,,,?
জীবনে দেখিস নি,,,,? তৃধা এগিয়ে গিয়ে আহিয়ানের সামনে দাঁড়ালো। আমতা আমতা করে বলল: না মানে আপনি এখানে...?
আহিয়ান ওকে একটু টেনের কাছে নিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে কাঁধে থুতনি রাখলাম। সামনের আয়নায় তাকাতে দেখল মেয়েটা লাজুকাতা নুয়ে গেছে।
ওর মসৃণ কাজে ছোট্ট একটা চুমু দিয়ে বলল: আমার রুমে গিয়ে কভার্ড থেকে টি শার্ট ও ট্রাউজার নিয়ে আসবি। আর হ্যাঁ রুমের দরজাটা বাহির থেকে লক করতে ভুলবি না।। তৃধা এবার চোখ তুলে তাকালো। তার কেন জানি অস্থির অনুভূতি হচ্ছে আহিয়ান ভাইয়ের ছোঁয়ায়। এই অনুভূতি গুলো আজকাল প্রায় হয়। যা তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অনুভূতি। তৃধা চিকন ঠোট জোড়া নাড়িয়ে মৃদু কন্ঠে বলবো: কিন্তু এখানে কেন,,,,,,?
নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করে নিন।
আহিয়ান তৃধার গলা ঝুলানো ওড়নাটা নিজের গলার ঝুলাল। তারপর ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল: যেটা বলছি সেটা কর...
বলে আহিয়ান ওয়াশরুমের দরজার নক করে দিল।
তৃধা এখনো হতবিহাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেই দিকে। অতঃপর ধির পায়ে এগিয়ে গেল আহিয়ানের রুমের দিকে।অতঃপর কাভার্ড থেকে নিজের পছন্দমত টি-শার্ট ট্রাউজার নিয়ে রুমের দরজা লক করে চলে আসলো নিজের রুমে। এসে যা দেখল তার চক্ষু কঠোর থেকে বের হয়ে যাওয়ার অবস্থা। তৃধা ঝটপট নিজের রুমে দরজা ভেতর থেকে লক করে দিল। লজ্জায় তার মরি মরি অবস্থা। আহিয়ান ভাই এই শিতের মধ্যে শাওয়ার নিয়েছে মনে হয়। তৃধা ব্যবহারিত তাআলা কোমরে পেছনে। খালি শরীরে গলায় একটা ওড়না ঝুলানো। সেটা দিয়ে মানুষকে নিজের চুল মুছতে ব্যস্ত।
ফর্সা শরীরে পানির দানা গুলো মুক্ত বিন্দুর মতো জ্বলজ্বল করছে। তৃধার চোখে যেন নেশা ধরে যাওয়ার মত অবস্থা।
তখনই আহিয়ান বলে উঠলো: তুই চাইলে সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পারিস আমি কিছু মনে করব না.…
তৃধার লজ্জার ও তিনগুণ বেড়ে গেল। এই লোক একটা সুযোগ ও মিস করে না তাকে লজ্জা দেওয়ার।
মেয়েটা নত মস্তিষ্কে গুটি গুটি পায় এগিয়ে দাঁড়ালো আহিয়ানের সামনে। তারপর নিচের দিকে চোখ রেখে হাত বাড়িয়ে জামা কাপড় গুলো দিতে চাইলে। কিন্তু আহিয়ানের বাহু টেনে কাছে আনলো। শক্ত করে কোমর চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল। তৃধার শরীর থর থর করে কাঁপছে। ইতিমধ্যে আইনের জন্য আনা জামাকাপড় গুলো । নিচে পড়ে গেছে।
ছেলেটা কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার লজ্জাবতী লজ্জা মাখা চেহারায়। তারপর আবেদনের সুরে বলল: বউ আজকের রাতটা থাকি তোর কাছে। বিশ্বাস কর একটুও জ্বালাতন করবো না তোকে।
প্রিয় পুরুষের এমন আবেদনকে ফেলা যায়। কিন্তু তৃধা জানে না কেমন করে রুম শেয়ার করবে একটু পুরুষের সাথে। তাছাড়া তো আর ঘুমানোর স্টাইল মোটেও ভালো না।
আহিয়ান কে ওকে জ্বালাতে হবে না। দেখা যাবে ও নিজেই আহিয়ানের উপরে উঠে ঘুমিয়ে আছে।
ভাবতেই তৃধারকান্না পাচ্ছে। অনেক আগে আহিয়ান ওকে বাহুবন্ধন থেকে ছেড়ে। তাওয়ালা পরিবর্তন করে টাউজার ও টি শার্ট পড়েছে। কিন্তু তৃধা সেদিকে খেয়াল নেই।
তৃধা আহিয়ানের দিকে না তাকিয়ে বলল: সেটা পরে দেখা যাবে..আগে চেঞ্জ করে নিন...প্লিজ প্লিজ প্লিজ ....
আহিয়ান মিটিমিটি দুষ্টু হিসেবে বলল: ভাবছি তোয়ালা পড়ে আজকে তোর সাথে ঘুমাবো। তুই কি বলিস,,,,?
তৃধা কানের মধ্যে আঙ্গুল চেপে ধরে চোখ খিচে বন্ধ করে বলল: এগুলো কেমন অসভ্য কথা...?
আহিয়ান এগিয়ে এসে মেয়েটার কান থেকে হাত সরালো। তৃধা চোখ মেলে দেখল আহিয়ান টি-শার্ট ট্রাউজার পড়েছে। এটা দেখে মেয়েটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। ওর অবস্থা দেখে আহিয়ানের না চাইতেও বড্ড হাসি পাচ্ছে।