ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

82

লেখক: ফারজানা মনি

তৃধা ব্যস্ত হয়ে বসে পড়ল। আহিয়ান ভাই কখনো সব করল! তারতো কিছুই মনে পড়ছে না।আহিয়ার হাসি শব্দ মেয়েটার ঘোর কাটলো। দেখলো আহিয়াbএখনো বিছানায় হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।bতৃধা এবার বেশ লজ্জা পেয়েছে। তাই আর কোন দিকে না তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে দৌড় দিল। আহিয়া হাসতে হাসতে নিজের রুমে গেল শাওয়ার নিতে।

আপু তুমি এসো.....

আদিবা মিষ্টি কন্ঠে ফোনের ওপর থেকে ঊষা বলল: বাবাই নামাজ থেকে ফিরলে বাবাইকে বলব আমাকে নানুবাড়ি নিয়ে যেতে। ঊষা ওদের বাড়ি আসবে শুনে আদিবা হাততালি দিচ্ছে খুশীতে।

তারপর ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল: তাড়াতাড়ি এসো আপু.....

আহিয়ান আমার জন্য অনেক চকলেট এনেছে তোমাকে দুটো দিব।

এবার উষা গাল ফুলানো। তারপর সামান্য গম্ভীর মুখে বলল: তুই আমাকে মাত্র দুইটা চকলেট দিবি....?

তোমাদের বাড়িতে যাব না।

আদিবা হাতের আঙ্গুল গুনতে গুনতে ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল: একটা দুইটা চারটা পাঁচটা চকলেট দেবো তোমায়।

ঊষা দিবস ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলল: দুইটার পর তিনটা হবে গাধী....

তখনই মিম পাশ থেকে ধমক দিল। ছোট বোনের সাথে এগুলো কেমন ব্যবহার ঊষা....

আমি আর তোমার আব্বু কি তোমাকে এগুলো শিখাই।

উষা মুখটাকে একটু কাঁচা মজু করে বলল: সরি আম্মু...

ঊষার বকা খেয়ে দেখি আদিবা খিলখি দিয়ে হেসে উঠলো।

তখনই রাই বলল: তোমাকে কি আমি ২ এর পর ৪ শিখিয়েছি..

তোমার আপুটা ঠিক বলেছে তাহলে তুমি হাসছো কেন..!

এবার আদিবা মায়ের ভয়ে চুপ হয়ে গেল। সেটা দেখে উসা ভিডিও কলে মিটিমিটি হাসছি।

রাই আদিবা নাস্তা খাওয়া ছিল। তখনই মিম কল দিয়েছে। কিন্তু ননদ ভাবীর কথা আর হলো কই...?

এই দুই পিচ্চি কখন থেকে খুনসুটি করেই যাচ্ছে

বড়দের আর সুযোগ হলো না কথা বলার।

তবু আকলিমা খান এক ফাকে মিমের সাথে কথা বলেছে। মেয়েকে বারবার বললেন বাড়িতে আসতে।

কিন্তু মিম জানিয়েছে এবার ঈদ এসে ফিরতে পারবে না। জুই এর বিয়ে নিয়ে তারা প্রচুর ব্যস্ত।

কিন্তু আকলিমা খান শুনতে নারাজ।

তার কথা মেয়ে মেয়ের জামাই নাতনি দুই দিনের জন্য হলেও বেরিয়ে যাক।

অবশেষে মায়ের মন রাখতে মিম জানিয়েছে আরিফ বাড়ি ফিরলে কথা বলে দেখবে।

বেলা দশটা বাজে ঈদের নামাজ পড়ে সকল পুরুষ বাড়ি ফিরল।

বাড়ির মহিলারা মোটামুটি সকলেই ড্রয়িং রুম।

ঈদ উপলক্ষে বন্যা মেঘ ও রাই শাড়ি পড়েছে।

তখনই সরিয়ে দিয়ে নামছে আহিয়া ও ত্রিধা দুই বোন মেরুন কালারের এক ডিজাইন এর গাউন পড়েছে।

ওদের দেখে যে কোন মানুষেরই এক দেখা চোখে ধাঁধার সৃষ্টি হবে।

দুজনকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। শুধু তোদের চেহারার আকৃতি ভিন্ন।

তাছাড়া তাদের ড্রেস হেয়ার স্টাইল ঘড়ি বেসলেট সবই একই রকম।

দুজনে এসে সকলের উদ্দেশ্যে সালাম দিল।

আবির মেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিল।

আজকে থেকে পড়াশোনার প্রচুর চাপ আমি সময় পেলেই বাকিটা দিয়ে দেবো

কিন্তু আদিবা বুড়ি এখন কাঁদছে। আবির এবার ছেলে মেয়ে সহ বাড়ির সকল মহিলাদের সালাম দিল।

নতুন চকচকে টাকার নোটগুলো হাতে পেয়ে আদিবার কান্না থেমে গেল। তানভীর বন্যা কে বলে নিজের রুম থেকে কতগুলো খাম আনালো। প্রতিটা খামে প্রত্যেকের নাম লেখা। অতঃপর পুরো বাড়ির মেয়ে বউরা সবাইকে সালাম দিল। তারপর আদি, আলী আহমেদ খান, মোজাম্মেল খান, ও ইকবাল খানের কাছ থেকে সালামি পেল সবাই।

আহিয়া আহিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল: ভাইয়া... আমার সালামি কই.....?

আহিয়ান বোনের কপালে টোকা দিয়ে বলল: আমার বেড সাইড ড্রয়ারে রাখা আছে..

... যা গিয়ে নিয়ে আয়....

আহিয়ানের দিকে যোগ করতে তৃধা লাজুক ভঙ্গিতে দুটো গুটুমুঠো খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে...

”আহিয়ান আর চোখেসেটা কয়েকবার লক্ষ্য করল”

তারপর তাকালো আহিয়ার তৃতীয় তলায় ছুটে যাওয়ার দিকে।

”রিহান মানসিকভাবে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে”

সামনের বছর হয়তো বোনটা কাছে থাকবো না।

তখন চাইলেও এই সুন্দর সময় গুলো আনা সম্ভব না।

ভেবে আয়াহিয়ানের মনটা কেমন আশঙ্কায় খারাপ হয়ে গেল।

আহিয়া যেমন ঝড়ের গতিতে ভাইয়ের রুমে গেছে। তেমনি ঝড়ের গতিতে ফিরে এসেছে। তার হাতে একটা গিফট বক্স। মেয়েটা ঝটপট রাফিং খুলে দেখো একটা স্মার্ট ওয়াচ। নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ দেখে আগে ভীষণ খুশি। তৃধা আহিয়ানের ধারালো দৃষ্টি থেকে দূরে থাকতে। একটু দূরে , আদিবার সাথে খুনসুটি করছে। ওর হাঁটা চলার কারণে নুপুরগুলো রিনিঝিনি শব্দে আওয়াজ তুলছে

আচমকা বন্যা প্রশ্ন করল: নুপুর কোথায় পেয়েছিস..?

তোর নুপুর তো আমার কাছে....?

মায়ের হঠাৎ করা প্রশ্নের তৃধা খানিকটা থতমত খেলো...

কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। ঠিক তখনই আহিয়া পাশ থেকে বলে উঠলো:ভাইয়া সালামি দিছে মামনি.... আমার এই ঘড়িটা পছন্দ ছিল তাই আমাকে ঘড়ি দিছে... আর তৃধাকে নুপুর দিয়েছে...

প্রথমে বন্যার প্রশ্নের সকলে অবাক হলেও। এখন আহিয়ার কথা সকলের বিশ্বাসযোগ্য হল। সকলের অগোচরে আহিয়ান মৃদু হাসলো। ইতিমধ্যে মেঘ রাই ও আকলিমা খান ডাইনিং টেবিল সাজিয়েছেন নানা রকম বাহারি খাবারে। মেয়ে খাবার খাওয়ার জন্য কয়েকবার সকলকে ডেকেছে। পূর্বের মতো আজকেও আহিয়ানো তৃধা সামনাসামনি বসলো। কিন্তু আজকে আহিয়ানের কি হলো কে জানে। বারবার টেবিলের নিচ দিয়ে বার বার তৃধার পায়ে সাথে পা মিলচ্ছে।মেয়েটা ঠিক মতো খেতেও পারছে না ।আর উঠে যেতেও পারছে না।

তখনই আচমকা তানভীর বলে উঠলো: তৃধা মামনি...

__জী পাপা...

__আজকাল তোমাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না তুমি কি সিম কার্ড পরিবর্তন করেছো...?

তৃধা কয়েক সেকেন্ড খাবারের প্লেটের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল: হ্যাঁ ....

কিন্তু তুমি আমায় কেন কল দিচ্ছ পাপা....?

তৃধার প্রশ্নের তানভীর বলল: আমি কল দেইনি... এহসান দিয়েছিল। আমি এহসানের কাছ থেকে শুনলাম তোমার ফোন নাকি সর্বদা বন্ধই দেখায়।

কেন কোন সমস্যা হয়েছে কি....?

তৃধা মাতা ঘনঘন নাড়িয়ে বলল: না পাপা.....

__ঠিক আছে তুমি একবার কল দিয়ে এহসান কেন কল নতুন নাম্বারটা দিয়ে দিও।

তৃধা খানিকটা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আহিয়ানের দিকে। আহিয়ান শান্তভাবে সবাই খাচ্ছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে এই দুনিয়ার কোন কিছুতেই তার মনোযোগ নেই।

আচমকা আবির বলে উঠলো: আগামীকাল মন্ত্রীর ফ্যামিলিকে আমি দাওয়াত করেছি...

আশা করছি আপ্যায়নে কোন ত্রুটি হবে না।

আবিরের কথায় মেঘ বলল: কিন্তু আপনি তো বলেছিলেন ওরা আরও কিছুদিন পরে আসবে...

তাহলে হঠাৎ কালকে কেন....?

আবির খেতে খেতে বলল: সামনের মাসে এহসান ও মেহেদী দেশের বাইরে চলে যাবে...তাছাড়া এহসনের ফুপি তৃধাকে কে দেখতে চায়। এহসানের ফুপির পরিবারের সাথে ঈদ করতে গতকাল স্বামী সন্তান নিয়ে দেশে ফিরেছে।

মেঘ আচমকা বলল: মন্ত্রীর মেয়ে আসবে আমাদের বাড়িতে...?

আবির স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল: হুম....

আবির এতক্ষন মেঘের দিকে তাকায়নি তাই তেমন কিছু বোঝেনি। কিন্তু তানভীর বোনের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে খুক খুক করে কেসে দিল। এবার বোধহয় আবির কিছুটা বুঝতে পেরেছে।

তাই এক গ্লাস পানি খেয়ে বলল: উনি তৃধাকে দেখতে চায়...

তাই আমি ওনাদের পুরো পরিবারকে ইনভাইট করেছি।

পাশ থেকে আলী আহমেদ খান বললেন: ভালো করেছিস....উনাদের সকলের সাথে একবার পরিচয়ও হওয়া যাবে। তাছাড়া এহসানের সাথে কয়েকবার ভিডিও কলে দেখা হয়েছে। ছেলেটাকে সামনা সামনি দেখা দরকার।

এদিকে ওদের এমন আলোচনার মাঝে দুই জোড়া চোখ থমকে আছে। একজনের চোখে অসহায়ত্ববোধ। আরেকজনের চোখে আগুন। ঈদের দিনটা নষ্ট করতে চায় না বলে আহিয়ান কিছু বলল না। চুপচাপ অর্ধেক খাবার প্লেট রেখে বেছিংগে হাত ধুতে চলে গেল।

মেঘ কয়েক বার ছেলেকে পিছু ডাকলো। কিন্তু

আহিয়ান তাকালো না । তৃধা ও আহিয়া ভয়আত্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। আহিয়ান ভাইয়ের এই নীরবতা ঝড় আসার পূর্বাভাস। আহিয়ান চলে যাওয়ার পর আরো কিছুক্ষন ডাইনিং টেবিলে এহসানের গুনগান চলল। তৃধা যত সম্ভব ঝটপট খেয়ে উপরে চলে গেল।

প্রায় আধা ঘন্টা হয়ে গেছে তৃধার রুমের পায়চারি করছে। সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না এই মুহূর্তে সে আহিয়ান ভাইয়ের কাছে গেলে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। মানুষটাকে তাকে দেখে আরো রেগে যাবে। সকল রাগ ভুলে শীতলতা গ্রহণ করবে।। এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই তৃধার কাছে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 82 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন