জামাইয়ের কাছে থেকে সালামি পাওয়ার জন্য আগে সালাম করতে হয়।
আহিয়ানের এমন কোথায় তৃধা খানিকটা চমকে উঠলো।
তারপর বলল: নুপুরগুলো আমার সালামির ছিল না...?
__না...
__তাহলে কেন দিয়েছেন....?
__এমনি এমনি......
__এমনি কেন...?
আহিয়ান ভাবলেন সিন কণ্ঠে বললো: কপালে বাসার কবে আছে কে জানে...?
প্রথমবার বউয়ের সাথে বিছানায় ঘুমাইলাম তাই একটা গিফট না দিলেও চলে না।
তৃধা খানিকটা ভুরু কুঁচকে বলল: কিছু বললেন...?
__nothing....
আহিয়ান কথা ঘুরিয়ে বলল :সালামি পেতে হলে ঝটপট সালাম কর...
তারপর ভাবনা চিন্তা করে দেখব দু চার পয়সা দেওয়া যায় কিনা।
তৃধা ঠোট বাকি অন্যদিকে তাকিয়ে বলল: আমি কি সালামি হিসেবে টাকা চেয়েছি...?
__তাহলে কি চাস...? এই আমি কে তো অনেক আগেই আমি তোর নামে লিখে দিয়েছি...
তৃধা লজ্জায় খানিকটা মাথা নুইয়ে নিল ।তারপর তড়িঘড়ি ভঙ্গিতে বলল: আগে সালাম করি তারপর চাইবো....
বলে তৃধা ওড়নার আসলটা মাথায় দিয়ে আহিয়ান কে সালাম করলো।
নেটের ওড়নাটা মাথা থেকে পড়ে গেছে। তাই আহিয়ান ভালো করে অন্যটা তুলে ঘমটার মত করে মাথায় দিল।
তারপর কপালে গভীর একটা চুমা দিল।
তৃধা আহিয়ান এর বুকের বা পাশে কিছু একটা আঁকিবুকি করে বলল: শুনেন না...?
আহিরান তৃধার কোমোর টা শক্ত করে ধরে বলল: হুম..
__বিকেলে বাড়ি থেকে বের হতে চাই... মানে চলুন না আশেপাশে কোথাও থেকে ঘুরে আসি...
আহিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল: সালামি হিসেবে বাহিরে ঘুরতে যেতে চাস...?
__হুম..
__তাহলে আমি তোর জন্য যে সালামি রাখছি সেটা কি হবে...?
—কি সালামি রেখেছেন...?
>_তুই যেহেতু নিতে ইচ্ছুক না তাহলে বলে লাভ কি....?
__নিব..
__তাহলে বাহিরে বের হওয়া ক্যানসেল...
__এই না না... আমার দুটোই চাই...
আহিয়ান এবার মুচকি হেসে বলল: সালামির বদলে সালামি...
কিন্তু বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিবর্তে আমাকে কি দিবে..?
তৃধা নিজে থেকে আহিয়ান কে সারাতে চাইল। কিন্তু আহিয়ান ছাইলো না। কিছুক্ষণ ব্যর্থ চেষ্টা করার পর তৃধা বলল: আমার কাছে তেমন কিছু নেই ঘুরতে যাওয়ার পরিবর্তে আপনাকে দেওয়ার মত...
আহিয়ান নিজের হাত দুটোকে তৃধার কাধের উপর দিয়ে মালার মত করে হালকা ঝুঁকে দাঁড়ালো।
তারপর বলল: আমার একটা শর্ত আছে..
যদি তুই মানিস তাহলে আজকে সারাদিনটা তোর।
আমার সাধ্যের মধ্যে যা বলবেন তাই দিব।
মেয়েটা খানিকটা ভয় পেয়েছে বোধহয়। তারপর কাচুমাচু করে বলল: কি শর্ত..?
আহিয়ান তৃধার চোখের সামনে আসা বেবি হেয়ার গুলো কে কানের পিছনে গুঁজে দিতে দিতে বলল: কালকে আগামীকালকে যতক্ষণ এহসান এরপরিবার খান বাড়িতে থাকবে তুই নিচে যাবি না।
আর সবাই যেমন তেমন এহসানের সামনে তো ভুলেও যাবি না। এখন কিভাবে কি করবি.. I don't know... but এহসান যেন এই বাড়িতে এসে তোর দেখা না পায়।
আগামীকালকের বিষয়টাতে সামলে নে। বেশি দিন আর লুকোচুরি করতে হবে না।
আমি নিজেকে গোছানো আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
তৃধা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আহিয়ান ভাইয়ের দিকে। প্রথমে ওনার কথাগুলো বুঝলেও পরে কথাগুলো যেন মাথার উপর দিয়ে গেছে। তবে এতোটুকু ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে আগামীকালকে তাকে রুমের বাইরে বের না হওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা করছেন।
তৃধা মৃদু হেসে বলল: ঠিক আছে ওনারা আসলে আমি দেখা করব না..
আহিয়ান মৃদু হে সেই মেয়েটার মেহেদি রাঙ্গা হাতে একটা চুমু দিল।
তারপর কিছু মনে করার ভঙ্গিতে বলল: এক মিনিট অপেক্ষা কর আমি আসছি....বলেই আহিয়েন গেলো কাভার্ট খুলতে।তৃধা খেয়ার করে দেখতে চাইলে আহিয়ান ভাই কি করে। তখনি একটা সুন্দর বুকে নিয়ে হাজির হলো সে। তবে এটা কোন ফুলের বুকে নয়। চকচকে নতুন ১০০-২০০ ৫০০ ১০০০ টাকার নোট দিয়ে বানানো। তৃধা বেশ অবাক হয়েছে। তোকে আর একটু অবাক করতে আহিয়ান ফুলের বুকে টা হাতে নিয়ে প্রপোজ করার স্টাইলে হাঁটু গেড়ে বসে বুকেটা ওর সামনে ধরল।
অতঃপর বলল: মহারানী এই সামান্য সালামী গ্রহণ করে এ অধম রাজাকে আপনার মনের আরেকটু গভীরে ঠাই দিন।
তৃধা চরমের আশ্চর্য পর্যায়। ইতিমধ্যেই ওর মুখ হা হয়ে গেছে ।কাঁপা হাতে বুকে টা হাতে নিয়ে মিষ্টি কণ্ঠে বললো: জাহাপনা এই রানীর গভীর থেকে গভীরে শুধু আপনার অবস্থান। আপনাকে সেখান থেকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা ।এই রানী নিজেরও নেই।
ওর কথা শুনে আহিয়ান মুচকি হাসলো। সেটা দেখে তৃধা ও হাসল। তৃধা আচমকা তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলল: আমাকে এখন যেতে হবে... অনেকক্ষণ সময় হয়েছে আপনার রুমে এসেছি। কেউ এসে খুঁজে না পেলে প্রবলেম হবে।
__হুম যা....
আহিয়ানের পারমিশন পেয়ে তৃধা পা বাড়ালো দরজার দিকে।
তখনই আহিয়ানের কন্ঠ__শোন...
তৃধা পিছনে তাকিয়ে বলল :কি......?
__বিকেলে রেডি হয়ে থাকবি বের হব। আহিয়া আদিবা কেও বলবি সাথে যেতে ...
পিচ্চি মেয়েটা অনেকদিন ধরে আবদার করছে সাথে বের হবার....তোকে নিয়ে আরেকদিন একা বের হব... আজকে সবাই মিলে যাবো ঠিক আছে...?
তৃধা অনেক খুশি হয়েছে। তার কাজকর্মেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ আহিয়ানের কথাগুলো শোনার পরেই।তৃধা শুতে এসে আহিয়ানের গালে চুমু দিয়ে দৌড় দিয়েছে।
আহিয়ান তৃধার এমন কাজে হঠাৎ বোকা বনে গেল।
মেয়েটাই প্রথম এক দুঃসাহসিক কাজ করেছে।
ভাবিয়া মৃদু হেসে বলল: পাগলী বউ আমার...
___রিহান আপনি কেন বুঝতে পারছেন না। এখন আমার বাড়ি থেকে বের হওয়া সম্ভব না।
আহিয়ার কথায় রেহান অসন্তোটি প্রকাশ করে বলল: প্লিজ আহিয়া পাখি এভাবে বলোনা ।আমার মন ভেঙো না। কিছু একটা বলে বের হও প্লিজ।
তুমি চাইলে আমি আহিয়ানের সাথে কথা বলছি।
__এই না না... ভাইয়াকে কিছু বলবেন না। আমার আর আপনার সম্পর্কের কথা ভাইয়া জানে এটা ভাবেই আমার ভীষণ লজ্জা লাগে।
__উফ তোমাকে নিয়ে আর পারিনা... আজকের দিনটা যাক। আগামী কালকে আমি আব্বুর সাথে তোমাকে নিয়ে আলোচনা করব।
তারপর দু-একদিনের মধ্যে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাঠাবো তোমাদের বাড়িতে। বিয়ের কথা শুনতে লজ্জায় আসার কান কেমন হাসফাঁস করছে।
মেয়েটা কথা ঘুরিয়ে বলল: আগামীকাল এহসানের ফ্যামিলি আমাদের বাড়িতে আসছে।
রিহান একটু অবাক কণ্ঠে বলবো: কি ... কেন?
তোমাদের বাড়ির নিয়ম কারণ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তুমি বাড়ির বড় মেয়ে, এখনো তোমার বিয়ের খবর নেই। আর ওরা বাড়ির ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে টানাটানি করছে। আহিয়া রিহানকে থামিয়ে দিয়ে বলল: আপনি কিছু জানেন না রিহান......
গত দুই বছরে এহসান আমাদের ফ্যামিলির সাথে সম্পর্কটা। অনেক দৃঢ় করে ফেলেছে। এই ছেলে প্রচুর চালাক। ত্রিধার সাথে যোগাযোগ কম করছে।
কিন্তু এই বাড়ির পুরুষদের সাথে ভালো সম্পর্ক রেখেছে বাড়ির বাহিরে সব সময়। যার ফলে সকলের মুখে এহসানের নাম।
ধীরে ধীরে পাপা ও মামার সাথে এহসানের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমান এমন জায়গায় পাপা ও মামা এহসানের কাছে ওয়াদা বদ্ধ।
এহসানকে তারা কথা দিয়েছে তৃধার পড়ালেখা শেষ হলে ওর সাথেই বিয়ে হবে। যাইহোক, এখন আপনার কথায় আসি। যে গভীর সম্পর্কের খাতিরে এহসান ফ্যামিলি আগামীকাল আমাদের বাড়ি আসছে।
এখন বিয়ের রিলিটের কোন ব্যাপার নেই।
তাছাড়া শুনলাম এহসানের ফুপি পরিবার সহ বাংলাদেশের ঈদ করতে এসেছে।
তাই এই সুযোগে ওনার ফুপি তৃধাকেও দেখতে চায়।
সব মিলিয়ে ওনাদের আগামীকালকে আসা।
আহিয়ার দীর্ঘ কথা শুনে রিহান বলল: হুম বুঝলাম এখন কাহিনীটা।
__রিহান....
__বল আহিয়া পাখি..?
__আমি যদি আগে আপনার থেকে কিছু লুকিয়ে থাকি আর সেটা যদি এখন জানে আপনি কি আমার উপর খুব রাগ করবেন....?
__সেটা ঠিক করব বিষয়টা জানার পর...
__কিন্তু আপনাকে জানাতে আমার ভীষণ ভয় করছে..
__ভয় পাওয়ার কিছু নেই ,নির্ভয়ে বলে ফেলো।
__না মানে আপনার মনে আছে এবার দেশে ফেরার পর আপনার সাথে প্রথমবার দেখা হবার কথাটা...
___ হ্যাঁ মনে আছে, এইতো একমাস আগেই কথা।
__হুম।
___হঠাৎ সেদিনের কথা বলছ কেন...?
__সেদিন আপনাকে আমি বলেছিলাম.. তাড়াতাড়ি বিয়ের কথা তার পিছনে যথেষ্ট একটা কারণ ছিল..
__কি কারন..?
___আসলে আমার পাপার বিজনেস ক্লায়েন্টের ছেলের সাথে আমার বিয়ের কথা হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই...ছেলেটার নাম সৈকত। উনি সিঙ্গাপুরের প্রবাসী। আমি যখন লন্ডনে লেখাপড়া শেষ করি তখনই তুই যার কাছ থেকে শুনেছি। বাড়িতে আমাদের বিয়ের কথা চলেছে। আমি দেশে ফিরেই কথা আগাবে।
কিন্তু তখন আপনি বিয়ের জন্য স্ট্রবল না। নতুন বিজনেস আপনার অনেক খারাপ যাচ্ছে। আমি দেশে ফিরে আপনার কথা বাড়িতে জানালেও কিছু হত না।
তাই নানা রকম কোর্সের অজুহাতে আরো এক বছর লন্ডনে থেকে গেছিলাম। কারণ আমি জানতাম দেশে ফিরে আবার আমার বিয়ে নিয়ে আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে ভাইয়া অনেক হেল্প করেছে। সকলকে বুঝিয়েছে আমার আরো এক বছর লন্ডনে থাকা নিয়ে।
তখন ভাইয়া আপনার কথা জানত না শুধু জানত আমি একটা ছেলেকে বিয়ে করতে চাই। অবশেষে দুই বছর পর আবারও দেশে ফিরলাম। তাই দেশে ফেরার পর প্রথম সাক্ষাতেই আপনাকে বিয়ের কথা বলেছিলাম।
রমজান মাস বলে সবাই চুপচাপ আছে। ঈদটা যাক তারপর দেখবেন বিয়ে নিয়ে আমার উপর কেমন চাপ পড়ে। তাই বলছি এবার যা করার তাড়াতাড়ি করুন।
সময় নেওয়ার মতো হাতে আর সময় নেই।