আহিয়া দীর্ঘ কথা বলে থামলো। কিন্তু ফোনের ওপাস থেকে কোনো সারা পেলো না। কান থেকে ফোন নামিয়ে দেখলো রিহান কল কাটেনি কিন্তু কথা বলছে না
আচমকা কেনো জানি আহিয়ার বুকের ভিতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। আহিয়া আবারো বলল: রিহান আপনি কি সুনতে পাচ্ছেন আমার কথা....
আহিয়া আরো কয়েকবার ডাকলো রিহান আপনি কি আমার কথা সুনতে পাচ্ছেন না... হ্যালো....হ্যালো...রিহান..
কিন্তু ফোনের ওপাস থেকে সারা শব্দ এলো না... শুধু রিহানের নিঃস্বাস এর শব্দ আসছে...
আহিয়া আাবারো বলল: রিহান.... আমি জানি আপনাকে না জানিয়ে ভুল করেছি আমি...তাই বলে কি আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিবেন...এই রিহান....
ওপাস থেকে কোন শব্দ এলো না কয়েক সেকেন্ড পর টুটুটু শব্দ এলো আর ফোন কেটে গেলো...
সংগে সংগে আহিয়া কতোগুলো কল দিলো টেক্সট দিলো কিন্তু লাভ হচ্ছে না কল রিসিভ করছে না টেক্সট সিন করছে না...
সঙ্গে সঙ্গে আহিয়া ফোনটা বিছানার ছুরে ফেলে হাত দিয়ে মুখ ডেকে ফুপিয়ে কেদে উঠলো। আর বলল :আপনি সব সময় আমাকে বুঝেন....কিন্তু এখন কেনো বুঝতেছেন না....
সেই সময় রিহান বিজনেসের কাজে চিন্তিত ছিলো। তখন জদি এসব রিহান কে জানাতো তাহলে রিহান ওনেক মানসিক চাপে পড়ত। তাই ও কিছু জানায় নি। প্রয়জনে কয়েকটি কঠিন কথা শুনাতো কিন্তু কথা বলা বন্ধ করলো কেন...?
ভাবতেই আহিয়ার ভীষণ কান্না পাচ্ছে তাই সে বালিসে মুখ গুজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে কাদার কারনে তার শরীর কাপছে।
তখনই রুমে ঢুকলো তৃধা। রুমে ঢুকেই বোন কাদতে দেকে দৌরে আসলো। বোনকে সোয়া থেকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করল : কি হয়েছে আপু..? তুমি এভাবে কাদছো কেন...?রিহান ভাইয়ার সাথে ঝগড়া হয়েছে...?
কান্নার জন্য আহিয়া কিছু বলতে পারছে না। একাধারে মেয়েটা শুধু কেদেই জাচ্ছে...
তৃধা আবার জিজ্ঞেস করল: কি হয়েছে আপু...?তুমি আমাকে বলো...
তৃধা এবার বোনকে জাপটে ধরে হু হু করে কেদে দিলো। তৃধা বোন কে জরিয়ে ধরে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আহিয়া তো থামছেই না। তখনি দরজায় টোকা পড়ার শব্দ এলো। তৃধা ঘার ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো আহিয়ান ভাই...
তৃধা আহিয়ার কানের কাছে ফিস ফিস করে বলল: আপু তোমার ভাই এসেছে,,,,,,
আহিয়া তৃধাকে ছেরে দিয়ে ওরনা দিয়ে চোখ মোছার চেষ্টা করল। বড়ো ভাইয়ের থেকে কান্না লুকানোর একমাত্র প্রোচেষ্টা তার। কিন্তু ফর্সা মুখলা লাল টকটকে হয়ে আছে তার চোখ দুটো ফুলে গেছে....
আহিয়ান বোনের সামনে এসে জিজ্ঞেস করল: কি হয়েছে তোর? কান্না কেনো করছিস...?
মেয়েটা মাথা নত করে বসে আছে কোনো কথা বলছে না কিন্তু এতোখনের কান্নার কারনে শরীর মৃদু নরছে।
আহিয়ান এতোখন সব তৃগ্ন দৃষ্টিতে দেখে তৃধার উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করল: কি হয়েছে ওর? এভাবে কাননা করছে কেন....?
তৃধা ভয়ে ভয়ে উওর দিলো: আমি জানি না....! মাএ এসেছি...
আহিয়ান এবার সরাসরি আহিয়াকে বলল: রিহান কিছু বলেছে তোকে...? নাকি বাড়ির কেউ....
আহিয়া এখনো মাথা নিচু করে বসে আছে।
সেটা দেখে আহিয়ান পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বলল: রিহানের তো আজকে খবর আছে এখনো বোন বিয়েই দিলাম না আর ও আমার বোন কে কাদাচ্ছে... ওরে এতো বরো সাহস কে দিয়েছে...?
আহিয়া এবার বিছানা থেকে নেমে ভাইকে ধরে হাউমাই করে কাদছে। আহিয়ান বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: তুই কান্না থাকা দেখছি ওর সমস্যা টা কি...?
কিন্তু আহিয়া এখনো কেদেই যাচ্ছে সেটা দেখে আহিয়ান বলল: কি বাচ্চাদের মতো কেদে যাচ্ছিস....একটু থাম...! বললাম তো ভাইয়া রিহানের সাথে কথা বলছি তো নাকি....
আহিয়া এবার হেচকি তুলে কাদতে কাদতে বলল: ভাইয়া ওর কোনো দোষ নেই....
আহিয়ান এবার স্বাভাবিক ভাবে বলল: ওর কোনো দোষ না থাকলে তুই এতো কাদছিস কেনো...?
__রিহান কে আমি আগে সৈকতের কথা বলি নি ভাইয়া...তাই রাগ করে ফোন বন্ধ করে রেখেছে।
আহিয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল: আগে যেহেতু বলিশ নি তাহলে এখন বলার কি দরকার ছিলো...?
আহিয়া আবারো কেদে দিলো। সেটা দেখে আহিয়ান বোনের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল: __থাক আর বলতে হবে না ফ্রেশ হয়ে আয় লাঞ্চ করবি.....তারপর বিকেলে সবাই মিলে একসাথে ঘুরতে বেরবো...
___আমি কোথাও জাবো না ভাইয়া....
___ওকে যেতে হবে না... খেতে চল...
___আমি খাবো না ভাইয়া...
__ একটা থাপ্পড় দিয়ে তোর সব দাত ফেলে দেবো....
আহিয়া আবারো বাচ্চাদের মতো কেদে উঠলো। সেটা দেখে আহিয়ান বোনকে সান্ত করে বলল: এখন খেতে চল তার পর বিকেলে ঘুরতে জাবার সময় দেখি গাধাটাকে বাড়ি থেকে বের করতে পারি নাকি....তখন ওকে সব বুঝিয়ে বলিশ...
__প্রমিজ করছো...?
__হ্যাঁ.. হ্যাঁ... প্রমিজ করছি.... এবার খেতে চল...
তৃধা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দুই ভাইবোনের মধ্যকর সম্পর্ক দেখছে... বোন Boyfriend এর সাথে রাগ করে কান্না করছে....ভাই বোনের Boyfriend কে গালি দিয়ে সেই রাগ ভাঙাচ্ছে....How cute...
তখনি আহিয়া ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো : কিন্তু ভাইয়া রিহান তো ফোন বন্ধ করে রেখেছে তুমি ওর সাথে যোগাযোগ করবে কীভাবে....?
___সেটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না...তোরা খেতে চল তোদের জন্য সবাই wite করছে...
অতঃপর বউ ও বোন দুজন কে নিয়ে খেতে চলে গেলো...
__আসসালামু আলাইকুম... আঙ্কেল
...✰ঈদ মোবারক✰...
ফোনের ওপাসে এহসানের কন্ঠ শুনে আবির বলল___
__ওয়ালাইকুম আসসালাম...
ঈদ মেবারক...
কেমন আছেন আঙ্কেল...?
__এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি... তুমি কেমন আছো...?
__আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি...বাসার সবাই কেমন আছে...?
__আলহামদুলিল্লাহ.. শুনলাম বন্ধুর বিয়ের কিছুদিন পরই দেয় ছাড়ছো...?
__জী আঙ্কেল... আমাদের কাজই তো চোর বাটপার স্মাগলার খুনি এদের ধরা.. এবারো তেমনি একটা মিশনে যাচ্ছি...
__কালকে আসছো তো সবাইকে নিয়ে...?
__জি...ফুপ্পিরা কালকে দেশে ফিরেছে...ফেরার পর আম্মুর মুখে তৃধার কথা শুনে তৃধাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে আমার কাজিনরাও পাগল বানিয়ে ফেলছে...!! ফুপ্পির মুখে শুনলাম আপনি, আন্টি, তানভীর আংকেল এদেরকে নাকি ফুপ্পি আগে থেকেই চিনে তাই বেশি এক্সাইটেড.....
__হুম আনার সাথে আমাদের আগেও দেখা হয়েছিল তবে বহু বছর আগে...
__তাহলে আর কি এই সুযোগে আরো এক বার সাক্ষাত হয়ে যাবে।
__ঠিকই বলেছো, তাহলে আগামী কালকে চলে এসো সবাইকে নিয়ে আমরা তোমাদের অপেক্ষায় থাকবো...
__ঠিক আছে আংকেল। আসসালামু আলাইকুম...
__ওয়ালাইকুম আসসালাম..বলেই আবির ফোন কেটে দিলো....
তারপর তাকালো পেছনে মেঘের দিকে ঘর গোছাচ্ছে,,,, কিন্তু না মনে হচ্ছে মারামারি করছে, সেই সকাল থেকে এমন করছে যখন থেকে শুনেছে মন্ত্রীর বাড়ি থেকে তার মেয়ে আসবে... তখন থেকে আবিরের সাথে কথাই বলছে না....
আবির নিজের ইচ্ছায় কয়েক বার কথা বলছে কিন্তু মেঘের কোনো সারা পায় নি....তবুও সে একটু পর পর চেষ্টা করছে তবুও মেঘের বাকা বাকা উওর। এই মেয়েকে কিছুতেই বোঝাতে পারছে না যে মন্ত্রীর মেয়ে এই বাড়ির ভবিষ্যৎ আত্মীয়। তাই কম বেশি তো আসা যাওয়া হবেই। এসব নিয়ে সংসারে অসান্তি করার কিছু নেই। তা ছাড়া ওনাদের বাড়ি থেকে কল দিয়ে বলে এহসানের ফুপ্পি তৃধাকে দেখতে চায়। তাই বলে তো ওদের বারির মেয়েকে ওই বাড়িতে পাঠানো যায় তাই তাদের কে খান বাড়িতে ইনভাইট করা...
আবির যুবক কাল থেকে বোঝাচ্ছে তার কোনো গার্ল ফ্রেন্ড ছিলো না... তবুও যে কিসের এতো ভয়। কোনো মেয়েকে আবিরের কাছে ঘশতে দেয় না। মেঘের মতো একটা বুজদার মেয়েকে কেন যে আবির এটাই বোঝাতে পারলো না এতো বছর ধরে...
__তোমার সমস্যা কি আহিয়ার আম্মু....,
__আমার সমস্যা ওনাকে নিয়ে...
___কিসের জন্য এতো সমস্যা বলেছি না মন্ত্রীর মেয়ের সাথে আমার কোনো কিছু ছিলো না...উনি তো আমাদের বাড়ির গেস্ট...
___এমন গেস্ট আমার চাই যে কিনা কোন একদিন আমার স্বামির দিকে নজর দিয়েছিলো....
__এই বয়সে এসেও এসব আর ভালো লাগছে না....
আবির ধপাস করে বিছানায় বসে পড়লো...
মেঘ রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল ___
___আগামি কাল যেনো আমি না দেখি ওই মেয়ের সাথে কথা বলতে...
___হায় আল্লাহ বাচাও আমাকে আমি আর নিতে পারছি না এই বয়সে....
তারপর আবির পকেট থেকে ফোন বের করে তানভীর কে কল দিয়ে বলল : সমন্ধী ভাই... কই তুই...?
__কেনো ভাইয়া....?
___ তোর মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে আমার সংসার নিয়ে টানাটানি....
___কেনো ভাইয়া..? বনু আবার কী করেছে...?
___তোর বোন আবার কী করবে সব তো আমিই করি... এই বুরো বয়সে আর নিতে পারছি না এই অত্যাচার... তোর বোন কে এসে বাপের বাড়িতে নিয়ে যা...
___সত্যি কিন্তু নিয়ে আসবো বনু কে আলাদা রুমে তখন কিন্তু মাঝরাতে শশুর বাড়ির দরজায় টোকা দিও না....?
___এই না না ভাই... আমি তো মিছে মিছে বলেছি...এই বউটাই আমার শেষ বয়সের সম্বল...কখন আবার মরে টরে যাই কে জানে....