ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

87

লেখক: ফারজানা মনি

তৃধা বোনের চোখের পানি মুছে ভরসা দিয়ে বলল:আপু সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আপু তুমি টেনশন করিও না.... অতঃপর বহু কষ্টে আহিয়া কে বুঝিয়ে শান্ত করে রেডি করিয়ে দিয়ে নিজে রেডি হয়ে গেল।

এই আদিবা। পুরো ডিমটা খেয়ে শেষ করে না হলে আহিয়ান কে বলবো তোকে নিয়ে না যেতে। রাইয়ের কথা শুনে আদিবা দৌড়ে গিয়ে পাপার কোলে চরে বসলো। তারপর ছোট্ট হাতে বাবার দুই গাল নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল: বল পাপা আমি খেলে কি লিপস্টিক চলে যাবে না...?

আদি মাথা নেড়ে বললো : না যাবে না...

আদিবা কান্নারত কন্ঠে বলল: বলো যাবে... তুমি আম্মুকে বল ডিম খেলে লিপস্টিক চলে যাবে...

মেয়ের কান্না থামাতে আদি মেয়ের মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল: ডিম খেলে আমার মেয়ের লিপস্টিক চলে যাবে, তাই এখন আমার মেয়ে ডিম খাবে না....

এটা শুনে আদিবা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।

রাই ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল : আপনিও কি ওর মত বাচ্চা হয়ে গেছেন...?

আদি মৃদু হেসে বলল: আগে আমার মেয়ে তারপর বাকি সব...

আদিবা পাপার গলা জড়িয়ে ধরে মিষ্টি কন্ঠে বলল: I love you papa....

আদি মেয়ের গালে একটা চুমু দিয়ে বলল: I love you too ma.....

পাশেই বসে আছেন, আলী আহমেদ খান মোজাম্মেল খান, ও ইকবাল খান। ওদের বাপ মেয়ের ভালোবাসা দেখে ওনারাও হাসলেন। তখনই দু আঙ্গুলে চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে সিঁড়ি দিয়ে নামলে আহিয়ান। আলী আহমেদ খান ওকে দেখে কাছে ডাকতে আহিয়ান গিয়ে পাশে বসলো।

__কোথায় যাচ্ছ দাদু ভাই...?

__এইতো দাদু সামনেই যাব... বোনদের নিয়ে একটু ঘুরিয়ে আসি...

__যাও এত বছর তৃধা রানী ঈদের দিনে বাইরে যাওয়ার জন্য অনেক ছটফট করেছে... কিন্তু কখনো ওকে একা ঈদের দিন বের হতে দিতাম না। এ বছর তোমরা সবাই আছে তাই ওকে নিয়ে একটু সবাই ঘুরে এসো।

আহিয়ান এবার মৃদু হেসে বলল : হুম...

তখনই পাশে এসে বসলো আবির ও তানভীর।

আবির কিচেনের দিকে তাকিয়ে জোরে চেঁচিয়ে বলল: আহিয়ার আম্মু আমাকে একটা কফি দিও...

মেঘ কিচেন থেকে বলল: আনছি একটু অপেক্ষা করুন...

তানভীর আহিয়ানকে দেখে বলল: কোথাও বের হচ্ছিস নাকি...?

__হ্যাঁ মামা... ভাবলাম তৃধা আহিয়া ও আদিবাকে নিয়ে একটু ঘুরে আসি...

__ভালো হয়েছে যা সামনের বছর কে কোথায় থাকে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই...

__কেন মামা...?

তানভীর আহিয়ানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে বলল: ভাইয়া ঈদের পর তো সৈকতের দেশে ফেরার কথা... তাহলে কবে ফিরবে....??

আবির এতক্ষণ একটা ম্যাগাজিন পড়ছিল ম্যাগাজিনের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে তানভীরের দিকে তাকিয়ে বলল: বলেছে তো আগামী মাসে ফিরবে..

তারপর আবির বাবা চাচাদের দিকে তাকিয়ে বলল: সেদিন সৈকতের আপু বলেছিল এবার সৈকত দেশে ফিরলে আহিয়া ও সৈকতের বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়।

এটা শুনে মোজাম্মেল খান বললেন: এটা তো ভালো খবর... সামনের সপ্তাহে আসিফের মেয়ের বিয়েটা শেষ হোক। তারপর না হয় আহিরার বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে।

মেঘ কফি এনে আবিরের হাতে দিয়ে বলল: কার বিয়ের আলোচনা হচ্ছে...?

মেঘের কথায় জবাবে আবির বলল: আহিয়া ও সৈকতের বিয়ের কথা বলছিলাম...

মেঘ মৃদু হেসে বলল: ছেলে হিসেবে সৈকত কিন্তু অনেক ভালো.. কথাবার্তা সভ্য ও মার্জিত। তবে এহসান নেওয়াজ ও কম নয়। দুজনেই ভালো। মাশাআল্লাহ আমাদের মেয়েদের ভাগ্য সত্যিই অনেক ভালো।

তখনই সবার মাঝ থেকে আহিয়ান বলল: তুমি মনে হয় একটু ভুল বললে মাম্মা। আমাদের বাড়ির মেয়েদের জন্য কেউ যোগ্য না। আমার বোন রত্ন... তার সাথে মানাবে আরো ইয়াং কাউকে... সৈকত গুনে গুনে আহিয়ার আট বছরের বড়। আমার বোন এমন পাত্র ডিজার্ভ করে না। আর রইল তৃধার কথা তাহলে বলবো ও এখনো স্টুডেন্ট। ওর জীবনে এখনো অনেক কিছু পড়ে আছে তাই তোমাদের ওর জন্য পাত্র ঠিক করে রাখা উচিত হয়নি।

আহিয়ানের দীর্ঘ কথা শেষে আবির বলল: তুমি এখনো ছোট আহিয়ান তাই দুনিয়ার অনেক কিছুই তোমার অজানা। তোমার মাম্মা ও আমার বয়সের গ্যাপ অনেক। কিন্তু আমরা দুজনেই তো সুখে আছি। তাহলে ওরা কেন থাকবে না।

আহিয়ান পাপাকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল: বাবা যুগ পরিবর্তন হয়েছে এখনকার জেনারেশনে বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরাই নিজের পছন্দে বিয়ে করে...

___তুমি কি বলতে চাও...? সৈকত কে আহিয়ার পছন্দ না.....এমন কিছু তো আহিয়া আমাদের কাউকে কখনো বলেনি...?

___অপছন্দের কথা যেমন বলেন তেমন তো পছন্দের কথা বলেনি...তোমাদের উচিত আগে আহিয়ার সাথে কথা বলা আহিয়া কাকে চায় কি চায় সোনা।

তখনই আহিয়ানের চোখগুলো সিঁড়ির দিকে।

সেখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে আহিয়া ও তৃধা দুজনের মুখশ্রীতে অমাবস্যার অন্ধকার নেমে এসেছে। আহিয়ান চাচ্চু কোল থেকে আদিবাকে কোলে নিয়ে আসতে করে বলল: আসছি.....বলে আহিয়া ও তৃধাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল।

আবির চুপচাপ স্থির দৃষ্টিতে ছেলে প্রস্থান দেখলো।

আহিয়ানের আজকাল অনেক পরিবর্তন এসেছে। ছেলেটা কি বোঝাতে চায় । আবির মাঝে মধ্যে সেটা বোঝেনা। সে তো কোনদিন ছেলে মেয়ের উপর কোন কিছু নিয়ে জোর করেনি। তাহলে আজকে আহিয়ানের কথায় যেন অন্যরকম সুর পাওয়া গেল। তাহলে কি সৈকতের সাথে আহিয়ার বিয়ের সিদ্ধান্তটা ভুল।

আবিরকে চুপ করে থাকতে দেখি পাশ থেকে তানভীর বলে উঠলো: ভাইয়া.... কি এত ভাবছো....?

আবির মেদু কন্ঠে বলল: তেমন কিছু না...

কিন্তু তার চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। ঠিক তখনই তানভীর আবার বলে উঠলো: জানো ভাইয়া তৃধাও কিছুদিন আগে আমাকে ঠিক এই কথাটাই বলেছে।

আবির ঘুরে তাকিয়ে বলল: কি..?

তানভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: মেয়েটা কয়েক মাস আগে বলেছে এহসানকে বিয়ে করার জন্য সে ওয়াদাবদ্ধ হতে পারবে না। তিন বছরের পরে সিদ্ধান্ত সে তিন বছর পরেই নিতে চায়। তিন বছর পর যদি ওর ইচ্ছে হয় ও এহসানকে বিয়ে করবে তাহলে করবে নতুবা নয়।

আবির স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো: আমরাও তো এহসান কে কোন ওয়াদা দেইনি। যে তৃধা থাকে ওর সাথে বিয়ে দিতেই হবে।

তখনই হঠাৎ পাশ থেকে আদি বলল: কিন্তু ভাইয়া এহসেনের পরিবারের সাথে তো সম্পর্কটা গারো হয়ে গেছে......তুমি কি হঠাৎ করে চাইলেই সব সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে পারবে..?

আবির এবার কঠিন কন্ঠে বলল: আমার কাছে আমার ছেলে মেয়েদের জীবন আগে...ওরা যা চায় যাকে চায় তাদেরকে নিয়েই ভালো থাকুক। আমরা আর বাঁচবো কদিন...? সৈকতকে নিয়ে যেহেতু সকলের মনে এত দ্বিধা। তাই আমি নিজেই আহিয়ার সাথে কথা বলবো।

তানভীর ভাইয়ের সাথে সহমত প্রকাশ করে বলল: ঠিক বলেছ ভাইয়া...

সৈকতের ফ্যামিলির সাথে কথা বলার আগেই আহিয়ার সাথে কথা বলে নেওয়া জরুরী।

আহিয়ানের কথার মাঝে আমি কেমন জানি ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছি।

আমার মনে হচ্ছে ও কিছু বোঝাতে চাচ্ছে।

যা আমরা বুঝতে পারছি না।

আবির খানিকটা চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল : আমি দুদিনের মধ্যে আহিয়ার সাথে কথা বলবো...

ছোট আপু তুমি আমাদের সাথে বসলে না কেন..?

আদিবার কথা শুনে সামনের সিট থেকে তৃধা ঘাড় ঘুরিয়ে বলল: ফেরার সময় তোর সাথে বসবো।

এবার আহিয়া আদিবাকে বুঝিয়ে বলল।

আমরা সবাই যদি পিছনে বসি ভাইয়ার কি একা একা লাগেবে না।

আদিবা জিঙ্গাসা মাত্র মাথা নাড়িয়ে বলল: হুম....

তারপর কিছু একটা ভেবে আবারও বলল: তাহলে আহিয়ানকে একটা বউ খুঁজে দাও। ও কথা শুনে তৃধার চোয়াল হা হয়ে গেছে।

তারপর চোখ ছোট ছোট করে বলল: তোর মত বোন থাকলে আর শত্রুর দরকার হবে না ।

আদিবা কি বুঝল কে জানে হঠাৎ শিল্পী দিয়ে হেসে উঠলো।

সেটা দেখে তৃধার রাগ যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।

আহিয়া মিটিমিটি হাসছি। অবশেষে আহিয়ান গাড়ির স্টায়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে বলল: আদিবা আমার জন্য একটা মেয়ে দেখতো।

তোকে একটা ভাবি এনে দিবো। সে তোকে অনেক আদর করবে।

আদিবা খুশিতে খিল খিলিয়ে হেসে বলল: সত্যি বলছো ভাইয়া... আমাকে অনেক আদর করবে...? আমাকে চকলেট এনে দিবে...?

আহিয়ান মুচকি হেসে বলল: হুম দিবে।

তৃধা কটমট করে বলল: আহিয়া আপু তুমি এই বিচ্ছুকে থামাও বলছি...

আহিয়া মৃদু হেসে আদিবা কে বলল: আমরা কি তোকে চকলেট এনে দিই না..?

তাহলে ভাবির কাছ থেকে চকলেট কেন লাগবে..?

আদিবা বায়না ধরে বলল: আমার ভাবির কাছ থেকেই চকলেট লাগবে...

অতঃপর আহিয়ানকে ডেকে বলল: এই আহিয়ান... আমাকে কি একটা ভাবি এনে দিবে..

তারপর আমি ভাবির কাছ থেকে চকলেট নিব...

তৃধা আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুসফুস করছে। কিন্তু এসব দেখে আহিয়ানের বেশ মজাই লাগছে।

তাই পিছনে হালকা তাকিয়ে বলল: দেব...

এই কথা শুনে তৃধা আহিয়ানের পায়ের পেশীতে জোরে একটা চিমটি মারল।

ছেলেটা মৃদু আর্তনাদে বলল: উফ আদিবা আমি বুঝি ভুল করে গাড়ির মধ্যে সাতচুন্নিকে তুলে নিয়ে এসেছি...

আদিবা এই কথা শুনে ভয় পেয়েছে বেশ।

আহিয়া কি জাপটে ধরে বুকে মুখ বুজে ভয়ার্ত কন্ঠে বলল: কোথায় শাকচুন্নি ভাইয়া..?

ওর কাণ্ড দেখে উপস্থিত সকলেই হেসে দিল।

তৃধা রাগে কটমট করছে সুযোগ পেলেই বোধায় আহিয়ান কে কামড়ে দিবে।

এদিকে আহিয়া কথার ফাঁকে চুপি চুপি রিয়ানকে বারবার কল দিচ্ছি।

ফোনটা এখনও বন্ধ। ভাইয়াকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতেও পারছে না যে সে রিহানের সাথে যোগাযোগ করেছে কিনা।

উপরে উপরে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করলেও ভিতরে ভিতরে তার খুব ভয় হচ্ছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 87 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন