ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

89

লেখক: ফারজানা মনি

রিহান আহিয়া কে নিজের দিকে ফেরালো। মেয়েটা চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। রিহান গাল দুটো হাতের আজলায় নিয়ে দৃষ্টি ঘোরালো চোখমুখে। ফর্সা মেয়েটার চোখ গাল নাক লাল হয়ে আছে। চোখ দুটো ফুলে ছোট ছোট হয়ে গেছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সারাদিন কেদেছে।

রিহান মৃদু কন্ঠে বলল: তুমি আমাকে আগে কেন জানাওনি আহিয়া পাখি....?যদি কোনো কারণে আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলতাম তখন কি হতো..? আমি তোমাকে নিয়ে একটু রিক্স নিতে চাই না।

আহিয়া কিছু বলছে না। চুপচাপ চোখ নত করে আছে।

সেটা দেখে রিহান আবারো বলল: এই আহিয়া পাখি..

প্লিজ কথা বলো। আমি ভুল করেছি তোমাকে আঘাত করে। আর কখনো হবে না এমন। প্লিজ কথা...বলো... সরি বললাম তো।

আহিয়া এখনো চুপচাপ। রিহান এবার ওকে ছেড়ে দাঁড়িয়ে এক হাত চেপে ধরে বলল: রাগ করে থাকবে....? থাকো.. কথা বলবে না তো...? বলার প্রয়োজন নেই......?তবে আজ এই মুহূর্তে তুমি আমার সাথে কাজী অফিসে যাবে। তোমাকে নিয়ে আমি একটু রিক্স নিতে পারব না। আজকে বিয়ে করে তোমার ঘরে তুলবো। তারপর কি হয় না হয় পরে দেখা যাবে।

এই কথা শুনে আহিয়া তড়িৎ মাথা তুলে তাকালো।

রিহানার হাতটা ধরে কয়েক কদম এগিয়ে যেতে আয়াহিয়া থমকে থেমে গেল। অতঃপর ভেজা কন্ঠে বলল: আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারব না....

আপনি আমাদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আমি এখন ভাইয়ের সাথে বাড়ি যাবো। এই বিষয়ে আর কোন আলোচনা করতে চাই না। বলে রিহানের হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে হাঁটলো লোকালয়ের দিকে।

রিহান পিছু পিছু গিয়ে ওই পথ আটকে দাঁড়ালো। কিন্তু আহিয়া ওর দিকে তাকাচ্ছিল না। রিহান ওর হাতটা নিজের হাতে নিয়ে ছোট্ট করে দুটো চুমু দিয়ে বলল: পাখি কতবার সরি বলবো । আচ্ছা এখন বিয়ে করতে হবে না। সব দোষ সব ভুল আমার। এখন তো একটু কথা বলো

আমি জানি বাড়িতে গিয়ে তুমি ফোন বন্ধ করে রাখবে।

আমার সাথে কোন যোগাযোগ করবে না। দেখো দেশের বাইরে যখন ছিলে তখন এসব পাগলামি আমার সহ্য হয়েছিল। এখন কিন্তু হবে না। কিন্তু এখন ফোন বন্ধ করে রাখলে মাঝরাতে তোমার বাড়ি চলে যাব।

___ফোন বন্ধ করব না.. এখন আমাকে যেতে দিন..

___প্রমিস করছো...

___হুম...

চকলেট চিপস জুস খেয়ে খেয়ে। আহিয়ানের আঙ্গুল ধরে হাঁটছিল আদিবা। তখনই হঠাৎ বলল: ভাইয়া আমার পা ব্যথা করছে আমাকে খুলে নাও...

আহিয়ান ছোট বোনকে কোলে নিল। তারপর এক হাতে তৃধার হাতটা শক্ত করে ধরে পদ্মর পাড় দিয়ে হাঁটছিল সামনের দিকে।

পদ্মের স্নিগ্ধ বাতাসে তৃধার চুল গুলো এলোমেলো উড়ছে। আহিয়ান আলতো হাতে সামনে আসা চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিল। মেয়েটা মিষ্টি হাসলো সেটা দেখে আহিয়ার নিজেও হাসলো। আদিবাকে কোলে নেওয়ার সাথে সাথে কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে।

তৃধা আহিয়ানের এক বাহু জড়িয়ে ধরে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটছে সামনের দিকে। মাঝেমধ্যে অদ্ভুত একটা আনন্দ হচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

হঠাৎই আহিয়ান বলল: তৃধা

___হুম...

___আমাদের একটা মেয়ে বাবু হলে কেমন হয় বলতো...কথাটা কর্ণ কুহুরি পৌঁছানো মাত্রই মেয়েটা লজ্জা লাল হয়ে উঠেছে। শরীরটা মৃদু কেঁপে উঠল।

অতঃপর কাঁপা কন্ঠে ছোট্ট করে একটা জবাব দিল: ভালো.....

___আমার একটা ড্রিম আছে জানিস...

___কি ...?

___একদিন আমি তুই আর আমাদের মেয়ে একসাথে হাত ধরে সমুদ্রের পাড়ে হাটবো।

___তৃধা মুচকি হাসলো আহিয়ান ভাইয়ের কথাগুলো শুনতে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে।

___অতঃপর কিছু একটা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল :কিন্তু সেই দিন আসতে অনেক দেরি....

আহিয়ান ওর ঠোটের ফাঁকে শক্ত করে আঙ্গুল চেপে বলল :কেন....

তৃধা ভাবলেসহিন কণ্ঠে জবাব দিল: আমার পড়ালেখা শেষ হতে আরো অনেক সময় বাকি।

___জানি তবে এত বছর ওয়েট করতে পারবো না...

এই বছরটা গেলেই মামার কাছ থেকে তোর হাতটা চেয়ে নেব। তারপর শুধু তুই আর আমি আর মাঝে থার্ড পারসন কেউ আসবে না।

তৃধা মুচকি হেসে বলল: তাহলে আমাদের মেয়ে...?

আহিয়ান নিজের হাত মুখে বন্দি করে তৃধার নরম হাতে একটা চুমু দিয়ে বলল: আরে পাগলি ও আমাদের অংশ তাহলে থার্ড পারসন কেন হবে। আমিতো ওই এহসান শালার কথা বলেছি।

___এহসান আপনার শালা হয় কবে থেকে..?

___যেদিন থেকে তুই আমার বউ হয়েছিস...

___মানে এহসান আমার ভাই...

আহিয়ান আমার মৃদু মাথা ঝাঁকিয়ে বলল :হুম...

তৃধা এবার খিলখি দিয়ে হেসে উঠলো।

___তৃধা...

আহিয়ানের ডাকে তৃধা ঘার ঘুরিয়ে পাশে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল: কি...?

___মাশাআল্লাহ তোকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে..

নামাজ পড়ে তো আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলতে পারিস এই এক বছরটা যেন তাড়াতাড়ি পার করিয়ে দেয়।

তৃধা ভুরু কুঁচকে বলল: সুন্দর থেকে এক বছর পার করে দেওয়ার কি আছে....?

আহিয়ার নদীর দিকে তাকিয়ে কিঞ্চিৎ মুচকি হাসলো। মেয়েটা এখনো বোকাই রয়ে গেছে। একে আর কি কি শেখাতে হবে আল্লাহই জানে।

তখনই ফোনে মেসেজ টিউন বেজে উঠলো। আহিয়ান তৃধার হাত ছেড়ে পকেট থেকে ফোন বের করল।দেখল রিহান মেসেজ দিয়েছে।

তাই তৃধার উদ্দেশ্যে বলল: চল ফিরে যাই ... রিহান আহিয়া গাড়ির সামনে ওয়েট করছে...

অতঃপর ওরা ফিরে এলো রিহানদের কাছে। ফিরে এসে মাওয়া ঘাটের ঐতিহ্যবাহী রেস্টুরেন্টে পদ্মার মাছ দিয়ে ডিনার করল। তৃধা মহা খুশি। নিজের পছন্দের ইলিশ মাছ কে যখন কেটে কুটে ভাজা করতে দেখল।

আহিয়া অনেকটাই চুপচাপ ছিল। তবে আহিয়ানের সামনে রিহান ওকে যত্ন করে প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে। এটা দেখে তৃধার অনেক ভালো লাগছে। অবশ্য আহিয়ান ভাই নিজে ওকে যত্ন করে মাছের কাঁটা বেচেয়ে দিয়েছে। যখন যা প্রয়োজন সামনে এগিয়ে দিচ্ছে। অবশেষে রাত দশটায় ওরা বাড়ি ফিরে এলো।

খান বাড়িতে সকাল শুরু হয় খুব শান্তিভাবে।

ফজের আযান শেষ হতেই ভোরের আলো ধীরে ধীরে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। জ্বালানোর পর্দার ফাঁক দিয়ে নরম আলো পড়ছে মেঝেতে। রাতে নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে দূর থেকে ভেসে আসছে পাখির ডাক। বারান্দায় রটেপ রাখা গাছগুলো গুলো রাতের শিশিরে ভিজে আছে।

পাঠাতে জমে থাকা শিশুর বিন্দুগুলোতে সকালের সোনালী আলো পড়ে ঝলমল করছে। হালকা বাতাসে পর্দা গুলো নড়তেই ঘরের ভেতরটা আরো বেশি উজ্জ্বল আলো হয়ে ওঠে।

কিচেনের দিক থেকে ভেসে আসছে। হাঁড়ি পাতিলের টুংটাং আওয়াজ। চুলায় আগুন জালানোর আওয়াজ। কোথাও কোন বিরক্তি নেই। শুধু দিনের শুরুটা ধীরে ধীরে জেগে ওঠার অনুভূতি। তেমন একটা সুন্দর দিন খান বাড়ির মহিলাদের ব্যস্ততা দিয়েই শুরু হয়েছে। বন্যা মেঘ ও রাই ফজরের নামাজ পড়েই আজকে কিচেনে ঢুকেছে। সময়ের সাথে ওদের সাথে যোগ হয়েছে হালিমা খান মালিহা খান ও আকলিমা খান।

উনারা যত সম্ভব ওদের সাহায্য করার চেষ্টা করছে।

এদিকে মেহমানদের আয়োজন অন্যদিকে বাড়ির সকলের নাস্তা। সব মিলিয়ে কিচেনে ব্যস্ত পরিবেশ।

আজকে এহসানের পরিবারের পাশাপাশি তৃধা ও আদিবার নানু বাড়ি থেকেও লোক আসছে।

তাছাড়া আলি আহমেদ খান ওনার একমাত্র বোন মাহমুদা খানকেও দাওয়াত করেছেন।

জুইয়ের সূত্রে আবীর মেহেদির পরিবারকেও দাওয়াত করেছেন। তবে মেহেদির আব্বু আম্মু জানিয়েছে বিয়ের ব্যস্ততার কারণে তারা আসতে পারবে না। মেহেদি এবং মিশকা আসবে। এদিকে মাহমুদা খান জানিয়েছে একই কারণে তারাও আসতে পারবে না। মিম আরিফ সাথে জুঁই যাবে। জুয়ের কথা শুনে তৃধা অনেক খুশি হলেও মিস্টার কথা শুনে রাগ হচ্ছে। সে জানেনা বড় পাপা কেন মেহেদির ফ্যামিলিকে দাওয়াত করতে গেল।

আহসানের বন্ধু এবং জুইয়ের ফিয়ন্সে হিসেবে মেহেদী কে আসতে বললেই পারত। শুধু শুধু মিশকার ঝামেলাটা বাড়িতে আসছে। এত মানুষের রান্না বলে আমি চেয়েছিল বাহিরের রাঁধু নিয়ে রান্না করতে।

তবে বাড়ির তিন বউ বলল তারাই সবটা ম্যানেজ করবে। সকাল থেকে রান্নার কাজে সকলেই প্রচুর ব্যস্ত।

আলী আহমেদ খান মোজাম্মেল খান ইকবাল খান চা খেতে খেতে টিভি দেখছে। পাশে এসে বসল আবীর।

আদি ড্রয়িং রুমের খোলা স্পেচে মেয়েকে নিয়ে খেলছে। তানভীর সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল: তৃধর আম্মু দুই কাপ কফি দিয়ে যাও...

রান্নার মাঝে বন্যা হয়তো একটু বিরক্ত হলো কিন্তু মুখে কিছু বলল না। চুপচাপ কফির জন্য গরম পানি বসালো। তখনই নিচে নামলো আহিয়া। আহিয়া কে দেখে বন্যা ডাকলো....

আহিয়া একটু এদিকে আসবে। আহিয়া কিচেন এর কাছাকাছি গিয়ে বলল: কি হয়েছে মামনি...?

বন্যা ট্রেন তে দুই কাপ কফি তুলে দিয়ে বলল: আমি একটু ব্যস্ত আছি, কপিগুলো তোমার পাপা ও মামাকে দিয়ে দাও। তখনই কোথা থেকে দৌড়ে এলো তৃধা। হাপাতে হাপাতে বলল আমাকে দাও মাম্মা। আমি পাপাকে দিয়ে দিচ্ছি। আহিয়া ট্রেটা ধরেছে ভেবে বন্যা ট্রেটা ছেড়ে দিল। আর তৃধা ধরেছে দেখে আহিয়া ট্রেটা ছেড়ে দিল। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তৃধা শক্ত করা করে ধরার পরেও কিভাবে যেন পড়ে গেল।

যার কারনে গরম কফি ছিটকে পড়ল মেয়েটার পায়ে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 89 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন