ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

95

লেখক: ফারজানা মনি

........পরের দিন সকাল দশটা................

রিহানের অফিসের রেস্টরুমে বসে আছে। আহিয়ান মৃদুল ও রিহান । আহিয়ানা মৃদুল মাত্র এসেছে। এসে দেখো রিহান চিন্তিত মুখে বসে আছে। মূলত আজকের সকালের রিহানের ফোনে ওদের দুজনের ঘুম ভেঙ্গেছে।

এত সকালে রিহানের কল এবং অফিসে আসতে বলায় আহিয়ার ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছে। আসার সময় মেয়ের নাস্তা করার জন্য অনেক বার বলেছি কিন্তু সে নাস্তা করে সময় নষ্ট করতে চাইনি। যদি বন্ধুর কোন বিপদ হয়। কিন্তু এখানে এসে দেখল বন্ধু থতমত মুখে বসে আছে। আহিয়ান এবার বিরক্তি মুখে বললো: আরে ভাই কিছু তো বল....আর কতক্ষণ এভাবে চুপ করে বসে থাকবি...? তাছাড়া তো এখানে কেন.....? বাড়িতে কি কিছু হয়েছে....?

আহিয়ান এর প্রশ্নের উত্তরগুলো জানতে মৃদুল অধীর আগ্রহে রেহানের মুখের পানে চেয়ে আছে।

রিহান আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে খানিটি ইতস্তত কন্ঠে বলল: আচ্ছা আহিয়ান মনে কর আমার কেউ নেই। সে হিসেবে তোর বোনের জন্য আমাকে কেমন লাগে...?

আহিয়ান ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল: আমি এমন কিছু ভাবতে কেন যাব...? যেখানে তোর গার্জিয়ান আছে।

____মনে কর নেই তাহলে কি তোর বোনের জন্য আমি যোগ্য না...?

মৃদুল এবার কিঞ্চিৎ রাগান্বিত কন্ঠে বলল: ঝেরে কাস... কি বলতে চাস সরাসরি বল.. তুই আহিয়ান কি এসব কি অদ্ভুত প্রশ্ন করছিস।

রিহান মৃদুল প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আবার আহিয়ান কে বলল: আহিয়ান তুই বল...যদি আমার কেউ না থাকে তাহলে কি আহিয়া কে আমার কাছে দিবি না।

আহিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল: দেখ রিহান তুই কি বলতে চাচ্ছিস আমি কিছু বুঝতে পারছি না...?

তবুও তোর প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আমি বলতে চাই।

যদি তোর কেউ না থাকতো তবুও আমি আমার বোনের সাথে তোর বিয়ে দিতাম। কারণ ছেলে হিসেবে আমার বোনের জন্য তুই যোগ্য। যেহেতু তোর গার্ডিয়ান আছে সেহেতু এই মুহূর্তে তাদেরকে আমাকে মূল্যায়ন করতে হবে। তুই তোর গার্ডিয়ান আমাদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠা। বাকিটা আমি বুঝে নিব।

____ওরা যাবে না...

রিহানের হঠাৎ এমন কথা আহিয়ান চোখ তুলে তাকালো।

তারপর ভুরু কুঁচকে বলল: আমার বোনকে অপছন্দ করার কারণ....?

___কোন কারণ নেই.... আহিয়া কি ওদের ভীষণ পছন্দ.. কিন্তু সমস্যা হল আমার আব্বু তোমার পাপাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারবে না....

___কেন...?

___কারন আব্বু জানে সৈকত নামের ছেলেটার সাথে আহিয়ার দিয়ে ঠিক করা আছে.....

___তো কি হয়েছে.... বিয়ে তো এখনো হয়নি।

রিহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: এটা তো আমি তাদেরকে বোঝাতে পারছি না.... আব্বুর মতে আহিরার বিয়ে সম্পর্কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কিছু সে জানে।

এখন হঠাৎ করে সে আবির আঙ্কেলকে বলতে পারবে না সেই বিয়ে ভেঙে দিতে ।তার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে। তে নাকি তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে।

তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে....

আহিয়ান এবার তত্ত্ব সরি বলল: বন্ধুত্ব কি এত ঠুনকো যে সামান্য কারণে ভেঙে যাবে....

রিহান এক হাতে তার চুলগুলো খামচে ধরে হতাশ কন্ঠে বলল: আমি জানিনা ভাই.... আমাকে এই বিপদ থেকে বাঁচা। নয়তো তোর বোনকে দে পালিয়ে যাই। আহিয়ার কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে রিহানকে দেখল তারপর বলল: ___তুই এখানে কেন...?

___আবু বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে...

এমন একটা সিরিয়াস মুহূর্তে মৃদুলের কেন জানি হাসি পাচ্ছে।

সে একটু দুষ্টুমি করে বলল: তোর গালে এগুলো কিসের দাগ...?

রিহান কিছুক্ষণ পরে বসে থেকে বলল: আব্বু থাপ্পড় মেরেছে...

মৃদুল এবার না চাইতেও ঠিক করে হেসে দিল। এটা দেখে রিহান ওর পিঠে দুইটা ঘুসি দিয়ে বলল: হাসি বন্ধ কর না হলে আরো দুটো দিব...

আহিয়ানকের সরিয়ে দিয়ে বলল: আরে বলদ তোর গালে কোন দাগ নেই। মৃদুল দুষ্টমি করেছে... এখন দেখছি সব সত্যি..

রিহান সরে যেতে গিয়েও মৃদুল মাথায় আরেকটা হাট্রা মারল। তবুও মৃদুল দাঁত কেলিয়ে হাসছে। তখনই মৃদুলের ফোনে কল এলো। আর ও ফোন হাতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

আহিয়ান সিরিয়াস কন্ঠে বলল: আঙ্কেল তোকে বাড়িতে জায়গা দেয়নি....

তাহলে আমার বোনকে বিয়ে করে কোথায় রাখবে..?

রিহান খানিক টা অসহায় কন্ঠে বলল: এখন তুই রাজি থেকে তোর বোনকে নিয়ে অনেক দূরে কোথাও পালিয়ে যাব....আর কিছুদিন পর সব শান্ত হলে ঢাকা ফিরে একটা ফ্ল্যাট কিনব ভাবছি। তখন দুজনে সেখানেই থাকবো।

আহিয়ান চুপচাপ শুনলো। আহিয়ান কে চুপচাপ থাকতে দেখে রিহান কাথর কণ্ঠে বললো: এত কি ভাবছিস আমি জানিনা... তবে আহিয়া কে অন্য কারো সাথে বিয়ে হতে দেখতে আমি পারব না...

ওই মেয়ে আমার আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

ওকে ছাড়া আমার নিঃশ্বাস নেওয়াও সম্ভব না।

আহিয়ান আর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল: যেভাবে যা চলছে চলতে দে দেখি কিছু করতে পারি কিনা...

___দয়া করে কিছু কর ভাই আমার কাছে আশেপাশের সবকিছুই বিরক্ত লাগছে....

মাথার কাজ করছে না।

আমার মাথায় পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন অপশন আসছে না।

___রিলাক্স.... শুরু থেকে সবকিছু ঠান্ডা মাথায় করে সে শেষ সময় মাথা গরম করিস না কোন ভুল পদক্ষেপ নিস না।

রিহান দুই হাতে চোখ মুখ মুছে ভারী একটা নিশ্বাস ফেলে বলল: আমি আর কিছু ভাবতে পারছিনা।

আহিয়ান শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল: এসব কি আহিয়া জানে...?

___না ওকে এখনো জানানো হয়নি জানলেই তো টেনশন করবে....

___হুম আগে কিছু জানানোর দরকার নেই...

............. বেলা যখন এগারোটা ত্রিশ মিনিট..........

দুহাতে মিষ্টি নিয়ে বাড়ি প্রবেশ করল তানভীর ও আবির।

ওদের হাতে মিষ্টি দেখে বাড়ির মহিলারা এগিয়ে আসলো।

মালিয়া খান ছেলে দিকে এগিয়ে এসে বলল: হঠাৎ মিষ্টি নিয়ে আসলি কোন সুখবর আছে নাকি....?

হালিমা খান আবির ও তানভীর এর উদ্দেশ্যে বলল: বাড়িতে তো এমনিতে ফল মিষ্টি অভাব নেই। গতকাল মেহেমানরা কত কিছু নিয়ে এসেছে। এর মাঝে আবার আজকে মিষ্টি কেন..?

আলী আহমেদ খান সকলকে মৃদু ধমক দিয়ে বলল: তোমরা একটু চুপ করবে....? আগে ছেলেকে বলতে দাও কিসের মিষ্টি নিয়ে এসেছে....

মিষ্টির প্যাকেটগুলো হালিমা খানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল: আম্মু আহিয়ানের রেজাল্ট বের হওয়ার পর রমজান মাস চলে এসেছে।

তাই কাউকে মিষ্টিমুখ করানো হয়নি। ছেলেটা ডাক্তারি পাশ করলো মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ না করলে কি হয়।

এবার মেঘ বলল: ভালো করেছেন আমিও ভাবছিলাম আপনাকে বলব এই কথা....

তানভীর মেঘের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল: বনো তাসফিন কই...?

___কত সকাল সকাল বেরিয়ে গেছে ভাইয়া...

___আচ্ছা ঠিক আছে সবাইকে মিষ্টি মুখ করো....

ড্রয়িং রুমে এত শোরগোল শুনে, নিচে নেমে এলো আহিয়া তৃধা ও জুঁই।

মিম আরিফ জুঁইকে গতকাল কেউ বাড়ি ফিরতে দেয়নি।

ওরা আজকে বিকেলে চলে যাবে।

সেখানে জুই এর বিয়ের আয়োজন চলছে।

আহিয়া এগিয়ে এসে বলল: পাপা, আমার লেখাপড়া শেষ হওয়ার পরেও তুমি কাউকে মিষ্টিমুখ করো নি। আমি কিন্তু খুব রেগে আছি।

আবির মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: আমি জানতাম আমার প্রিন্সেস এই অভিযোগ করবে...

তাইতো আমি আজকে সবাইকে ডাবল মিষ্টিমুখ করিয়েছি।

সবাইকে বলেছি আমার ছেলে এবং মেয়ে দুজনের জন্যই দোয়া করতে।

এবার তৃধা এগিয়ে এসে বলল: বড় বাবা তুমি কি আমার কথা ভুলে গেছো...?

ওর অভিমানী কথা শুনে সকলেই হেসে দিল। আমি মৃদুল এসে ওকে সামনে ডাকলো।

তৃধা এগিয়ে আসতে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: ভুলিনি মামনি তুমি ডাক্তারি পাশ করলে তখন সকলকে আবার মিষ্টি খাওয়াবো।

ছোট ছোট পায়ে আদিবা এসে বড় পাপার পাশে দুই বোনকে গাল ফুলে থাকতে দেখে বলল; আমাকে কেউ আদর করে না.... সকলে বড় আপুদের আদর করে....

তানভীর এগিয়ে এসে আদিবা কোলে নিয়ে গলে দুটো চুমু দিয়ে বলল: আমার আম্মুকে আমি আদর করবো...

আদিবা মুখ ভার করে অভিমানী কণ্ঠে বললো: লাগবে না কারো আদর... আমাকে সবাই ভুলে গেছে.... আমাকে আহিয়ান আদর করবে। আমি এক্ষুনি আহিয়ানকে ফোন দিয়ে আসতে বলব...

তখনই দরজার দিক থেকে বেশি এল গমগমী পুরুষালী কন্ঠে: আমাকে ফোন দিতে হবে না বেবি ডল... এইতো আমি চলে এসেছি....

তোর কথা শুনে সকলেই দরজার দিকে তাকালো ।

দেখলো আহিয়ানের হাতেও মিষ্টি।

আদিবা ছোট কাপড় কোল থেকে নেমে দৌড়ে গেল আহিয়ানের দিকে।।

আহিয়ান মিষ্টি গুলো বন্যা মামনির হাতে দিয়ে। আদিবা কে কোলে নিল।

অতঃপর দু' গালে কয়েকটা চুমু দিয়ে বলল: ভাইয়া তোমায় আদর করবে...

আদিবা খিলখিলিয়ে হেসে উঠে আহিরাও তৃধার উদ্দেশ্যে বলল: আমার ভাইয়া আছে, তোমাদের কি ভাইয়া আছে...?

ত্রিধা মুখ ভেন্সি দিয়ে বলল: আমাদেরও পাপা আছে তিনটা.. তোর তো একটা ভাই।

ওর কথা শুনে আদিবা সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে দিল।

ওদের ভাই বোনের খুনসুটি দেখে সকলেই হাসলো।

এদিকে বন্যা আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল: আবির ভাই মিষ্টি কেন এনেছেন বুঝলাম ... কিন্তু তুমি কেন মিষ্টি এনেছো...?

আরিয়ান এবার সকলের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল:

একটা সুখবর আছে....

উপস্থিত সকলের আগ্রহী দৃষ্টিতে তাকালো। তখনই আহিয়ান বলল: ঢাকা মেডিকেলে আমি ইন্টারসিপির জন্য চান্স পেয়ে গেছি।

তাছাড়া আমি ওখানে পার্ট টাইম শিক্ষিকতার এপ্লাই করেছিলাম। সেটাও আমার হয়ে গেছে।

আলী আহমেদ খান এগিয়ে এসে বললেন: এ তো খুবই খুশির খবর.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 95 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন