তানভির ভাগ্নের কাধে হাত রেখে বলল: Congratulations my boy...
আহিয়ান মৃদু হেসে বলল: Thank you mama....
কিন্তু আদি কপালে ভাজ দিয়ে বলল: হাসপাতালে ডিউটির সাথে কলেজের ক্লাস নেওয়া তোর জন্য কস্টের হয়ে যাবে... তুই পারবি তো..?
আহিয়ান কিছু বলার আগেই আবির আগিয়ে এসে বলল: আমার ছেলে একদম সঠিক সীধান্ত নিয়েছে আদি। জীবনে সফল হওয়ার জন্য পরিশ্রমের গ্রুত্ত অপরিসীম। তাছাড়া যুবক বয়সই তো পরিশ্রমের সঠিক সময়...বাবার টাকা পয়শা আছে বলে নিশ্চিন্তে জিবন জাপন করা উচিৎ নয়।
আহিয়ান আবিরের দিকে তাকিয়ে সম্মানের দৃস্টিতে বলল : Thank you papa for your support...
আবির মুচকি হেসে বলল : mention not my boy... কিন্তু ইন্টারসেপশন না করে তুমি জব পেলে কি করে...?
____পাপা আমার বন্ধু অলকের বাবা ওখানে সিনিয়র পদে আছেন ওনার স্পেশাল রিকোয়েস্টের কারনে সব সম্ভব হয়েছে। আর উনি আমার রেজাল্ট দেখে নিজেই সব গুছিয়ে দিয়েছে।
তখনি মোজাম্মেল খান বলে উঠলেন: সাব্বাস নানু ভাই,,,, আমি জানি তুমি ব্রিলিয়ান্ট বয়,,,, তুমি চাইলে জীবনে অনেক কিছু এচিভ করতে পারো,,,,,
মেঘ সকলের জন্য মিস্টি নিয়ে আসলো অত:পর সবার মুখে মিস্টি তুলে দিলো। কিন্তু আবিরের সামনে এসে থমকে দারাল। গতকাল থেকে হাতে গোনা কয়েকটা কথা ছাড়া কোন কথা বলে নি মেঘ। আবির অধির আগ্রহে তাকিতে আছে মেঘ কি করে সেটা দেখান জন্য। কয়েক সেকেন্ড দারিয়ে থেকে বলল: নিন মিস্টি মুখ করুন।
আবির সকলের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল: খায়িয়ে দিন।
___পারবো না...
___আমার অপরাধ কী...?
___আপনাকে সাধাসাধী করে খাওয়ানোর জন্য কঈ মানুষের অভাভ....
___কে আবার আমাকে কী সাধলো...?
___ভুলে গেলেন এরইমধ্যে...?
___মনে করিয়ে দিলে মন্দ হয় না...?
___এইতো মন্ত্রীর, মেয়ের কথায় বিস্কিট খেলেন..?
___উনি আমাদের গেস্ট...? এতো করে বললেন অনার কথা কি করে ফেলি..?
___ভালো আপনি অন্য মেয়ের কথা ভাবুন, আমার কথা রাখতে হবে না....বলেই মেঘ অন্য দিকে চলে গেলো...
রিহানের আম্মু রিহানের চিলেকোঠার ঘরে বসে কান্না করছে ছেলের ছবি হাতে নিয়ে। হঠাৎ কারো পায়ের শব্দ সুনতে পেলো দেখলো রিহানের আব্বু এসেছে। হাতে খাবারের প্লেট। রিহানের আব্বু এসে রিয়ার পাসে বসে বলল: এমন বাচ্চাদের মতো কেনো করছো রিহানের আম্মু...? কালকে থেকে কিছু খাওনি নাও খাবার টা খেয়ে নাও।
রিয়া বলল: কালকে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে আমার ছেলেটা এই পরযন্ত কিছু খেয়েছে নাকি জানি তাহলে আমি কি করে খাই বলুন তো...?আপনি এমন কেন করছেন প্লিজ ছেলেটাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন..!!
রাকিব থমথমে কন্ঠে বলল: তোমার ছেলের এতো জেদ কেনো..? বললেই চলে যেতে হবে...? জাওয়ার আগে একবারো তোমার কথা মনে করলো না কেনো..?
___ওতো আপনারি ছেলে... তাই আপনার মতোই জিদ হয়েছে। আমার ছেলেটা যেমন সহজে রাগে না তেমনি রাগলে কারো কথা মাথায় থাকে না..
___ভালো তোমার ছেলেকে তুমিই চেনো। এবার তুমি ফিরিয়ে নিয়ে আসো..?
___আপনি কি জানেন ও কোথায় আছে...?
___কোথায় আর থাকবে হয়তো ওর নিজের অফিসেই আছে...?
___তাহলে চলুন না আমারা গিয়ে ওকে নিয়ে আসি...!!
___না আমি যেতে পারবো না আমি গেলে ও ভাববে ওর শর্ত আমি মেনে নিয়েছি...
___আপনি না গেলে তো আসবে না...
___আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়...?
___কেন সম্ভব নয়..? আমি যতোদুর জানি আবির ভাইয়া ছেলে মেয়েকে খুব ভালোবাসে তাহলে তার সাথে একবার কথা বলে দেখতে কি সমস্যা..? আমার জানা মতে আবির ভাইয়া মেয়ের মতের বিরুদ্ধে মেয়েকে অন্য কোথাও বিয়ে দিবে না...
___তুমি বুঝতে পারছো না আমার পক্ষে আবির কে এসব কথা বলা সম্ভব নয়...!!
___আপনি দয়া করে আমার একটা কথা রাখুন...?
____কি কথা.....?
___আপনি বরং তানভীর ভাইয়া, মোবারোক, ও রাসেল ভাইয়াকে আমাদের বাড়িতে খবর পাঠান। তারপর ওনাদের সাথে কথা বলেন একবার যদি তানভীর ভাইয়া রাজি হয়ে যান তাহলে উনি আবির ভাইয়ার সাথে কথা বলবেন। তাছাড়া সরাসরি আবির ভাইয়াকে আপনি প্রস্তাপ না দিয়ে তাদের কে দিয়ে দেওয়ান তাহলে আর আপনাদের বন্ধুত্ব ভাঙবেনা। আর যদি তানভীর ভাইয়ার কথায় আবির ভাইয়া রাজি হয়ে জায় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আর যদি রাজি না হয় তাহলে আপনি আপনার ছেলেকে বলতে পারবেন ওর জন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছি...আপনি প্লিজ এই ভাবে একবার চেষ্টা করুন।
রাকিব চুপ করে রইলো তার মাথায় কিছু ধরছে না। এই দিকে আবিরের সাথে তার এতো বছরের সম্পর্ক আর অন্য দিকে রিহান তার নিজের ছেলে দুজনের সাথেই আত্মার সম্পর্ক। গতকাল ছেলে বাড়ি ছেরেছে এতে কি রাকিবের মন পুরছে না...? সে তো রিহানের আম্মুর মতো কেদে কেটে কষ্ট প্রকাশ করতে পারছে না..? তারমনও তো পুড়ে ছেলের জন্য। সে কি করে বোঝাবে সবাইকে...
রিয়া আবারো বলল: কি হলো কিছু বলছেন না যে...?
রাকিব কিছুখন চুপ করে থেকে বলল: দেখি কি করা যায়.. তুমি এখন খেয়ে নাও গতকাল থেকে কিছু খাওনি...
___না আগে আপনি আমাকে কথা দিন এভাবেই চেষ্টা করবেন তাহলে আমি খাবো।
___এতো কথা দেওয়ার কি আছে বলেছি তো দেখছি...?
রাকিব নিজেই রিহার মুখের সামনে খাবার তুলে ধরলো...
রিয়া চোখের পানি মুছে কিছুটা খাবার খেয়ে নিলো।
____ কি হয়েছে রিহান....? গতকাল থেকে আপনাকে এতো অন্যমনস্ক কেন দেখাচ্ছে...?
আহিয়ার প্রশ্নে রিহান নিজের চুল গুলোকে হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে বলল: কই কিছু নাতো...
____ আপনার মুখ টা কেমন শুকিয়ে আছে...? মনে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে না খেয়ে আছেন ...
রিহান হাসার চেষ্টা করে বলল: তুমি আমাকে নিয়ে বেশি টেনশন করো তাই এমনটা মনে হচ্ছে ...
কিছুক্ষণ আগে রিহান আহিয়াকে ভিডিও কল দিয়েছে.....
সেই থেকে শুরু হয়েছে আহিয়ার জোর করা। আহিয়া আবারও বলল: আপনি এখন কোথায় আছেন..? এটা তো আপনার রুম না...
রিহান পিছনের দিকে এক পলক তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল: তুমি ঠিকই ধরেছো,এটা আমার রুম না...আমি এই মুহূর্তে অফিসের রেস্টরুমে আছি ।
____এখন তো ঈদের ছুটি চলছে.. তাহলে সেখানে কি করেন.....?
রিহান মৃদু হেসে বলল: কাজ, পাগল লোক তো... তাই কাজ ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না.. ভাবলাম বাড়িতে বসে থেকে কি করবো অফিসে এসে পেন্ডিং কাজ গুলো শেষ করে ফেলি ।
আহিয়া এবার ভাবুক ভঙ্গিতে বলল: কাজের একটু বেশি প্রেশার নিয়ে ফেলছেন মনে হয় ।এত কাজ করলে শরীর অসুস্থ লাগবে ।
ওর কথা শুনে রিহান মৃদু হাসলো। কিন্তু আজকে ওর হাসিটা কেমন জানি ফ্যাকাশে ও মলিন।
আহিয়া খানিক্ষণ চুপ করে থেকে রিহানের হাসি দেখে বলল: শুনুন....
____হুম..
____বাড়িতে কি আমাদের বিষয়ে বলেছেন কিছু..?
____বলেছি..
আহিয়া ভয়ার্ত কন্ঠে বলল: কি বলেছে আঙ্কেল আন্টি.....?
____ বলেছে, পোলা তুই আসমানের পরী পছন্দ করছস......সেই পরী ধইরা আইনা দিতে একটু সময় লাগবো... তাই ধৈর্য ধরতে হইব।
রিহানের মুখে এমন আঞ্চলিক ভাষা শুনে আহিয়া ফিক করে হেসে দিলো।
আর রিহান মন ভরে দেখলো তার আহিয়া পাখির মিষ্টি হাসি। এই মেয়ের মিষ্টি হাসি দেখলে তার মনের সকল যন্ত্রনা নিভে যায় এক মূহুর্তে। তাই সকল সমস্যা ভুলে ছেলেটা নিজেও প্রান খুলে হাসলো ।