আরে বউ কথা তো শোনো। আবিরের কথা শুনে মেঘ রুম থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলো। তখনই আবির ওর বাহু চেপে নিজের দিকে টেনে আনলো। মেঘ গাল ফুলিয়ে চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। সেটা দেখে আবির কন্ঠে বলল : আহিয়ার আম্মু টিনেজারদের মতো আচরণ কেন করছ?
তোমার কি এখনো সেই বয়স আছে?
___আপনি কি indirectly আমাকে বুড়ি বললেন....?
আবির এবার হতাশ কণ্ঠে বললো : হে আল্লাহ আমাকে উঠিয়ে নেওয়া আমি মনকে বুঝাই কি আর উনি বুঝি কি...?
মেঘ চুপচাপ কোন দিকে তাকিয়ে রইল। কি আর করার হতাশ হয়ে আবির মেঘের সামনে দাঁড়িয়ে নিচু কন্ঠে বলল: সরি ম্যাম... জানা অজানা সকল ভুল আমার... দয়া করিয়া এবারের মত সব ভুলে আমাকে ধন্য করুন।
মেঘ এবার ঠিক করে হেসে দিল। তারপর আবারও বলল: সব দোষ আপনার আপনি তাহলে মানছেন...?
___না মেনে উপায় কি...?
___তিনবার সরি বলুন...
আবির খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল: সরি... সরি.... সরি.. বলেই সে হাফ ছাড়লো। মিছে দিকে এক নজর তাকিয়ে বলল: ছাড়ুন আমার আমাকে নিচে যেতে হবে।
___এখন নিচে গিয়ে কি করবে...?
___শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমাকে ডাকেননি কেন...? শুনলাম আসিফ ভাই এসেছে...
___হুম চলে গেছে..
___এর মধ্যে চলেও গেছে...?
___হ্যাঁ, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তাই তোমাকে ডাকিনি। মিম যাওয়ার সময় অনেকবার তোমার কথা বলেছে।
___মিম, আরিফ, জুই, ঊষা চলে গেছে...?
___হ্যাঁ.. আসিফ জুই এর বিয়ের কার্ড দিতে এসেছিল তাই আরিফা ওর সাথে চলে গেছে।
___ওদের বলতে তো পারতেন আজকে থাকতে...
___বলেছি কিন্তু আরিফ বললো বাড়িতে অনেক কাজ তাই যেতে হবে...
মেঘ এবার মন খারাপ করে বলল: ইস যাওয়ার আগে মিমের সাথে একবার দেখা হলো না।
___মন খারাপ... আগামী বৃহস্পতিবার তো আমরা যাচ্ছি বিয়ের অনুষ্ঠানে তখন তো আবার দেখা হবে..
__________________
___ত্রিধার আম্মু.... আমার ওয়ালেটটা খুঁজে পাচ্ছি না....
ড্রয়িং রুমে আহিয়ার চুল বেঁধে দিচ্ছিল বন্যা। তখনই দোতালার কইরা থেকে তানভীর ডাক শুনে উপরের দিকে তাকালে। দেখল তানভীর কোথাও যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে।
তখনই সিঁড়ি দিয়ে মেঘ নামতে নামতে বর্ণের উদ্দেশ্যে বলল: তুই গিয়ে দেখ ভাইয়ের কি লাগবে...? আমি আহিয়ার চুল বেঁধে দিচ্ছি।
মেঘের কথা শুনে বন্যা উঠে চলে গেল দ্বিতীয় তলার দিকে। মেঘ চিরুনিৎহাতে বসলো মেয়ের কাছে। সুন্দর করে চুলগুলো চিরুনি করতে করতে বলল: দেশে ফেরার পর এখন আর চুলের যত্ন নিস না মনে হয়। চুলের অবস্থা কেমন দুঃখ হয়ে যাচ্ছে দিনদিন।
আহিয়া মৃদু হেসে বলল : আমি তো ঠিক ভাবেই যত্ন করি মাম্মা।
___হ্যাঁ কতটুকু যে যত্ন করো তা তো দেখতেই পাচ্ছি... সামনের মাসে সৈকত দেশে আসবে তখন তোর এই অবস্থা দেখলে ছেলেটা কি ভাববে বলতো....
আহি এবার মাম্মার দিকে হেলান দিয়ে বলল : ভাবলে ভাবুক তাতে আমার কি...? ওই লোককে নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই।
___এটা কেমন কথা আহিয়া? সৈকতের সাথে তোর বিয়ের কথা চলছে সেটা তো তোর অজানা নয়.. তাহলে এভাবে কেন বলছিস....?
____আমি ওই ছেলেটাকে বিয়ে করতে চাই না মাম্মা...
___কেন? ছেলেটার মধ্যে কি সমস্যা?
___কোন সমস্যা নেই... কিন্তু আমি ওনাকে বিয়ে করতে পারবোনা...
মেঘ এবার বিচক্ষণ ভঙ্গিতে প্রশ্ন করল: তোর কি কাউকে পছন্দ হয়...? মানে পছন্দের কেউ আছে...?
মায়ের প্রশ্নে আহিয়া একটু থতমতো খেলো। তারপর আমতা আমতা করে বলল : না মানে একজনকে ভালো লাগে...
মেয়ের এমন কথা শুনে মেঘের চেহারায় কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। সে তো একজন মা মেয়ের ভালো-মন্দের খবর অবশ্যই তার কাছে আছে । তার মেয়ে যে একটা ছেলের সাথে কথা বলে সেটা মেঘ আগে ভালোভাবে না জানলেও গত এক মাসে ঠিকই জেনে গেছে। মেঘ আসে পাশে এক নজর তাকিয়ে মেয়েকে আবারও প্রশ্ন করল: ছেলেটাকে?
আগে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর আস্তে আস্তে করে বলল: তুমি পাপাকে এখন কিছু বলো না প্লিজ...
___ঠিক আছে বলবো না...
___ছেলেটার নাম রিহান.. বিজনেস করে...
মেঘ কপাল কুচকে কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে বলল: কোন রিহান...? সে কি আমাদের পরিচিত কেউ...?
___হুম হুম....
___ছেলেটার বাবা মায়ের নাম কি...? আমাদের মহল্লায় থাকে?
___উনি আমাদের মহল্লায় থাকেন আমার না মা .... তবে তুমি খুব ভালোভাবে চেনো....
মেঘ এবার সত্যি অবাক রিহান নামের কোন ছেলে এই মুহূর্তে তার মস্তিষ্কে আসছে না। কিন্তু আগে বলছে সে চিনে তাহলে কি এই ছেলে...?
ওর ভাবনার মাঝে আহিয়ে বললো: রিহান বলেছে রাকিব আঙ্কেলের সাথে কথা বলে খুব শীঘ্রই বাড়িতে বিয়ের প্রপোজাল পাঠাবে।
মেঘ অবাক কন্ঠে বলল: রাকিব...! মানে আমাদের রাকিব ভাইয়া...! আর তার ছেলের রিহান...!
আহিয়ে চুপ করে রইল। আপাতত মায়ের মুখে এক্সপ্রেশনটা বোঝা জরুরী। কিন্তু মামাকে দেখে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।
মেঘ আবারো বলল : কিরে কথা বলছিস না কেন...? রাকিবের ছেলের রিহান এর সাথে তোর কথাবার্তা চলে...?
আহিয়া অপরাধী ন্যায় মাথা উপর নিচ করে সম্মতি জানালো । অতঃপর আহিয়া এবার হুট করে মায়ের হাত জড়িয়ে ধরে মিনতি করে বলল: রিহান বিয়ের প্রস্তাব না আনা পর্যন্ত প্লিজ এ বাড়ির কাউকে কিছু বলো না।
তখনই সোফায় এসে বসলো আহিয়ান। অতঃপর বোনের দিকে তাকিয়ে বলল: মা এতদিন কাউকে কিছু বলেনি তো এখনো কাউকে কিছু বলবে না। এত পেনিক করিস না। আহিয়ানের কণ্ঠস্বর শুনে আহিয়া সেদিকে তাকালো। আহিয়ান চোখের ইশারায় আশা দিতে আহিয়া আবারও তাকালো মায়ের দিকে। দেখল মেঘ মৃদু হাসছে।
ভাই এবং মায়ের চোখে দেখে আগে বুঝলো মা সব আগে থেকেই জানে। এবার তার কেমন জানি লজ্জা লাগছে অতঃপর নত মস্তিষ্কে বলল: তারমানে তুমি আগে থেকেই সব জানতে মা...?
মেয়েকে বা সাবেক কন্ঠে বলল: একটু আধটু টের পেয়েছিলাম।
কিন্তু পরবর্তীতে বাকিটা আহিওনের কাছ থেকে শুনতে পেলাম। তবে আসিয়েন কিন্তু ছেলের নাম বলিনি শুধু বলেছে ছেলেটা আমার পরিচিত।
আসিয়া এবার মায়ের দিকে তাকিয়ে কাতর চোখে বলল: মাম্মা.. বাবা যদি এটা শুনে তাহলে কি অনেক কষ্ট পাবে...? আমাকে ক্ষমা করবে তো পাপা...?
মেঘ কিছু বলবে তখনই লক্ষ্য করল তানভীর ভাইয়া সিঁড়ি দিয়ে নামছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কোথাও বের হচ্ছে। তার পিছু পিছু শান্তিতে গুনগু নিয়ে গান গাইতে গাইতে নামল তৃধা।
মামা বেরিয়ে যেতে আহিয়ান তৃধার শান্তি ভঙ্গ করতে বলল: এই সাদা মুলা...
তৃধা কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে কপাল কুচিয়ে বলল: আহিয়ান ভাই আপনি আমাকে সাদা মোলা কেন ডাকলেন...? জানেন শুনতে কত বিশ্রী লাগে..?
আহিয়ান ঠোঁটের হাসি চেপে বলল: সাদা মোলার সাথে তোর চেহারাটা বড্ড যায়। তাইতো সেই নামে ডাকি। সাজানো হয় কালো হলে জন্মালে তো আর সাদা মোলা বলে ডাকতাম না।
আহিয়ানের কথা শুনে মেঘ ও আহিয়া মিটমিট আসছে। তৃধা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল : খুবই তোমার ছেলেকে কিছু বলবে... দেখছো আমাকে কেমন অদ্ভুত নামে ডাকছে...?
মেঘ মৃদু হেসে বলল: তুই এসে এখানে বস... মাথার চুলটা বেঁধে দেই... চেনা কিছু বলার আগে আহিয়ান বলল: তোকে এখানে বসতে হবে না এখন... আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আয় আমার জন্য একটা কফি নিয়ে আয়।