ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

98

লেখক: ফারজানা মনি

তৃধা থতমত খেয়ে গেল। তারপর অন্তত করে বলল: দায়িত্ব নেওয়ার বয়স হয়নি আমার। আমি এখনো ছোট।

আহিয়ার সামনের দিকে দুই কদমে গিয়ে বলল: সেদিন না বললেই আমার বাচ্চার মা হতে চাস।

লজ্জায় মেয়েটার কান গরম হয়ে উঠল। আচমকা তৃষা হালকা চেঁচিয়ে বলল: কিচেনের দিকে কাকি মনি আসছে......

আহিয়ান পিছন ঘুরে তাকাতেই তৃধা কিচেন থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেল। মেয়েটার পাগলামি দেখে আহিয়ান মুচকি হাসলো।

তারপর কফি বানিয়ে হাঁটলো নিজের রুমের দিকে।

____________________________

___রাকিব ভাইয়া হঠাৎ করে জরুরী খবর পাঠালে যে....

তানভীর এর কথা রাকিব চুপচাপ চেয়ে রইল। ওকে দেখে মনে হচ্ছে কথাগুলো ঠিকভাবে গোছাতে পারছে না। তানভীরকে কিভাবে কি বলবে ভাবছে।

তখনই পাশের সোফা থেকে রাসেল বলল: হঠাৎ বাড়িতে আসতে বললেই কোন সমস্যা হয়েছে....?

ও কিছু বলার আগেই মোবারক বলল: আমরা সবাই আছি আবির নেই কেন.. wait. আমি ওকে কল দিচ্ছি

রাখি এবার ওদের থামিয়ে দিয়ে বলল: থাম তোরা..

আবিরকে কল দিস না। অনেক ইম্পরট্যান্ট কথা ডিসকাশনের এর জন্য তোদের ডেকেছি।

তানভীর এবার সিরিয়াস কণ্ঠে বললো: কি এমন ইম্পর্টেন্ট কথা ভাইয়াকে ডাকলে না যে...

_____আবিরকে কিভাবে ডাকবো আজকের আলোচনা তো ওকে নেয়েই।

তানভীর বা ভীষণ চিন্তিত হল। তা ওর কপালের ভাজ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

রাকিব এখনো গম্ভীর মুখ নিয়ে চুপচাপ বসে আছি।

সেটা দেখে রাসেল বলল: আবিরকে নিয়ে কি এমন ইম্পর্টেন্ট কথা সবকিছু খোলাখুলি বলবি...

তখনই চারটা কফি ও নাস্তা ট্রে হাজির হলো রিয়া।

রিয়া আস্তে রাসেল তানভীর ও মোবারক সালাম দিয়ে ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করল। রিয়া মিষ্টি হেসে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলো।

তারপর ওদের নাস্তা খেতে বলে রিয়া ভিতরের রুমে গেল।

তানভীর রিয়াকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিকে দেখল। তারপর রাকিবের উদ্দেশ্যে বলল: রাকিব ভাইয়া ভাবি অসুস্থ নাকি...?

উনাকে এমন কেন দেখাচ্ছে...?

রাকিব ভাবুক ভঙ্গিতে বলল: আমি একটা গুরুতর সমস্যায় ফেসে গেছি...

মোবারক চট করে বলল: কি এমন সমস্যা তাও আবিরকে নিয়ে...?

আমাদের স্পষ্ট করে না বললে বুঝবো কি করে,।

মোবারকের কথায় তানভীর রাত সায় সাজানো।

তিনজনের রাকিবের দিকে তাকিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সবকিছু জানার।

রাকিব হালকা ঢোক দিলে বলল: ছেলে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে...

এবার তিনজনে আর্চার ন্যায় তাকালো।

তানভীর জিজ্ঞাসা করল: রিহান হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে গেল কেন...?

রাগের কারণটা তোমাকে জানালেই তো সব সমাধান করে দিতে।

রাকিব গম্ভীর মুখে বলল: জানিয়েছিল... কিন্তু ওর চাওয়া পূরণ করার মত ক্ষমতা আমার হাতে নেই....

এবার রাসেল বলল: রিহান কি এমন চেয়েছিলি যেটা তোর সাধ্যের বাইরে...

তাছাড়া রিহান অনেক ভদ্র ছেলে। নিজের বিজনেস করে। নিজের পছন্দের জিনিস কেনার মত ক্ষমতা তার আছে।তাছাড়া একটা ছেলে সব টাকা পয়সা ওরী।

রাসেলের কথা বলা থেমে যেতেই.. রাকিব বলল.: আরে ভাই টাকা পয়সা দিয়ে কেনার মত জিনিস হলো ছেলেকে বাড়ি থেকে চলে যেতে হতো...

মোবারক এতক্ষণ চুপচাপ থাকলে এখন আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারল না।

সে সরাসরি বলল: তাহলে কি সে কি চায়...?

রাকিব একনজর তানভীর এর দিকে তাকিয়ে বলল: আবিরের মেয়েকে বিয়ে করতে চায়....

উপস্থিত সকলেই কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলো।

তানভীর যেন কিছুটা ঘরের মধ্যে আছে। সে রাকিবের দিকে তাকিয়ে বলল: কাকে...?

রাকিব হালকা কাশি দিয়ে জবাব দিল: তোর ভাগ্নে আহিয়া কে...

তানভীর আশ্চর্যের ভঙ্গিতে বলল: কিন্তু ভাইয়া এটা কিভাবে সম্ভব....!

জানি কিন্তু ছেলেকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না।

____ওকে তুমি বলনি আহিয়ার বিয়ে ঠিক করা অন্য জায়গায়....?

____বলেছি কিন্তু ওর কথায় মনে হলো আগে থেকেই সবকিছু জানে...

এবার ওদের কথার মাঝে রাসেল বলে উঠলো: আরে ভাই আমি তোমার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না.. দয়া করে একটু ডিটেলস খুলে বল...

রাকিব এবার হালকা গলা ফেকারি দিয়ে বলা শুরু করলো:

ছেলেকে অনেকদিন ধরে বিয়ের জন্য প্রেশার দিচ্ছিল ওর মা।

তবে গত কয়েকদিন আগেও বলেছিল একজনকে পছন্দ করে। তাকে বিয়ে করতে চায়।

ওর কথা মতো আমরা সেটাও মেনে নিয়েছি ভেবেছি ছেলের পছন্দ মতোই মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনবো।

মেয়ের বাড়ির নাম ঠিকানা জানতে চাইলে বলেছিল ঈদের পর জানাবে।

কিন্তু গতকাল সকালে রিহান বলে ওর পছন্দের মেয়েটা নাকি আবিরের মেয়ে আহিয়া।

তোদের মত শুরুতে আমিও অবাক হয়েছিলাম ভীষণ।

পরবর্তীতে জানতে পারলাম তিন বছর ধরে ও আহিয়া কে পছন্দ করে।

আর এখন বিয়ে করতে চায়।

তানভীর চুপচাপ বসে সব কিছু শুনছে।

কিন্তু মোবারক নিজেকে দমিয়ে রাখতে না পেরে প্রশ্ন করল: আহিয়ার বিয়েতে ঠিক সেটা তো আমাদের কারো অজানা নয়।

আমি নিজেই সবকিছু ঠিক করে রেখেছে।

রাকিব হতাশ কন্ঠে বলল: হ্যাঁ আমি ওকে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি...

কিন্তু আমার কোন কথা মানছে না। পরবর্তীতে নিজের রাগ সামলাতে না পেরে এই প্রথম ছেলের গায়ে হাত তুলেছি এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে।

তার কিছুক্ষণ পরে দেখলাম ছেলে বেরিয়ে যাচ্ছে।

ওর মা আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু শোনেনি।

এখন তোরাই বল আমার কি করা উচিত...?

একদিকে ছেলের বাড়ির বাহিরে। অন্যদিকে ছেলের মাকে দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

আরেকদিকে এতদিনের পুরনো বন্ধুত্বের ত্রিকোন সম্পর্কের মাঝে আমি ফেঁসে গেছি।

আমি কাউকে বোঝাতে পারছি না সবগুলো আমার নিজের লোক।

না পারছি ছেলের মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। না পারছি ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। না পারছি বন্ধুকে এসব কথা জানাতে।

____আমি এখন কি করবো তোরাই বল..?

রাকিব দীর্ঘ কথা শেষ হতে তাকালো সকলের দিকে। ওর সামনে তিনজন ভাবুক হয়ে বসে আছে।

তখনই শোনা গেল তানভীরের ঠান্ডা কন্ঠ: আহিয়া কি রেহানকে পছন্দ করে...?

____ জানিনা... সেই সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই তো ছেলে বেরিয়ে গেল...

তানভীর ও রাকিবের কথার মাঝেই রাসেল বলে উঠ: যদি আহিয়া ও রিহান দুজন দুজনকে পছন্দ করে তাহলে তো বিষয়টা ভেবে দেখা উচিত...মোবারক বলল : ওরা যদি দুজন নিজেদের মধ্যে পছন্দ করে তাহলে পরিবার যদি অন্য কোথাও বিয়ে দেয় তাহলে তো আহিয়া রিহান সৈকত কেউ সুখি হবে না।

বলেই মোবারক তানভীরের দিকে তাকালো তানভীর এখনো চুপচাপ বসে আছে।

রাকিব এবার তানভীরের উদ্দেশ্য বলল: কিরে তানভীর কিছু তো বল। ছেলের এসব পাগলামির কথা আমি আবির কে কি করে বলি। আমার মাথা কাজ করছে না।

তানভীর বলল: আমি আগে বাড়ি গিয়ে আহিয়ার সাথে কথা বলি ওদের বিষয় টা পুরোপুরি না বুঝে তো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া জাবে না। তুমি রিহান কে বারি ফিরতে বলো। ওরো যদি দুজন দুজনকে ভালোবাসে তাহলে আমি নিশ্চয়ই আবির ভাইয়ার সাথে কতা বলবো।

রিহান হতাশ হয়ে বলল: এতো অনিশ্চয়তার মাঝে রিহান কিছুতেই বাড়ি ফিরবে না। তাই তুই একটু তারাতারি কথা বলার চেষ্টা কর।

____ঠিক আছে ভাইয়া...

_________________________

___কিরে তোর পড়া লেখা নেই...?দেশে ফেরার পড় থেকে তোকে তো শুধুই টই টই করতেই দেখেছি পড়তে দেখিনি...? মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট হয়ে এভাবে টো টো করলে জিবনেও ডাক্তার হতে পারবি না...?

আহিয়ানের কন্ঠসর শুতে পেয়ে পেছনে তাকালো তৃধা।

অতঃপর চোখ ছোট ছোট করে বলল: টিচার হতে না হতেই টিচার গিরি শুরু করে দিয়েছে..? But for your Kind information আমাদের সেমিস্টারের লেকচারার আপনি না আপনি নিশ্চয়ই ফাস্ট ইয়ারের ক্লাস নিবেন...?

আহিয়ান একটু সামনে এগিয়ে এসে তৃধার চুলের বেনি হাতে প্যাচাতে প্যাচোতে বলল: তোকে পড়তে বসতে বলার জন্য কি আমাকে তোর টিচার হতে হবে...?

____ নিঃসন্দেহে....

____কেনো...?

____ because টিচার ও গার্ডিয়ান ছারা অন্য কেউ পড়তে বললে আমার ভালো লাগে না...?

___আমি তোর গার্ডিয়ানের মধ্যে পরিনা...?

___মোটেও না। আপনি আমার ভার্সিটিতে গিয়ে চেক করেন পাপা মাম্মার নাম দেওয়া ...?

আহিয়ান বেনুনিটা আরেকটু জোরে প্যাচিয়ে বলল____

___আগের দিন শেষ এখন থেকে আমি তোর হাসবেন্ড তোর লিগাল গার্ডিয়ান। এখন থেকে আমি তোর ভালো মন্দ সকল কিছুর ফলোআপ আমি করবো...?

____ইস বললেই হলো...?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 98 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন