ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

99

লেখক: ফারজানা মনি

আহিয়ান তৃধার বেনিটা টেনে নিজের দিকে এনে বলল:

রোজা ও ঈদ দুইটায় শেষ। এখন রেগুলার পড়তে বসবি। আমার কথার নড়চড় হলে খবর আছে।

তখন এই তৃধা ভয়ার্ত এত মুখে বলল : পাপা...

আহিয়ান খানিকটা রেগে গিয়ে বলল :আবারো নাটক শুরু করে দিয়েছিস...

___সত্যি পাপা আসতেছে.....

___তোর কোন বাহানা শুনবো না... এখন এক্ষুনি গিয়ে পড়তে বসবি...

তৃধা কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে আহিয়ানের হাত থেকে বেনিটা ছরাতে ছরাতে বলল: প্লিজ ছাড়ুন... এবার আমি বাহানা করছি না...আপনার পিছনে সত্যিই পাপা আসছে।

তখনই পেছন থেকে ভেসে আসলো এক গম্ভীর কণ্ঠস্বর

___তাসফিন ওকে মারছো কেন...?

আহিয়ান চট করে পিছনে ঘুরে তাকালো। যেগুলো সত্যি পিছনে তানভীর মামা এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে তৃধার বেনুনি ছেড়ে দিয়ে আমতা আমতা করে বলল: না মানে মামা, তোমার মেয়ে ঠিক মতো পড়ালেখা করে না। সারাদিন শুধু টই টই করে ঘুরে বেড়ায়। মেডিকেলের স্টুডেন্ট এরকম ভন্ডামি করলে কখনো ডাক্তার হতে পারে না। সেটাই ওকে বোঝাচ্ছিলাম।

তানভীর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল: তাশফিন তো ঠিকই বলেছে। রমজান মাসে নানান বাহানা দেখিয়েছো। এবার রমজান মাস শেষ এবার অন্তত পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া উচিত। তাছাড়া এখন তো সুবিধা অনেক। কোন কিছু না বুঝলে বাড়িতে সিনিয়র আছে। তার থেকে শিখে নিতে পারবে।তৃধা আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে হালকা করে মুখ ভেংচি দিল।

সেটা তানভীর লক্ষ্য করেনি। সে আবারও বলল :তাসফিনের সাথে তারাবি না পড়ে গিয়ে পড়তে বসো। কিন্তু কিছু না বুঝলে তাসফিনকে অবশ্যই দেখাবে।

অতঃপর আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল: ওর দিকে একটু নজর রাখ তো....আজকালের ভন্ডামি বেড়েছে।

বলেই তানভীর তাহলে আহিয়ার দরজার দিকে।

আহিয়ান নিজেও তাহলে মামার নজর বরাবর।

আহিয়ার দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ। তানভীর এগিয়ে গিয়ে দরজায় নক করলো। মিনিট কয়েক পর আহিয়ার দরজা খুলে রীতিমতো হতবাক। মামা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু পিছনে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আহিয়ান ভাইয়া ও তৃধারানী।

দরজার বাইরে সকলের নজর আহিয়ার দিকে।

সেটা দেখে মেয়েটা একটু থতমতো খেলো।

পরবর্তীতে নিজেকে সামলে হালকা করে বলল: মামা তুমি...?ভেতরে আসো...

তানভীর আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল :তাসফিন....

আহিয়ান এগিয়ে গিয়ে বলল : জি মামা......

___তুমি চাইলে আমাদের সাথে ভিতরে আসতে পারো...,,,,

আহিয়ান মামার পিছে পিছে আহিয়ার রুমে ঢুকলো।

এদিকে ভাবুক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়ইলো তৃধা রানী।

মামাকে হঠাৎ করে এভাবে নিজের রুমে আসতে দেখে আহিয়ার হাত পা রীতিমতো কাঁপছে। মামা এভাবে হঠাৎ করে কখনো রুমে আসে না। উনার সাথে কথাবার্তা যা হয় ড্রয়িং রুমে। তবে আজকে এভাবে কেন এসে দরকার কড়া নাড়লো। মামার মুখোরয় দেখে বোঝা যাচ্ছে না।

আহিয়া আমতা আমতা করে বলল: মামা আমি কি কিছু করেছি...?

না মানে আদিবা কে দিয়ে খবর পাঠালে আমি তোমার রুমে যেতাম। তুমি শুধু শুধু কষ্ট করে তৃতীয় তলায় আসলে।

তানভীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আহিয়া কে দেখে বলল:আমাকে কি তোমার বুড়ো মনে হয়...? এখনো কিন্তু মেয়ে বিয়ে দেইনি। আহিয়া জিভে কামড় দিয়ে বলল : ছি ছি মামা কি বলছে এসব......

ওদের দুজনের কথাকপথান দেখে আহিয়ান মনে মনে বিড়বিড় করল: আহিয়ান নিজেকে নিজে বাহবা হে একটা জোয়ান শ্বশুর পেয়েছিস। যে তিন তলার সিঁড়ি ভেঙ্গে মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের রোমান্স নষ্ট করতে এসেছে।

তখনই শোনা গেল তানভীর মামা কণ্ঠস্বর। তিনি আহিয়াকে বলছে : রাকিবের ছেলে রিহানকে তুমি তো চেনো...?

আহিয়া নিচের দিকে তাকিয়ে নিচু কন্ঠে বলল: জি মামা...

___ওর সাথে কি তোমার কথা হয়....?

আহিয়া এবার ভয়ার্ত চোখে দেখালো পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভাইয়ের দিকে। আহিয়ান চোখের ইশারায় ভরসা দিলো সত্যি কথা বলতে...

সেটা দেখে আহিয়া নিচের দিকে তাকিয়ে উপর-নিচ মাথা নাড়লো।

তানভীর মামা আবার বলল: কেমন কথাবার্তা....I mean.. বন্ধুত্ব নাকি প্রেম জনিত বিষয়..?

মেয়েটার হাত পা রীতিমতো কাঁপছে। সে জানে হয়তো রাকিব আঙ্কেল এই মামাকে কিছু বলেছে। আর রাকিব আঙ্কেল কে বলেছে রিহান।যেখানে রিহান সত্যি শিকার করেছে সেখানে তার পিছপা হলে চলবে না।

তাই নত মস্তিষ্কে কাঁপা কন্ঠে বলল: আমরা দুজন দুজনকে পছন্দ করি...

___কবে থেকে...,,?

____আহিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল :প্রায় তিন বছর হয়েছে...

____তুমি জানতে পরিবার থেকে আমরা তোমার বিয়ে ঠিক করেছি,,,,. তাহলে কেন এমনটা করলে,,,..?

____বিয়ে ঠিক হয়েছে এক বছর হল.,,.. কিন্তু আমার রিহানের সাথে কথা হয় প্রায় তিন বছর হল.,55..

____তাহলে এক বছর আগে আমাদের কিছু জানাওনি কেন....?

তানভীর মামার একের পর এক প্রশ্নের আহিয়ার হাত-পা শীতল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আজকে থামলে চলবে না। আহিয়া জানে বাবাকে ম্যানেজ করার আগে মামাকে ম্যানেজ করতে হবে।

_____ধিরে সুস্থ উত্তর দিল: তোমাদের আগে জানায়নি কারণ রিহান বিয়ের জন্য তখন প্রস্তুত ছিল না....

নতুন বিজনেস নিয়ে অনেক মানসিক চাপে ছিল।

তাই আমার মনে হয়েছে তখন বললে তোমরা মানবে না।

____তারমানে তুমি বলতে চাচ্ছ এখন আমরা মেনে নিয়েছি...,,,.?

____না মানার কোন কারণ দেখতে পাচ্ছি না...

আহিয়া এবার চট করে মাথা তুলে তাকালো।

সেটা দেখে তানভীর এবার বলল: তোমার বাবা সৈকতের সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করেছে... এখন যদি এসব শুনি তাহলে কি হবে.666.?

আর সৈকত ও তার ফ্যামিলিকেই আমরা কি বলবো..?

___জানিনা মামা.... তবে আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না...

তানভীর চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল : মনে হচ্ছে বড় হয়ে গেছে অনেক...,,

আহিয়া চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। এদিকে আহিয়ান নিরব দর্শক হয়ে সব দেখছে।ভেবেছিল বোনের হয়ে হয়তো অনেক কথা বলতে হবে। কিন্তু তার বন্ধু আজকে ফাটিয়ে দিয়েছে। আহিয়ান অনেক খুশি হয়েছে বোনের সাহস দেখে।

কাউকে ভালোবাসার আগে তাকে পাওয়ার সাহস অর্জন করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। মামার কন্ঠে শব্দে আহিয়ানের ঘর কাটল.....

তানভীর আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল :তোমার বোনের কথা তো সব শুনলে। এখন কি তোমার কিছু বলার নেই.....?

আহিয়ান ছোট্ট করে বলল : না.....

_____তার কারন....?

____because আমি বোনের চয়েজকে respect করি।____ভালো... কিন্তু পরিবারের সম্মানের কথা ভাববে না...?

আহিয়ান এবার সরাসরি স্পষ্ট কণ্ঠে বললো : মামা আমার বোন এমন কিছুই করেনি যার কারণে পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে। কাউকে ভালোবাসা অপরাধ না এটা তুমি আমি সকলেই জানি।

তানভীর সরু দৃষ্টিতে তাকালো ভাগিনার দিকে। ভাগিনা যে শুকনো খোছাটা কোথায় মেরেছে সে তা সে ভালো করেই জানে।

আপাতত সেই টপিক বাদ দিয়ে বলল : সামনের মাসের সৈকত দেশে ফিরছে। দেশে আসলেই ওদের বিয়ে। In fact.....বিয়ের জন্য ছেলেটা দেশে ফিরছে। এখন ওর ফ্যামিলিকে এসব বললে বা বিয়েটা ভেঙ্গে দিলে আমাদের কি মান সম্মান যাবে না....?হঠাৎ করে ওদের আমরা কি করে না করব...?

আহিয়ান এবার স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো: মামা বিয়ে একটা ব্যক্তির সারা জীবনের বিষয়... তাই মান সম্মান পরিবার সমাজ ভেবে ভুল মানুষকে বিয়ে করার সঠি নয়। একটা সময় পরিবার মেনে নেয়। মান সম্মান হারালেও মানুষ সেটা ভুলে যায়। কিন্তু সামাজিক পরিবেশের কথা ভেবে যদি ভালোবাসার মানুষকে হাত ছেড়ে দেয়। তাহলে তাকে আর সারা জীবন কেদেও পাওয়া যায় না। তাছাড়া সম্মানের কথা ভেবে অপছন্দের মানুষকে বিয়ে করে কি লাভ...? সেইতো ধুকে-ধুকে সারা জীবন মরতে হবে। তার চেয়ে ভালো ভালোবাসার মানুষটির হাত শক্ত করে ধরে রাখা।

যদি মানুষটি সঠিক হয়।

তানভীর খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল: তারমানে তুমিও বলছো রিহানের সাথে সম্পর্কটা মেনে নিতে...?

____জি মামা... আমার বন্ধু বলে বলছি না... রিহান সত্যিই ভালো ছেলে...

আমার বোনকে পাওয়ার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে। তোমাদের পছন্দমত নিজেকে তৈরি করেছে। বর্তমান ছেড়ে যাওয়ার যুগে ভালোবাসার জন্য যুদ্ধ করে টিকে থাকা ছেলে তুমি কোথায় পাবা...?

রিহান করেছে... নিজেকে আজকের জায়গায় আনতে ভয়ংকর পরিশ্রম করেছে......আমার বোনের জন্য ওর থেকে পারফেক্ট আর কেউ হতে পারে না......তাছাড়া ওর ফ্যামিলির সম্পর্কে আমার থেকে বেশি তোমরাই ভালো জানো......সেই সংসারে আমার বোন ভালো থাকবে। তাই তোমার কাছে আমার একটাই রিকুয়েস্ট। তুমি প্লিজ পাপাকে মানিয়ে নাও।

সৈকত দেশে ফেরার আগেই ওই বিয়েটা ভেঙে দাও।

দিন যত যাবে সমস্যা তত জটিল হবে। তাই এই বিষয়ে আমাদের তাড়াতাড়ি কিছু ভাবা উচিত। তানভীর যেন আহিয়ানের কথাগুলো শুনে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।

এতদিন সবাই বলতে তাসফিনের পাপার মত হয়েছে।

কিন্তু আজকে তানভীর আবিরের যৌবনকাল থেকে আবারও স্বচক্ষে দেখছে। নিজের সামনে দেখছে। এ তো আবির ভাইয়ের ছেলে। এইসব কথা তো আবির ভাইয়ের মুখে শুনত। আর আজকে তার ছেলে বলছে।

তানভীর মুচকি হেসে বলল: মাশাল্লাহ... আমি তোমাদের মুখে এসব কথাই শুনতে চেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম তাসফিন আমার সঙ্গী হোক ওর পাপাকে বোঝাতে। নিঃসন্দেহে রিহান ভালো ছেলে খান বাড়ির বড় জামাই হওয়ার যোগ্য। কিন্তু সৈকতের আবহাওয়া আবির ভাইয়ের ব্যবসায়িক বন্ধুত্ব। হতে পারে এই বিয়ে ভাঙ্গার কারণে ওদের সম্পর্কটাও ভেঙ্গে দিতে পারে।

তাই আবির ভাই একটু সমস্যায় পড়বে। তবে আমরা ইনশাআল্লাহ আবির ভাইকে রাজি করিয়ে ফেলবো।

এবার আহিয়ান ও মুচকি হেসে বলল: ইনশাআল্লাহ.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 99 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন