ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

102

লেখক: ফারজানা মনি

আবে তানভীরের দিকে তাকিয়ে বলল : ওরা তো কিসের ভয় বলতো...ছোটবেলা থেকে কি ছেলে মেয়েদের আমি ওভাবে মানুষ করেছি।

আলী আহমেদ খান মোজাম্মেল খান ইকবাল খান ওখানেই উপস্থিত থেকে সব কিছু বোঝার চেষ্টা করছিল।

পুরো বিষয়টা বুঝে উঠতে আলী আহমেদ খান এগিয়ে এসে ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে বলল: রাগ করিস না আব্বা। দাদুভাই ছোট মানুষ ও বুঝতে পারেনি ওর এমন কাজে তোর মাথা নত হবে। তুই সৈকতের আব্বুর সাথে কথা বলে সব কিছু ম্যানেজ করে নে। আর রাকিবদের বাড়িতে আসতে বল।

আহিয়ান দাদুকে সাপোর্ট করে বলল: ঠিক বলেছে দাদু, পাপা...রিহান সত্যিই ভালো ছেলে....আমাদের আহিয়া কে ভালো রাখবে। তুমি রাকিব আঙ্কেলকে বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে আসার অনুমতি দাও। ধীরে ধীরে বাড়ির সকলে এসে আবীরকে বোঝাতে লাগলো। আহিয়া এক পাশে দাঁড়িয়ে হেঁচকি তুলে তুলে কাঁদছে ।

ওর এক হাত ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি তৃধা।

আবির গম্ভীর মুখ নিয়ে তানভীর কে বলল : তানভীর রাকিবকে কি বিকেলে আসতে বলেছিস...?

তানভীর আমতা আমতা করে বলল: না মানে ভাইয়া. এখনো বলিনি...

___তাহলে তাড়াতাড়ি বল...

এই কথা বলে আবির হন হন করে সিঁড়ি বেয়ে চলে গেল দ্বিতীয় তলায়। ওর পিছু পিছু গেল মেঘ সেদিকে।

এদিকে আবার যেতেই সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

মালিয়া খান ও হালিমা খান আহিয়া কে সান্ত্বনা দিল আর কান্না না করতে। কিন্তু মেয়েটা এখনো কেদে যাচ্ছে।

সেটা দেখে আহিয়ান বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: এখনো কান্না করছিস কেন পাগলি মেয়ে.. পাপা রিহানদের বিকেলে ইনভাইট করছে শুনলি না। তার মানে উনি রাকিব আঙ্কেলের সাথে বিয়ের কথাবার্তা বলবে।

আহিয়া ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল: ভাইয়া আমি তো পাপাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি.,,,. পাপা হয়তো

আমার সুখের কথা ভেবে সৈকতের আব্বুর কাছে ছোট হয়ে রিহানের সাথে বিয়ে দিবে । কিন্তু বাবার মনে কষ্ট রয়েই যাবে। আমি এত স্বার্থপর হতে পারব না ভাইয়া। আমার রিহান কে চাইনা। পাপা যার সাথে বিয়ে দিবে তাকেই মেনে নিব। আমার কারণে আমার পাপা কারো কাছে ছোট হবে না। আমি হতেই দিব না। আমি সৈকত কেই বিয়ে করব। এই কথা বলে আহিয়া সবাইকে রেখে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল। আর নিচে পুরো পরিবারের লোক স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

মেঘ এক গ্লাস পানি হাতে আবিরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর আবির কে বারবার বলছে~পানিটা পান করে নিন মাথাটা ঠান্ডা করুন প্লিজ। সব ঠিক হয়ে যাবে। বাবা মা হিসেবে আমরা যদি ওদেরকে না বলি তাহলে কে বুঝবে বলুন...?

আবি চুপচাপ খাটের কোণে বসে দুহাতে মাথা চেপে বসে আছে। তখনই আহিয়া ছুটে এসে পাপাকে জড়িয়ে ধরল । অতঃপর ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বললো : সরি পাপা..,,,আমার জন্য তোমার সম্মান নষ্ট হোক আমি সেটা কখনোই চাইনি। আমার রিহান কে লাগবেনা। তুমি যাকে বলবে তাকেই বিয়ে করে নেব। সৈকতের আব্বুর সামনে তোমাকে নত হতে আমি দেখতে পারবো না। আমার বাবা পৃথিবীর বেস্ট পাপা.... আমার পাপার খুশির জন্য আমি রিহানের মত আরো ১০০ টা রিহানকে ভুলে যেতে পারবো....

আবির মেয়েকে পা ছাড়িয়ে উঠে দাঁড় করাতে চাইলো। কিন্তু আহিয়া কাপা কন্ঠে কথাগুলো বলে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। ওখানেই লুটিয়ে পরলো।মেঘ ভয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। বোন এ ভাবে নিচ থেকে ছুটে এসেছে দেখে আহিয়ান ও পিছু পিছু এসেছে। এসব দেখে আহিয়ান নিজের যেন বাকহারা

আবির নিজেই মেয়েকে পাজা কোলে তুলে বিছানারয় সুয়িয়ে দিলো অতঃপর আহিয়ান কে বলল: বোনকে একটু দেখো...

আহিয়ান নিজের রুম তেকে BPI মেসিং নিয়ে কিছুক্ষন । চেক করলো। মেঘ মেয়ের মাথার কাছে বসে কান্না করছে। আহিয়ান পাপার উদ্দেশ্যে বলল: তেমন কিছু না,,,,, প্রেশার লো আর অতিরিক্ত টেনশনের কারনে জ্ঞান হারিয়েছে। আর কিছু জাবত অতিরিক্ত টেনশনের কারনে নিজের জত্ন নেয় নি তাই প্রেশার লো। কিছুক্ষন রেস্ট করলে ঠিক হয়ে যাবে

ওকে এসব মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখাই উত্তম।

আবির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের দিকে তাকালো। মেয়ের মুখটা অনেক শুকিয়ে গেছে।

অতঃপর মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল: বিকেলে রিহানের পরিবার আসবে...বাড়ির সবাইকে গিয়ে বল অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি নিতে।

মেযঘের চোখের পানি মুছে বলল: কিন্তু আমার মেয়েটা তো অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছে.,,,,

এবার আহিয়ান মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল: তুমি চিন্তা করো না আম্মু.... আহিয়া একটু রেস্ট নিলেই সুস্থ হয়ে যাবে।

আবির শান্ত দৃষ্টিতে মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল: আমি মেয়ের কাছে আছি। তুমি নিচে যাও...

মেঘ আসলে চোখ মুছে চলে যেতে চাইলো। আবির পিছন থেকে ডেকে বললে: শোনো...

___বলুন...

___নিচে গিয়ে কাউকে আহিয়ার অসুস্থতার কথা বলার দরকার নেই...শুনলেই সবাই টেনশন করবে।

___ঠিক আছে....

........ দুপুর দুইটা........

রিহান রেস্টুরেন্ট থেকে লাঞ্চ করে অফিসের রেস্ট রুমে ফিরব। হঠাৎই ফোন বেজে উঠল পকেট থেকে ফোন বের করে দেখল আব্বু কল দিয়েছে। কয়েক সেকেন্ড কিছু একটা ভেবে রিহান

ফোন রিসিভ করে বলল: আসসালামু আলাইকুম আব্বু...

___ওয়ালাইকুম আসসালাম... তুমি কোথায়???

___আছি...

___আছো মানে কি...? এখনিই বাসায় আসো।

রিহান এবার চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল: কি হয়েছে আম্মু অসুস্থ নাকি।

___বাড়িতে এসো...

বলে এনি ফোন রেখে দিলেন। রিহান চিন্তিত ভঙ্গিতে আব্বুর ফোনে কয়েকবার ফোন দিল। কিন্তু তিনি ওর ফোন রিসিভ করলেন না।

রিহান অফিসের দিকে না গিয়ে বাড়ির পথ ধরল।

সকল কর্মব্যস্ততার মানুষের ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহর প্রায় ফাঁকা। রাস্তায় কোন যানযাট না থাকায় রিহান খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে পৌঁছালো। সদর দরজা পেরিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই দেখল রিহানের দাদা দাদু ও আব্বু-আম্মু কিছু একটা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আজ সকালের রিহানের দাদি রিহানের আম্মুর সাথে বাড়ি ফিরল। আবার বিকেলে রাকিব মাকে বোনের বাড়িতে দিয়ে আসবে।

রিহান চিন্তিত ভঙ্গিতে মায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল: আম্মু তুমি ঠিক আছো তো...?

রিহানের ছুটে আসার উপস্থিতিতে উপস্থিত সবাই চমকে গেছে। রিয়া ছেলেকে জরিয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলো। রিহান চিন্তিত ভঙ্গিতে মায়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল: আম্মু তোমার শরীর ভালো আছে তো,,,..?

ছেলের কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল: হ্যাঁ বাবা তুমি বাড়ি ফিরে এসেছ... এখন আমি ঠিক আছে।

উপস্থিত সকলে দেখলে মা ছেলের হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

আম্মু ঠিক আছে জানতে পেরে রিহান একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। অতঃপর চারিদিকে তাকাতেই দেখলে আরো ৩ জোড়া চোখ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

রিহান দাঁড়িয়ে থেকে গলা খ্যাকারি দিয়ে ছেলের উদ্দেশ্যে বলল: ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে নাও... খান বাড়িতে যেতে হবে ...

রিহান কিছুই বুঝলো না কেন খান বাড়িতে যেতে হবে। আহিয়া সংক্রান্ত কোন বিষয় হলে আহিয়ান ওকে সকল আপডেট অবশ্যই দিত। কিন্তু সকাল থেকে আহিয়ান তো কিছুই বলেনি।

রিহানের ভাবনা সুতা কাটাতে রাকিব ডেকে বলল: এত ভাবনা চিন্তার কিছু নেই....আবির বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে খান বাড়িতে যেতে বলেছে। আর আমি বাপ হিসেবে এতটাও খারাপ না। রিহান বোধ হয় এতটা আশা করেনি। সে ভেবেছিল আরো হয়তো অনেক সময় লাগবে আব্বুকে রাজি করাতে। কিন্তু স্বপ্নের মত সব তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। তবে রিহান নিজের খুশিটা সকলের সামনে প্রকাশ করলো না।

আচমকা আব্বুকে জড়িয়ে ধরে বলল; সরি আপু... আমি সেদিন রাগের মাথায় আপনার সাথে রাফ বিহেভ করেছি। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।

কিছুক্ষণ আগে বুকের ভেতরটা চিনচিন ব্যাথা করছিল। কিন্তু ছেলে বুকে ফিরে আসায় বুকের ব্যথাটা মুহূর্তেই যেন ভ্যানিশ হয়ে গেছে। রাকিব নিজেও ছেলেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল: তারপর নরম কন্ঠে বলল: is okay....নিজের রুমে যাও।

রিহান বাবা কে ছেড়ে দাঁড়াতেই। রাকিব রিয়া উদ্দেশ্যে বলল: ছেলে ছেলে করে তো পাগল করে দিচ্ছিল এখন মন ভরেছে ছেলেকে দেখে....?

দেখা হলে ছেলেকে খেতে দাও। এই কয়েকদিন বাহিরের খাবার খেয়ে খেয়ে শরীর শুকিয়ে গেছে।

রিহান মৃদু হাসলো আব্বুর কথায়। তারপর রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল: আমি এইমাত্র লাঞ্চ করে এসেছি আম্মু ...আমি রুমে যাচ্ছি তোমরা খেয়ে নাও....

গত এক সপ্তাহ পর রিহানদের বাড়িতে যেন আবার খুশি নেমে এসেছে। রাকিব একমাত্র বোন জামাইকে কল দিয়ে মোটামুটি সব কিছু জানিয়েছে। এটা শুনে সকলেই খুব খুশি হয়েছে। পাত্রী হিসেবে আহিয়া কে তাদের সকলের ভীষণ পছন্দ। বিয়ে বাড়িতে অনেক কাজ থাকা সত্ত্বেও রাকিব অনেক করে রিকুয়েস্ট করেছে বোন ও বোনজামাকে তাদের সাথে ওই বাড়িতে যাওয়ার জন্য।

কিন্তু আসিফ জানিয়েছে তারা বিয়ের খবর শুনেই খুশি। তবে এই মুহূর্তে নিজেদের সকল ঝামেলা ফেলে খান বাড়িতে যাওয়া সম্ভব না। ইতিমধ্যে মেহমান এসে শুরু করে দিয়েছে। তাই রিহান ও তার আব্বু আম্মু খান বাড়িতে যাবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 102 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন