কিপ্টা সাবের শখের বউ 🤭❤️
লেখিকা: teha mony
পর্ব–২: শখের বউ চাই, কিন্তু খরচ করা যাবে না! 😂
সকালবেলা আয়ান সাদিকের ঘরে এমন এক কাণ্ড ঘটল, যার সাক্ষী হয়ে বাড়ির সবাই মনে মনে একটাই কথা বলল—এই ছেলেকে বিয়ে করানো দরকার, নাকি আগে মাথার চিকিৎসা করানো দরকার!
আয়ান বিছানায় বসে নিজের মানিব্যাগ খুলে টাকা গুনছে। একবার গুনছে, দুবার গুনছে, তারপর আবার গুনছে। এমনভাবে গুনছে, যেন টাকাগুলো গুনতে গুনতে একটা কমে গেলে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়বে!
আয়ান: এক, দুই, তিন, চার... আরে শালা! আমার পাঁচশ টাকার নোটটা কই গেল?
পাশের চেয়ারে বসে থাকা বড় ভাই আদনান বই থেকে মুখ তুলে তাকাল।
আদনান: তোর পাঁচশ টাকার নোট আবার কই যাবে? মানিব্যাগেই তো থাকার কথা।
আয়ান: থাকার কথা মানে? টাকা কি তোর মতো বেয়াদব নাকি যে যেখানে-সেখানে পড়ে থাকবে? পাঁচশ টাকা হারানো কোনো ছোটখাটো ব্যাপার না!
আদনান: গতকাল তো বাজারে গিয়ে তুই পাঁচশ টাকা দিয়ে বাজার করেছিস।
আয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর নিজের কপালে হাত দিয়ে বলল—
আয়ান: ওহ! তাই তো! বাজার করছি পাঁচশ টাকা দিয়ে। কিন্তু ওই বাজারের মধ্যে আমার লাভ কত হইছে, সেই হিসাব তো করি নাই!
আদনান: বাজার করে আবার লাভ কী?
আয়ান: ধুর শালা! তোরে ব্যবসা বুঝাইতে গেলে আমার বাপের সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাবে!
আদনান বই বন্ধ করে ভাইয়ের দিকে তাকাল।
আদনান: তুই এত টাকা জমিয়ে কী করবি?
আয়ান: বিয়ে করব।
আদনান এবার হো হো করে হেসে উঠল।
আদনান: তুই বিয়ে করবি? তোরে মেয়ে বিয়ে করবে কেন? তোর টাকা আছে ঠিকই, কিন্তু খরচ করার সময় তোর জান বের হয়ে যায়!
আয়ান বুক ফুলিয়ে বলল—
আয়ান: আমার মতো ছেলেকে বিয়ে করার জন্য মেয়েদের লাইন পড়বে, বুঝলি? সুদর্শন চেহারা, বাপের টাকা, নিজের গাড়ি, বিশাল বাড়ি—আর কী লাগে?
আদনান: বউয়ের জন্য একটু খরচ করার মন লাগে।
আয়ান: ওইটা বাদ দে। এত অপ্রয়োজনীয় শর্ত দিস না!
আদনান মাথা নাড়ল।
আদনান: তোর বউ একদিন তোরে ঝাড়ু দিয়ে পেটাবে।
আয়ান: পেটাক। কিন্তু ঝাড়ুটা যেন নিজের কেনা হয়। আমার বাড়ির ঝাড়ু ভাঙলে কিন্তু ওর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে হবে!
আদনান আর হাসি থামাতে পারল না।
ঠিক তখনই আয়ানের মা ঘরে ঢুকলেন।
মা: কী হয়েছে রে? সকাল সকাল এত চিৎকার কিসের?
আদনান: মা, তোমার ছোট ছেলে বিয়ে করবে!
মা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। তারপর মুখে হাসি ফুটল।
মা: সত্যি রে আয়ান? কোন মেয়েকে পছন্দ হয়েছে?
আয়ান মানিব্যাগ বন্ধ করে গম্ভীর মুখে বলল—
আয়ান: হয়েছে একজনকে।
মা: আলহামদুলিল্লাহ! মেয়ের নাম কী? কোথায় থাকে? পরিবার কেমন?
আয়ান: নাম জানি না।
মায়ের মুখের হাসি একটু একটু করে মিলিয়ে গেল।
মা: কী বললি?
আয়ান: নাম জানি না, বাড়ি কোথায় জানি না। তবে মেয়েটা আমার হবে।
মা: তুই মেয়েটাকে চিনিসও না, অথচ সে তোর হবে?
আয়ান: মা, ভালোবাসার ক্ষেত্রে পরিচয় বড় কথা না। মনের টান বড় কথা।
আদনান পাশ থেকে বলে উঠল—
আদনান: আর বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবার টাকা বড় কথা!
আয়ান: এই শালা! তুই আমার প্রেমের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান ঢোকাবি না!
মা কপালে হাত দিলেন।
মা: আল্লাহ জানেন, এই ছেলের কপালে কী আছে!
আয়ান: কপালে বউ আছে মা। সুন্দরী, মিষ্টি, লক্ষ্মী একটা বউ। শুধু একটু কম খরচ করবে, আমার কথা শুনবে, আর আমার টাকা—
মা: ব্যস! বুঝেছি! তোর বউ না, তোর একজন হিসাবরক্ষক লাগবে!
আয়ান: হিসাবরক্ষক আবার বউ হবে কীভাবে? মা, তুমি আমার স্বপ্ন নষ্ট করতেছ!
মা: তোর স্বপ্নের আগে আমার ছেলের চিকিৎসা দরকার!
### অন্যদিকে, ঐশীদের বাড়ি
সিদরাতুল জান্নাত ঐশী তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছে। আর তার মা পাশে বসে সবজি কাটছেন।
ঐশী: আম্মু, একটা কথা বলি?
মা: বল।
ঐশী: ধরো, আমার বিয়ে হলো। তারপর আমার বর যদি কিপটা হয়?
মা: তুই তারে বিয়ে করার আগে বুঝবি না?
ঐশী: মানুষ বিয়ের আগে চাঁদ এনে দেওয়ার কথা বলে, বিয়ের পরে চাঁদের আলো জ্বালানোর বিদ্যুতের বিলও বউয়ের কাছে চায়!
মা হেসে ফেললেন।
মা: তোর মাথায় এত চিন্তা আসে কোথা থেকে?
ঐশী: আমার মাথা তো আর ফাঁকা না, আম্মু। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা চলে।
মা: যেমন?
ঐশী আঙুল গুনতে শুরু করল।
ঐশী: এক, স্বামী কিপটা হতে পারবে না। দুই, আমার সঙ্গে ঝগড়া করে রাতে না খেয়ে থাকতে পারবে না। তিন, আমি রাগ করলে আমাকে বুঝাতে হবে। চার—
মা: চার নম্বরে কী?
ঐশী: চার নম্বরে স্বামীকে আমার সব কথা শুনতে হবে!
মা: আর স্বামীর কোনো কথা শুনবি না?
ঐশী একটু ভেবে বলল—
ঐশী: শুনব তো! তবে কথাটা আমার পছন্দ হলে।
মা সবজি কাটতে কাটতে হেসে বললেন—
মা: তোর মতো মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ছেলের সাহসও লাগবে।
ঐশী: সাহস থাকলেই হবে না, আম্মু। পকেটেও সাহস থাকতে হবে!
মা: পকেটে আবার সাহস থাকে?
ঐশী: টাকা থাকলে থাকে। টাকা না থাকলে পকেটের ভেতর বাতাসের সঙ্গে সাহসও উড়ে যায়!
দুজনেই হেসে উঠল।
ঠিক তখনই ঐশীর বান্ধবী মিতু ফোন করল।
মিতু: কিরে, আজকে বাজারে যাবি? নতুন একটা দোকান খুলছে। জামাকাপড় দেখব।
ঐশী: যাব। কিন্তু কিনব কি না জানি না।
মিতু: কেন?
ঐশী: টাকা বাঁচানোর অভ্যাস করছি।
মিতু: তুই? টাকা বাঁচাবি? তুই তো দোকানে ঢুকলে টাকা নিজেই আত্মহত্যা করে!
ঐশী: এই শয়তান! আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিস না। আমি শুধু সুন্দর জিনিস দেখলে একটু দুর্বল হয়ে যাই।
মিতু: আর সুন্দর ছেলে দেখলে?
ঐশী: সুন্দর ছেলে দেখলে চোখ দুর্বল হয়, মন না!
মিতু: আচ্ছা, বাজারে আয়। দেখি তোর মন কতটা শক্ত!
ঐশী ফোন রেখে তৈরি হতে লাগল।
কে জানত, আজকের বাজারেই তার দেখা হবে এমন এক ছেলের সঙ্গে, যার পকেটে টাকা আছে অনেক—কিন্তু খরচ করার সময় মনে হয় কেউ তার কলিজা কেটে নিচ্ছে!
### বাজারে আবার দেখা
দুপুরের দিকে আয়ান তার কালো গাড়ি নিয়ে বাজারে এসেছে। অবশ্য গাড়ি নিয়ে আসার পেছনে বিশেষ কারণ আছে।
তার বন্ধু রাফি ফোন করে বলেছিল, বাজারের নতুন রেস্টুরেন্টে নাকি ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা আছে। পরে জানা গেল, ফ্রি খাবার বলতে উদ্বোধনের দিন একটা ছোট্ট মিষ্টি দেওয়া হয়েছিল!
কিন্তু আয়ান ততক্ষণে বাজারে পৌঁছে গেছে।
রাফি: দোস্ত, তুই সত্যিই শুধু একটা মিষ্টি খাওয়ার জন্য এত দূর আসছিস?
আয়ান: একটা মিষ্টি বলতেছিস কেন? মিষ্টির সঙ্গে যদি এক গ্লাস পানি দেয়, তাইলে তো দুইটা জিনিস!
রাফি: তোরে নিয়ে আমি আর পারি না।
আয়ান: পারতে হবে না। আমার গাড়িতে তেল আছে, তুই চাইলে বাড়ি যেতে পারিস। তবে তেল খরচের টাকা দিতে হবে।
রাফি: তোর গাড়িতে উঠাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল!
আয়ান: ভুল বুঝতে পারছিস, এইটাই বড় কথা। এখন নাম, দরজা জোরে বন্ধ করিস না। দরজারও দাম আছে!
রাফি গজগজ করতে করতে গাড়ি থেকে নামল।
ঠিক তখনই আয়ানের চোখ পড়ল রাস্তার ওপাশে।
ঐশী আর মিতু একটা কাপড়ের দোকান থেকে বের হচ্ছে। ঐশীর হাতে ছোট্ট একটা ব্যাগ। মুখে হাসি, চোখে দুষ্টুমি। মিতুকে কিছু একটা বলতে বলতে সে হেসে উঠল।
আয়ান একদম স্থির হয়ে গেল।
রাফি তার চোখের সামনে হাত নাড়ল।
রাফি: কিরে বলদা, কী দেখছিস?
আয়ান কোনো উত্তর দিল না।
রাফি: ওহ! বুঝছি! মেয়ে দেখছিস!
আয়ান ধীরে ধীরে বলল—
আয়ান: দোস্ত, ওই মেয়েটারে দেখছিস?
রাফি: কোন মেয়ে?
আয়ান: ওই যে হাসতেছে।
রাফি: বাজারে হাজারটা মেয়ে হাসতেছে। একটু পরিষ্কার করে বল!
আয়ান: সবুজ জামা পরা মেয়েটা।
রাফি তাকিয়ে বলল—
রাফি: ও! সুন্দর তো। চিনিস?
আয়ান: না।
রাফি: নাম জানিস?
আয়ান: না।
রাফি: বাড়ি কোথায় জানিস?
আয়ান: না।
রাফি: তাহলে কী জানিস?
আয়ান বুকের ওপর হাত রেখে বলল—
আয়ান: জানি, এই মেয়েটাই আমার শখের বউ!
রাফি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের মাথায় চাপড় মেরে বলল—
রাফি: হায় আল্লাহ! এই জাওরা পোলার প্রেমে পড়তে আর কতক্ষণ লাগবে?
আয়ান: চুপ কর, শালা! প্রেমে পড়লে মানুষ পাগল হয়, আর আমি তো আগে থেকেই একটু পাগল। সমস্যা কোথায়?
রাফি: সমস্যা হলো, মেয়েটা যদি তোর কিপটামি দেখে পালায়?
আয়ান: পালাবে কেন? আমার কাছে গাড়ি আছে, বাড়ি আছে, টাকা আছে।
রাফি: খরচ করার মন আছে?
আয়ান: ওইটা ব্যক্তিগত ব্যাপার!
রাফি: মানে নাই!
আয়ান: তুই আমারে সাহায্য করবি, নাকি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবি?
রাফি: কী সাহায্য?
আয়ান: মেয়েটার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবি।
রাফি: নিজে গিয়ে কথা বল।
আয়ান: আমি কি পাগল? প্রথম দেখায় গিয়ে কথা বললে মেয়েটা ভাববে আমি সস্তা!
রাফি: আর তুই যে পাঁচ টাকার চা ফ্রি খাওয়ার জন্য দোকানদারের সঙ্গে আধা ঘণ্টা ঝগড়া করিস, সেটা কী? রাজকীয় আচরণ?
আয়ান: শালা, তোর মুখটা বন্ধ করবি?
এদিকে ঐশী আর মিতু রাস্তা পার হয়ে এদিকে আসছিল। আয়ান তাদের দিকে তাকিয়ে নিজের শার্ট ঠিক করল, চুলে হাত বুলাল, তারপর মানিব্যাগ বের করে দেখল।
রাফি: আবার কী করছিস?
আয়ান: ভাবছি, মেয়েটারে কিছু খাওয়াতে হবে কি না।
রাফি: অবশ্যই! প্রথম পরিচয়ে একটা আইসক্রিম খাওয়াতে পারিস।
আয়ান: কত টাকা?
রাফি: পঞ্চাশ-ষাট টাকা।
আয়ান এমনভাবে তাকাল, যেন রাফি তাকে নিজের পুরো সম্পত্তি লিখে দিতে বলেছে।
আয়ান: একটা আইসক্রিমের দাম ষাট টাকা! বরফ, দুধ আর চিনি মিশিয়ে ষাট টাকা! এই দুনিয়ায় মানুষ এত ঠকায় কীভাবে?
রাফি: তুই মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছিস, নাকি আইসক্রিমের ব্যবসা খুলতে যাচ্ছিস?
আয়ান: একটা কাজ কর। তুই আইসক্রিম কিনে আন। তারপর আমি ওর হাতে দিব।
রাফি: টাকা দিবি কে?
আয়ান: তুই।
রাফি: ঠাপ খাবি কিন্তু!
আয়ান: এই যে! তুই আমার বন্ধু হয়ে আমারে ঠাপের হুমকি দিস? জাওরা, শাওয়ার বাল!
রাফি: আচ্ছা, ঠিক আছে। তুই একাই প্রেম কর। আমি বাসায় যাই।
আয়ান: দাঁড়া! তোরে আমি পরে দেখে নিচ্ছি!
কথা শেষ হতে না হতেই ঐশী সামনে এসে দাঁড়াল।
ঐশী: এই যে ভাইয়া, একটু সরবেন? রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
আয়ান কথা বলার জন্য মুখ খুলল, কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না।
যে ছেলে প্রতিদিন দশজনকে ধমক দিয়ে বেড়ায়, সে আজ একটা মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বোবা হয়ে গেছে!
ঐশী ভ্রু কুঁচকে বলল—
ঐশী: কী হলো? কথা বলতে পারেন না?
আয়ান তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।
আয়ান: পারি তো!
ঐশী: তাহলে রাস্তা ছাড়ুন।
আয়ান পাশে সরে গেল। ঐশী চলে যেতে শুরু করতেই সে হঠাৎ বলে উঠল—
আয়ান: এই যে, শুনেন!
ঐশী ফিরে তাকাল।
ঐশী: জি?
আয়ান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল—
আয়ান: আপনার নাম কী?
ঐশী: আমার নাম জেনে কী করবেন?
আয়ান: মানে... জানার জন্য জিজ্ঞেস করছি।
ঐশী: বাহ! নাম জানার জন্য নাম জিজ্ঞেস করছেন! খুব বুদ্ধিমান তো!
রাফি পাশ থেকে মুখ চেপে হাসছে।
আয়ান দাঁত চেপে তাকে একবার দেখে আবার ঐশীর দিকে তাকাল।
আয়ান: আমার নাম আয়ান সাদিক।
ঐশী: আমি তো আপনার নাম জানতে চাইনি।
রাফির হাসি এবার আর থামল না।
আয়ান মনে মনে বলল, ‘আল্লাহ! এই মেয়েটা তো আমারে প্রথম দিনেই নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে!’
ঐশী চলে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই আয়ান তাড়াতাড়ি বলল—
আয়ান: দাঁড়ান! একটা কথা বলি?
ঐশী: বলুন।
আয়ান বুক ফুলিয়ে বলল—
আয়ান: আপনি খুব সুন্দর।
ঐশী একটু থেমে বলল—
ঐশী: ধন্যবাদ। এখন রাস্তা ছাড়বেন?
আয়ান: আরেকটা কথা আছে।
ঐশী: কী?
আয়ান: আপনি কি চা খাবেন?
ঐশী: খাব।
আয়ানের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
আয়ান: তাহলে ওই যে সামনে দোকান, ওখানে চলেন!
ঐশী: কিন্তু চায়ের টাকা আপনি দেবেন তো?
আয়ানের মুখের হাসি এক মুহূর্তে উধাও!
রাফি পিছন থেকে এমন জোরে হেসে উঠল যে পাশের দোকানদারও তাকিয়ে দেখল।
ঐশী মিষ্টি করে হাসল।
ঐশী: কী হলো? টাকা নাই?
আয়ান সঙ্গে সঙ্গে মানিব্যাগ বের করল।
আয়ান: টাকা আছে! আমার টাকা নাই, এমন কথা কে বলছে?
ঐশী: তাহলে এত অবাক হচ্ছেন কেন?
আয়ান: না মানে... চা খাওয়ার আগে একটা কথা জানা দরকার।
ঐশী: কী কথা?
আয়ান গম্ভীর হয়ে বলল—
আয়ান: আপনি চায়ে চিনি খান, নাকি চিনি ছাড়া?
ঐশী: চিনি দিয়ে।
আয়ান মনে মনে হিসাব করল—চিনি বেশি দিলে খরচ একটু বাড়বে কি না!
ঐশী তার মুখের ভাব দেখে হেসে ফেলল।
ঐশী: আচ্ছা, থাক। আজ চা খাব না।
আয়ান: কেন?
ঐশী: আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, আমাকে এক কাপ চা খাওয়ালে আপনার ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে!
এই বলে ঐশী মিতুর হাত ধরে চলে গেল।
আয়ান হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
রাফি কাঁধে হাত রেখে বলল—
রাফি: কী রে কিপটা সাব? শখের বউ তোকে চা খাওয়ার আগেই বিদায় করে দিল!
আয়ান চোখ ছোট করে ঐশীর চলে যাওয়ার দিকে তাকাল।
তারপর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলল—
আয়ান: মেয়েটা আমার পছন্দ হয়েছে।
রাফি: সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু মেয়েটা তোকে পছন্দ করে নাই!
আয়ান: করবে।
রাফি: কীভাবে?
আয়ান নিজের মানিব্যাগ পকেটে ঢুকিয়ে বলল—
আয়ান: সেটাই তো ভাবতেছি। মেয়েটারে পটাতে হবে, কিন্তু টাকা খরচ না করে!
রাফি দুই হাত তুলে আকাশের দিকে তাকাল।
রাফি: আল্লাহ, এই ছেলেরে একটু বুদ্ধি দাও! না হলে এই মেয়ে একদিন ওর সব হিসাব উল্টাপাল্টা করে দেবে!
আয়ান গম্ভীরভাবে বলল—
আয়ান: শোন রাফি, এই মেয়েটারে আমি বিয়ে করব। আর বিয়ের পরে ওর যা যা লাগবে, সব কিনে দেব।
রাফি অবাক হয়ে তাকাল।
রাফি: সত্যি?
আয়ান: হ্যাঁ। তবে একটা শর্ত আছে।
রাফি: কী শর্ত?
আয়ান: জিনিস কেনার আগে আমাকে তিনবার দাম যাচাই করতে হবে। আর একই জিনিস কম দামে পাওয়া গেলে আগের দোকানদারের কাছে ফেরত দিতে হবে!
রাফি: জয় বাংলা! তোর বউ না, তোরে বিয়ে করার জন্য একটা পুরস্কার দেওয়া উচিত—‘দেশসেরা কিপটা পুরুষ’!
আয়ান হেসে বলল—
আয়ান: পুরস্কারটা যদি টাকাসহ হয়, তাইলে আমি রাজি!
রাফি আবার মাথায় হাত দিল।
আর অন্যদিকে ঐশী মিতুর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বলল—
ঐশী: মিতু, ছেলেটা কিন্তু অদ্ভুত!
মিতু: অদ্ভুত না, কিপটা!
ঐশী: কিপটা তো বটেই। তবে মজারও!
মিতু: সাবধান! এই মজার ছেলেই একদিন তোর মাথা খারাপ করে দেবে।
ঐশী হেসে বলল—
ঐশী: আমার মাথা এত সহজে খারাপ হয় না। আর কিপটা ছেলেকে বিয়ে করার চেয়ে সারাজীবন একা থাকা ভালো!
কিন্তু ঐশী জানত না, বাজারের ওই ছেলেটা ইতিমধ্যেই তাকে নিজের মনের মধ্যে ‘শখের বউ’ উপাধি দিয়ে বসে আছে!
আর আয়ানও জানত না, এই মেয়েকে বিয়ে করতে গেলে তার জীবনের সবচেয়ে বড় খরচটা হবে টাকা নয়—নিজের জেদ, অহংকার আর কিপটামি কমানো!
চলবে… ❤️😂
পাঠক-পাঠিকারা, আমার গল্পে তোমাদের কাছে কেমন লাগছে? গল্পটা ভালো লাগলে একটা লাইক দিও আর সুন্দর কমেন্ট করে জানিও। তোমাদের মন্তব্য আমাকে গল্প লিখতে অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। তোমরা কী পছন্দ করছ, আর কোথায় আরও মজা বা পরিবর্তন চাও, সেটাও জানাবে। কমেন্ট না পেলে একসময় গল্প পোস্ট করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারি। তাই পাশে থেকো! 💗