ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবশেষে তুমি..

পর্ব 1

লেখক: আইরিশা / Irisha

অবশেষে তুমি

পর্ব ৬: বিপদের শুরু

লেখিকা: আরফা আইরিশা

সকালের নাশতার টেবিলে আজ অদ্ভুত নীরবতা। সাধারণত সামিরের কথায় পুরো টেবিল হাসিতে ভরে যায়, কিন্তু আজ সে-ও চুপচাপ বসে আছে।

আয়ান খান ফোনে অফিসের মেইল দেখছিল। ইহান চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল। আর ইনায়া বারবার ইহানের দিকে তাকাচ্ছিল, যেন কিছু একটা বলতে চায়।

আয়রা হঠাৎ নীরবতা ভেঙে বলল, — কী ব্যাপার? সবাই এমন চুপ কেন? কারও কি গোপনে বিয়ে ঠিক হয়েছে?

সামির সঙ্গে সঙ্গে বলল, — আপু, তোমার বিয়ে হলে মিষ্টি আমি একাই খাব!

আয়রা তার দিকে তাকিয়ে বলল, — তোর বিয়ে হলে আমি পুরো এলাকায় মিষ্টি বিলাব, শুধু যেন আর কখনো তোর মুখ দেখতে না হয়।

— আপু, এত ভালোবাসা! আমি আবেগে কেঁদে ফেলব।

— কাঁদ। পানি বাঁচবে।

ইনায়া হেসে ফেলল। ইহানও মুচকি হাসল।

কিন্তু আয়ানের ফোনে হঠাৎ একটা কল আসতেই তার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।

— হ্যালো?

ওপাশের কথা শুনে সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।

— কী বলছেন? কখন ঘটেছে?

কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে সে বলল, — ঠিক আছে। আমি এখনই আসছি।

ফোন রেখে আয়ান দ্রুত নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।

ইহান তার পেছনে তাকিয়ে বলল, — কী হয়েছে ভাইয়া?

আয়ান থেমে বলল, — অফিসে একটা সমস্যা হয়েছে। আমাকে এখনই যেতে হবে।

তার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল, যা ইহানের সন্দেহ বাড়িয়ে দিল।

অফিসে অচেনা অতিথি

আয়ান অফিসে পৌঁছে জানতে পারল, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চুক্তির গোপন কাগজপত্র বাইরে চলে গেছে। কারও অনুমতি ছাড়া সেগুলো প্রকাশ হওয়ার কথা নয়।

তার ব্যক্তিগত সহকারী ফাইল এগিয়ে দিয়ে বলল, — স্যার, গত রাতে কেউ আপনার কেবিনে ঢুকেছিল। সিসিটিভি ক্যামেরাও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল।

আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল, — ক্যামেরা বন্ধ ছিল মানে? কে বন্ধ করেছে?

— আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি, স্যার।

আয়ান ফাইলটা বন্ধ করে বলল, — অফিসের সব প্রবেশপথের রেকর্ড পরীক্ষা করুন। আর এই ব্যাপারটা আপাতত বাইরে যেন না যায়।

সহকারী চলে যেতেই আয়ানের ফোনে একটা মেসেজ এল।

“আপনার অফিসের সমস্যা শুধু শুরু। পরিবারের ব্যাপারেও সাবধান থাকুন।”

আয়ান কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

এবার তার সন্দেহ আরও গভীর হলো। অফিসের ঘটনার সঙ্গে কি পরিবারের কোনো সম্পর্ক আছে?

নাকি কেউ ইচ্ছা করেই তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে?

ইনায়ার অভিমান

দুপুরে ইনায়া ইহানকে ফোন করল।

— আপনি কি আজ বাসায় ফিরবেন না?

ইহান অবাক হয়ে বলল, — কেন? ফিরব তো। হঠাৎ জিজ্ঞেস করছেন কেন?

— এমনিই।

— ইনায়া, আপনার ‘এমনিই’ কথাটার পেছনে সাধারণত একটা গল্প থাকে। এবার গল্পটা কী?

ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, — আপনি কয়েক দিন ধরে আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছেন না।

ইহান থমকে গেল।

সত্যিই তো! গত কয়েক দিন অফিসের কাজ আর পরিবারের কিছু বিষয় নিয়ে সে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু ইনায়ার মন খারাপ হয়েছে, সেটা বুঝতে পারেনি।

সে নরম গলায় বলল, — সরি। একটু ব্যস্ত ছিলাম।

ইনায়া মুখ ভার করে বলল, — ঠিক আছে। ব্যস্ত মানুষকে আর বিরক্ত করব না।

— আরে, শুনুন—

ইনায়া ফোন কেটে দিল।

ইহান ফোনের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— এই মেয়েটাকে রাগানো যত সহজ, রাগ ভাঙানো তত কঠিন!

কিছুক্ষণ ভেবে সে আবার ফোন করল।

ইনায়া ফোন ধরতেই ইহান বলল, — আজ সন্ধ্যায় আপনার জন্য একটা জিনিস আছে।

— কী জিনিস?

— সেটা বললে তো চমক থাকবে না।

— আমার চমক পছন্দ নয়।

— তাহলে আপনার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসব?

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর ইনায়া বলল, — কাচ্চি হলে রাগ কমতে পারে।

ইহান হেসে ফেলল।

— বুঝেছি। আপনার রাগেরও একটা দাম আছে!

— বেশি কথা বলবেন না। কাচ্চি আনবেন, ব্যস!

ফোন কেটে ইনায়া নিজেই হেসে ফেলল।

আয়রা ও সামিরের চুক্তি

বিকেলে আয়রা সামিরকে ছাদে ডেকে পাঠাল।

সামির এসে বলল, — কী হয়েছে? আমার নামে আবার অভিযোগ এসেছে?

আয়রা গম্ভীর মুখে বলল, — আমার একটা সাহায্য দরকার।

সামির চোখ বড় করে বলল, — তোমার সাহায্য? পৃথিবী কি শেষ হয়ে যাচ্ছে?

— সামির!

— আচ্ছা, বলো।

আয়রা কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল, — আমি ইহানকে পছন্দ করি। কিন্তু কীভাবে তাকে নিজের মনের কথা বলব, বুঝতে পারছি না।

সামির এবার মজা করা বন্ধ করল।

— তুমি সত্যিই ভাইয়াকে পছন্দ করো?

আয়রা মাথা নাড়ল।

— হ্যাঁ। কিন্তু সে আমাকে ওইভাবে দেখে কি না, জানি না।

সামির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, — আপু, কাউকে পছন্দ করা আর তার কাছ থেকে একই অনুভূতি আশা করা এক জিনিস নয়।

আয়রা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

— বাহ! প্রেমের ব্যাপারে তুই এত জ্ঞানী কবে হলি?

সামির কাঁধ ঝাঁকাল।

— নিজের জীবনেও তো একটু অভিজ্ঞতা আছে। নুহার সামনে গেলেই আমার সব বুদ্ধি ছুটি নেয়!

আয়রা হেসে ফেলল।

তারপর বলল, — তাহলে আমাকে সাহায্য করবি?

সামির একটু ভেবে বলল, — করব। তবে একটা শর্ত আছে।

— কী?

— নুহার সঙ্গে আমার কথা বলিয়ে দিতে হবে।

আয়রা হাত বাড়িয়ে বলল, — চুক্তি!

সামির তার হাতে হাত রেখে বলল, — চুক্তি!

দুজনেই জানত না, এই ছোট্ট চুক্তি ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্কের মধ্যে কত বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে।

অচেনা গাড়ি

সন্ধ্যায় অফিস থেকে বেরিয়ে ইহান গাড়ির কাছে পৌঁছাতেই রাস্তার ওপাশে একটা কালো গাড়ি দেখতে পেল।

গাড়িটা সকালেও সেখানে ছিল কি না, তার মনে পড়ল না।

সে গাড়ির দরজা খুলতে যাচ্ছিল, এমন সময় একজন লোক তার সামনে এসে দাঁড়াল।

— ইহান সাহেব?

— জি। আপনি কে?

লোকটি চারপাশে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল, — আপনার পরিবারের ব্যাপারে একটা কথা জানাতে এসেছি।

ইহানের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।

— কী কথা?

লোকটি পকেট থেকে একটা খাম বের করল।

— আপনার বড় ভাইকে বলবেন, পুরোনো হিসাব এখনো শেষ হয়নি।

ইহান খামটা নিতে হাত বাড়াতেই লোকটি দ্রুত সরে গেল।

— এই যে! দাঁড়ান!

ইহান পেছনে ছুটল, কিন্তু লোকটি কালো গাড়িতে উঠে চলে গেল।

ইহান ফিরে এসে খামটা খুলল।

ভেতরে একটা ছবি—আয়ান, ইহান ও সামির ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। ছবির পেছনে লাল কালিতে লেখা—

“তোমাদের পরিবারে একজন বিশ্বাসঘাতক আছে।”

ইহানের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

কে পাঠিয়েছে ছবিটা?

আর তাদের পরিবারের মধ্যে এমন কে আছে, যাকে বিশ্বাসঘাতক বলা হচ্ছে?

রাতের ফোনকল

রাত প্রায় দশটা।

আয়ান বাড়ি ফিরে ইহানকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠাল। ইহান খামটা তার হাতে দিল।

ছবিটা দেখেই আয়ানের চোখের দৃষ্টি বদলে গেল।

— এটা তুমি কোথায় পেয়েছ?

ইহান পুরো ঘটনা খুলে বলল।

আয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, — আপাতত কাউকে কিছু বলবে না। আমি বিষয়টা দেখছি।

ইহান প্রশ্ন করল, — ভাইয়া, তুমি কি কিছু জানো?

আয়ান তার দিকে তাকাল।

— জানলে তোমাকে বলব।

কিন্তু তার কণ্ঠে এমন দ্বিধা ছিল, যা ইহানের চোখ এড়াল না।

ঠিক তখনই আয়ানের ফোন বেজে উঠল।

অচেনা নম্বর।

আয়ান কল ধরতেই ওপাশ থেকে চাপা কণ্ঠ ভেসে এল—

— ছবিটা পেয়েছেন?

— আপনি কে?

— পরিচয় জানার সময় এখনো আসেনি। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, আয়ান সাহেব—আপনার পরিবারের অতীত যতটা নিরীহ মনে হয়, আসলে ততটা নয়।

আয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলল, — কী চান আপনি?

ওপাশ থেকে উত্তর এল—

— সত্যিটা জানতে চাইলে আগামীকাল রাত আটটায় পুরোনো গুদামঘরে আসবেন। একা।

কল কেটে গেল।

আয়ান ফোনটা নামিয়ে ইহানের দিকে তাকাল।

দুজনেই বুঝতে পারল, তাদের জীবনে এমন এক অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার শেষ কোথায় কেউ জানে না।

আর বাড়ির বাইরে, অন্ধকারের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ দূর থেকে খানবাড়ির জানালার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

তার হাতে ছিল আরেকটি পুরোনো ছবি।

ছবির পেছনে লেখা—

“প্রথম চাল সফল।”

চলবে…!!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন