ফন্ট সাইজ:
থিম:
অদৃশ্য আলোড়ন

পর্ব 3

লেখক: Jannatul Naima

অদৃশ্য আলোড়ন

পর্ব ৩: নীরব আকর্ষণ ও সুপ্ত আঁচল

লেখিকা : জান্নাতুল নাঈমা

__

পরদিন সকালে মেঘ কেটে গিয়ে পুরো ঢাকায় যেন এক নতুন রোদ ফুটে উঠেছে। কিন্তু শাহরিয়ার গ্রুপের চব্বিশ তলার আবহাওয়া তখনও একইরকম গম্ভীর ও থমথমে।

ইনশিরাহ প্রতিদিনের মতো ঠিক সকাল সাড়ে আটটায় নিজের ডেস্কে এসে বসল। গতকাল রাতের সেই চরম উত্তেজনার পর চোখ দুটিতে সামান্য ক্লান্তি লেগে আছে, তবে চেহারায় সেটার বিন্দুমাত্র ছাপ পড়তে দিল না।

নিজের ব্যাগের ভেতরে রাখা এনক্রিপ্ট করা ফাইলগুলোর ছবি আর সেই সিক্রেট ডায়েরির কথা মনে হতেই ওর বুকের ভেতরে একধরনের অদ্ভুত সাহসের সঞ্চার হলো।

নয়টা বাজতে দুই মিনিট বাকি থাকতেই লিফটের শব্দ হলো।

ফারহান শাহরিয়ার হেঁটে আসছে। আজ তার পরনে একটা ডার্ক চারকোল গ্রেই কালারের ফর্মাল কাস্টম স্যুট, সাদা শার্ট, আর স্ট্রাইপড টাই। কাল রাতের ঘটনা নিয়ে তার মুখে কোনোপ্রকার আলাদা এক্সপ্রেশন নেই—একদম শান্ত, তীক্ষ্ণ এবং পেশাদার।

ইনশিরাহ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হালকা হেসে বলল, "গুড মর্নিং, স্যার।"

ফারহান ইনশিরাহের মুখোমুখি এসে এক মুহূর্তের জন্য থামল। তার গভীর দৃষ্টি কয়েক সেকেন্ড ইনশিরাহের চোখের ওপর স্থির হয়ে রইল—যেন সে মেপে নিতে চাইছে কালকের ভয়ের কোনো রেশ এই মেয়ের চোখে বেঁচে আছে কি না।

"গুড মর্নিং, মিস তুবা," ফারহান ঘড়ির দিকে না তাকিয়েই গম্ভীর গলায় বলল, "আজকে সকাল সাড়ে দশটায় আমাদের ইস্টার্ন রিজিয়নের ক্লায়েন্টদের সাথে একটা সাইট ভিজিট আছে। গাজীপুরের প্রজেক্ট লোকেশনে। আপনি সব পেপারওয়ার্ক আর আইপ্যাড নিয়ে রেডি থাকবেন। মাই ড্রাইভার ইজ অন লিভ টুডে, সো আই উইল ড্রাইভ।"

"ইয়েস স্যার," ইনশিরাহ মাথা নিচু করে জবাব দিল।

ফারহান নিজের ক্যাবিনে ঢুকে গেল।

ইনশিরাহ চেয়ারে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। শহরের বাইরে ফারহানের সাথে একা যাওয়া মানেই ওর জন্য আরও বড় একটা পরীক্ষা। ফারহানের তীক্ষ্ণ চোখকে ফাঁকি দেওয়া মোটেও সহজ কথা নয়, কিন্তু একই সাথে তাকে আরও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হতে পারে না।

সকাল ১০:১৫ মিনিটে তারা দুজন নিচে নেমে এলো। শাহরিয়ার টাওয়ারের ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে ছিল ফারহানের কালো রঙের মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলএস।

ফারহান নিজেই ড্রাইভিং সিটের লক আনলক করে উঠে বসল। ইনশিরাহ কিছুটা ইতস্তত করে পেছনের সিটের দরজায় হাত দিতেই ফারহান সাইড মিরর দিয়ে তাকাল।

"মিস তুবা, আপনি কি আমাকে আপনার ব্যক্তিগত ড্রাইভার ভাবছেন?" ফারহানের গলায় একপ্রকার শুকনো ও তীক্ষ্ণ রসিকতা ফুটে উঠল। "কাম টু দ্য ফ্রন্ট সিট।"

ইনশিরাহের গাল দুটো ক্ষণিকের জন্য সামান্য লাল হয়ে উঠল। সে নিজেকে সামলে নিয়ে পেছনের দরজা ছেড়ে সামনের প্যাসেঞ্জার সিটের দরজা খুলে নিঃশব্দে বসে পড়ল। গাড়ির ভেতরে ফারহানের ব্যবহার করা সুগন্ধি পারফিউমের হালকা মিষ্টতা ছড়িয়ে রয়েছে।

ফারহান ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। গাড়িটি মসৃণ গতিতে পার্কিং স্পেস ছেড়ে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় এসে পড়ল।

শুরুর আধঘণ্টা গাড়ির ভেতর সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় ছিল। ইনশিরাহ জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল, আর ফারহান অত্যন্ত দক্ষ হাতে স্টেয়ারিং হুইল ঘুরাচ্ছিল। গাড়ির এসি চলা সত্ত্বেও ভেতরে কেমন একটা অদৃশ্য, টানটান মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছিল।

"আপনি গতকাল রাতে বেশ সাহসী উত্তর দিয়েছিলেন, মিস তুবা," হঠাৎ নীরবতা ভেঙে ফারহান শান্ত গলায় বলে উঠল। তার চোখ তখন রাজপথের দিকে।

ইনশিরাহ চমকে মুখ ফেরাল। "স্যার?"

"আমি বলছিলাম, সাধারণত আমার সিইও উইংয়ে কোনো জুনিয়র কর্মী বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কোনো বিষয়ে ভুল করলে বা ধরা পড়লে ভয়ে কাঁপে।

কিন্তু আপনার চোখে কোনো ভয় ছিল না। ছিল একটা স্পষ্ট জেদ।" ফারহান স্টিয়ারিংয়ে এক হাত রেখে অন্য হাত দিয়ে চিবুক স্পর্শ করল। "কোথা থেকে আসে আপনার এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস?"

ইনশিরাহ মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ফারহান কি তবে তাকে সন্দেহ করছে? সে নিজের গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বলল, "আত্মবিশ্বাস নয় স্যার, ওটা ছিল সত্যি উপস্থাপন করার একটা চেষ্টা। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি আমার কাজে সৎ থাকি, তবে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।"

ফারহান ঠোঁটের কোণে হালকা, এক চিলতে অনিশ্চিত হাসি ফুটিয়ে তুলল। সে ইনশিরাহের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে আবার রাস্তায় চোখ রাখল। "সত্যি? তাহলে তো ভালো।

তবে মনে রাখবেন, সত্যি আর পেশাদারিত্বের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে সত্যিও বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।"

কথাটার গভীরতা ইনশিরাহের বুকের ভেতরে গিয়ে বিঁধল। সে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে আবার জানালার দিকে মুখ ফেরাল।

হাইওয়েতে ওঠার পর হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে এলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। গাড়ির উইন্ডশিল্ডে ঝমঝম করে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে লাগল। ওয়াইপারগুলো দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করল।

হঠাৎ করে সামনের রাস্তা সংকুচিত হয়ে আসায় ফারহান হার্ড ব্রেক কষতে বাধ্য হলো!

একটি বেপরোয়া গতিতে আসা ট্রাক ভুল লেন দিয়ে সোজা তাদের দিকে চলে এসেছিল। ফারহান মুহূর্তের মধ্যে স্টিয়ারিং ডান দিকে ঘুরিয়ে গাড়িটিকে একপাশে সামলে নিল।

ব্রেকের তীব্র ঝাঁকুনিতে ইনশিরাহ সামনের দিকে হেলে পড়েছিল। সিটবেল্ট শক্তভাবে বেঁধে রাখলেও আতঙ্কে ওর মুখ থেকে হালকা চিৎকার বেরিয়ে এলো এবং চোখের পলকে ড্যাশবোর্ডে থাকা একটা হেভি মেটাল ফাইল হোল্ডার ছিটকে ওর দিকে আসতে নিচ্ছিল!

ঠিক সেই সেকেন্ডে! ফারহান অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিজের বাঁ হাতটি বাড়িয়ে ইনশিরাহের বুকের সামনে একপ্রকার সুরক্ষাবলয় তৈরি করল। ফাইল হোল্ডারটি সজোরে এসে বাড়ি খেল ফারহানের হাতের তালুর ওপর!

গাড়িটি রাস্তার পাশে এসে থেমে গেল।

ভেতরে নিঃশ্বাসের দ্রুত শব্দ। ইনশিরাহ চোখ

বন্ধ করে রেখেছিল। ধীরে ধীরে চোখ খুলে সে দেখতে পেল ফারহানের বিশাল, শক্তিশালী হাতটি ওর একদম বুকের কাছে প্রসারিত হয়ে আছে, তাকে কোনো আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য।

ফারহানের মুখ তখন ইনশিরাহের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে। ফারহানের গভীর, বাদামী চোখের মনি দুটো সোজা আটকে আছে ইনশিরাহের ওপর।

ইনশিরাহ অনুভব করল ফারহানের উষ্ণ নিঃশ্বাস ওর কপালে এসে লাগছে। ফারহানের চোখে যে তীব্র উদ্বেগ আর সুরক্ষার আকুতি ভেসে উঠেছিল, তা কোনো নির্দয়, কঠোর সিইওর চোখে থাকার কথা নয়!

"আপনি ঠিক আছেন, তুবা?" ফারহানের গলার আওয়াজ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ভারী শোনাল।

ইনশিরাহের বুকের ভেতরটা দ্রুত গতিতে ধুকধুক করছিল। ফারহানের এত কাছাকাছি আসা এবং তার হাত থেকে আসা স্পর্শের তীব্রতা ইনশিরাহের সুপ্ত হৃদস্পন্দনকে এক মুহূর্তে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

সে ফারহানের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল—সেই তীক্ষ্ণ চোখগুলোর গভীরে যেন প্রতিশোধের সব যুক্তি এক সেকেন্ডের জন্য গুলিয়ে যাচ্ছিল।

"ই... ইয়েস স্যার," ইনশিরাহ তোতলাতে তোতলাতে বলল, "আমি ঠিক আছি। কিন্তু আপনার হাত?"

ফারহান ধীরে ধীরে নিজের হাতটা সরিয়ে নিল। ওর হাতের তালুতে ফাইল হোল্ডারের কোণ লেগে খানিকটা চামড়া ছিলে রক্ত জমে উঠেছে।

কিন্তু সেদিকে ফারহানের কোনো খেয়ালই নেই। সে এক অদ্ভুত মুগ্ধতা আর বিষণ্ণতা নিয়ে ইনশিরাহের চেহারার দিকে তাকিয়ে রইল।

ইনশিরাহের কপালে ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো আর ওর ভীত, হরিণীর মতো চকচকে চোখ দুটি ফারহানের কঠোর মনের কোথাও যেন মোচড় দিয়ে উঠল।

ফারহান নিজের অজান্তেই হাত বাড়িয়ে ইনশিরাহের গালের কাছে আসা চুলেগুলো আলতো করে কানের পেছনে গুঁজে দিল।

সেই আঙুলের মৃদু ও উষ্ণ ছোঁয়ায় ইনশিরাহের পুরো শরীরে এক অদ্ভুত বিজলি খেলে গেল! তার ভেতরের সমস্ত দেওয়াল যেন এক মুহূর্তে কেঁপে উঠল। সে ফারহানের দিকে এক অদ্ভুত ব্যাকুলতা নিয়ে তাকিয়ে রইল।

ফারহান নিজেই যেন নিজের এই অপ্রত্যাশিত আবেগে হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠল। সে দ্রুত নিজের হাত গুটিয়ে নিল। তারপর স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে গলা ঝেড়ে বলল, "ইটস জাস্ট আ স্লাইট স্ক্র্যাচ। নাথিং টু ওয়ারি।"

ইনশিরাহ আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে নিজের ব্যাগ থেকে একটা পার্সোনাল ওয়েট টিস্যু আর অ্যান্টিসেপ্টিক ওয়াইপস বের করল।

"হাতটা দিন, স্যার," ইনশিরাহের গলায় এবার আর কোনো ছদ্মবেশ বা আনুষ্ঠানিকতা ছিল না—ছিল এক অচেনা ব্যাকুলতা।

"ইটস ওকে, তুবা—"

"হাতটা দিন!" ইনশিরাহ একপ্রকার অধিকারবোধ নিয়েই ফারহানের ডান হাতটি নিজের দুহাতে তুলে নিল।

ফারহান আর আপত্তি করল না। সে নিঃশব্দে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল ইনশিরাহের দিকে। ইনশিরাহ অত্যন্ত সতর্ক ও নরম ছোঁয়ায় ফারহানের হাতের ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার করে দিল।

ইনশিরাহের কোমল হাতের ছোঁয়া আর তার আন্তরিক যত্ন ফারহানের শক্ত ও কঠোর হৃদয়ে এক অনাস্বাদিত মিষ্টি অনুভূতির ঝড় তুলল।

বাইরে তখন বৃষ্টির শব্দ, আর গাড়ির সেই ছোট্ট কাঁচঘেরা নিভৃত কোণে দুটো আলাদা জগতের মানুষের মধ্যে নিঃশব্দে তৈরি হচ্ছিল এক অদৃশ্য, গভীর অনুরাগের আলোড়ন—যা কোনো চক্রান্ত, কোনো প্রতিশোধ আর কোনো অবিশ্বাসের নিয়মে বাঁধা যায় না।

ইনশিরাহ ফারহানের ক্ষতস্থানে আলতো করে একটা ব্যান্ড-এইড লাগিয়ে দেওয়ার পর নিজের হাতটা আস্তে আস্তে সরিয়ে নিল। কিন্তু গাড়ির ভেতরের থমথমে নীরবতা আর সেই তীব্র ঘনিষ্ঠতার আবহে বাতাসের ভার যেন দ্বিগুণ হয়ে উঠল।

ফারহান নিজের আহত হাতের দিকে একবার তাকিয়ে, তারপর সরাসরি ইনশিরাহের চোখের মনি দুটোতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।

"আপনি সবসময় এরকম?" ফারহানের গলার আওয়াজ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নিচু ও গম্ভীর শোনাল।

ইনশিরাহ চোখ তুলে তাকাল। "কীসের মতো, স্যার?"

"একদিকে আপনি নিজের সীমানা আগলে রাখার জন্য দেয়াল তৈরি করে রাখেন, আবার অন্য মুহূর্তে সেই দেয়াল ভেঙে এমনভাবে চিন্তা করেন... যা একজন অচেনা সিইওর জন্য অতিরিক্ত।"

ফারহান এক মুহূর্তের জন্য ইতস্তত করল, তারপর ধীর গলায় বলল, "আপনি কি সত্যিই শুধুই একজন পিএ, মিস তুবা? নাকি আপনার এই শান্ত হাসির আড়ালে অন্য কোনো গল্প লুকিয়ে আছে?"

প্রশ্নটা শুনে ইনশিরাহের বুকের ভেতরে হৃদস্পন্দন যেন থমকে গেল। ফারহানের চোখের গভীরতা আর সন্দেহের বারুদ এত কাছাকাছি এসে ওকে প্রায় স্তব্ধ করে দিচ্ছিল। তবে ইনশিরাহ নিজেকে দ্রুত সামলে নিল। সে এক চিলতে ফিকে ও আত্মবিশ্বাসী হাসি ফুটিয়ে ফারহানের দিকে তাকাল।

"আমার কোনো গোপন গল্প নেই, স্যার। আমি শুধু এমন একজন মানুষের অধীনে কাজ করছি, যিনি শত্রুর মুখোমুখি হতে পারেন, কিন্তু ছোট একটা ইনজুরিকে অবহেলা করেন। একজন দায়িত্বশীল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে বসের খেয়াল রাখা আমার কাজেরই অংশ।"

ফারহান ইনশিরাহের উত্তর শুনে কিছু মুহূর্ত চুপ করে রইল। তার ঠোঁটের কোণে আবার ফুটে উঠল সেই পরিচিত, রহস্যময় হাসি। সে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে গাড়ির ইঞ্জিন আবার গিয়ার দিয়ে স্টার্ট দিল।

গাড়ি আবার সামনের ভেজা পিচঢালা হাইওয়ে ধরে এগোতে শুরু করল। বৃষ্টির তোড় এখন কিছুটা কমে এসেছে, কিন্তু ইনশিরাহের মনের ভেতরে যে ঝড় শুরু হয়েছিল, তার বেগ ক্রমশ বাড়ছিল।

সে বুঝতে পারছিল, ফারহান শাহরিয়ারকে যত কাছ থেকে দেখছে, তার ভেতরের জমে থাকা ঘৃণার আড়ালে এক অজানা টান জন্ম নিচ্ছে—যা ওর প্রতিশোধের পথকে যেকোনো সময় টলিয়ে দিতে পারে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন