অদৃশ্য আলোড়ন
পর্ব ৭
লেখিকা : জান্নাতুল নাঈমা
__
পরদিন বিকেল ঠিক সাড়ে চারটে।
শাহরিয়ার গ্রুপের চব্বিশ তলার সেন্ট্রাল বোর্ড রুমের পরিবেশ প্রচণ্ড রকমের থমথমে এবং ভারী। সেন্ট্রাল এসি-র মৃদু গুঞ্জন ছাড়া পুরো বিশাল কাঁচঘেরা রুমে যেন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে।
ওয়ান-পিস ইম্পোর্টেড মাগহগনি কাঠের দীর্ঘ কনফারেন্স টেবিলের চারপাশে বসে আছেন কোম্পানির পাঁচজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী বোর্ড মেম্বার।
টেবিলের একদম ঠিক মাথার চেয়ারটি এখনও খালি—ফারহান শাহরিয়ার এখনও ভেতরে প্রবেশ করেননি।
ইনশিরাহ কনফারেন্স টেবিলের এক কোণে নিজের ট্যাব ও ফিন্যান্সিয়াল ব্যাকআপ ফোল্ডারগুলো গুছিয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর পরনে আজ একটি প্রিমিয়াম ডার্ক গ্রে রঙের ফরমাল প্যান্ট স্যুট এবং তার সাথে মানানসই হিজাব। বাহ্যিকভাবে তার চেহারায় এক পোলিশড কর্পোরেট প্রফেশনালিজম ফুটে থাকলেও, ভেতরে ভেতরে তার প্রতিটি স্নায়ু চরম টানটান।
আজ এই বোর্ড মিটিংয়ে রশীদ শাহরিয়ারের মুখোমুখি হতে হবে, আর এই মিটিংয়ের মাধ্যমেই হয়তো উন্মোচন হতে শুরু করবে তিন বছর আগের সেই জালিয়াতির প্রথম লেয়ারটি।
"মিস তুবা," হঠাৎ পেছনের দিক থেকে একটা ভারি ও শীতল কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
ইনশিরাহ চকিতে ঘুরে দাঁড়াল।
দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন ফারহান শাহরিয়ার।
আজ তার পরনে নিখুঁত কাটছাঁটের থ্রি-পিস স্যুট, চোখের চাউনিতে বরফশীতল কর্তৃত্ব আর চেহারায় এমন এক অপ্রতিরোধ্য আভিজাত্য যা পুরো রুমের বাতাসকে যেন এক নিমেষে ভারী করে তুলল।
"ইয়েস, স্যার," ইনশিরাহ নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে স্বাভাবিক গলায় উত্তর দিল।
ফারহান কোনো কথা না বলে ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে তার নির্ধারিত সিটে গিয়ে বসল। সে বসার সাথে সাথেই পুরো বোর্ড রুমের বয়োজ্যেষ্ঠ ডিরেক্টররা যেন একটু নড়েচড়ে বসলেন।
"মিটিং শুরু করা যাক," ফারহান ঠান্ডা গলায় ঘোষণা দিল। সে তার দুই হাত টেবিলের ওপর রেখে ইনশিরাহের দিকে এক পলক তাকাল।
"মিস তুবা, গাজীপুর হাই-টেক প্রজেক্ট আর ইন্টারনাল অডিটের আগের ফিন্যান্সিয়াল ডিসপ্যারেন্সির ফাইলটা স্ক্রিনে প্রেজেন্ট করুন।"
"জি স্যার, করছি," ইনশিরাহ তার ট্যাবটি সেন্ট্রাল প্রজেক্টর স্ক্রিনের সাথে দ্রুত কানেক্ট করে দিল।
প্রজেক্টরের বিশাল পর্দায় ভেসে উঠল শাহরিয়ার গ্রুপের গত তিন বছরের অফ-শোর অ্যাকাউন্টস এবং সাব-কন্ট্রাক্টর পেমেন্টের হিসাবের গ্রাফ।
ঠিক তখনই বোর্ডের এক কোণ থেকে রশীদ শাহরিয়ার একটা বক্র হাসি হেসে উঠলেন। তার সেই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল এক ধরনের আত্মতুষ্টি ও প্রচ্ছন্ন হুমকি।
"ফারহান," রশীদ শাহরিয়ার নিজের সিটে কিছুটা সামনে ঝুঁকে বসে চতুর গলায় বললেন, "তুমি এই তরুণী পিএ-কে নিয়ে হঠাৎ এত বড় একটা ইন্টারনাল অডিট ওপেন করলে কেন বুঝতে পারছি না। বিগত তিন বছর ধরে এই হিসাবগুলো এভাবে স্মুথলিই চলে আসছে।
মৃত নাবিল চৌধুরীর জালিয়াতির জেরে তো কোম্পানি একবার বড় ধাক্কা খেয়েছিল, এখন আবার নতুন করে এসব কোঁচড় ঘাঁটলে শেয়ারহোল্ডারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে।"
রশীদ শাহরিয়ারের মুখে মৃত নাবিল চৌধুরীর নামটা শোনামাত্র ইনশিরাহের হাতের আঙুলগুলো ট্যাবের স্ক্রিনের ওপর শক্ত হয়ে জমে গেল। বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে চাইলেও সে প্রচণ্ড শক্তিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করল।
ফারহান কোনো কথা না বলে শীতল চোখে তার কাকার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখের সেই দৃষ্টিতে কোনো রাগ বা আবেগ ছিল না, কেবল ছিল এক গভীর ও নিখাদ শিকারীর ধৈর্য।
"শেয়ারহোল্ডারদের আতঙ্ক নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, কাকা," ফারহানের কণ্ঠস্বর বরফের চেয়েও ঠান্ডা শোনাল। "
কোম্পানির তহবিলের কোটি কোটি টাকা যখন কোনো অদৃশ্য চ্যানেলে অফ-শোর অ্যাকাউন্টে ডাইভার্ট হয়, তখন সেটাকে আর সাধারণ হিসাবের গরমিল বলা যায় না।
মিস তুবা, পেজ নম্বর ফোরটি-ফাইভে যে সাব-কন্ট্রাক্টর শেল কোম্পানির মাধ্যমে পেমেন্টগুলো বেরিয়ে গেছে, সেটা স্ক্রিনে প্রজেক্ট করুন।"
"ইয়েস স্যার," ইনশিরাহ সঙ্গে সঙ্গে ট্যাবে কমান্ড দিয়ে স্ক্রিনে নির্দিষ্ট ফাইলটি ফুটিয়ে তুলল।
পর্দায় ভেসে ওঠা তথ্যগুলো দেখামাত্র রশীদ শাহরিয়ারের মুখের সেই কৃত্রিম হাসিটা এক পলকে মিলিয়ে গেল। তার চোখের তারায় খেলে গেল আতঙ্কের এক সূক্ষ্ম আভা। কারণ ওই শেল কোম্পানিগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল রশীদ শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন বেনামী ট্রাস্ট!
"এগুলো... এগুলো সব ভুয়া আর ম্যানিপুলেটেড ডাটা!" রশীদ শাহরিয়ার কিছুটা উচ্চস্বরে টেবিলে হাত রেখে দাঁড়িয়ে উঠলেন।
তিনি সরাসরি ফারহানকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "তুমি তোমার এই নতুন আর কমবয়সি একটা পিএ-র কথায় অন্ধের মতো বিশ্বাস করে আমাকে অপমান করছ, ফারহান? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর চাল আছে?"
রশীদ শাহরিয়ারের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ইনশিরাহের দিকে আঙুল তোলার বিষয়টি ফারহান একেবারেই সহ্য করল না।
ফারহানের চেহারার কঠোরতা এবার এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করল। সেও নিজের চেয়ার ছেড়ে ধীরেসুস্থে সোজা হয়ে দাঁড়াল। ফারহানের সুউচ্চ ও শক্তিশালী শারীরিক উপস্থিতি রুমের অন্য ডিরেক্টরদের মনে এক অজানা কাঁপন ধরিয়ে দিল।
"মিস তুবা যা নিয়ে এসেছে, তা কোনো ভুয়া ডাটা নয়—এটি আমার পার্সোনাল ডিরেক্ট আন্ডার-সার্ভার থেকে ফেচ করা রিয়েল ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইল।
আর এই ট্রেইলটি গত তিন বছর ধরে সুচতুরভাবে লুকানো ছিল," ফারহানের কণ্ঠস্বর পুরো রুমে প্রতিধ্বনিত হলো। "মিটিং আজকের মতো মূলতবি ঘোষণা করা হলো। বোর্ডের বাকি ডিরেক্টররা বের হতে পারেন।
তবে... রশীদ আঙ্কেল, আপনি আমার কেবিনে একটু বসবেন। আপনার সাথে আমার একান্ত কিছু হিসাব মেলানো বাকি আছে।"
বোর্ড রুমের বাকি ডিরেক্টররা দ্রুত ফাইলপত্র গুছিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। মুহূর্তে বিশাল রুমে শুধু রইলেন রশীদ শাহরিয়ার, ফারহান এবং ইনশিরাহ।
ইনশিরাহ ফাইলপত্র গুছিয়ে কেবিন থেকে বের হওয়ার উপক্রম করতেই ফারহান ঠান্ডা গলায় বলল, "মিস তুবা, আপনিও থাকবেন। ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইলের অরিজিনাল ডাটাগুলো আপনার কাছেই আছে।"
ফারহানের ব্যক্তিগত এক্সিকিউটিভ কেবিন।
বাইরে তখন গোধূলির আলো মিলিয়ে আসছে।
কেবিনের দরজা বন্ধ হতেই ভেতরের পরিবেশ যেন বরফের মতো জমে গেল। ফারহান তার বিশাল লেদার চেয়ারে বসল না, সে দুই হাত পকেটে গুঁজে সোজা গিয়ে দাঁড়াল রশীদ শাহরিয়ারের সামনে।
রশীদ শাহরিয়ার বয়সে অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও ফারহানের এই নির্মম ও নির্ভীক চাহনির সামনে সামান্য অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন।
তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে কৃত্রিম রাগের সুরে বললেন, "ফারহান! একটা বহিরাগত নতুন মেয়ের কথায় তুই তোর আপন কাকার দিকে সন্দেহের আঙুল তুলছিস? ওই নাবিল চৌধুরী তো তিন বছর আগে জালিয়াতি করে মরে বেঁচে গেছে, এখন তুই কি আবার সেই পুরনো ভূত জাগাতে চাস?"
"ভূত আমি জাগাচ্ছি না, কাকা... ভূত আপনাদের কাঁধে চড়েই এতদিন নাচছিল," ফারহানের গলায় কোনো চিৎকার ছিল না, কেবল ছিল এক মৃত্যুর শীতলতা।
সে ডেস্কের ওপর থেকে একটি প্রিন্টেড ফাইল রশীদ শাহরিয়ারের ঠিক চোখের সামনে ছুঁড়ে দিল। "এই ফাইলটা চিনতে পারছেন?
তিন বছর আগে যে অফ-শোর শেল কোম্পানিতে আড়াইশো কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল, তার সিগনেচার ভেরিফিকেশন কোড বলছে—এই ট্রাস্ট সরাসরি আপনার রিমোট এক্সেস থেকে পরিচালিত!"
রশীদ শাহরিয়ার ফাইলটার দিকে তাকিয়ে কেঁপে উঠলেন। তার মুখ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কথা বের হলো না।
ইনশিরাহ এক কোণে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে এই দৃশ্য দেখছিল। তার বুকের ভেতরে তখন আছড়ে পড়ছে ঝড়ের পর ঝড়। ওই লোকটাই তবে তার বাবাকে শেষ করে দিয়েছিল!
"আজ আমি শুধু আপনাকে ওয়ার্নিং দিলাম, কাকা," ফারহান ঝুঁকে রশীদ শাহরিয়ারের ঠিক চোখের দিকে তাকিয়ে চরম হুশিয়ারি দিল।
"কোম্পানির তালের এক বিন্দু নড়চড় আমি সহ্য করব না। আর আমার অফিসের কোনো স্টাফ বা ফাইল নিয়ে যদি ভবিষ্যতে টানাটানি করার চেষ্টা করেন... তবে কোম্পানির সিইও হিসেবে নয়, আপনার ভাতিজা হিসেবে আমার হাত কতদূর লম্বা, তা ভালোমতো টের পাবেন।"
রশীদ শাহরিয়ার রাগে ফ্যাকাশে মুখে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে কোনোমতে বলে উঠলেন, "তুই... তুই একটা অকৃতজ্ঞ পিশাচ! নিজের কাকার সাথে এই ভাষায় কথা বলছিস?"
"পরিবার বাঁচাতে হলে বিষাক্ত সাপকে খতম করতে হয়, কাকা," ফারহান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কলিং বেল টিপে দিল। "সিকিউরিটি! রশীদ স্যারকে লিফট পর্যন্ত পৌঁছে দিন।"
রশীদ শাহরিয়ার চরম অপমান ও আক্রোশে কাঁপতে কাঁপতে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন।
কেবিনের দরজা বন্ধ হতেই ইনশিরাহের শরীরটা কেঁপে উঠল। সে এতক্ষণ ধরে নিজের সমস্ত আবেগ আর জিদকে আটকে রেখেছিল।
ফারহান যেভাবে নিজের কাকার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, তা দেখে ইনশিরাহের মনে এক অদ্ভুত বিস্ময় আর নতুন ভয়ের জন্ম হলো।
"মিস তুবা," ফারহানের গম্ভীর ডাক ভেসে এলো।
ইনশিরাহ চমকে মুখ তুলে ফারহানের দিকে তাকাল। সে দেখল ফারহান তার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সোজা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। তার সেই বরফশীতল কর্পোরেট মুখোশটা এখন কিছুটা সরে গেছে, যার জায়গায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক দুর্ভেদ্য রহস্য।
"আপনি খুব ভালো কাজ করেছেন আজ," ফারহান ধীর পায়ে ইনশিরাহের আরও কিছুটা কাছাকাছি এগিয়ে এলো। তার পারফিউমের পরিচিত সুবাস ইনশিরাহের নাকে এসে লাগল। "কিন্তু আপনার কি মনে হয় না, আপনি এই ফাইলের গভীরে যতটা প্রবেশ করছেন, পরিস্থিতি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?"
ইনশিরাহ এক মুহূর্তের জন্য ফারহানের সেই গভীর বাদামী চোখের গভীরে হারিয়ে গেল। সে কি তবে বুঝতে পেরেছে যে ইনশিরাহ শুধু একজন সাধারণ পিএ নয়? নাকি সে জেনেশুনেই ইনশিরাহকে তার এই প্রতিহিংসার খেলায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে?
"আমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আপনার এত মাথাব্যথা কেন, স্যার?" ইনশিরাহ নিজের হিজাবটা সামান্য ঠিক করে সাহসিকতার সাথে ফারহানের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল।
"আমি তো কেবল আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি।"
ফারহান ইনশিরাহের এই নির্ভীক উত্তর শুনে এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে রইল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক রহস্যময় হাসি।
"দায়িত্ব তো অনেকেই পালন করে, তুবা... কিন্তু কেউ কেউ নিজের অজান্তেই আগুনে হাত দিয়ে বসে," ফারহান খুব নিচু ও মায়াবী কিন্তু হুশিয়ারিমূলক গলায় ফিসফিস করে বলল।
"আর আগুন নিয়ে খেলার পরিণতি কখনো মধুর হয় না... যদি না আপনি নিজেই সেই আগুনের সাথে মিশে যেতে চান।"
ফারহান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। সে নিজের ফাইলের ফোল্ডারটি হাতে তুলে নিয়ে দীর্ঘ পদক্ষেপে বোর্ড রুম ছেড়ে নিজের এক্সিকিউটিভ কেবিনের দিকে চলে গেল।
ইনশিরাহ একা দাঁড়িয়ে রইল বিশাল বোর্ড রুমের কাঁচের জানালার সামনে। বাইরে তখন গোধূলির আলো এসে পড়েছে ঢাকার ব্যস্ত শহরের ওপর।
ফারহানের সেই শেষ কথাগুলো ইনশিরাহের মনের দেয়ালে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল—'আগুন নিয়ে খেলার পরিণতি কখনো মধুর হয় না...'
তাহলে কি ফারহান সবকিছু জেনেই ইনশিরাহকে এই ধ্বংসাত্মক খেলায় টেনে আনছে?
নাকি এই দুই পরিবারের রক্তমাখা অতীতের জালে তারা দুজনেই আজ এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা পড়ে গেছে?
চলবে......
(প্রিয় পাঠক/পাঠিকারা আপনারা গল্প পড়েন কিন্তু লাইক,কমেন্ট করেন না এতে খুব-ই খারাপ লাগে!প্লিজ গল্প পড়ার পর কমেন্ট করে জানাবেন কেমন লাগছে!আর অবশ্যই ভালো কমেন্ট করবেন নেতিবাচক মন্তব্য লেখিকার লেখার অনুপ্রেরণা হারায়)