#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৩৪) এর বর্ধিতাংশ
( অনুমতিবিহীন কপি করা নিষিদ্ধ।)
হাসপাতালের বেড এ নিস্তেজ হয়ে পরে আছে নূর। পিটপিট করে চোখ খুলতেই পেট এ হালকা ব্যথা অনুভব করে সে। পুরোপুরি চোখ মেলে তাকাতেই দেখতে পায় একজন নার্স তার রক্তের ব্যাগ খুলে নিচ্ছে। নূরের কিছু একটা মনে পড়তেই সে নিজের পেট এ হাত দেয়। পেট এ হাত দিতেই সে নিস্তব্ধ হয়ে যায়।শরীর কাঁপতে শুরু করেছে তার।নার্স নূরের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে দ্রুত চলে যায় ডাক্তার ডাকতে। ডাক্তার আসতেই নূর তড়িঘড়ি করে বলে,
" ডাক্তার দেখুন না! আমার বাচ্চা নড়ছে না। আমার বেবির নড়চড় নেই কেন?"
" আপনি শান্ত হোন মিসেস শাহ।আমার কথাটা মন দিয়ে শুনুন।"
নূর ডাক্তারের কথা অগ্রাহ্য করে চিৎকার করে বললো,
" আগে বলুন আমার বাচ্চা নড়ছে না কেন।কি করেছেন আপনারা আমার সাথে।আমার বাচ্চা কোথায়!"
ডাক্তার পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে আদ্রিয়ানকে ফোন করে। আদ্রিয়ান মেঝেতে হাত পা ছড়িয়ে বসেছিলো তার সন্তানের র'ক্তের সামনে।হঠাৎ ফোন আসায় সে মোবাইল বের করে দেখলো ডাক্তার ফোন করেছে। আদ্রিয়ান ফোন ধরতেই তিনি বলে উঠেন,
" আদ্রিয়ান তুমি দ্রুত হাসপাতাল এসো।তোমার স্ত্রী'র জ্ঞান ফিরেছে। "
আদ্রিয়ান নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো। সারা শরীর র'ক্তে মাখা। রাহেলা শাহ দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, আদ্রিয়ান একটি বারের জন্যেও তার দিকে ফিরে তাকালো না। আদ্রিয়ানকে বেরিয়ে যেতে দেখে রাহেলা শাহ তার পেছন পেছন গেইট পর্যন্ত এসে বললেন,
" কোথায় যাচ্ছো আদ্রিয়ান? "
আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'র প্রশ্নে ফিরে তাকালো তার দিকে, অত:পর তাকে অগ্রাহ্য করে চলে গেলো। রাহেলা শাহ ধপ করে বসে পড়লেন মেঝেতে। মেঝেতে পরে থাকা সেই সম্পত্তির কাগজ যেটাতে আদ্রিয়ান ও ইলহামের সই করে আছে সেটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে কাঁদতে লাগলেন,
" সম্পত্তি ও অহংকারের বশে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম আমি।নিজের দোষেই সব হারিয়ে ফেললাম। নিজের র'ক্ত কে খু'ন করেছি আমি।"
ফ্লোরে মাথা ঠুকতে লাগলেন তিনি কিন্তু আজ তাকে দেখার মতো কেউ নেই।নিজের দোষে নিজের সবকিছু হারিয়ে ফেললেন মুহূর্তের মাঝেই।
আদ্রিয়ান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে।নূর তার হাত দুহাতে নিজের চুল চেপে ধরে চিৎকার করে কাঁদছে।ডাক্তার আদ্রয়ানকে দেখে তার কাছে এসে বললো,
" আদ্রিয়ান তুমি প্লিজ ওকে সামলাও।এভাবে চলতে থাকলে মানসিক প্রেসার পরবে তোমার স্ত্রীর উপর।"
আদ্রিয়ান ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে নূরের দিকে। নূর আদ্রিয়ানকে দেখতে পেয়ে পাশে থাকা গ্লাস আদ্রিয়ানের দিকে ছুড়ে মারলো। আরেকটু হলেই আদ্রিয়ানের কপালে গিয়ে ঠেকতো সেই গ্লাস। নূর আদ্রিয়ানের দিকে আঙ্গুল তাক করে বললো,
" এই অমানুষটার জন্য আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। এই জানোয়ার আমার সন্তানকে বাঁচতে দেয়নি।আমিও উনাকে বাঁচতে দিবো না।"
" নূর আমার কথাটা শুনো। শান্ত হও তুমি।"
আদ্রিয়ান নূরকে সামলানোর জন্য তার কাছে আসতে চাইলে নূর চিৎকার করে বলে উঠলো,
" চলে যান আপনি এখান থেকে। আমার চোখের সামনে থেকে দূর হোন নয়তো .... "
নূরকে আরও বেশি ক্ষেপে যেতে দেখে ডাক্তার আদ্রিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বললো,
" আদ্রিয়ান তুমি আপাতত বেরিয়ে যাও।উনি হয়তো তোমাকে দেখতে চাইছেন না।"
আদ্রিয়ান নূরকে হাইপার হতে দেখে ডাক্তারের কথা শুনে বাইরে চলে যেতেই ডাক্তার নূরকে একটি ঘুমের ইনজেকশন দেয়। নূর আস্তে আস্তে তলিয়ে যায় বেঘোর ঘুমে। নূর ঘুমিয়ে গেলে ডাক্তার আদ্রিয়ানকে ডেকে বললো ,
" ভ্রুণ কবর দিতে হবে যত তারাতাড়ি সম্ভব। তুমি তারাতাড়ি ব্যবস্থা করো।"
কবর দেওয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ান এক পলক ডাক্তারের দিকে তাকালো। বাবা হয়ে সন্তানকে কবর কিভাবে দিবে সে! তার পক্ষে সম্ভব নয়।
" আমার কাছে দিন!"
পেছন থেকে কারো শব্দ পেয়ে আদ্রিয়ান পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে ইলহাম এসেছে।আদ্রিয়ান ইলহামকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। ইলহাম নিজেও ভেতরে ভেতরে কষ্ট পাচ্ছে,আর কয়দিন পর তার ও সন্তান পৃথিবীতে আসবে। তার সন্তান পৃথিবীতে আসলে আদ্রিয়ান কি করে নিজেকে সামলাবে। মা-বাবার কাছে তার সন্তানদের চেয়ে বড়ো আর কিছু নেই।ইলহাম আদ্রিয়ানকে সরিয়ে ভ্রুণটিকে নিজের হাতে নেয়। তোয়ালে দিয়ে পেঁচানো ভ্রুণটিকে দেখার শক্তি তার মাঝে নেই। ইলহাম চোখ বন্ধ করতেই এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো তার চোখ থেকে। ইলহামের পিছু পিছু আদ্রিয়ান ও বেরিয়ে গেলো হাসপাতাল থেকে।
আকাশজুড়ে কালো মেঘের ভিড়। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে চারপাশে। দমকা হাওয়ায় এলোমেলো করে দিলো আদ্রিয়ানের চুল। ইলহাম গাড়িতে উঠে তোয়ালেতে মোড়ানো ভ্রুণটিকে বুকের কাছে আগলে ধরলো। আদ্রিয়ানের চোখ লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। সে ভ্রুণটিকে ইলহামের কাছ থেকে নিয়ে নিজের বুকের কাছে আগলে ধরলো, অত:পর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতেই ইলহাম তার কাঁধে হাত দিয়ে আশ্বাস দিয়ে বললো,
" নিজেকে শক্ত কর। তুই ভেঙে পরলে নূরের কি হবে। নূরকে কে সামলাবে।"
" আমার ছেলেটাতো নির্দোষ ছিলো তাহলে আমার পাপের শাস্তি আমার ছেলেকে কেন ভোগ করতে হলো চাচ্চু।"
ইলহাম জবাব দিতে পারলো না আদ্রিয়ানের প্রশ্নের উত্তরের। গাড়ি থেমেছে কবরস্থানের সামনে। অন্ধকার ঝোপঝাড় পার হয়ে আদ্রিয়ান ও ইলহাম এলো তাদের কাঙ্খিত জায়গায়। বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ ভেসে আসছে নাকে। কবর দেওয়ার সময় আদ্রিয়ানের হাত কাঁপতে লাগলো অস্বাভাবিক ভাবে। সে তোয়ালেতে মোড়ানো ভ্রুণটি ইলহামের হাতে তুলে দিয়ে ইশারায় বললো কবর দিতে।ইলহাম মাটি দিতেই আদ্রিয়ান মাটির উপর মাথা ঠুকে কাঁদতে লাগলো।
" আমায় ক্ষমা করে দিও সোনা। বাবা তোমায় রক্ষা করতে পারিনি। "
অঝোর ধারায় কাঁদছে আদ্রিয়ান। ইলহাম আদ্রিয়ানকে সরাতে চাইলেও পারলো না। ইলহামের একত্রিশ বছর বয়সে এসে এই প্রথম আদ্রিয়ানকে কাঁদতে দেখলো। যাই হোক না কেন কখনো চোখের জল ফেলেনি আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানকে কাঁদতে দেখে ইলহামের বুকের ভেতর হু হু করে উঠলো। হঠাৎ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামতে শুরু করলো, বৃষ্টির গতি বেড়ে যাওয়ায় ইলহাম আদ্রিয়ানকে টেনে তুললো কবরের উপর থেকে। বৃষ্টির পানিতে তার শরীরে লেগে থাকা শুকনো র'ক্ত ধুয়ে যেতে লাগলো।
" হাসপাতালে চল আদ্রিয়ান। বেশিক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে অসুস্থ হয়ে যাবি।"
আদ্রিয়ান দুচোখ ভরে দেখছে তার সন্তানের কবর।সে মিনমিন করে বলে উঠলো,
" আমার ছেলেটাও তো বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে, ও অসুস্থ হয়ে যাবে না? "
ইলহাম কি বলবে ভাষা খুঁজে পেলো না। সে আদ্রিয়ানের কাঁধে হাত রেখে বললো,
" পাগলামো করিস না আদ্রিয়ান। চল।"
আদ্রিয়ান এক পা ও নড়লো না। আগের মতো করেই দাঁড়িয়ে আছে, এক পলকে তাকিয়ে আছে কবরের দিকে। এ পর্যায়ে বৃষ্টির বেগ বাড়তে শুরু করায় ইলহাম আদ্রিয়ানকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। নূরকে হাসপাতালে আনার পর এখনো পর্যন্ত এক ফোটা পানিও খায়নি আদ্রিয়ান। ইলহাম এক কাপ চা নিয়ে আদ্রিয়ানের কাছে যায়। আদ্রিয়ান দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে। মাত্র কয়েক ঘন্টার মাঝেই চেহারায় ক্লান্তির ছাপ বসে গিয়েছে। চোখ দুটো লালবর্ণ ধারণ করেছে যেন কতদিন ঘুমায় না সে। ইলহাম আদ্রিয়ানের দিকে চা এগিয়ে দিতেই সে ইলহামের হাত সরিয়ে দিয়ে বলে উঠে,
" খাবো না চাচ্চু। জোর করো না।"
" সারাদিন কিচ্ছু খাসনি। চা খেলে শরীর ক্লান্ত লাগবে না আর।"
" গলা দিয়ে কিছু নামবে না চাচ্চু। "
এর মাঝেই একজন নার্স এসে বললো,
" আপনার স্ত্রীর ঘুম ভেঙেছে। আপনি এখন ভেতরে যেতে পারেন। "
আদ্রিয়ান ধীরপায়ে এগিয়ে গেলো নূরের সামনে। নূরের সামনে দাঁড়ানোর মতো শক্তি নেই তার। কি জবাব দিবে তাকে। নূর শান্ত হয়ে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে কোন শব্দ ছাড়া। আদ্রিয়ান নূরের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো সত্ত্বেও নূরের কোন হেলদোল দেখা গেলো না। সে নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে ফ্যানের দিকে যেন তার শরীরে জান নেই। আদ্রিয়ান কিছুসময় চুপ থেকে অত:পর বলে উঠলো,
" নূর!"
নূর পাশ ফিরে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে কিন্তু কোন শব্দ করলো না। আদ্রিয়ান বুঝতে পারলো না নূরের মতিগতি।আদ্রিয়ান আবারও ডেকে উঠলো,
" নূর! কথা বলো। তোমার কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো।"
নূর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে, অত:পর বললো,
" খুশি হয়েছেন? "
আদ্রিয়ান বুঝতে পারলো না নূর কি বলছে, সে নূরের দিকে তাকিয়ে বললো,
" এসব তুমি কি বলছো? কেন খুশি হবো?"
" আপনার তো খুশি হওয়ার কথা।আমার সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার পরেও মন ভরেনি? আর কি কেড়ে নিতে চান? "
আদ্রিয়ান নূরের পায়ের সামনে বসে তার পা দুটো আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলো, অত:পর তার পায়ে মাথা ঠেকিয়ে বললো,
" আমার ক্ষমা করে দাও নূর। আমি বুঝতে পারিনি মা তোমার সাথে এতো অত্যাচার করবে। "
" ক্ষমা করে দিলে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন? "
আদ্রিয়ান চুপ করে রইলো নূরের কথায়। নূর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো,
" বলুন ফিরিয়ে দিতে পারবেন কিনা! "
আদ্রিয়ান নিঃশব্দে মাথা নাড়লো। নূর চুপ করে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো। আদ্রিয়ানের চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে।
" চলে যান আমার সামনে থেকে। আমি আপনাকে সহ্য করতে পারছি না। "
" এভাবে বলো না নূর। তুমিও আমায় তাড়িয়ে দিলে আমি কার কাছে যাবো। আমার একমাত্র সম্বল তুমি। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো তবুও আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। "
নূর নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো। তার মুখ ফুটে এক শব্দ ও বের হলো না।
" আমি জানি আমি ভুল করেছি। শুরু থেকেই ভুল করে এসেছি। আমি জানি এই ভুলের কোন প্রায়শ্চিত্ত নেই। কথা বলো নূর।"
এইবার নূর কোন শব্দ করলো না যেন সে কথা বলা ভুলে গিয়েছে। আদ্রিয়ানের আকুতি মিনতি তার মনকে স্পর্শ করতে পারলো না। ইতিমধ্যে ইলহামের তার শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে সবটা জানিয়েছে শুধু মাত্রা পায়রাকে ছাড়া। পায়রার শরীরের অবস্থাও ভালো না। এসব শুনলে হয়তো তার শরীরের জন্যই ক্ষতি হবে। ডাক্তার নূরকে ঔষধ লিখে দেওয়ার পর আদ্রিয়ান জিগ্যেস করলো,
" নূরকে কখনো বাড়ি নিয়ে যেতে পারবো? "
" আজকেই পারবে। "
" ঠিক আছে তাহলে আমি একটু পরেই ওকে নিয়ে রওনা দিচ্ছি।"
সব ঔষধপত্র বুঝে নেওয়ার পর আদ্রিয়ান নূরকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়। এ পর্যন্ত একটা শব্দ ও করেনি নূর।ডাক্তার বলেছে র'ক্তক্ষরণ হওয়ায় সে বেশিদূর হাঁটতে পারবে না। গাড়ি থেকে নেমেই আদ্রিয়ান নূরকে কোলে নিয়ে ভেতরে চলে গেলো। অথচ কোলে নেওয়ার পরেও সে আদ্রিয়ানের কাঁধে হাত রাখলো না, হাত দুটো গুটিয়ে রাখলো নিজের কোলে। আদ্রিয়ান জানে নূর হয়তো আর তার সাথে কোন প্রকার কথা বলবে না। রাহেলা শাহ তাদের ফিরতে দেখে দরজার সামনে দাঁড়ান কিন্তু আদ্রিয়ান তাকে অগ্রাহ্য করে ভেতরে চলে গেলো যেন রাহেলা শাহ'র কোন অস্তিত্ব'ই নেই। নূরকে বিছানায় বসিয়ে সে মেঝেতে শুকিয়ে যাওয়া র'ক্ত একটা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললো। র'ক্ত পরিস্কার করা কাপড় সে ধুয়ে ফেললো না বরং একটা প্যাকেট এ রেখে দিলো। তার সন্তানের কোন অংশ সে ফেলে দিতে চায় না। শরীর ভেঙে পরছে তার ক্লান্তিতে। আদ্রিয়ান বাথরুমে যেতেই নূর বিছানা থেকে উঠে ধীরপায়ে আলমারির কাছে যায়। তার শাড়ির টুকরো দিয়ে বানানো ছোট্ট একটা ফতুয়া বের করে সাদা রঙে। অত:পর ডুকরে কেঁদে উঠলো,
" আমার আরিয়ান! আমার আব্বাজান। তুমি কেন চলে গেলে আমায় ফেলে। আম্মু'র কোল খালি করে কেন চলে গেলে সোনা।"
আদ্রিয়ান গোসল সেরে বেরিয়ে এসে দেখে নূর দাঁড়িয়ে আছে আলমারির সামনে।দুহাতে আঁকড়ে ধরেছে ছোট একটা ফতুয়া। ইলহামের ফোন আসায় সে বেলকনিতে চলে যায় কথা বলতে।
" নূর কি করছে? "
আদ্রিয়ান এক পলক নূরের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো,
" একটা ফতুয়া আঁকড়ে ধরে মনমরা হয়ে আছে।"
" তোর সাথে কোন কথা বলেনি?"
আদ্রিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো ,
" না।"
"আমার মনে হয় এখানে থাকলে ওর কষ্ট আরও বাড়বে। তুই ওকে ওর বাড়িতে দিয়ে আয়।"
" এখন?"
" হ্যাঁ। দিয়ে আয়।"
" ঠিক আছে।"
আদ্রিয়ান ফোন রেখে এক সেট থ্রি-পিস নূরের দিকে এগিয়ে দিয়ে মলিন কন্ঠে বললো,
" এগুলো পড়ে এসো। তোমার বাবার বাড়িতে যাবো।"
নূর আদ্রিয়ানের হাত থেকে কাপড় নিয়ে পরে আসে। নূর বেরিয়ে আসতেই আদ্রিয়ান তাকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি যায়। মোরশেদা বেগম ও রেজাউল খান বাড়িতেই ছিলেন।নূরকে দেখতে পেয়ে ঝাপটে জড়িয়ে ধরেন তাকে। আদ্রিয়ান নূরকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে বললো,
" আমি ভুল করেছি আব্বা। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিবেন। নূরকে কিছুদিনের জন্য এখানে দিয়ে গেলাম। নূর ফোন করলেই আকি নিতে চলে আসবো।"
আদ্রিয়ান দুহাতে চোখ মুছে নূরের দিকে তাকায়, যে কিনা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। আদ্রিয়ান তার দিকে এক পলক তাকিয়ে বেরিয়ে যায়। নূর এতোক্ষণ চুপ থাকলেও আদ্রিয়ান বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই কান্নায় ভেঙে পরে রেজাউল খানের বুকে। তিনি মেয়ে বুকে জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই নূর কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো,
" আমার সন্তানকে বাঁচতে দিলো না আব্বু। আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটা কি এমন ক্ষতি করেছে। ওদের জন্য আজ আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি।"
" আদ্রিয়ান ও তো একজন বাবা। হয়তো আদ্রিয়ান নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি ওর চোখে অনুশোচনা দেখতে পেয়েছি।"
নূর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
" আমি তালাক চাই উনার থেকে আব্বা।আমি আর ওই বাড়ি ফিরে যেতে চাই না।"
চলবে,,,,,,,,,,,
( সবাই রেসপন্স করুন। প্লিজ ১.৩কে করে দিন।) গল্পের সকল তথ্য পেতে ও আলোচনা করতে জইন হোন আমার গ্রুপে)
https://facebook.com/groups/4214405902220456/