ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

৩৪তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(৩৪) প্রথমাংশ

( অনুমতি বিহীন কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।)

আদ্রিয়ান নূরকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।শরীর রীতিমতো কাঁপছে তার।কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। নূরকে আঁকড়ে ধরতেই আদ্রিয়ানের সাদা শার্ট র'ক্তে মেখে গিয়েছে।সে আর এক মুহুর্ত ও দেরি করলো না, সাথে সাথে ছুটলো গাড়ির দিকে,

" কিচ্ছু হবে না তোমার।আরেকটু অপেক্ষা করো।"

নূর নিভু নিভু দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো,

" আমার বাচ্চাকে বাঁচিয়ে নিন।ওর যেন কিছু না হয়।"

বাচ্চার কথা শুনে আদ্রিয়ান থমকে গেলো এক মুহুর্তের জন্য। সে অবাক করা দৃষ্টিতে তাকালো নূরের দিকে।রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানকে বের হতে দেখে রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন।হঠাৎ নূরকে গাড়িতে বসাতে দেখে তিনি কিছুটা বিচলিত হয়ে আদ্রিয়ানের ঘরে যান। মাঝেতে পরে থাকা রক্ত দেখে আতঙ্কে পরে যান।আদ্রিয়ান যদি এই ব্যপারে কিছু জিগ্যেস করে তাহলে তিনি কি উত্তর দিবেন। আদ্রিয়ান সর্বোচ্চ স্পিড বাড়িয়ে গাড়ি চালাচ্ছে এবং বারবার পেছন ফিরে নূরের অবস্থা পর্যবেক্ষন করছে।নূরের শ্বাস ধীর গতিতে চলছে। হাসপাতাল পৌঁছাতেই আদ্রিয়ান নূরকে নিয়ে ছুটে যায় ভেতরে। নূরকে ওটিতে নেওয়া হলে আদ্রিয়ান তার র'ক্তমাখা হাত দেখে কাঁপতে থাকে। এই বুঝি নূরের কিছু হয়ে যাবে। নূরের কিছু হতে দেবে না সে।

কলিং বেল বাজতেই রাহেলা শাহ কপালের ঘাম শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে দরজা খুলতেই দেখতে পান পরিচিত এক অবয়ব। ইলহাম এসেছে অনেকদিন পর এই বাড়িতে। ইলহাম ভাবলেশহীন ভাবে এসে সোজা সোফায় বসে পড়লো।রাহেলা শাহ তার সামনে এসে বললেন,

" ইলহাম আজ এই সময়ে এলে যে? আদ্রিয়ানকে খুঁজছো?"

ইলহাম শার্টের কলার ঠিক করে বললো,

" আপনার সাথেই কথা ছিলো ভাবি।বসুন।"

ইলহামের কথায় রাহেলা শাহ তার সামনে বসেন।অতিরিক্ত পরিমাণে ঘামছেন তিনি।ইলহাম তা দেখে মৃদু হেসে বললো,

" কিছু হয়েছে ভাবি? নাকি গরম বেশি পড়েছে?"

রাহেলা শাহ হকচকিয়ে যান তার প্রশ্নে।আমতাআমতা করে বলেন,

" আজকাল গরম বেশি পড়েছে।"

" আপনি এমনটা কি করে করতে পারলেন ভাবি?"

রাহেলা শাহ কিছুটা ভয় পেয়ে যান তার প্রশ্নে। তিনি ইলহামের দিকে না তাকিয়ে নিচে তাকিয়ে শাড়ির আঁচল খুটতে খুটতে বললেন,

" কি বলতে চাইছো তুমি? "

" আপনি আজ সকালে রবিন হুজুরের কুঠিরে কি করতে গিয়েছিলেন ভাবি?"

রাহেলা শাহ অবাক দৃষ্টিতে তাকায় ইলহামের দিকে।ইলহাম কি করে জানলো এতোসব। তিনি কপালের ঘাম মুছে আমতাআমতা করে বললেন,

" আমি কাজে গিয়েছিলাম।আমার শরীর বেশ কিছুদিন ধরে ভালো লাগছিলো না তাই।"

ইলহাম বাঁকা হেসে জিগ্যেস করলো,

" হুজুর কবে থেকে ডাক্তার হতে শুরু করেছে ভাবি?"

রাহেলা শাহ কি বলবেন খুঁজে পেলেন না।তিনি নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলেন।ইলহাম ফোনে রেকর্ড হওয়া ভিডিও চালু করে বললো,

" আদ্রিয়ানের পরিবর্তন দেখেই আমার সন্দেহ হয়েছিলো।আপনার কথা শুনলেই কেমন পাগলের মতো অস্থির অস্থির করতো।কিন্তু আজ যখন আমার দলের ছেলে আপনাকে রবিন হুজুরের কুঠুরি তে যেতে দেখলো তখনই আমার সন্দেহ পুরোপুরি কেটে যায়।আপনি কালোজাদু কেন করেছেন ভাবি?"

মূলত হুজুরের সাথে বলা সকল কথাবার্তা ফোনে রেকর্ড করে নিয়ে আসে ইলহামের দলের সেই ছেলেটি।রাহেলা শাহ এবার কেঁদে ফেললেন ইলহামের কথায়।তিনি ইলহামের পা ধরে বসে পড়লেন তৎক্ষনাৎ। হঠাৎ রাহেলা শাহ'র এমন প্রতিক্রিয়া দেখে ইলহাম হতভম্ব হয়ে গেলো।

" আদ্রিয়ানকে কিছু বলো না ইলহাম।আমি ভুল করেছি, অনেক বড়ো ভুল করেছি। নূরকে আমার পছন্দ ছিলো না কোনকালেই। যদি নূরের সন্তান পৃথিবীতে আসে তাহলে সব সম্পত্তি নূরের হয়ে যাবে।আমি চেয়েছিলাম আদ্রিয়ানকে আমার পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে।সম্পত্তির লোভে আমি দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। "

" তাই বলে নিজের র'ক্তকে ধ্বংস করে দিবেন আপনি? ওই নিষ্পাপ শিশুটার তো কোন দোষ ছিলো না। সে পৃথিবীর মুখ ও দেখতে পারেনি অথচ আপনি কিনা..... ছিহ!!! অবশ্য আপনি কি করে বুঝবেন সন্তানের মূল্য? আপনি তো সন্তান পেটেই ধরেননি।"

ইলহামের শেষ দুটো কথায় রাহেলা শাহ এক পলকে তাকিয়ে রইলেন তার দিকে।ইলহাম হাঁটু গেড়ে বসে তার দিকে ঝুঁকে বললো,

" যদি আদ্রিয়ান আপনার সত্যিটা জানতে পারে তাহলে আপনাকে কখনো মা বলে ডাকবে তো? "

" আদ্রিয়ানকে তুমি কিচ্ছু বলবে না ইলহাম। আদ্রিয়ানকে কিছু বলো না।"

ইলহাম তার কথার উত্তর দিলো না। সে রাহেলা শাহ'র কাছ থেকে সরে চলে গেলো।রাহেলা শাহ ইলহামের চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইলেন।

হাসপাতালের বেড এ অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে নূর।ডাক্তার বেরিয়ে আসতেই আদ্রিয়ান ছুটে যায় তার কাছে। ডাক্তার তাকে দেখে মলিন কন্ঠে বললেন,

" সরি, আদ্রিয়ান।আমরা তোমার বাচ্চাকে বাঁচাতে পারিনি।প্রচুর পরিমাণ র'ক্তক্ষরণ হওয়ায় বাঁচার সম্ভাবনা ছিলো না।"

আদ্রিয়ানের পৃথিবী যেন এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলো।তার মুখ দিয়ে কোন প্রকার শব্দ বের হচ্ছে না।তার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে পারেনি তার জন্য। একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড়ো শাস্তি আর কি হতে পারে।ডাক্তার চলে গেলেন নিজের কেবিনে।আদ্রিয়ান এখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হঠাৎ ফোনে টুং করে শব্দ হওয়ায় সে ফোন হাতে নিয়ে দেখলো ইলহামের মেসেজ এসেছে।

রাহেলা শাহ এখনো আগের মতোই মেঝেতে বসে আছে।তার কোন হেলদোল দেখা গেলো না। হঠাৎ আদ্রিয়ানকে ভেতরে আসতে দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালেন।আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'র সামনে এসে স্থির হয়ে দাঁড়ালো।অত:পর শান্ত ভঙ্গিতে বললো,

" আমার সন্তান আর নেই মা।"

আদ্রিয়ানের কথা শুনে রাহেলা শাহ স্তব্ধ হয়ে গেলেন।বুকের ভেতর উথাল পাথাল ঢেউ বয়ে যাচ্ছে তার।চিন্তায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছে বারবার।তিনি কিছু বলতে যাবেন তার আগেই আদ্রিয়ান হুট করে হেসে উঠলো।আদ্রিয়ানকে হাসতে দেখে তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না আদ্রিয়ান কেন হাসছে।এই বিচলিত চাহনি তাক করে তাকিয়ে রইলেন আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ান হাতে থাকা কাগজ রাহেলা শাহ'র দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

" সম্পত্তি চেয়েছিলেন না আম্মা। এই নিন সব সম্পত্তি। এইসব কিছুর বিনিময়ে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিন।"

রাহেলা শাহ বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন তার কথায়,তারমানে আদ্রিয়ান সব জেনে গিয়েছে। তিনি আদ্রিয়ানের হাত আঁকড়ে ধরে কেঁদে ফেললেন,

" আমার ক্ষমা করে দাও আদ্রিয়ান।আমি ভুল করেছি।"

" না, মা! ভুল তো আমি করেছি।আপনার মতো একজন মহিলাকে মায়ের সম্মান দিয়ে।আমার সন্তান, আমার ছেলে পৃথিবীর আলো টুকুও দেখার সুযোগ পায়নি শুধুমাত্র আপনার জন্য। আ-আমার ছেলে!"

আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিজের ঘরে যায়। মেঝেতে থাকা র'ক্ত স্পর্শ করে পাগলের মতো বুলি আওড়াতে থাকলো,

" তোমার কিচ্ছু হবে না কলিজা।তুমি বাবার সাথেই থাকবে,বাবা খুব পঁচা তাই না।"

দুহাতে র'ক্ততে হাত বুলাতে বুলাতে কথাগুলো বললো আদ্রিয়ান।রাহেলা শাহ দরজার সামনে থেকে সবটা দেখছেন। আদ্রিয়ান নিজের হাতে থাকা র',ক্তের দিকে তাকিয়ে বললো,

" বাবা'র উপর খুব রাগ তাই না? তোমার রক্ষক হতে পারিনি আমি। পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম পিতা আমি।"

এই বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলো আদ্রিয়ান।

চলবে,,,,,,,,,,,,

( সবাই রেসপন্স করুন। ১.৩কে করে দিবেন প্লিজ। আরও লিখতাম, আমার আম্মু তার বোনের সাথে আমার ফোন দিয়ে কথা বলছে প্রায় ৩ ঘন্টা!!! তাই পারলাম না।)

রাতে স্পয়লার দিবো গ্রুপে।সবাই জইন হোন আমার গ্রুপে

https://facebook.com/groups/4214405902220456/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন