#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৪৩) এর প্রথমাংশ
( অনুমতি বিহীন কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ)
" মিসেস শাহ, আপনি এবার বেরিয়ে আসুন।"
ডাক্তারের কথা শুনে নূর বেরিয়ে আসে সেই রুম থেকে। ডাক্তার নূরকে ডেকে বলেন,
" পেশেন্টের অবস্থা খুব খারাপ। ঘাড়,মেরুদণ্ড ও বুকে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মাথার পেছনের দিকেও বেশ আঘাত পেয়েছে। আমাদের দ্বারা যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি। বাকিটা আল্লাহ'র ইচ্ছা। আল্লাহ চাইলে এ যাত্রায় বেঁচেও যেতে পারে। "
নঊর চুপ করে ডাক্তারের কথা শুনছে। তার ভাবভঙ্গি দেখে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। ডাক্তারের শেষ কথা শুনে ইলহাম তার দিকে তেড়ে এসে শার্টের কলার চেপে ধরে রাগান্বিত স্বরে বললো,
" বেঁচে যেতে পারে মানে কি! আদ্রিয়ানের যদি কিছু হয় আমি এই হাসপাতাল জ্বালিয়ে দিবো। যা দরকার হয় কর, তাও আদ্রিয়ান যেন সুস্থ অবস্থায় অক্ষত থাকে। "
" দেখুন, জীবন মৃত্যু তো আমাদের হাতে নেই। আমাদের দ্বারা যতটুকু সম্ভব আমরা করেছি। বাকিটা নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। নিজেকে সামলান আপনি।
রুশান ইলহামকে টেনে সরিয়ে আনে। আরেকটু হলেই হয়তো উল্টোপালটা কিছু করে বসবে। নূর অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে। হাসপাতালের বেড এ পরে থাকা নিস্তেজ দেহখানা দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তার। সে তো আদ্রিয়ানকে ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলো তবে কেন এতো কষ্ট হচ্ছে? স্বামী বলেই কি কষ্ট হচ্ছে তার। জবাব পেলো না সে। ধীর পায়ে আবারও এগিয়ে গেলো আদ্রিয়ানের সামনে। ডাক্তার বলেছে যে কোন একজন থাকতে পারবে। বেশি মানুষজন এলাউ না আইসিওতে। ইলহামকে এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গিয়েছে রুশান। একের পর এক বিপদ ঘটেই যাচ্ছে শাহ পরিবারে, আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সব। আপন মানুষজনদের হারিয়ে ফেলছে ধুলোর মতো। নূর আদ্রিয়ানের পাশের চেয়ারে বসে আছে। জ্ঞান এখনো ফিরেনি তার। প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর ডাক্তার আদ্রিয়ানকে চেক-আপ করতে এসে নূরকে বললেন,
" রোগীর অবস্থা খুব একটা ভালো না৷ শরীর খুবই দূর্বল। খাওয়াদাওয়ায় ও বেশ ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি৷ আপনারা কি রোগীর খেয়াল রাখেন না?"
ডাক্তারের কথা শুনে নূর নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। আদ্রিয়ানের কোন খবরই তো সে রাখেনি। ডাক্তার সেলাইনের ব্যাগ লাগিয়ে নূরের দিকে তাকালেন। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে ডাক্তার বলে উঠলেন,
" আটচল্লিশ ঘন্টার ভেতরে জ্ঞান না ফিরলে নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। "
ডাক্তার বেরিয়ে যেতেই নূর আদ্রিয়ানের পাশে বসে তার হাতের উপর নিজের হাত রাখলো। চোখ থেকে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়তেই সে তড়িঘড়ি করে মুছে নিলো । আদ্রিয়ানের শুষ্ক চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারলো না বেশিক্ষণ। শ্যামবর্ণের চেহারাটা ফিকে হয়ে এসেছে। নূর সেই চেহারার দিকে তাকিয়ে বললো,
" এই আদ্রিয়ান উঠুন। আপনার সাথে আমার অনেক হিসেব নিকাশ বাকি। এভাবে সব মাঝপথে ফেলে চলে যেতে পারেন না। এই জন্মেই আপনাকে সব শোধ করে যেতে হবে। শুনছেন আপনি!"
নূরের একটি কথাও কানে গেলো না আদ্রিয়ানের। আগের ন্যায় নিস্তেজ শরীর নিয়ে শুয়ে আছে সে। মোরশেদা বেগম ও রেজাউল খান ও হাসপাতাল এসেছেন আদ্রিয়ানকে দেখতে। অবশ্য তাদের সাথে সাইমা ও এসেছে। নূর বেরিয়ে এসে দেখলো তার মা-বাবা এসেছে, কিন্তু তাদের সাথে সাইমা কে দেখে বেশ বিরক্ত হলো সে। কিন্তু এই মুহুর্তে কিছুই বললো না। সাইমা নূরের কাছে এসে বললো,
" আদ্রিয়ান ভাইয়া কোথায়? কোন রুমে আছে?"
" খুব চিন্তা হচ্ছে বোধ হয় তোর। "
" তোর চিন্তা না হলেও আমার খুব চিন্তা হচ্ছে নূর।"
সাইমার কথায় নূর তাচ্ছিল্য হেসে বললো,
" কেন এতাও চিন্তা হচ্ছে তোর? বিয়ে করা বর তো নয় তাহলে এতো চিন্তার কারণ কি?"
নূরের ঠেস বুঝতে পেরে সাইমা দাঁতে দাঁত খিঁচে নিচুস্বরে বললো,
" খুব শীঘ্রই হবে। তুই এখানে কি করছিস? প্রান্তন স্বামীর প্রতি এতো ভালোবাসা? "
নূর তার সাথে কথা বাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করলো না। মোরশেদা বেগম এগিয়ে আসতেই নূর তাকে জড়িয়ে ধরে। তিনি আইসিও'র রুমের বাহির থেকে আদ্রিয়ানের অবস্থা দেখে শিউরে ওঠলেন। অত:পর নূরকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
" সারাদিন তো কিছুই খাসনি। বাড়ি ফিরে যাবি?"
" না আম্মু। তোমরা চলে যাও। "
তারাও নূরকে আর জোর করলো না। তার মানসিক অবস্থা এমনিতেই ঠিক নেই তার উপর আদ্রিয়ানের আ''এক্সিডেন্ট। তাই আর বেশি কিছু না বলে চলে গেলেন। সাইমা অবশ্য যেতে চায়নি কিন্তু বাধ্য হয়ে যেতে হলো তাকে। নূর ফিরে এলো সেই রুমের ভেতরে। আদ্রিয়ানের কেউ নেই যে তাকে সেবা যত্ন করবে। এই অবস্থায় কি করে ফেলে যাবে তাকে সে। রাহেলা শাহ বেঁচে নেই ছেলের খেয়াল রাখার জন্য, তাহলে এই দুনিয়ায় আর কে আছে তার যত্ন নেওয়ার মতো? আদ্রিয়ানের পাশে এসে বসলো সে। তার কোন নড়চড় নেই। সময় চলছে নিজ গতিতে। মধ্যরাতে আদ্রিয়ানের আঙ্গুল নড়ে উঠলো। নূর তখনও ঘুমায়নি, সে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চোখ বুজে ছিলো। ট্রাক এর সাথে ধাক্কা এর পর আর কিছু মনে নেই আদ্রিয়ানের। চোখ খুলতেই নিজেকে আবিস্কার করে হাসপাতালে, আশেপাশে কেউ আছে কিনা দেখার জন্য পাশ ফিরে তাকাতেই নূরকে দেখতে পায়। সে ভেবেছে নূর হয়তো ঘুমিয়ে গিয়েছে। পানির তেষ্টা পেয়েছে খুব। পাশের টেবিল থেকে পানি নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই রগ এ টান পড়ে তার। ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে সে। হঠাৎ শব্দ শুনতে পেয়ে নূর তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ান পানি খাচ্ছে। নূর ধীর পায়ে তার সামনে আসে। অবশ্য নূরকে দেখে আদ্রিয়ান নিজেও অবাক, এতো রাতে তাও নূর এখানে কি করছে ভেবে পাচ্ছে না সে। আদ্রিয়ানের বিচলিত ভাবভঙ্গিমা দেখে নূর কিছু বুঝে উঠতে পারলো না। সে আমতাআমতা করে বললো,
" আর পানি দিবো?"
" লাগবে না। "
আদ্রিয়ানের ওয়াশরুমে যেতে হতো কিন্তু সে দাঁড়ানোর শক্তি পাচ্ছে না। নূরকে বলতেও লজ্জ্বা পাচ্ছে সে। বেশিকিছু না ভেবে সে বেড থেকে নামতে গেলে নূর তাকে ধরে ফেলে।
" কি লাগবে বলুন? বেড থেকে নামছেন কেন?"
সে ঢোক গিলে অন্যদিকে তাকিয়ে বললো,
" ওয়াশরুমে যাবো একটু।"
নূর তার কথা বুঝতে পেরে ওয়াশরুম পর্যন্ত এগিয়ে দেয় তাকে। আদ্রিয়ান এখনো নিজের অবস্থা পুরোপুরি দেখেনি। ওয়াশরুমের আয়নায় নিজেকে দেখে বাকরুদ্ধ সে। মুখে, কপালে, ঘাড়ে ব্যান্ডেজ। বিশেষ করে গালে থাকা ব্যান্ডেজ দেখে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরেছে। হঠাৎ মুহুর্তের মাঝেই প্যানিক হতে শুরু করলো তার। হাত ভীষণভাবে কাঁপছে। নূর চোখে মুখে পানি দেওয়ার জন্য ওয়াশরুমের বেসিনে যেতেই দেখতে পায় আদ্রিয়ান ভীষণভাবে কাঁপছে। সে ভেবে পেলো না এসব কেন হচ্ছে। একটু আগেই তো সব ঠিক ছিলো তাহলে হঠাৎ কি এমন হলো। আদ্রিয়ানের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে । নূর আচমকা তাকে ঝাপটে ধরতেই সে বিরবির করে বললো,
" আমার এই অবস্থা কেন? কি হয়েছে আমার?"
" আ-আপনার এ''ক্সিডেন্ট হয়েছিলো। আঘাত পেয়েছেন শরীরের বিভিন্ন জায়গায়। "
আদ্রিয়ানের প্যানিক কমলো না। নূর তার অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত বেডের উপর বসিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আনতে যায়। ডাক্তারের কেবিন খুব একটা দূরে না হওয়ায় সে ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তখন নিজের ফাইল চেক করছিলেন, নূরকে এই সময় দেখে তিনিও অবাক হোক কিছুটা। সে রীতিমতো হাঁপাচ্ছে, ডাক্তার তার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিগ্যেস করলেন,
" কি হয়েছে মিসেস শাহ? "
" উনার জ্ঞান ফিরেছে কিন্তু কেমন যেন করছে। আপনি প্লিজ দ্রুত আসুন।"
নূরের কথা শুনে ডাক্তার আইসিও রুমে এসে দেখে আদ্রিয়ানের প্যানিক এট্যাক হয়েছে। আদ্রিয়ান ডাক্তারকে দেখে অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
" আমার মুখে কি হয়েছে ডাক্তার ? আমার ব্যান্ডেজ খুলুন দ্রুত। "
" দেখুন আদ্রিয়ান , ঘা এখনো শুকোয়নি। এই মুহুর্তে ব্যান্ডেজ খোলা সম্ভব না। "
" আপনি খুলবেন নাকি আমি নিজেই খুলে ফেলবো!"
আদ্রিয়ানের ভাবভঙ্গিমা দেখে তিনি তার ব্যান্ডেজ খুলতে আরম্ভ করলেন। গালের পাশে থাকা র''ক্তাক্ত ক্ষত দেখে আদ্রিয়ান বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। ক্ষত বেশি হওয়ায় সেলাই লেগেছে তাতে। নূর একপাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে। আদ্রিয়ান একদম শান্ত হয়ে গিয়েছে ক্ষত দেখার পর। শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গভীর ক্ষত'র দিকে। ডাক্তার তাকে শান্ত হতে দেখে বললেন,
" আপনি ঠিক আছেন আদ্রিয়ান? "
আদ্রিয়ানের মুখ থেকে একটা শব্দ ও বের হলো না। সে চুপচাপ বসে রইলো। হঠাৎ কোন কথা না বলে বেড এ শুয়ে পরলো। ডাক্তার চলে যেতেই নূর চেয়ার নিয়ে দূরে সরে বসলো। আদ্রিয়ান আগের ন্যায় চুপচাপ শুয়ে আছে। নূর কিছুসময় চুপ থেকে পরবর্তীতে ধীর গলায় বললো,
" কিছু খাবেন? একটা ফল কেটে দিবো? "
আদ্রিয়ান জবাব দিলো না, অত:পর বলে উঠলো।
" আমাকে বিশ্রী লাগছে তাই না নূর? "
নূর থমকে গেলো তার কথায় । হাতের আপেল টা কাটতে কাটতে উত্তর দিলো,
" বিশ্রী লাগবে কেন? আপনি সুস্থ আছেন এই অনেক। "
" যখন ট্রাক হঠাৎ করে আমার সামনে এলো, আমি এক মুহুর্তের জন্য ভেবেছিলাম হয়তো বাঁচব না আর। কিন্তু ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেলেও এই ক্ষত আমার জীবনে অভিশাপ স্বরুপ। আমাকে দেখতে খারাপ লাগছে তাই না? সত্যি করে বলবে নূর। "
" আমি সত্যিই বলছি। আপনি শান্ত হোন। "
আদ্রিয়ান চুপ করে গেলো নূরের কথায়। মনে মনে বললো ,
" আমি চাই না আমার জন্য তোমার জীবন নষ্ট হোক। কাল তোমার প্রাপ্য তোমায় মিটিয়ে দিবো। "
________________
শাহনাবের গলা দিয়ে কিছু নামছে না, চোখেও ঘুম নেই। তার বোকামীর জন্য সে নূরকে হারিয়েছে। আদ্রিয়ানের এ''ক্সিডেন্টের কথা শুনে সে আরও চিন্তায় আছে। এই সুযোগে আদ্রিয়ান যদি নূরকে আবারও নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে। আজ যেতে চেয়েছিলো কিন্তু শামীমা চৌধুরীর জন্য যেতে পারেনি। তাই সে ভাবলো সকালে হাসপাতাল যাবে সেখানকার কি অবস্থা দেখার জন্য। ইরার কোন চিন্তা নেই। সে সবার সাথে মিলেমিশে বেশ আছে। ইতিমধ্যে ইশতেহার চৌধুরী ও ইরাকে আগলে নিয়েছেন নিজের মেয়ের মতো। সে আপাতত কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে কিন্তু শাহনাব পাইচারি করছে তখন থেকে। ইরাকে দেখলেই রাগ তরতর করে বাড়ছে। ইরার দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো,
" খাল কেটে কুমির এনেছি, এখন ফেলেও দিতে পারছি না রেখেও দিতে পারছি না। চুপচাপ করলা ভাজির মতো সহ্য করে যেতে হচ্ছে। "
উক্ত কথাটি বলেই দেয়ালে কপাল ঠুকলো সে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ইরা ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য উঠতেই বেলকনিতে কারো অবয়ব দেখতে পেয়ে ভয় পেয়ে চিল্লিয়ে উঠে। চেঁচানোর আওয়াজ শুনে শাহনাব তার মুখ চেপে ধরে বললো,
" এতো রাতে বাড়ির সবাইকে সেহরি খেতে ডাকছো নাকি? কি হয়েছে কি চেঁচানোর মতো? "
শাহনাব হাত মুখ থেকে সরিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে সে বললো,
" এতো রাতে ভুতের মতো পাইচারি করছেন কেন? আরেকটু হলেই তো টপকে যেতাম। "
" তুমি অতো সহজে টপকাবে না আমার মাথা চিবিয়ে না খাওয়া পর্যন্ত। পুরাই একটা কুফা। "
" কিহ! কি বললেন আপনি, আপনি আমায় কুফা বললেন! "
" শুধু কুফা না তুমি একটা গাভি। "
ইরা শাহনাবের কথা শুনে মেঝেতে ধপ করে বসে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
" আম্মাগো... "
শাহনাব ইরার মুখ আবারও চেপে ধরতে গেলে ইরা মিনমিন করেই নাটকীয় ভঙ্গিতে মিছে কান্না করতে করতে বললো ,
" আম্মাগো! এ আমার কপালে কে জুটলো, আমায় বলে কিনা গাভি! "
"চুপ! "
শাহনাবের কথা শুনে ইরা মুখ ভেঙিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। শাহনাব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
" কি ডেঞ্জারাস মেয়েরে বাবা। "
সূর্যের প্রখর রশ্নি চোখে পরতেই ঘুম ভেঙে যায় আদ্রিয়ানের। চোখ খুলতেই দেখতে পায় তার পাশে বসে শাহনাব ফোন চালাচ্ছে। নূর একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। শাহনাবকে দেখে আদ্রিয়ান কপাল কুঁচকে নিলো। অত:পর বিরবির করে বললো,
" সকাল সকাল এই লাফাঙ্গার মুখ'ই কেন দেখতে হলো কে জানে। এবার পুরো দিনটাই খারাপ যাবে । "
" কিছু বললি নাকি? "
শাহনাবের কথায় আদ্রিয়ান আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
", যাই বলি তাতে তোর কি? "
নূর দূর থেকে তাদের দেখছে। দুজনকে ঝগড়া করতে দেখে সে মনে মনে বললো,
" আসা মাত্রই শুরু হয়ে গিয়েছে দুজন।"
আদ্রিয়ানের গালের দাগ দেখে শাহনাব কিছুটা অবাক হয়েছে তবে কিছু বললো না। আদ্রিয়ান বেড থেকে নামতেই নূর তাকে ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য। আজ অবশ্য ইশিতাও আসবে হাসপাতালে। শুধুমাত্র আদ্রিয়ানকে দেখার জন্য সে স্কুলে যায়নি। শত কান্নাকাটি স্কুল মিস দিয়েছে সে। আদ্রিয়ান ওয়াশরুম থেকে ফিরতেই দেখতে পায় ইশিতা আসছে। মেয়েটা মাত্র কদিনের মাঝেই ভীষণ আপন হয়ে গিয়েছে। সারাক্ষণ ভাইয়া ভাইয়া বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। ইশিতা এসেই আদ্রিয়ানের পাশে এসে বসলো, অত:পর বললো,
" দেখে শুনে গাড়ি চালাননি কেন আপনি? দেখলেন তো এখন চিৎপটাং হয়ে হাসপাতালে পরে থাকতে হচ্ছে। আপনি এভাবে হাসপাতালে শুয়ে থাকলে আমার জ্বিনের গল্প কে শুনবে ভাইয়া?"
" সেই আবার জ্বিন!"
আদ্রিয়ানের কথায় নূর ও ইশিতা দুজনেই হেসে ফেললো তবে শাহনাব হাসলো না কারণ ভুক্তভোগী সে নিজেই।আদ্রিয়ানের গালে থাকা লম্বা সেলাই করা ক্ষত দেখে ইশিতা বলে উঠলো,
"আপনার গালে কি হয়েছে ভাইয়া? "
মুহুর্তেই থমকে গেলো আদ্রিয়ান। অধরে শুষ্ক হাসি ফুটিয়ে তোলে বললো,
" কেটে গিয়েছে। "
" কবে ঠিক হবে?"
আদ্রিয়ান চুপ করে রইলো। সে নিজেও জানে না কবে সব ঠিক হবে। হয়তো হবেও না। নূর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ইশিতাকে বললো,
" তুমি বাড়ি চলে যাও আব্বার সাথে। বিকেল বেলা এসো। "
ইশিতা তার কথা শুনে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই শাহনাব নূরকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
" নূর তুমিও বরং বাড়ি চলে যাও। কাল থেকে তো এখানেই ছিলে। "
শাহনাবের কথা শুনে আদ্রিয়ান ঠোঁট কামড়ে মিনমিন করে বললো,
" আমার বউকে আমার পাশে দেখলেই জ্বলে উঠে শালা'র। সারাক্ষণ তাড়ানোর ফন্দি। আমার বউ আমার কাছে থাকবে তাতে তোর কি! লাফাঙ্গা!"
চলবে,,,,,,
সবাই ১.৫কে করে দিন প্লিজ। বেশি বেশি রেসপন্স করবেন। আপনারা রেসপন্স কমিয়ে দিয়েছেন।রেসপন্স না করলে আগ্রহ কি ভাবে বাড়বে আমার?)
গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/