#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৪৫) এর বর্ধিতাংশ
( কপি করা সম্পুর্ণএউপে নিষিদ্ধ)
" আম্মা দেখেছেন, আপনার ছেলে আমাকে কুত্তা বলেছে। "
" কুত্তার মতো কামড়ালে কুত্তা বলবো না তো কি মশা বলবো?"
শামীমা চৌধুরী তাদের দুজনের ঝগড়া দেখে ধমক দিয়ে বললেন,
" চুপ করো দুজনেই। তোমরা কি ছোট বাচ্চা? এভাবে একজন আরেকজনকে মেরে কি অবস্থা করেছো!"
ইরা কিছু একটা ভেবে অত:পর বলে উঠলো,
" আম্মা উনি আমার চুল ও ছিড়ে ফেলেছে। কতো জোরে টেনেছে আপনি জানেন! "
" এই মেয়ে আমি কি ইচ্ছে করে চুল টেনেছি নাকি। তুমি আমাকে কামড় দিচ্ছিলে তাই আত্মরক্ষার জন্য চুল টেনে ধরেছিলাম।"
" আত্মরক্ষা বলতে লজ্জ্বা করছে না? মিথ্যাবাদী লোক।"
" মিথিলা ওদের দুজনকে ব্যান্ডেজ করে দাও। আর হ্যা ইরা এখন থেকে আমার ঘরে থাকবে। "
শামীমা চৌধুরীর কথায় দুজনেই চুপ হয়ে গেলো। মিথিলা ইরার হাতে ব্যান্ডেজ করে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসতেই শাহনাব রাগে ফোসফোস করতে করতে চলে গেলো। শাহনাব নিজের ঘরে এসে গালে ঔষধ লাগানোর জন্য ঔষধের বক্স নিতেই দেখতে পেলো তার ফোনে অনেকগুলো কল এসেছে। সে ফোন হাতে নিয়ে দেখলো তার দলের ছেলেটা যাকে সে নূরের উপর নজর রাখতে বলেছিলো সে মেসেজ দিয়েছে। মেসেজ চেক করতেই দেখতে পেলো আদ্রিয়ান ও নূরের একসাথে ফেরার কথা। ময়মনসিংহ থেকে তখনই রওনা দিয়েছিলো তারা। আদ্রিয়ানের কন্ডিশন ভালো না, ক্ষত এখনো শুকোয়নি। মেরুদণ্ডে ও ঘাড়ে থাকা ক্ষততে ইনফেকশন হয়ে গিয়েছে। তাই ইলহাম বেশি দেরি করতে চায়নি, অপরদিকে আদ্রিয়ানের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না, মেজাজ খারাপ তার। আবারও ক্ষত পরিস্কার করতে হবে শুনে তার মুখ শুকিয়ে গিয়েছে। সে ইলহামের দিকে তাকিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
" আমি একদম ঠিক আছি চাচ্চু। ওয়াশ কি দুইদিন পর পর করতে হয় নাকি? "
" বিপক্ষ দলের সাতগে মারামারি করতে গিয়ে যখন হাতের আঙ্গুল ভেঙে এলি তখন তো টু শব্দ ও করিসনি তাহলে ক্ষত পরিস্কারের সময় কেন এতো তালবাহানা?"
ইলহামের কথায় চুপসে গেলো সে। নূর ব্যাকসিট থেকে তাদের কথা শুনে উচ্চস্বরে হেসে উঠে। আদ্রিয়ান বাহিরের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো,
" মারামারি আর ডাক্তারগিরি কি এক হলো নাকি। ওই হাতুড়ি ডাক্তার ক্ষত পরিস্কার করে নাকি আমার জান নিয়ে ছিনিমিনি খেলে ওইটাই তো আমার মাথায় আসে না। কোন জন্মের পাপের ফল ভোগ করছি কে জানে। "
শাহ বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামতেই সকলে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। আজ অনেকদিন পর শাহ বাড়িতে পা রাখছে নূর। এই বাড়িতে সে তার সন্তানকে হারিয়েছিলো আর আবারও সেই বাড়িতে পা রাখছে সে। ফারজানা গাছে পানি দিচ্ছিলো ঠিক তখনি নূরকে দেখতে পেয়ে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে সে। নূরের সাথে কত সময় সে কাটিয়েছে তা অগণিত।
" কেমন আছো ভাবিমণি। আমি তো তুমি হয়তো আর ফিরবা না। "
" ফিরে আসতে চাইনি। আপুর জন্য এসেছি। "
" তোমাদের সম্পর্ক কি শেষ? তুমি আর এই বাড়িতে ফিরে আইবা না?"
" তোমাকে সব পরে বলবো। আপাতত ভেতরে চলো। "
পায়রা সোফায় বসে ড্রাগন ফল খাচ্ছিলো। রক্তশূন্যতার কারণে ইলহামের কড়া আদেশ ফল খাওয়ার। নূর চৌকাঠে পা রাখতে দেখে সাত মাসের উঁচু পেট ধরে দাঁড়ায়। নূরকে দেখে সে খুব একটা অবাক হলো না। নূর তার সামনে আসতেই সে বলে উঠলো,
" কেমন আছিস নূর? আপুকে তো ভুলেই গিয়েছিস। "
" ভুলিনি আপু। আসলে এই দুইমাসে অনেক কিছু বদলে গিয়েছে৷"
ইলহাম আগেই বলে রেখেছিলো পায়রাকে সে এসব বিষয়ে কিছুই জানায়নি তাই সেও আগ বাড়িয়ে কিছু বললো না। নূর পায়রার পেট এ হাত দিতেই হঠাৎ কিছু একটা অনুভব করলো। পায়রা সোফায় বসে বললো,
" তোকে দেখে কেমন খুশি হয়েছে দেখেছিস? ফুটবল খেলা শুরু করেছে আমার পেটের ভেতর। "
নূর তো খুশিতে আত্মহারা। সে আবারও অনুভব করার জন্য হাত দিতেই এবার আর নড়লো না তবে কিছুক্ষণ পর আবারও অনুভব করলো লাথি দিয়েছে। পায়রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
" ছেলে দুটো এখনি এতো দুরন্ত হয়েছে না জানি আর কয়েকমাস পর কি হবে। দেখ দেখ কেমন করছে। "
" বকছো কেন আপু। খুশি হয়েছে আমাকে দেখে তাই তো কোলে আসার জন্য ছটফট করছে। "
" হ্যাঁ দেখ এক লাফে কোলে না এসে পড়ে। "
নূর তার কথায় হেসে ফেললো, পায়রা ও হাসছে। অনেকদিন পর মন খোলে হাসছে সে। ইলহাম ও আদ্রিয়ান বাড়ি ঢুকতেই পায়রা চুপ করে গেলো। যদিও আদ্রিয়ান ও পায়রার সম্পর্ক সাপে নেউলের মতো হলেও আজ আদ্রিয়ান পায়রার জন্য ফুচকা নিয়ে এসেছে। এই অবস্থায় একটু আধটু এসব খেতে মন চায়। নিজের স্ত্রীকে তো পারেনি তাই চাচীর আবদার পূরণ করছে সে। সাড়ে সাতশ টাকার ফুচকা নিয়ে এসেছে সে। এসব নিয়ে পায়রার সামনে আসতেই পায়রা ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দেয় তার গালে। আদ্রিয়ান ঠায় দাঁড়িয়ে আছে কোন শব্দ না করে। হঠাৎ সবকিছু এতো দ্রুত হওয়ায় ইলহামের বিষয়টা বুঝতে বেগ পোহাতে হয়েছে খুব। আদ্রিয়ানকে চড় দেওয়ায় সে পায়রার কাছে এসে রাগান্বিত স্বরে বললো,
" ওর গায়ে হাত তোলার অধিকার কে দিয়েছে তোমায়? একদম মাতব্বরি করতে আসবে না ওর বিষয়ে। "
ইলহাম কখনো পায়রার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলেনি, সবসময় পায়রার প্রতি আলাদা একটা সম্মান বজায় রেখে কথা বলেছে। কিন্তু আদ্রিয়ানকে চড় মারায় সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পায়রা আঙ্গুল তাক করে ইলহামের দিকে তাকিয়ে বললো,
" আর আমার বোন সন্তান হারিয়েছে তার বেলায়? বারবার করে বলেছিলাম ওদের ডিভোর্স করিয়ে দিন।আমার বোন ভালো নেই তবুও আপনি শোনেননি আমার কথা। আজ চারটে জীবন শেষ একই সাথে। ওই নিষ্পাপ শিশুটা যে কিনা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই নিঃশেষ হয়ে গেলো, বড়ো ভাবী সে তো নিজের পথ বেছে নিয়েছে কিন্তু মাঝে আদ্রিয়ান ও নূর তাদের কি হবে? আপনি কি ভেবেছেন আপনি না শোনালে আমি কখনো জানতে পারতাম না?"
ইলহাম অবাক হলো পায়রার কথায়। পায়রা এসব কি করে জানলো, এই বাড়িতে তো এইসব নিয়ে কোন কথায় হয়নি। মূলত শাহনাব জানিয়েছে পায়রাকে সব। আদ্রিয়ান ও নূর একসাথে বাড়ি ফিরেছে জানার পর সে পায়রাকে ফোন করে সব জানায়। পায়রা বাকরুদ্ধ তার কথায়, এতো সব কিছু হয়ে গেলো আর সে কিছুই জানতে পারলো না।
" তোমাকে এসব কে বলেছে? "
" ছেড়ে দাও না চাচ্চু। চাচি তো ঠিক ই বলেছে। আমার জন্যই সব হয়েছে। "
" শাহনাব ফোন করেছিলো আমাকে। সেই বলেছে সবকিছু।"
শাহনাবের নাম শুনতেই আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে মনে মনে বললো,
" এ''ক্সিডেন্ট টা আমার না হয়ে ওই লাফাঙ্গার হলে ভালো হতো অন্তত আমার পারিবারিক বিষয়ে নাক গলাতো না। "
সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় বসলো। সুরাইয়া শাহ গরম রসুন তেল নিয়ে বসার ঘরে আসতেই দেখতে পেলো নূর। নূর তাকে সালাম করতেই তিনি নূরকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
" এতদিন কোথায় ছিলে নূর। এই বুড়ি তো বেশিদিন বাঁঁচবে না। ভালোই হয়েছে দেখতে এসেছো নাহয় ম''রার পরেও আফসোস থেকে যেতো।"
" এমন করে বলবেন না দাদী। এখনো অনেক সময় কাটানো বাকি। "
সুরাইয়া শাহ কে নিয়ে সোফায় বসতেই পায়রা বলে উঠলো,
" নূর তুই কি ভেবেছিস? ডিভোর্স দিবি নাকি সংসার করবি।"
নূর কিছু বলার আগেই আদ্রিয়ান ঠাস করে দাঁড়িয়ে বললো,
" এতো কষ্ট করে ডিভোর্স আটকিয়েছি আর এখন বলছে কিনা ডিভোর্স হবে কি না। "
ইলহাম আদ্রিয়ানের কাঁধে হাত রেখে তাকে বসিয়ে দিয়ে বললো,
" তুই শান্ত হো। আমি কথা বলছি। "
"আদ্রিয়ান তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছে। আমার মনে হয় আরেকটা সুযোগ দেওয়া উচিত। "
" নূর তোর কি মতামত? "
নূর চুপ করে রইলো তার কথায়। আদ্রিয়ান রীতিমতো ঘামছে নূর কি বলবে তা ভেবে। নূর কিছু সময় চুপ থেকে অত:পর বললো,
" উনি আমার সাথে যা করেছে তা আমি কখনো ভুলবো না। কিন্তু উনি উনার ভুল বুঝতে পেরেছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। উনাকে ক্ষমা করলেও উনার সাথে আগের মতো সম্পর্ক থাকবে কিনা আমি জানি না। কিন্তু আগের মতো সম্মান টা আর আসবে না। উনার আর উনার মায়ের জন্য আমি আমার সন্তান হারিয়েছি এ কথা মিথ্যে নয়।"
" তাহলে এখন তুই কি চাস?"
" আগামী ছয় মাস উনার সাথে আমার দূরত্ব থাকবে। ছয় মাস আমি এই বাড়িতে উনার স্ত্রী রুপে নয় বরং তোমার বোন হিসেবে থাকবো। "
নূরের কথা শুনে পায়রা আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,
" তোমার কি মতামত? "
" নূর যেমন ভাবে চাইবে ঠিক তেমন ভাবেই সব হবে। শুধু তার নামের সাথে আমার নামের বন্ধন টা জুড়ে থাক।"
সবাই তার সিদ্ধান্ত জেনে চুপ করে রইলো। এর মাঝেই ইলহাম হুট করে বলে উঠল,
" আজ রাতে আমরা চৌধুরী ভিলায় যাবো। সবাই তৈরি থেকো।"
সুরাইয়া শাহ ইলহামের কথা শুনে বললেন,
" ও বাড়িতে কেন যাবে? কোন ঝামেলা হয়েছে?"
" গেলেই বুঝতে পারবেন আম্মা।"
গোধূলির শেষ লগ্ন পেরিয়ে নক্ষত্র জ্বলজ্বল করে উঠলো নীলিমার বুকে । চাঁদের রূপালি আলো নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ল ধরণীর বুকে, চারপাশ ডুবে গেল গভীর নৈঃশব্দ্যে। নূর হালকা সবুজ রঙের একটা কুর্তি পরেছে। আদ্রিয়ান প্রথমে যেতে না চাইলেও ইলহামের মুখের উপর কিছু বলতে পারলো না নাহয় এখন হয়তো কড়া কিছু কথা শুনিয়ে দিবে। তাই মুখ ভার করেই এক প্রকার সাদা শার্ট পরে তৈরি হয়ে নিচে নেমে আসতেই দেখতে পেলো নূরকে। নূর মাথায় উড়না জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে হালকা সবুজ রঙে মানিয়েছে বেশ কিন্তু শাহনাবের প্রতিক্রিয়া কি হবে ভাবতেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে নূরের পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বললো,
" শাহনাব তোমার সাথে কথা বলতে আসলে কিন্তু কথা বলবে না। "
আদ্রিয়ানের কথায় সে বিরক্ত হয়ে বললো,
" আপনি সারাক্ষণ উনার সাথে এমন করেন কেন বলুন তো। "
" ওকে মে"রে বালিচাপা দিয়ে দেইনি এই বেশি। "
নূর তার কথায় কান না দিয়ে বেরিয়ে গেলো সকলের সাথে। পায়রা ঢিলা একটা সুতির থ্রিপিস পরেছে গোলাপি রঙের। বাবুর যাতে অসুবিধা না হয় তাই ইলহাম সুতির থ্রিপিস পরতে বলেছে তাকে।
শামীমা চৌধুরী ইশতেহার চৌধুরী কে আজকের পুরো ঘটনা বলছিলেন তবে কোন প্রতিক্রিয়া দেখানো ছাড়া তিনি হেসেই চলেছেন শাহনাব ও ইরার ঝগড়ার কথা শুনে। ঠিক সেই সময় মিথিলা এসে দরজায় কড়া নেড়ে বললো,
" খালুজান, শাহ বাড়ির মানুষজন সবাই আপনারে খুঁজতাছে। "
মিথিলার কথাত তারা দুজনেই অবাক হোক। ইশতেহার চৌধুরী মেইন দরজার সামনে আসতেই দেখতে পেলো সুরাইয়া শাহ লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটছেন। একসময়ের দেখা শক্তপুক্ত মানুষটি কিনা লাঠির সাহায্য ছাড়া এক কদম চলতে পারছে না। আর কিছু না ভেবে সুরাইয়া শাহ'র কাছে দ্রুত এসে তাকে সালাম করতেই তিনি ইশতেহার চৌধুরীর পিঠে চাপড় মেরে বললেন,
" বাহিরেই দাঁড় করিয়ে রাখবি নাকি ভেতরে ঢোকাবি আমাদের। "
ইশতেহার চৌধুরী লজ্জ্বা পেলেন তার কথায়। তিনি হতদন্ত হয়ে বললেন,
" আসুন বড়ো আম্মা। ইলহাম তোমরাও এসো।"
সারাজীবন শত্রুতার কথা শুনে আজ তাদের এতো আদরযত্ন ও খাতির দেখে বেশ অবাক হলেন শামীমা চৌধুরী। তবে তিনি কিছু বললেন না। ইশতেহার চৌধুরী নিজ হাতে চা করে আনলেন সুরাইয়া শাহ'র জন্য। তিনি চায়ে এক চুমুক দিয়ে বললেন,
" প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। আগের কথা মনে পড়ে গেলো। "
আদ্রিয়ান এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছে শাহনাব আসছে কিনা। একপ্রকার চিন্তায় আছে। শাহনাব ও ইরা নিচে নেমে আসতেই তাদের দেখে অবাক হয়ে গেলো। শাহনাব স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে নূরকে দেখে তবে সবকিছু খুলে বলার একটা সুযোগ ও পেয়েছে বলা যায়। আদ্রিয়ান নূরের উড়নার কোণা ধরে রেখেছে, নূর ছাড়িয়ে নিতে চাইলেও পারলো না। ইরা নূরকে জড়িয়ে ধরে বললো,
" আপু তোমাকে খুব মিস করেছি আমি। "
" আসলে সবকিছু এতো তারাতাড়ি হয়ে গেলো যে খোঁজ নিতে পারিনি। কিছু মনে করো না ইরা। "
ইরা ও নূর নিজের মতো করে কথা বলছে। ইতিমধ্যে পায়রা ও ইলহামের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ইশতেহার চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরীর সাথে। অপরদিকে শাহনাব ও আদ্রিয়ান একে অপরকে চোখ দিয়ে গিয়ে খাচ্ছে। নূর হতাশ হয়ে তাদের দেখছে শুধু। শামীমা চৌধুরী পায়রাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
" সুখবর মনে হয় খুব তারাতাড়ি আসতে চলেছে।"
পায়রা তার কথায় লজ্জ্বা পেলো কিছুটা। সুরাইয়া শাহ ইশতেহার চৌধুরী কে বললেন,
" কদিন ই বা বাঁচবো তাই চলে এলাম তোদের দেখতে। মায়ের উপর এখনো রেগে থাকবি খোকা?"
" এমন করে বলবেন না বড়ো আম্মা। যা হয়েছে আপনার ছেলের সাথে হয়েছে। আমি এখনো আপনার সন্তানই আছি।"
শামীমা চৌধুরীর ঘোর নিষেধ কেউ না খেয়ে যাবে না। তিনি মিথিলাকে নিয়ে সব আয়োজন করছেন। এদিকে আদ্রিয়ান এক পলকের জন্যেও নূরকে চোখের আড়াল হতে দিচ্ছে না। যদিও শামীমা চৌধুরী আদ্রিয়ানের উপরে রেগে আছেন বিয়ের বিষয় নিয়ে কিন্তু আপাতত তা দেখাচ্ছেন না। ইরা তখন থেকে লক্ষ্য করছে শাহনাব কতটা কাতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নূরের দিকে। তার কষ্ট হচ্ছে এসব দেখে কিন্তু সে দেখলো শাহনাবের ভাবভঙ্গিতে কোন পরিবর্তন নেই। আদ্রিয়ান ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য চলে যেতেই শাহনাব নূরের কাছে এগিয়ে এসে বললো,
" নূর একবার ছাদে আসবে। তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।"
" এখানেই বলুন না শাহনাব ভাই।"
" আসলে একটু ইম্পোর্ট্যান্ট। বেশি সময় নিবো না। প্লিজ।"
নূর শাহনাবের কথায় রাজি হয়ে তার সাথে ছাদে গেলো। ছাদে যাওয়া মাত্রই শাহনাব নূরের দিকে তাকিয়ে বললো,
" নূর তুমি তো জানোই আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। আমি.... "
শাহনাবের কথায় অবাক হলো নূর। সে খানিকটা বিচলিত হয়ে বললো,
" আপনি এখন বিবাহিত শাহনাব ভাই। ইরা আপনার স্ত্রী। "
" ইরার সাথে বিয়েটা শুধুমাত্র একটা দুর্ঘটনা। আমি কখনোই চাইনি ইরা আমার স্ত্রী হোক। "
" এখন এসব কেন বলছেন? আপনার ও সংসার আছে। আমার ও। "
" নূর এভাবে বলো না। আমি তোমাকে সবটা বলছি, ইরাকে আমি বিয়ে করতে চাইনি।"
" ইরা সবদিক দিয়ে পারফেক্ট তাহলে ইরাকে নিয়ে আপনার সমস্যা কোথায়?"
" সমস্যা হলো ইরা তুমি না। আমি তোমাকে চাই নূর। "
আদ্রিয়ান ওয়াশরুম থেকে ফিরে আগের জায়গায় এসে দেখলো নূর কিংবা শাহনাব কেউই নেই। সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও তাদের পেলো না আদ্রিয়ান। সে কপালে হাত দিয়ে মিনমিন করে বললো,
" দু'মিনিট ও হয়নি ওয়াশরুম গিয়েছি, এর মাঝেই আমার বউ নিয়ে টানাটানি শুরু। আল্লাহ এই লাফাঙ্গার উপর যেন ঠাডা পড়ে। "
ছাদের দরজার পাশ থেকে ইরা তাদের সম্পুর্ন কথোপকথন শুনছে। টলমলে চোখজোড়া নিয়ে সে আর স্থির থাকতে পারলো না।
চলবে,,,,,,,,
(সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন। খুব বেশি দেরি নেই শেষ হওয়ার।নতুন গল্প আসবে শীঘ্রই সাথে আরও একটা সারপ্রাইজ।)
গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456