ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

পর্ব 51

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৪৭)

( অনুমতি বিহীন কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।)

ইলহাম ও পায়রাকে হাসতে দেখে নূর কিছুটা ইস্ততবোধ করতে লাগলো। সে মনে মনে ভাবলো,

" ইশ! না জানি কি না কি ভেবেছে। "

নূরকে তখন থেকে খাবার নাড়াচাড়া করতে দেখে পায়রা বলে উঠলো,

" তারাতাড়ি খাবার শেষ কর। আদ্রিয়ানকে নিয়ে আবার হাসপাতালেও যেতে হবে। "

হাসপাতালে যাওয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ানের মুখে অন্ধকার নেমে আসলো। সে একখানা পাউরুটি ছিড়ে মুখে দিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বলে উঠলো,

" আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি যে এই ছোট ছোট ক্ষত'র জন্য আবার হাসপাতাল যাওয়া লাগবে। এগুলো এমনিতেই সেড়ে যাবে। "

" খুব বড়ো হয়ে গিয়েছো তাই না তুমি? সেইজন্যই ক্ষত পরিস্কার করার সময় 'চাচ্চু!চাচ্চু' বলে চেঁচাচ্ছিলে আর ডাক্তারের বংশ ধুয়ে দিচ্ছিলে। "

ইলহামের কথায় আদ্রিয়ানের মুখ পানসে হয়ে গেলো। সে পাউরুটি চিবুতে চিবুতে ইলহামের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকালো যেন এই পৃথিবীতে তার চেয়ে অবলা আর কেউ নেই। ইলহাম চায়ে চুমুক দিয়ে বললো,

" ওভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। দ্রুত খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে পড়ো। "

সকলের খাওয়া শেষ হলেও আদ্রিয়ানের হলো না। সে শান্ত ভঙ্গিতে তখন থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে পাউরুটি খাচ্ছে। নূর বোরকা পরে তৈরি হয়ে এসে দেখতে পেলো আদ্রিয়ান এখনো খাচ্ছে। তা দেখে সে অবাক সুরে বলে উঠলো,

" দশটায় যেতে বলেছে, এখনই বাজে সাড়ে নয়টার কাছাকাছি। আর আপনি এখনো খাচ্ছেন!"

" সবুর করো। আগে খাওয়া তারপর বাকি সব কাজ। "

ইলহাম পাঞ্জাবীর হাতা ফোল্ড করতে করতে আদ্রিয়ানের কথা শুনে বললো,

" তো এই একমাস ধরে তোর লজিক কোথায় ছিলো খাওয়া দাওয়া নিয়ে?"

আদ্রিয়ান তার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বললো,

" চাচ্চু তুমি আমার মান সম্মানে এভাবে পানি ঢালতে পারো না। তখন থেকে অপমান করেই যাচ্ছো। "

" সময় হয়ে যাচ্ছে, বেরিয়ে পড়ো দুজনেই। আর তুই দ্রুত খেয়ে উঠ ।"

ইলহাম আদ্রিয়ানের মুখে পুরো পাউরুটি জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে বেরিয়ে পরতে বললো। আদ্রিয়ান তার সিকে আড়চোখে তাকিয়ে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। ক্ষত পরিস্কার করা আর খাল কেটে কুমির আনা দুইটাই এক লাগলো আদ্রিয়ানের কাছে। হাসপাতালে পৌঁছাতেই আদ্রিয়ানের মুখ শুকিয়ে গেলো। আবারও মরা চামড়া তুলবে হয়তো। এই সময়টা তার খুব কষ্টে পার হয়। নার্স তাকে ক্লিনিং রুমের ভেতর যেতে বলতেই সে নূরের দিকে তাকিয়ে রইলো। নূর তার চাহনি দেখে জিগ্যেস করলো,

" কি হলো? ভেতরে যান। "

আদ্রিয়ান তার কথায় এদিক ওদিক তাকিয়ে আমতাআমতা করে বললো,

" বলছিলাম কি তুমিও এসো। তোমার কথা ভেবেই বলছিলাম, এখানে কত মানুষ! নিশ্চয়ই তোমার অসস্থি লাগবে তাই আরকি। "

" কিছু হবে না। আপনি যান আমি এখানেই অপেক্ষা করছি।"

" তুমি আমার কথা বুঝতে পারছ না। আর নার্স গুলো হলো পরনারী তারা আমাকে স্পর্শ করবে, তুমি কি একটুও জেলাস হচ্ছো না?"

" শুনুন আমি আপনার মতলব বুঝতে পারছি। দ্রুত যান। ডাক্তার আপনাকে ডাকছে। "

" এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তোমার পা ব্যথা করবে। তার চেয়ে ভেতরেই এসো। "

নূর বুঝতে পারলো এই লোক ভারী নাছোড়বান্দা। তাই সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার সাথে ভেতরে চলে গেলো। ডাক্তার আদ্রিয়ানকে স্ট্রাকচারে শুইয়ে তার ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজ খুলে পরিষ্কার করতে লাগলো। মরা চামড়া তোলার জন্য চাপ দিতেই সে চোখ মুখ কুঁচকে নেয়। নার্সকে কিছু বলতে যাবে কিন্তু নূর চোখের ইশারায় তাকে না করাতে সে দাঁতে দাঁত খিঁচে তাকিয়ে রইলো। নূরের হিজাবের কোনা ধরে রেখেছে সে, আদ্রিয়ানের এহেন কর্মকান্ডের জন্য নূর সরতেও পারছে না। গোটা ত্রিশ মিনিটের মতো সময় লেগেছে ক্ষত পরিস্কার করে নতুন করে ব্যান্ডেজ করার জন্য। এর মাঝে অসংখ্যবার সে স্ট্রাকচার থেকে নেমে যেতে চেয়েছে, ক্ষত পরিস্কার করাবে না বলেও হুমকি দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সব শেষ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে রওনা দিলো তারা। মেরুদণ্ডের ক্ষততে এখনো ব্যথা তাজা। সোজা হয়ে বা হেলান দিয়ে বসতে কষ্ট হচ্ছে তার। কাঁধের ওদিকটায় ও ব্যথাটা বেড়েছে যার কারণে শার্ট পরার দরুন চিনচিন ব্যথা করছে। মাঝে গাড়ি থামিয়ে নূর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনে নিলো। আদ্রিয়ানের জ্বর সেরে উঠেনি তাই ঔষধ নিয়েছে কিছু। ডাক্তার জ্বরের জন্য এন্টিবায়োটিক দিয়েছে কিছু। বাড়ি ফিরতেই দেখতে পেলো ইশতেহার চৌধুরী এসেছেন। সুরাইয়া শাহ ও তিনি সোফায় বসে গল্প করছেন আর শামীমা চৌধুরী পায়রার ঘরে বসে আছেন। আদ্রিয়ান তাদের দেখে মনে মনে বললো,

" নিশ্চই ওই লাফাঙ্গাটাও এসেছে। আমার পেছনে না লাগলে পেটের ভাত হজম হয় না ওর। "

আদ্রিয়ানকে অন্যমনস্ক হতে দেখে নূর ফিসফিস করে বললো,

" কি ভাবছেন? ভেতরে চলুন। "

নূরের কথায় সে স্বাভাবিক হলো। স্মিত হেসে ভেতরে ঢুকতেই ইশতেহার চৌধুরী তাদের দেখে বললেন,

" বেরিয়েছিলে বোধহয় তোমরা? "

" হ্যাঁ চাচা।আসলে উনার আজ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিলো। "

" আচ্ছা, বেশ। "

এক মুহুর্তের জন্য আদ্রিয়ান ভেবেছিলো শাহনাব হয়তো আসেনি। এই ভেবেই সে খুশি হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সেই খুশি বেশিক্ষণ টিকলো না। নূর আদ্রিয়ানকে নিয়ে উপরে নিজেদের ঘরে যেতেই দেখতে পেলো শাহনাব বসে আছে বিছানায়। শাহনাবকে দেখে কপাল কুঁচকে এলো আদ্রিয়ানের। নূরকে দেখে শাহনাব বিছানা থেকে উঠে তার সামনে এসে বললো,

" তোমরা কেউ ছিলে না তাই ভাবলাম এসে কিছুক্ষণ রেস্ট করি। ঘর কিন্তু বেশ গোছানো, তোমার প্রশংসা করতে হয় নূর। "

" কারো পারসোনাল রুমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করা নিশ্চয় ম্যানার্সের মধ্যে পরে না তাই না শাহনাব? "

আদ্রিয়ান যে তাকে খুঁচা দিয়ে কথাটা বলেছে তা সে বেশ বুঝতে পারছে। সে খানিকটা বাঁকা হেসে বললো,

" নূরের ঘরে আসতে আমার অনুমতি লাগবে বলে মনে হয় না। কি বলো নূর? "

নূর তার কথায় আমতাআমতা করে বললো,

" আপনারা তখন থেকে কথাই বলছেন। আমি আপনাদের জন্য চা করে আনছি। "

নূর একপ্রকার পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। বোরকা খুলতে পারেন এখনো। সে নিজের ঘরে এসে বোরকা খুলে চলে গেলো রান্মাঘরে। ফারজানা তাদের চা নাস্তা দিলেও সে আবার বসিয়েছে। তারাহুরো করে পাটিসাপটা পিঠা বানাতে শুরু করলো। আদ্রিয়ান বিছানায় বসতেই শাহনাব তাকে খুঁচা দিয়ে বলে উঠলো,

" শুনলাম নূর আর তুই আলাদা থাকিস। জোর করে কেন ওর পেছনে পরে আছিস বলতো? "

" তাতে তোর কি? নিজের বউয়ের ব্যপারে নাক গলা, আমার বউয়ের প্রতি এতো ইন্টারেস্ট কেন?"

বারবার 'আমার বউ ' শব্দটা উচ্চারণ করায় শাহনাবের মেজাজ খারাপ হতে শুরু করলো। যেকোনো সময় হয়তো দুজনের মাঝে ঝামেলা শুরু হয়ে যেতে পারে। নূর সবাইকে চা দিয়ে তাদের জন্য চা নিয়ে আসতেই দেখতে পেলো আদ্রিয়ান শাহনাব দুজন দুজনের কলার ধরে রেখেছে। সে হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে তাদের দিকে এগিয়ে এলো। আদ্রিয়ানের রাগ বেশি সে জানে তবে শাহনাব কখন থেকে এতো রাগচটা হলো বুঝতে পারছে না নূর। কিছু সময় আগেইতো সে চা বানাতে গেলো। ভালো করে আধ ঘন্টাও হলো আর তারা একে অপরের উপর হামলে পড়েছে। নূর রাগান্বিত স্বরে তাদের দিকে তাকিয়ে বললো,

" কি শুরু করেছেন আপনারা? এই নিন চা খান।"

নূরের কথায় দুজনেই শান্ত হয়ে বসলো তবে আদ্রিয়ান এখনো রেগে ফুলে আছে যা তার মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। শাহনাব পাটিসাপটা পিঠা দেখে নূরকে বললো,

" পাটিসাপটা বানিয়ে ভালোই করেছো। তোমার হাতের পাটিসাপটা পিঠা খুব মিস করছিলাম। "

শাহনাবের কথা শুনে নূর কিছুটা লজ্জ্বা পেলেও আদ্রিয়ান ক্ষিপ্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। অত:পর একটা পাটিসাপটা পিঠা নিয়ে খেতে শুরু করলো। শাহনাব যেই না একটা পিঠা নিতে যাবে সে খপ করে প্লেট টা নিয়ে নিলো। তার এহেন কান্ডে নূর নিজেও হতবাক। শাহনাব রেগে বলে উঠলো,

" তোর একার জন্য বানিয়েছে নাকি? পুরো প্লেট নিলি কেন?"

" আমার বউয়ের বানানো পিঠা আমি খাবো। তোর খেতে হবে না। "

নূর শাহনাবের দিকে তাকিয়ে অত:পর আদ্রিয়ানকে বিচলিত কন্ঠে বললো,

" কি শুরু করেছেন।উনাকেও দিন। "

" রুমি দূরে থাকো এসব ব্যপার থেকে। আমার বউয়ের বানানো সবকিছু আমি খাবো। "

শাহনাব হামলে পড়লো আদ্রিয়ানের উপর। এক প্রকার কাড়াকাড়ি লেগে গিয়েছে। নূর হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। ছোট বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করছে দু'জনে। নূর তাদের থামাতে চেয়েও পারলো না অত:পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেলো সেই ঘর থেকে। নিচে আসতেই দেখতে পেলো শামীমা চৌধুরীও এইদিক দিয়েই আসছিলেন। নূরকে দেখে তিনি বললেন,

" শাহনাবকে দেখেছো নূর?"

নূর আমতাআমতা করে বললো,

" ওরা ঝগড়া করছে। "

নূরের কথা শুনে সুরাইয়া শাহ সহ বাকিরাও অবাক। তারা ভেবেছিলো হয়তো আগের মতো একজন আরেকজনের উপর হামলা করেছে একা পেয়ে। শামীমা চৌধুরী ও ইশতেহার চৌধুরী দ্রুত আদ্রিয়ানের ঘরে যেতেই দেখতে পেলো পুরো বিছানা জুড়ে পাটিসাপটা পিঠার টুকরো। আদ্রিয়ানের মুখ ফুলে আছে আর অর্ধেক তার হাতে আর শাহনাব সেই অর্ধেক কোনমতে ছিড়ে খেয়ে ফেললো। দুজনেরই মুখে নারিকেল ও গুড় লেগে আছে। শামীমা চৌধুরী দ্রুত ভেতরে ঢুকে তাদের আলাদা করে দুজনের মাথায় থাপ্পড় দিয়ে বলে,

" তোমরা এখনো ছোট বাচ্চা? দুজনেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কয়দিন পর বাচ্চা হবে আর তোমরা কি এখনো বাচ্চাদের মতো পিঠা নিয়ে কাড়াকাড়ি করছো। এই বয়সে এসেও যদি শাসন করতে হয় তাহলে বলো কি হবে তোমাদের? তোমাদের ভবিষ্যতের কি হবে আমি বুঝতে পারছি না। "

শাহনাব কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই শামীমা চৌধুরী তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে বললেন,

" তোমাদের তো আমি ম্যাচিউর মনে করতাম। আজ পিঠা নিয়ে ঝগড়া করছো কাল রাস্তায় চলাফেরা নিয়ে করবে। দুজনেই এখান থেকে বেরিয়ে যাও আর হাত মুখ ধুয়ে এসো। "

তার ধমকে দুজনেই চুপ হয়ে গেলো। বেরিয়ে যেতে নিবে তখনই মনে পড়লো তারা চা খায়নি। চা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই জোরে ধমক দিয়ে উঠলেন শামীমা চৌধুরী। আদ্রিয়ান তার ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতেই শাহনাব গেলো ফ্রেশ হতে। নূর দুজনের অবস্থা দেখে মিটমিট করে হেসে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে বিছানা ঝেড়ে দেয়।

সূর্য তখন মধ্যাকাশে আপন তেজে দীপ্তিমান। সূর্যের তীব্র আলো জানলার ফাঁক গলে প্রবেশ করেছে। ইশতেহার চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরী বেরিয়ে পরেছেন। যদিও নূর তাদের খেয়ে যেতে বলেছিলো কিন্তু তারা বেশিক্ষণ থাকলো না। যদিও শাহনাব যাওয়ার আগে আদ্রিয়ানের সাথে চোখে চোখে তাদের অনেক ঝগড়াঝাটি হয় মুখে না করলেও। ইলহামের জরুরি একটা কাজে শহরে যেতে হবে বলে সে বেরিয়ে পরলো। নূর রান্নাঘরে পায়রার জন্য খিচুড়ি ও মাছ ভেজে নিলো। সব কাজ শেষ করে আদ্রিয়ানের জন্য খাবার তুলে নিয়ে যেতেই দেখতে পেলো সে ক্ষততে মলম লাগাচ্ছে। তখন ডাক্তার ব্যান্ডেজ করে দিলেও বলেছিলো বাসায় আবারও ঔষধ লাগিয়ে নিতে। আদ্রিয়ানকে নিজে করতে দেখে নূর এগিয়ে গেলো কারণ সে নাগাল পাচ্ছে না। পেটের সাইডের ক্ষততে হালকা র''ক্ত শুকিয়ে লাল হয়ে আছে। নূর হাত বাড়িয়ে মলম নিতে গেলে আদ্রিয়ান বলে উঠে,

" আমি পারবো। তুমি বিশ্রাম নাও। সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে। "

" সব কাজ যখন করেছি এটাও নাহয় করে দিই।"

নূর তার হাত থেকে মলম নিয়ে লাগাটে শুরু করলো ক্ষততে। সব জায়গায় লাগানোর পর পুনরায় ব্যান্ডেজ করতে করতে বললো,

" শাহনান ভাইয়ের সাথে সবসময় এতো ঝগড়া করেন কেন?"

শাহনাবের কথা শুনতেই আদ্রিয়ান চোয়াল শক্ত করে বললো,
" আমি কিছুই করি না। আমার পেছনে না লাগলে ওর রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় এটাই আসল কথা।"

" কি হতো দুটো পিঠা খেতে দিলে? নাহয় ঝগড়া হতো?"

" আজব আমার পিঠা আমি দিতে যাবো কেন?"

" তবে যাই বলেন, আজ চাচী আপনাদের ভালোই বকেছে। "

নূরকে হাসতে দেখে আদ্রিয়ান এক পলকে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। আজকের কথা ভাবতেই শুধু হাসি আসছে নূরের। আদ্রিয়ানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নূর বলে উঠলো,

" কি দেখছেন এভাবে? "

" বউকে দেখছি।"

আদ্রিয়ানের কথায় সে কিছুটা লজ্জ্বা পায়। ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে বললো,

" সে তো প্রতিদিনই দেখেন। এ আর নতুন কি? "

" যত দেখি ততই দেখতে মন চায়। কি আর করতে পারি এই মনের? "

" বাংলা সিনেমা দেখে ফ্লার্ট করতে শিখেছেন নাকি?"

" আজকাল বউয়ের সাথে ফ্লার্ট করতে গেলেও বাংলা সিনেমা দেখে দেখে শিখতে হবে?"

" আপনার কথাবার্তা দেখে তো এমনই মনে হচ্ছে। ব্যান্ডেজ করা শেষ। খেয়ে নিন। "

নূর ভাতের প্লেট এগিয়ে দিতেই আদ্রিয়ান নাক সিটকে বললো,

" এখন ক্ষিদে নেই। তবে কেউ যদি খাইতে দিতে চায় তাহলে আবার মাইন্ড করি না।"

" আপনি কি কোনভাবে আমাকে খাইতে দিতে বলছেন?"

" কোথায়? আমি তো শুধু বলছিলাম যে কেউ খাইয়ে দিতে চাইলে আমি আবার মাইন্ড করি না। "

নূর দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকে খাইয়ে দিতে শুরু করলো। খাওয়ার মাঝেই আদ্রিয়ান হঠাৎ বলে উঠলো,

" এভাবে সারাজীবন খাইয়ে দিলে আমার আর কষ্ট করে হাত দিয়ে খেতে হবে না। "

" আজ ডাক্তার বোধহয় বেশি প্রেশার দিয়ে ফেলেছে তাই আবোল তাবোল বলছেন।"

" তুমি শুনছো তাই আমি বলছি।"

খাওয়ানো শেষ হওয়ার পর নূর চলে যেতে নিলে আদ্রিয়ান তার উড়নার কোণা ধরে টান দেয়। নূর পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেলো সে উড়নাতে তার মুখ মুছছে। নূর তা দেখে স্মিত হেসে চলে গেলো। আদ্রিয়ানের অধর কোনায় এখনো হাসি লেগে আছে, সে শার্ট পরে নিতেই দেখতে পেলো নূর এসেছে ঔষধ দিতে। জ্বর এখনো কমেনি তাই ডাক্তার বলেছে তিনদিন খেতে। সে ঔষধ এগিয়ে দিতেই আদ্রিয়ান হা করে নিলো। ঔষধ খাইয়ে দিয়ে সে চলে যেতে নিলে আদ্রিয়ান বলে উঠে,

" আজ একটু বেশিই বউ বউ লাগছে তোমাকে। "

আদ্রিয়ানের কথা শুনে নূর ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,

" আমি কি অবিবাহিত নাকি ?"

" সেটা কবে বললাম। তবে অন্যদিনের তুলনায় বেশি লাগছে সেটাই বললাম। "

"তাই নাকি? তাহলে আজ একটু বেশি করে দেখে রাখুন, কাল আবার এমন নাও লাগতে পারে।"

"না, কালও লাগবে।"

"তো প্রেমে ট্রেমে পড়লেন নাকি মশাই?"

" তো অনেক আগেই পড়েছি। তবে বলতে পারিনি। "

" কি এমন কথা যে বলতে পারেননি? "

" তুমি শুনতে চাইলে অবশ্য বলতে পারি।"

" শুনছি। বলুন।"

" ভালোবাসি।"

চলবে,,,,,

(সবাই ১.৫কে করে দিন প্লিজ। বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।)

গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 51 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন