#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৪৮)
( অনুমতি বিহীন কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।)
সময় কিভাবে পেরিয়ে যায় বলা মুশকিল। দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে আরও তিন-তিনটি মাস খসে পড়ল। মধ্যাহ্নের প্রখর সূর্য তখন আপন তেজে চারদিকে সোনালী আভা ছড়িয়ে পরেছে। মধ্যাহ্ন গড়িয়ে তখন অপরাহ্নের দ্বিতীয় প্রহরের সূচনা হয়েছে সবেমাত্র।গতকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টি পড়েছে। বাড়ির সেই চিরচেনা রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে টুংটাং শব্দ। নূর রান্নাঘরের সমস্ত কাজ শেষ করে ঘরে এসে বসলো। এই তিনমাসে আদ্রিয়ানের সাথে আগের চেয়ে ভালো সময় কেটেছে। নিজেদের মতো সময় কাটাতে পেরেছে দুজনে আবার নতুন করে। আগের আদ্রিয়ান আর এই আদ্রিয়ানের মাঝে বিস্তর তফাৎ । গত একমাস আগেই নতুন চাকরিতে জইন হয়েছে সে। প্রতিদিন অফিস থেকে নূরের জন্য ফুল নিয়ে আসা যেন রোজকার নিয়ম। পায়রার প্রেগন্যান্সির এখন দশমাস চলছে। ডাক্তার আরও সাতদিন পর ডেইট দিয়েছে তার। ইদানীং আগের চেয়ে বেশ স্বাস্থ্য বেড়েছে তার। ইলহাম জরুরি একটা আলোচনা সভায় গিয়েছে ফিরতে দেরি হবে তার। নূর ফ্রিজ থেকে পেয়ারা নিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিয়ে যায় পায়রার কাছে। নূরের মনে পরে যায় তার প্রেগন্যান্সির কথা। এক মুঠো বাতের জন্য সে পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলো কিন্তু রাহেলা শাহ'র মন গলাতে পারেনি। পাঁচ-পাঁচটা মাস সে দিনরাত কত অত্যাচার সহ্য করেছে তার হিসাব নেই। সেসব বিষয় আর ঘাটলো না সে। অতীত নিয়ে যত ভাববে ততই মন খারাপ হবে। পায়রার সামনে পেয়ারার বাটি নিয়ে বসতেই দেখতে পেলো তার মলিন চেহারা। পায়রাকে বিষন্ন চেহারায় দেখে বলে উঠলো,
" কি হয়েছে আপু? খারাপ লাগছে তোমার?"
" শরীরটা কেমন ভার হয়ে আসছে। উল্টো পালটা চিন্তাধারা আসছে বারবার। "
" কিচ্ছু হবে না। পেয়ারা মেখে নিয়ে এসেছি, খেয়ে নাও ভালো লাগবে। "
নূরের কথায় পায়রা এক টুকরো মুখে নিয়ে চিবুতে শুরু করলো। খাওয়া শেষে নূর রান্নাঘরে চলে যায়। পায়রা ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য বিছানা থেকে উঠতেই হঠাৎ অন্ধকার দেখতে শুরু করে। মুহুর্তের মাঝেই পানি ভেঙে যায় তার। হঠাৎ পায়রার চিৎকার শুনে নূরতার ঘরে আসতেই দেখতে পেলো মেঝেতে পানি। পুরো ব্যপার টা বুঝতে পেরে নূর তাড়াহুড়ো করে পায়রাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তাকে ধরে ধরে বসার ঘর পর্যন্ত নিয়ে আসে। একা হাতে পায়রাকে সামলানো যেন কঠিন হয়ে পড়ে। ডেলিভারির তারিখ আরও এক সপ্তাহ পরে, কিন্তু এতো দ্রুত এসব ঘটে যাওয়ায় সে আতঙ্কে রয়েছে। অতিরিক্ত ভয় ও পায়রার করুন অবস্থা দেখে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। গাড়িতে বসতেই ড্রাইভার গাড়ি চালানো শুরু করে। রাস্তা জুড়ে স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ। নূর ইলহামকে ফোন করতেই দেখতে পেলো তার ফোন বন্ধ। তার ফোন বন্ধ দেখার পর কি করবে ভেবে পেলো না সে। আদ্রিয়ানের কথা মাথায় আসতেই সে দ্রুত ফোন করে তাকে। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে যেন সে ফোন উঠায়। রিং বাজার কিছু সময় পরেই ফোন রিসিভ করে আদ্রিয়ান। হঠাৎ নূরের ফোন দেখে অবাক হলো কিছুটা। এইসময় ফোন করতে যাবে কেন ভেবে পেলো না। আদ্রিয়ান ফোন রিসিভ করতেই নূর হতদন্ত হয়ে বলে উঠলো,
" আপুর ডেলিভারির সময় হয়ে গিয়েছে। চাচাজানকে ফোন দিয়েছি কিন্তু ফোন তুলছে না। আপনি কিছু একটা করুন। "
এক নিঃশ্বাসে সবগুলো কথা বলল নূর। আদ্রিয়ান তার কথার জবাবে বিচলিত কন্ঠে বললো,
" তুমি চিন্তা করো না আমি এক্ষুনি চাচ্চুর কাছে যাচ্ছি। তুমি দ্রুত হাসপাতালে যাও চাচীকে নিয়ে। "
" আপনারা তারাতাড়ি আসবেন। "
আদ্রিয়ান ফোন কেটে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পরে। বাইক নিয়ে আসতেই দেখতে পায় ইলহাম মাত্র বেরোচ্ছে। ইলহাম আদ্রিয়ানকে এইসময় এখানে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিগ্যেস করলো,
" তুই এখানে কি করছিস? ছুটি দিয়ে দিয়েছে অফিস?"
" চাচীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে নূর। অবস্থা খারাপ তারাতাড়ি চলো। "
" কিন্তু ডেইট তো...."
"তারাতাড়ি বসো চাচ্চু।"
ইলহামকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বাইকে বসতে বললো আদ্রিয়ান। মিনিট দশেকের ভেতরেই তারা পৌঁছে গেলো মাধবপুর হাসপাতালে। ভেতরে ঢুকেই নূরকে অপেক্ষা করতে দেখে ইলহাম জিগ্যেস করলো,
" আমার বউ কোথায়? আমার বাচ্চারা ঠিক আছে তো?"
নূর চোখ তুলে একবার ইলহামের দিকে তাকালো। উৎকণ্ঠায় মানুষটার মুখের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে, শ্বাসপ্রশ্বাসও যেন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দ্রুত। নূর আমতাআমতা করে বললো,
আপুকে লেবার রুমে নিয়ে গিয়েছে নার্সরা। কিছুক্ষণ আগেই নিয়ে গেলো। "
নূরের কথা শুনেই ইলহামের বুকটা ধক করে উঠল। সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে না থেকে লেবার রুমের দিকে এগোতেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক নার্স তার পথ আটকে বললেন,
" কি করছেন আপনি? লেবার রুমে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ। "
ইলহাম তার কথা শুনা সত্ত্বেও আকুতি মিনতি করে বললো,
" একবার আমার স্ত্রীকে দেখতে দিন। আমি দূর থেকে ওকে দেখেই চলে আসবো। "
" একটা কথা বললে আপনার কানে যায় না? বলছি না ভেতরে যাওয়া যাবে না।"
পায়রার চিৎকার ভেসে আসতেই তার বুক ধক করে উঠে। ইলহাম অসহায় দৃষ্টিতে বন্ধ দরজাটার দিকে তাকিয়ে রইল। দরজার ওপাশে তার স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, অথচ সে কিছুই করতে পারছে না। দু'হাত মুঠো করে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে তার। কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে সে আদ্রিয়ানকে বললো,
" আ-আমি পাশের মসজিদে আছি। খবর পাওয়া মাত্রই আমাকে ফোন দিবি। "
আদ্রিয়ানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে মসজিদে চলে যায়। মসজিদে গিয়ে অজু করে নামাজে বসে সে। পায়রার জন্য চিন্তা হচ্ছে তার। তার চিৎকার শুনে খুবই চিন্তা হচ্ছিলো কিন্তু সে অসহায়, একটিবার ও স্ত্রীর সাথে দেখা করতে পারলো না। পায়রা হয়তো তার আশা করেছিলো কিন্তু সে পারলো না এই সময়ে তার স্ত্রীর পাশে থাকতে। একটু সহানুভূতি দেখালে হয়তো মেয়েটা সস্থি পেতো। অপরাধবোধ ঘিরে ধরেছে তাকে। মোনাজাত করার জন্য দুইহাত এক করতেই চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলো। এই মেয়েটা ছাড়া তার আর কেউ নেই। তার যদি কিছু হয় তখন সে কার কাছে যাবে একটু ঠাঁই পেতে। সে মিনমিন করে বলে উঠলো,
" আমার বউটা ছাড়া আমার কিচ্ছু নেই আল্লাহ। আমার বউটাই আমার শেষ সম্বল। তাকে সহি সালামত রেখো। আমার বাচ্চা দুটো যেন সুস্থ থাকে আল্লাহ। জীবনে অনেক পাপ করেছি কিন্তু আমার পাপের শাস্তি আমার সহধর্মিণী আর আমার সন্তানকে দিও না। এই অভাগার আর কেউ নেই তারা ছাড়া । "
কথাগুলো বলতেই টুপ করে এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো তার চোখ থেকে। সদ্য নবজাত শিশুর কান্নার আওয়াজে চোখ খুলে তাকালো পায়রা। দরজার বাইরে থাকা নূর ও আদ্রিয়ান দুজনেই একে অপরের দিকে তাকালো। আদ্রিয়ানের অধরে হাসি ফুটতেই নূর ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো তাকে। আনন্দের ঠেলায় সে কি করবে বুঝতে পারলো না। নূর তো কান্নাই করে ফেলেছে, পায়রাকে নিয়ে ভয়ে ছিলো সে। নামাজ শেষ করতেই মনে হলো বুকের উপর থেকে অনেক বড়ো একটা বোঝা নেমে গিয়েছে। একটু আগেই যেইরকম একটা অস্থির অস্থির অনুভূতি ছিলো এখন আর নেই। ইলহাম নামাজ শেষ করে সিড়ি দিয়ে নামতেই একটা ভিক্ষুককে দেখে তার দিকে একশ টাকার নোট এগিয়ে দিলো। ভিক্ষুকের চোখ চকচক করে উঠলো নোট দেখে। সে ইলহামের দিয়ে তাকিয়ে দু হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
" আল্লাহ আপনার সব ইচ্ছা পূরণ করুক।"
" দোয়া করুন যেন আমার স্ত্রী সন্তান সুস্থ থাকে। "
ইলহাম হাসপাতালে আসতে যাবে ঠিক তখনই আদ্রিয়ানকে দেখতে পায় সে একপ্রকার দৌড়ে আসছে। হঠাৎ ইলহামকে অবাক করে দিয়ে সে তাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো,
" তোমার ছেলে হয়েছে চাচ্চু। দেখতে এসো। "
ইলহাম যেন সস্থির নিঃশ্বাস ফেললো মাত্র। নূর ধীর পায়ে লেবার রুমের দিকে এগিয়ে আসতেই দেখতে পেলো সদ্য জন্মানো ধবধবে সাদা দুটো বাচ্চা ঘুমাচ্ছে। পাশে পায়রা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। নূরকে দেখতে পেয়ে পায়রা বলে উঠলো,
" কোলে নিচ্ছিস না কেন? পেটে থাকতেই তোর জন্য যে পরিমাণ লাফালাফি করেছে এখন কোলে না নিলে মুখ ফুলিয়ে রাখবে দেখিস।"
পায়রার কথায় নূর ফিক করে হেসে দিলো। কিন্তু তার মাঝে একপ্রকার জড়তা কাজ করছে। কিছু সময়ের জন্য চুপ থেকে অত:পর আমতাআমতা করে বলে উঠলো,
" এখনো তো তুমি কোলে নাওনি তাহলে আমি কি করে? "
" তাতে কি হয়েছে? আমার চেয়ে তোর অধিকার বেশি বুঝেছিস? একদিকে খালামণি আবার অন্যদিকে ভাবীও। কোলে নে এবার। "
নূর দুজনকে একসাথে কি করে কোলে নিবে তাই সে আরহামকে আগে কোলে তুলে নিলো। কোলে নিতেই নড়েচড়ে উঠলো বাচ্চাটা। নূর তার ছোট্ট ছোট্ট দুখানা হাত নড়তে দেখে বলে উঠলো,
" ইশ! কতো আদুরে। মাশাল্লাহ! "
হঠাৎ দরজা খুলে ইলহাম প্রবেশ করতেই পায়রা ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ইলহাম বুঝতে পারলো তার বউ অভিমান করেছে। অবশ্য এতো খাটাখাটুনির পর একটু আদরযত্ন না পেলে হয়? ইলহাম তার কাছে এগিয়ে আসতেই সে এক পাশ ফিরে দেয়ালের দিকে তাকালো। তাকাতে ইচ্ছে করছে এই লোকটার দিকে। পাজি লোক ফোন কেন তুলেনি এই তার অপরাধ। ইলহাম পায়রার চেহারা ভালো করে পরখ করলো। ফ্যাকাসে চেহারায় একদিন আগেও যেই গুলুমুলু ভাবটা ছিলো এখন আর নেই। একদিনের মাঝেই ঠোঁট শুকিয়ে গিয়েছে চেহারা ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করেছে। তাও ইলহামের কাছে পায়রাকে সবচেয়ে সুন্দর লাগছে। এখনো পর্যন্ত সে একটিবারের জন্যেও নিজের বাচ্চাকে দেখেনি। আগে বউয়ের রাগ ভাঙুক তারপর সব। ইলহাম পায়রার মুখে আঙ্গুল ঠেকিয়ে তার চেহারা নিজের দিকে ফিরিয়ে বললো,
" রাগ অভিমান এখানে দেখালে কি ভাঙাতে পারবো বিবিজান? আপনি কথা না বললে তো পুরো দিনই খারাপ যাবে আমার। বাড়ি চলুন আপনার সব আজ্ঞা মাথা পেতে নিবো, এই যে শপথ করলাম।"
ইলহামের ভাবভঙ্গিমা দেখে পায়রা হেসে ফেললো, সে নাকি চেয়ারম্যান অথচ এখন কি নাটকটাই না করলো।পায়রার মুখে হাসি দেখে ইলহাম এবার বাচ্চাদের দিকে এগিয়ে এসে বললো,
" আমার আব্বাজানেরা কোথায়? চলে এসেছে সবাইকে শাসন করতে?"
বাচ্চা দুটোকে কোলে নিয়ে পকেট থেকে টুপি বের করে কানে আজান দিয়ে দিলো এক এক করে। আদ্রিয়ান এখনো তাদের কাছে আসেনি। ভয় লাগছে যদি ব্যথা দিয়ে ফেলে বা পড়ে যায়। সে দূর থেকেই তাদের দেখে চলেছে। বাচ্চাদের নাম আগেই ঠিক করে রেখেছে ইলহাম। আদ্রিয়ানের নামের সাথে মিল রেখে আয়ান ও আরহাম রেখেছে। যদিও নামকরণ পরে করবে অনুষ্ঠান করে , তবুও এখন থেকে ডাকছে। ইলহাম আদ্রিয়ানকে ডেকে বললো,
" এইদিকে আয়। "
আদ্রিয়ান কাছে আসতেই ইলহাম নূরের কোলে আরহাম ও আদ্রিয়ানের কোলে আয়ানকে দিতে চাইলে আদ্রিয়ান মানা করে বলে উঠলো,
" ছোট বাচ্চা চাচ্চু। যদি পড়ে যায়?"
" পড়ে কেন যাবে? আমি শিখিয়ে দিচ্ছি।"
আদ্রিয়ান তারাতাড়ি শার্টের হাতা ফোল্ড করে নিলো যদি বোতামে ব্যথা পায়? নরম তোয়ালেতে মোড়ানো শিশুটিকে কোলে নিতেই যেন সবচেয়ে আলাদা এক স্পর্শের সাথে পরিচয় ঘটলো তার। অতি সযত্নে জড়িয়ে নিলো ছোট্ট বাচ্চাটাকে। ইলহাম পায়রার দিকে এগিয়ে এসে নূরকে উদ্দেশ্য করে বললো,
"ছোট্ট ছোট্ট দুখানা দেবর পেয়েছো নূর। পেলে বড়ো করার সব দায়িত্ব এবার তোমার। আমার বউয়ের এবার রেস্ট করার দিন, বুঝলে।"
ইলহামের কথায় পায়রা লজ্জ্বায় ইলহামকে চিমটি কেটে ইশারায় শাসায়।অপরদিকে নূর আরহারের কপালে আদরের স্পর্শ দিয়ে বললো,
" ঠিক আছে। দায়িত্ব যখন দিয়েছে পালন অবশ্যই করবো। "
আদ্রিয়ান খুশিতে আত্মহারা। আয়ানের চেয়ারা দেখে তার মনে হলো সে আদ্রিয়ানের বাপের চেহারা পেয়েছে যদিও এই সময় সকল বাচ্চাকেই একরকম লাগে দেখতে কিন্তু আদ্রিয়ানের মনে হলো আয়ান দেখতে তার আব্বার মতো হয়েছে। সে আয়ানকে আদর করে নূরের কাছে এসে আরহামকে এক পলক দেখে অত:পর আদুরে কন্ঠে বলে উঠলো ,
" আমার ঘরে আব্বাজান এসেছে। তাও একটা না দু-দুটো। "
বিকেল গড়িয়ে তখন অপরাহ্নের শেষ প্রহর। পশ্চিমাকাশে সূর্যের আলো স্লান হয়ে এসেছে। হাসপাতালের বিল মিটিয়ে বাড়ি ফিরেছে সকলে। সুরাইয়া শাহ সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য কিন্তু তাদের আসার নামই নেই। নাতিদের দেখার জন্য চাতক পাখির মতো ছটফট করছেন তিনি। নূর ও আদ্রিয়ানের কোলে বাচ্চাদের দেখে তিনি তারাতাড়ি করে গ্যাসলাইট নিয়ে আসলেন আগুন স্পর্শ করার জন্য। বাচ্চা দুটোকে দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেলো তার। চৌধুরী বাড়ির সবাইকে ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়ে গিয়েছে। জাহনাব আসবে শুনে রাগে সাপের মতো ফুসফুস করছে আদ্রিয়ান। যদিও ইলহাম তাকে বুঝিয়েছে যেন আজ কোন রকম ঝামেলা না করে কিন্তু ঝামেলা ছাড়া কি তাদের দিন যায়? ইশতেহার চৌধুরী ও বাকিরা পৌঁছতেই নূর তাদের স্বাগত জানিয়ে পায়রার ঘরে নিয়ে যায়। ইরা ও শাহনাব ও সেই ঘরের দিকেই আসছে তবে শাহনাব নূরের সামনে আসতেই আদ্রিয়ান কোথা থেকে যেন উদয় হলো। শামীমা চৌধুরী বাচ্চার জন্য কাথা নিয়ে এসেছেন। যদিও এই দায়িত্ব পালনের জন্য নূরের মা-বাবা আছেন তবুও শখ করেই নিয়ে এসেছেন তিনি। আয়ানকে আদ্রিয়ানের কোলে দিয়ে নাস্তা তৈরি করতে গিয়েছে নূর। এইদিকে ইরা ও শাহনাবের চুলোচুলি বেজে গিয়েছে আরহামকে কোলে নেওয়ার জন্য। ইরা দিতে চাচ্ছে না আরহামকে এইদিকে শাহনাব ও নাছোড়বান্দা। সে আরহামকে কোলে নেওয়ার জন্য তখন থেকে চাতক পাখির মতো বসে আছে অথচ ইরা গা জ্বালানো হাসি দিয়ে ধরে রেখেছে আরহামকে। দিতেই চাচ্ছে না। শাহনাব নিতে চাইলেই ইরা আরহামকে নিয়ে কোণায় বসে কোলের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে। ইরা দিতে না চাওয়ায় শাহনাব জোর করে নিতে গেলে ইরা তার হাতে জোরে চিমটি কেটে দেয় এতে শাহনাব তার মাথার চুল টেনে দেয়। এদের ঝগড়ার মাঝে এক পর্যায়ে আরহাম গলা ফাঠিয়ে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। তার কান্না শুনে পায়রা তাকে খাওনার জন্য নিয়ে নেয় এতে ইরা রেগে বলে উঠলো,
" আপনার জন্য হয়েছে। "
" তোমার জন্য হয়েছে। তুমি ওকে আমার কোলে দিচ্ছিলে না কেন? "
" আপনার কোলে গেলে এমনিতেই কাঁদতো?"
" আমার কোলে আসলে কাঁদতো এই কথা কি তোমার কানে কানে এসে বলে দিয়ে গিয়েছিলো?"
" দেখছিলেন না আমার কোলে কিভাবে শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছিলো। সহ্য হলো না তো আপনার।"
নূর সবাইকে নাস্তা দিয়ে আদ্রিয়ানের কাছে আসতেই দেখতে পেলো সে আয়ানকে আদর করছে। তাকে আদর করতে করতে আদ্রিয়ান নূরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
" চড়ুই পাখি, আমাদের নীড়েও একটা ছানা আনলে কেমন হয়? ওরা তো আমার ভাই হয়। মন ভরে বাপ বলেও ডাকতে পারি না। আমার ছানাটাকে মন ভরে আম্মা আব্বা বলে ডাকতে পারবো। ভালো হবে তাই না? গোল গোল গাল গুলো দেখলে ইচ্ছে করে মুখে পুরে খেয়ে ফেলি।"
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
( সবাই রেসপন্স করুন এবং ১.৫কে করে দিন তাহলে আমিও তারাতাড়ি দিতে পারবো। আপনারা রিয়েক্ট কমপ্লিট না করলে আমি কিভাবে দিবো বলুন? প্রতিদিন রেসপন্স সেইম না থাকলে অনেকের কাছে গল্প পৌঁছায় না। আপনারা ভাবেন আমি নিজের জন্য রিয়েক্ট খুঁজি। পেইজের হেলথ ভালো না থাকলে গল্প অনেকে পেইজে পায় না। প্লিজ রেসপন্স করবেন বেশি বেশি। বড়ো বড়ো মন্তব্য করবেন।)