#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৪৯) এর প্রথমাংশ
( অনুমতিবিহীন কপি করা সম্পুর্ণরুপে নিষিদ্ধ)
আদ্রিয়ানের কথা শুনে নূর স্মিত হেসে নাস্তা তার সামনে রেখে বললো,
" আমার কোল আলো করেও একজন আসার কথা ছিলো কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। "
নূরের কথায় আদ্রিয়ান মলিন চেহারা নিয়ে তাকালো তার দিকে। তার জন্যেই সব হয়েছে নয়তো আজ তাদের ও একটা সন্তান থাকতো। ছোট ছোট হাত পা নেড়ে খেলতো। কতদিন বাচ্চাটার কবর দেখা হয় না। আদ্রিয়ান ভাবলো আজ একবার কবর জিয়ারত করে আসবে। ছেলেটাকেও দেখে আসবে, মনটা বড়ই আনচান করছে। আয়ান ঘুমিয়ে গিয়েছে আদ্রিয়ানের সাথে খেলা করতে করতে। ছোট্ট হাতটা আদ্রিয়ানের বুড়ো আঙ্গুল আঁকড়ে ধরে আছে। একটু পরেই মাগরিবের আজান দিবে তাই আদ্রিয়ান আয়ানকে বিছানায় রেখে তার পাশে দুটো বালিশ দিয়ে দেয়। সে উঠে যেতে নিলেই আয়ান নড়ে উঠে কান্না করার ভঙিতে ঠোঁট ভেঙে আসে তার কিন্তু আদ্রিয়ান তার বুকে আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে দিতেই ঘুমে তলিয়ে যায় সে। নূরের দেওয়া চা-নাস্তা খেয়ে সে টুপি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আবার পেছন ফিরে নূরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
" আমি নামাজ পড়তে যাচ্ছি, আয়ানের খেয়াল রেখো।"
অত:পর গলা খাঁকারি দিয়ে আবার গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
" শাহনাবের আশেপাশে যেও না। লাফাঙ্গাটার মতিগতি আমার ভালো ঠেকছে না। "
নূর ঠোঁট টিপে হেসে তার কথায় সায় জানিয়ে মাথা নাড়তেই সে চলে যায়। আদ্রিয়ান যেতেই নূর ডিম পরোটা এক টুকরো মুখে দিয়ে মিনমিন করে বলে উঠলো,
" শাহনাব ভাইকে লাফাঙ্গা বলছে অথচ নিজে একসময় বখাটে, মাস্তান ছিলো। "
আদ্রিয়ান নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসলো। অন্ধকার নেমে এসেছে পুরো ধরণী জুড়ে। শাহ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান বেশি দূরে নয়, ছাদ থেকে স্পষ্ট দেখা যায় সেই কবরস্থান। নূর ছাদ থেকে আয়ান ও আরহামের প্যান্ট ও কাথা নিয়ে এসেছে, ছেলে দুটোকে এক মুহুর্ত ও প্যান্ট পড়িয়ে রাখা যায় না, কিছুক্ষণ পর পর পটি করে দেয় নাহয় প্রস্রাব করে দেয়। তাই সারাক্ষণ এটা ওইটা ধুয়ে শুকাতে দিতে হয় তাকে।
আদ্রিয়ান গিয়ে দেখলো আরিয়ানের কবরে পাতা, ডালপালা পড়ে নোংরা হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন ধরে ছেলের কাছে আসা হয়ে উঠে না তার, নাহয় প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে নিয়ম করে ছেলেকে দেখতে আসে সে। কিন্তু এই কিছুদিন একদমই আসতে পারেনি। ছেলের কবরের উপর থেকে পাতা,ডালপালা সরিয়ে সে বলে উঠে,
" বাবা আসিনি বলে রাগ হয়েছে সোনা? কি করবো বলো, তোমার আব্বা কাজে কত ব্যস্ত ছিলো জানো? তোমার দু-দুটো চাচা হয়েছে। তাদের সাথে কিছুটা ব্যস্ত ছিলাম তাই আসতে পারিনি। আব্বার সাথে কথা বলবে না তুমি?"
আদ্রিয়ান কবরের পাশে বেশ কয়েকটা ফুলের গাছ লাগিয়েছিলো সেখানে কলিও ধরেছে। নূর খেয়াল করলো সে একটা কাথা ফেলে এসেছে ছাদে। গুনে গুনে এগারো টা কাথা দিয়ে এসেছিলো অথচ এখানে আছে দশটা। এই বর সন্ধ্যায় ছাদে যেতে হবে ভেবেই ভয় লাগছে তার। কিন্তু এতকিছু না ভেবে মাথায় কাপড় দিয়ে সে ছাদে চলে যায়। ছাদে গিয়ে দেখতে পায় ছাদের কোনায় কাঁথা পড়ে আছে। হাত থেকে স্পষ্ট কবরস্থান দেখা যাচ্ছে। কবরস্থানে কারো উপস্থিতি দেখতে পেয়ে সে ভরকে যায় কিছুটা। এসময় কবরস্থানে কেই বা যাবে? আজ তো খেয়াল করতেই দেখতে পায় সেই ব্যক্তি আর কেউ নয়, আদ্রিয়ান। কবরস্থানে কিছু লাইট লাগানো হয়েছে সুবিধার জন্য। লাইটের আলোতে আদ্রিয়ান কে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আদ্রিয়ান কবর জিয়ারত করে কবরের পাশে বসে নিজে নিজে কথা বলছে। হাত নাড়িয়ে নানা অঙ্গি ভঙ্গি করে সব বলছে। নূর বুঝতে পারলো আয়ান ও আরহাম কে দেখে তার হয়তো ছেলের কথা মনে পড়েছে। আদ্রিয়ানের পাগলামি দেখে নিজের অজান্তেই চোখের কোনায় অশ্রু ভীড় জমালো। এই সময় কবরস্থানের মতো নির্জন জায়গায় যে কেউ যেতে ভয় পাবে কিন্তু আদ্রিয়ান সেখানে বসে নিজের মনের সব কথা বলছে তার ছেলেকে। ছেলেও হয়তো বড্ড মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনছে ।
ছাদ থেকে ফিরে সকলের সাথে বসার ঘরে বসলো নূর। আপাতত কাজ সব শেষ। শাহনাব কিছুটা এদিক ওদিক তাকিয়ে নূরের পাশে এসে বসলো যদিও সংকোচ লাগছে তার। ঘড়ির কাঁটা সন্ধ্যা সাতটায় পৌঁছাতেই আদ্রিয়ান বাড়ির চৌকাঠে পা রাখলো। আজ অনেক গল্প করেছে ছেলের সাথে। বাড়ি ফিরতেই শাহনাবকে নূরের পাশে বসতে দেখে আগুন জ্বলে উঠলো মাথায়। নূরের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে সে উপরে চলে যেতে নিলে নূর ও চলে যেতে নেয়, ঠিক তখনি শাহনাব বলে উঠে,
" কোথায় যাচ্ছো?"
নূর আমতাআমতা করে বললো,
" আসছি আমি। "
আদ্রিয়ান আলমারি থেকে কালো টি-শার্ট ও একটা ট্রাউজার বের করলো পরার জন্য। কাপড় নিতেই দেখতে পেলো নূর ভেতরে প্রবেশ করেছে। নূরকে দেখেও সে কিছু বললো না। ওয়াশরুমে ঢুকে কাপড় বদলে ফ্রেশ হয়ে নিলো। আদ্রিয়ান নিজের ফোন চার্জে দিয়ে বেরিয়ে যেতে নিতেই নূর বলে উঠলো,
" কবরস্থানে গিয়েছিলেন? "
নূরের কথা শুনে সে তোয়ালে বেলকনিতে রেখে বললো,
" হ্যাঁ, অনেকদিন ছেলেটাকে দেখি না তাই গিয়েছিলাম।"
বসার ঘরে সকলে মিলে গল্প করছে। শাহনাব'রা কেউই বাড়ি ফিরে যায়নি আজ। আয়ানকে কোলে রেখেই সকলের সাথে বসে টুকটাক গল্প করছে আদ্রিয়ান। আরহামকে কোলে নিয়েছে নূর। আয়ানের তুলনায় আরহাম প্রচুর কান্না করে তাই আরহামকে কোলে নিয়ে সারা ঘর ময় হেঁটে চলেছে নূর। হঠাৎ আদ্রিয়ান খেয়াল করলো কেমন যেন একটা গন্ধ নাকে ভেসে আসছে । এদিক ওদিক তাকিয়েও গন্ধের রহস্য খুঁজেও সমাধান পায়নি সে। অত:পর নিজের হাতে ভেজা স্পর্শ টের পেতেই চমকে উঠে সে। আয়ানকে কোল থেকে উঠিয়ে দেখতে পায় হলুদ রঙের তরল পদার্থ। বুঝতে বাকি রইলো না আয়ান পটি করে দিয়েছে। আদ্রিয়ানের করুণ চাহনি দেখে পায়রা ফিক করে হেসে ফেললো। অত:পর বলে উঠলো,
" বেচারা আদ্রিয়ানকে প্রথম দিনেই নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছে আমার ছেলে। কেমন লাগছে এখন আদ্রিয়ান? "
আদ্রিয়ান আয়ানের দিকে তাকিয়ে ফোস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো,
" মায়ের হয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছিস তাই না? পুঁচু কোথাকার! "
আয়ান ডেব ডেব করে তাকিয়ে কি বুঝলো কে জানে? দাঁতহীন নরম মাড়ি উন্মুক্ত করে হাসলো। আদ্রিয়ান তাকে ওয়াশরুমে নিয়ে যেতেই নূর আরহামকে রেখে এগিয়ে এলো পরিস্কার করে দেওয়ার জন্য। সে ভেবেছে হয়তো কাথা ভিজিয়েছে শুধু। তাই আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে জিগ্যেস করলো,
" কি করেছে?"
" পুটুস করে পটি করে দিয়েছে।"
আদ্রিয়ানের কথায় নূর ফিক করে হেসে ফেললো। নূরকে হাসতে দেখে সে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
" মায়ের হয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছিলি তাই না? পারলে তোর বাপের কোলেও করতে পারতি কিন্তু না মায়ের নেওটা প্রতিশোধ নিতে আমার হাতেই করে দিয়েছে।"
" হয়েছে থামুন আর বকবেন না। শক্ত করে ধরুন ওকে, আমি পরিস্কার করে দিচ্ছি।"
আয়ানকে পরিস্কার করে নতুন কাপড় পড়িয়ে সোফায় এসে বসতেই শাহনাব বলে উঠলো,
" এগুলো তোর পাপের ফল বুঝলি! সারাক্ষণ আমার নামে বদনাম করে বেড়াস তাই এসব ভোগ করতে হচ্ছে।"
শাহনাবের কথা আদ্রিয়ান দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠলো,
" একদম বাজে কথা বলবি না। আমি কি বদনাম ছড়িয়েছি?"
" বলবো কি ছড়িয়েছিস?"
দুজনের ভাবভঙ্গি মোটেও ভালো টিকছে না। এখনই হয়তো দুজনে আবার ঝগড়া লেগে যাবে এইটুকু সময়ের মাঝে। পায়রা তাদের অবস্থা বুঝতে পেরে আয়ানকে আদ্রিয়ানের কোল থেকে নিয়ে শাহনাবের কোলে দিয়ে বললো,
" আদ্রিয়ান তো অনেক্ষণ নিলে এবার নাহয় কিছুক্ষণ শাহনাবের কাছে থাক। "
শাহনাবের কোলে দেওয়ার কিছু সময়ের মাঝেই হিসু করে দেয়। হঠাৎ এমন করায় থতমত খেয়ে যায় শাহনাব, তার শার্ট ও প্যান্ট দুটোই ভিজে গিয়েছে। আয়ানকে হিসু করতে দেখে আদ্রিয়ান উচ্চস্বরে হেসে বলে উঠে,
" সাব্বাশ!"
শাহনাব রেগে তার দিকে তাকাতেই সে হাসতে হাসতে বললো,
" খুব তো বড়ো বড়ো কথা বলছিলি, এখন কোথায় গেলো সব? হাওয়া হয়ে গিয়েছে?"
শাহনাবের করুন চাহনি দেখে আদ্রিয়ান হাসতে গাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা। এদিকে পায়রা হাসি চেপে রেখে শাহনাবকে সান্ত্বনা দিতে আয়ানকে কোলে নিয়ে বললো,
" কি দুষ্টুমি শুরু করেছো আব্বাজান, কিছুক্ষণ পর পর মুতু আর পটি করে দিচ্ছো। ভাইয়ার কাপড় ভিজিয়ে দিয়েছো। "
শানবান যেহেতু আলাদা করে কাপড় আনেনি তাই তার শেষ সম্বল ছিলো শুধু এই কাপড়। আদ্রিয়ানকে হাসতে দেখে সে রাগে ফুসফুস করতে করতে ওয়াশরুমে চলে গেলো। পায়রার আপাতত খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হয় তাই সে আয়ানকে ইলহামের কোলে দিয়ে বলে উঠলো,
" ওর প্যান্ট বদলে দিন ।"
ইলহাম তার মুখ অন্যপাশে ফিরিয়ে বলে উঠলো,
" আমি পারবো না এখন। নূরকে বলো।"
" কিহ! আপনি ওর বাবা, আর আপনার পরিস্কার করতে সমস্যা কোথায়?"
আদ্রিয়ান আয়ানকে ইলহামের কোল থেকে নিয়ে বললো,
" আমি পরিস্কার করে আনছি।"
ইলহামের কর্মকান্ডে পায়রা ভীষণ রাগান্বিত হলো, সে মুখে কিছু না বললেও অসন্তুষ্ট হলো।
রাত্রির প্রথম প্রহরের শেষভাগে চারদিক নীরবতায় ঘেরা। আকাশজুড়ে অসংখ্য তারার মেলা, এবং তার জ্যোৎস্না মাখা আলো জানলার ফাঁক গলে ভেসে আসছে। শাহনাব সহ বাকিরা চলে গিয়েছে। পায়রা দুই সন্তানকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। আরহামকে কোল থেকে রাখাই যাচ্ছে না সে গলা ফাটিয়ে কান্না করছে। অপরদিকে আয়ানকে বিছানায় শুইয়ে রেখে আরহামকে কোলে নিয়ে খাওয়াচ্ছে পায়রা। কখন যে দুজনেই ঘুমিয়ে গিয়েছে তার খেয়াল নেই। আয়ান নিজে নিজে হাত পা নেড়ে খেলা করছে, আদ্রিয়ান অফিসের কাজ করছিলো ল্যাপটপে কিন্তু হঠাৎ পানির তেষ্টা পাওয়ায় দেখতে পায় ঘরে পানির বোতল খালি। অত:পর অপরাগ হয়ে সে পানি নেওয়ার জন্য নিচে আসতেই ভাবলো বাচ্চা দুটোকে একবার দেখে যাবে, যেই ভাবা সেই কাজ। ভেতরে যেতেই দেখতে পেলো আয়ান নিজে নিজে খেলছে। তাকে একা একা খেলতে দেখে সে আস্তে করে উঠিয়ে নিজের সাথে নিয়ে গেলো। নূর ও ফারজানা রাতের জন্য রান্না করছে, আদ্রিয়ান বোতলে পানি ভরে নিজের ঘরে চলে আসে। নিজের কোলের উপর আয়ানকে রেখেই কাজ করতে থাকে। অপরদিকে আয়ান ও ভদ্র ছেলের মতো তার কোলে শুয়ে আছে কোন আওয়াজ শব্দ ছাড়া। ঘন্টা খানেক পর পায়রার ঘুম ভাঙতেই দেখতে পেলো আয়ান নেই পাশে। ভেবেছিলো হয়তো নূরের কাছে আছে, তবে নূরকে সবজি কাটতে দেখে সে আর কথা না বাড়িয়ে সোজা আদ্রিয়ানের ঘরে যায়। আদ্রিয়ান অফিসের কাজ করছে আর আয়ান শুয়ে আছে তার কোলে। ব্যপার টা তার ভীষণ ভালো লাগলো, মুহুর্তের মাঝেই ক্যামেরাবন্দী করে নিলো সে। কয়েক ঘন্টার মাঝেই আয়ানকে এতো আপন করে নিবে পায়রা কখনো ভাবেনি। আদ্রিয়ানের সাথে তার সম্পর্ক ভালো না হলেও এই দিক থেকে আদ্রিয়ানের প্রতি তার মায়া জন্মেছে। সুরাইয়া শাহ কে রাতের খাবার দিয়ে এসে নূর পায়রার ঘরে খাবার নিয়ে গেলো। পায়রার খাবার আপাতত আলাদা তাই, আজ সবাই খুব ক্লান্ত তাই আর দেরি করলো না। সবাই তারাতাড়ি খেয়ে ঘুমাতে পারলেই বাঁচে। নূর আয়ানকে নিতে এসে দেখতে পেলো আদ্রিয়ান অজু করে বেরিয়েছে মাত্র। এতো রাতে আর বের হবে না সে, ঘরেই এশা'র নামাজ পড়ে ফেলবে ভাবলো। নূর আয়ানকে নিয়ে চলে যেতেই আদ্রিয়ান নামাজে বসলো। নূর ভাবলো কাল একবার মা-বাবার সাথে দেখা করে আসবে সাথে ইশিতাকেও নিয়ে আসবে। অনেকদিন ধরেই বলছিলো বেড়াতে আসার কথা। নূরের মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় তারা আসতে পারেনি নাহয় নাতি আসার উপলক্ষে তারা ঠিকই আসতো। আদ্রিয়ানের নামাজ শেষ হয়ে গিয়েছে ভেবে নূর ভেতরে আসতেই দেখলো আদ্রিয়ান মিনমিন করে মোনাজাতে বলা শুরু করলো,
" আল্লাহ আপনি তো সব জানেন, সব দেখছেন, আমার ছেলেটাকে জান্নাতবাসী করুন। আমার ছেলের সাথে সাথে আমার সবটুকু সুখ ও নিয়ে নিলেন আল্লাহ। আপনি তো ক্ষমাশীল তবে কেন এই পাপীকে ক্ষমা করলেন না? কেন আমার পাপের শাস্তি আমার সন্তানকে দিলেন? আমি কখনো বাবার আদর পাইনি অথচ আমার ছেলেটাও বঞ্চিত হলো বাবার ভালোবাসা থেকে।"
কারো উপস্থিতি টের পেয়ে সে বাকিটুকু ফিসফিস করে উচ্চারণ করলো। যতবারই আয়ান ও আরহামকে দেখে ততবারই নিজের সন্তানের জন্য বুকটা কেঁপে উঠে তার।
চলবে,,,,,,,,,,
( সবাই রেসপন্স করুন। ১.৫ কে করে দিন প্লিজ। আপনারা রেসপন্স করা কমিয়ে দিয়েছেন।)
গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/