#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৪৯) এর বর্ধিতাংশ
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পুর্ণরুপে নিষিদ্ধ)
সারাদিনের ব্যস্ততা পেরিয়ে রজনী তার কৃষ্ণাভ আঁচল মেলে দিয়েছে সমগ্র ধরিত্রীর বুকে। রজনীর প্রথম প্রহর প্রায় শেষের দিকে। দূর দিগন্তে অর্ধচন্দ্র রুপালি আভা ছড়িয়ে আছে। অসংখ্য নক্ষত্র যেন নীলিমার বুকে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুক্তোর দানা হয়ে মিটিমিটি জ্বলছে। নামাজ শেষে আদ্রিয়ান জায়নামাজ গুছিয়ে রাখতে রাখতেই জিগ্যেস করলো,
" কিছু বলবে?"
নূর আমতাআমতা করে বললো,
" ইশিতা ফোন করেছিলো, স্কুল বন্ধ দিয়ে দিয়েছে তো তাই ঘুরে যাওয়ার জন্য বায়না করছে। "
" এটা তো ভালো কথা। অনেকদিন আড্ডা দেওয়া হয় না ওর সাথে। বেশ তো আসতে বলো। "
আদ্রিয়ানের কথা শুনে নূরের অধরে মুচকি হাসির আবির্ভাব হলো। সে বেশ উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে বললো,
" তাহলে কাল অফিস থেকে ফেরার সময় একেবারে ওকে সহ নিয়ে আসবেন। আমি বলে দিবো ফোন করে। আপনার কোন আপত্তি আছে?"
" ইশিতা আমার ছোট বোনের মত, আমার কেন আপত্তি থাকতে যাবে। এটা তোমার বাড়ি, তোমার যখন ইচ্ছে তোমার পরিবারের লোকজনকে আসতে বলবে। "
" তাহলে আমি ফোন করে বলে দিচ্ছি যেন তৈরি হয়ে থাকে। "
" চাচ্চু আসেনি এখনো? "
" মাত্র ফিরেছে। নিচে আসুন, খাবার বাড়ছি। "
আদ্রিয়ান সায় জানাতেই নূর ভলে গেলো। ইদানীং আগের তুলনায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকে মেয়েটা। অর্ধাঙ্গিনী খুশি থাকলেই সে খুশি। আয়ানকে কোলে নিয়ে পায়রা তার কাথা বদলে দেয়, এর মাঝেই ইলহাম প্রবেশ করলো ঘরে। ইলহামকে দেখেও সে না দেখার ভান করে রইলো। ইলহাম তা বুঝতে পেরে খানিকটা গলা খাকারি দিয়ে আলমারি থেকে কাপড় বের করলো কিন্তু তাতেও পায়রার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। সে আপনমনে আয়ানের সাথে খেলছে। আয়ান ডেব ডেব করে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে, পায়রা তার কপালে চুমু খেয়ে বললো,
" ভাইয়ার সাথে বেশ খেলাধুলো চলছে দেখছি। ভাইয়া বেশি ভালোবাসে? হুম?"
ইলহাম পায়রার কথা শুনে তার কাছে এগিয়ে এসে আয়ানকে কোলে তুলে নিয়ে তার মুখমণ্ডল জুড়ে চুম্বন একেঁ দিয়ে বললো,
" আমার আব্বা কেমন আছে? আজ খুব দুষ্টুমি করেছে তাই না? ছুটো ছুটো হাত পা দিয়ে জ্বালাতন করেছে?"
পায়রা তার দিকে একবার ও ফিরে তাকালো না বরঞ্চ সে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো, ইলহাম তা দেখে তার পাশে বসে বললো,
" কি হয়েছে তোমার? তখন থেকে ফুলে আছো কেন?"
পায়রা তার কথা রাগান্বিত দৃষ্টি তাক করে বলে উঠলো,
"আমি ফুলে আছি? আমি কেন ফুলতে যাবো?"
" সে তো দেখতেই পাচ্ছি। আর কিছুক্ষণ পর সিলিন্ডারের মতো ব্লাস্ট না হয়ে যাও। "
" আপনি কি কোনভাবে আমাকে মোটা বলতে চাচ্ছেন? "
" আমি এই কথা কবে বললাম? আশ্চর্য মেয়ে মানুষ। "
" আমি ঠিকই বুঝতে পারছি। এখন আর বউ বাচ্চা ভালো লাগছে না তাই না?
ইলহাম তার কথাগুলো শুনে মিনমিন করে বলে উঠলো,
" ব্লাস্ট হয়ে গেলো। "
" কি বলছেন মিনমিন করে? "
" আমি কি করেছি বলবে তো। শুধু শুধু রাগ করছো, শরীর খারাপ করবে তো।"
" এই পাজি লোক, টিকটিকি, গিরগিটি একদম দরদ দেখাতে আসবেন না। আমার ছেলে নাহয় হিসু করেছে কিন্তু আপনি তখন ওমন করলেন কেন? ছেলেকে নিয়ে পরিস্কার করানো যেতো না? আদ্রিয়ান ভাই হয়ে পরিষ্কার করতে নিয়ে গেল অথচ আপনি বাপ হয়ে পারলেন না। এই আপনার ভালোবাসা ছেলেদের প্রতি? "
" এই শুনো একদম আমার ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে আসবে না, তখন একটু আলসি ধরে গিয়েছিলো তাই যাইনি, এই নিয়ে এতো রাগ করার কি আছে?"
" এই বয়সে এসে আলসি ধরে গিয়েছে। বুড়ো কোথাকার। "
পায়রা ইলহামকে কথা শুনিয়ে ছেলেকে নিয়ে চলে এলো, আরহাম ঘুমাচ্ছে। পায়রার কথা শুনে ইলহামের মুখ ভার হয়ে এসেছে, এতো সুন্দর ফিটনেস মেইনটেইন করার পরেও কিনা তাকে বুড়ো বললো, এই অপমান কিছুতেই নেওয়া যাচ্ছে না তার পক্ষে। খাওয়ার টেবিলে সবাই আসতেই নূর খাবার পরিবেশন করে নিজেও বসে পড়লো, ইলহাম থমথমে চেহারায় খেতে বসেছে তা দেখে আদ্রিয়ান টিটকারি মেরে বলে উঠলো,
" মুখটা ওমন বাংলার পেঁচার মতো কেন করে রেখেছো চাচ্চু?"
আদ্রিয়ানের কথা শুনে ইলহাম বুঝতে পেরেছে সে কি বোঝাতে চায়ছে, তাই সে প্লেটে ডাল নিতে নিতেই বলে উঠলো,
" কিছু হয়নি। "
মাঝে পায়রা আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
" এখন আর ঘর সংসার ভালো লাগে না তাই এমন করে রেখেছে। "
" এসব তুমি কি বলছো? "
নূরের কথায় পায়রা রাগান্বিত স্বরে বললো,
" ঠিকই বলছি। "
আদ্রিয়ান বুঝতে পেরেছে তাদের দুজনের মাঝে কিছু একটা হয়েছে। তাই সে বাঁকা হেসে ইলহামের দিকে একপলক তাকিয়ে অতঃপর পায়রার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
" কোনো মেয়ের সাথে চক্কর টক্কর চলছে নাকি চাচ্চুর? "
আদ্রিয়ানের কথায় ইলহাম থতমত খেয়ে যায়, এইদিকে পায়রা কেঁদে ফেলবে এমন একটা ভাব। তার সংসারে যে ঝড় নেমে আসছে তা ইলহাম ভালোই বুঝতে পারছে। সে কোনদিক সামলাবে বুঝে উঠতে পারছে না। আদ্রিয়ান আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইলহাম তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
" এসব কি বলছিস। আর পেট্রোল ঢালিস না বাপ, এমনিতেই আগুন জ্বলছে আর তুই এর মাঝে উল্টো পালটা কথা বলছিস। "
নূর আদ্রিয়ানকে ইশারা দিয়ে থামতে বললেও সে থামলো না বরং পায়রার দিকে তাকিয়ে আফসোসের সুরে বললো,
" চিন্তা করো না আমি তো আছিই। চক্কর টক্কর চললে বলতে পারো আমাকে। আমি ব্যবস্থা নিবো সত্যি ....."
নূর আদ্রিয়ানকে আর কিছু বলতে না দিয়ে পায়রা ও ইলহামকে বললো,
" ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো খেয়ে নিন। তুমিও খেয়ে নাও নাহয় রাতে ক্ষিদা লাগবে। "
পায়রা বাচ্চার কথা ভেবে খেতে শুরু করলেও মাঝে মাঝে আড়চোখে ইলহামকে দেখছে। ইলহাম তারাতাড়ি করে খাওয়া শেষ করে চলে যায়, যতক্ষণ এখানে থাকবে ততক্ষণই তার জন্য বিপদ। আদ্রিয়ানের বিশ্বাস নেই কখন কি বলে তাকে ফাঁসিয়ে ফেলে। ইলহাম উঠে যাওয়ার পরপরই পায়রা ও খাওয়া শেষ করে চলে যায়। টেবিলে মাত্র দুজনই উপস্থিত আছে, আদ্রিয়ান ও নূর। তারা চলে যেতেই নূর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
" শুধু শুধু উনাকে ফাঁসাচ্ছেন কেন? বেচারা কিছু বলতেও পারছিলো না সইতেও পারছিলো না। "
আদ্রিয়ান মাংসের টুকরো চিবুতে চিবুতে বললো,
" এমন সুযোগ বারবার আসে না। পেয়েছি যখন হাতছাড়া করতে যাবো কেন?"
নূর বুঝে উঠতে পারলো না এই লোক এমন কেন। ইলহামের জন্য মায়া হলো তার। খাওয়া শেষে নূর সব গুছিয়ে রাখতে গেলে আদ্রিয়ান ও হাতে হাতে তাকে এটা ওটা এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করছে। আদ্রিয়ানকে কাজ করতে দেখে নূর বলে উঠলো,
" আপনি রুমে চলে যান। আমি পারবো এসব করতে। "
আদ্রিয়ান তার কথায় পাত্তা দিলো। বেসিনে সব থালাবাসন রেখে বললো,
" আমি জানি তুমি পারবে। আমি তো আমার কাজ করছি। "
" করতে হবে না। আপনার কাজ নয় এসব। "
নূর উক্ত কথা বলে থালাবাসন ধোয়ার জন্য নিতেই আদ্রিয়ান ও তার পাশে দাঁড়িয়ে একটা প্লেট নিয়ে মাজতে মাজতে বললো,
" বউকে সাহায্য করা সুন্নত। এইটুকু কাজ করলে হাত খসে পড়বে না। "
নূর তার কথা শুনে হঠাৎ কিছু একটা ভেবে হাসলো, অত:পর বলে উঠলো,
" এই কথাগুলো যদি এক বছর আগে ভাবতেন তাহলে আজ সবকিছু কত সুন্দর হতো। একটা সাজানো গোছানো সংসার হতো। "
তার কথায় আদ্রিয়ান চুপসে গেলো। বলার মতো কিছুই নেই তার। বুঝতে বড্ড দেরি করে ফেলেছে যে! মনে মনে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার রইলো না তার। কিছু সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো নিশ্চুপ থেকে, অত:পর আদ্রিয়ান হুট করে বলে উঠলো,
" এতোই যখন অপছন্দ ছিলো তাহলে তালাক চাইলে না কেন? অবশ্য তালাক হয়ে গেলে শাহনাবের মতো একজন জীবনসঙ্গী পেতে পারতে। শাহনাব একদম পারফেক্ট ছিলো তোমার জন্য। "
" সমাজে একজন ডিভোর্সী মেয়ের কতটুকু সম্মান তা যদি জানতেন তবে কখনো এই প্রশ্ন করতেন না। বিয়ের প্রথম রাতেই ছুড়ে ফেলেছিলেন ফেলে রাখা ময়লার মতো। পরের দিন কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। শাহনাব ভাই আগ বাড়িয়ে কথা বলতে আসায় কি বেদম মারটা'ই না দিলেন। বিয়ের একমাসের মাথায় এতোকিছু হয়ে গেলো, যদি আমি তালাক চাইতাম আপনি কি রাজি হতেন? যদিও বা রাজি হলেন কিন্তু সমাজের মানুষ তো আমারই দোষ দিবে যে এক মাস ও স্বামীর সংসার করতে পারলাম না। ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আমাকে বুঝবেন, আমার পাশে থাকবেন, কিন্তু আপনার মায়ের কারসাজির জন্য তিনটে জীবন নষ্ট হয়ে গেলো। আমার সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখলো না আর না আমি সুখের মুখ দেখেছি। আমার খুব শখ ছিলো একটা সংসার হবে। আমার কোলজুড়ে একটা সন্তান থাকবে। একটা সাজানো সংসার থাকলে না খেয়েও দিন পার করা যায়, জানেন তো। আমি সংসার চাওয়াতে আমার সংসার হয়নি অথচ একই ছাদের নিচে আপুর কত সুন্দর একটা সংসার। আপনি বুঝতে খুবই দেরি করে ফেললেন আদ্রিয়ান৷ কেন আরও আগে বুঝলেন না?"
নূরের কথাগুলো শুনে আদ্রিয়ান চুপ করে রইলো। তার চোখের দিকে তাকানোর স্পর্ধা টুকুও নেই আদ্রিয়ানের মাঝে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলো,
" ট্রেনিং থেকে ফিরেই ভেবেছিলাম তোমায় আপন করে নিবো কিন্তু সব এতো তারাতাড়ি হয়ে গেলো যে বুঝতেই পারলাম না। আম্মা কখনো এসব করবে বলে আমি ভাবতে পারিনি। ছোট থেকেই দেখতাম ফুপি সবসময় আমাকে হেও করতো, বয়স যখন পনেরোর ঘরে তখনই জানতে পারলাম কোন এক নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া পাপের ফসল আমি। নিজের মা আমায় নালার ধারে ফেলে চলে গিয়েছিলো, সেই থেকে হয়ে উঠলাম উগ্র, বখাটে , চঞ্চল। বাবার আদর কি বোঝার আগেই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন তিনি। ভেবেছিলাম নিজের একটা সন্তান হলে তাকে পৃথিবীর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবো কিন্তু তার আগেই নিজের হাতে দাফন করলাম আমার সন্তানকে। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব প্রায়। তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।"
ভাগ্যের লিখন কি আর বদলানো সম্ভব? কাজের ফাঁকে ফাঁকে দুজনেই মন খুলে তাদের ভেতরে জমে থাকা কষ্ট প্রকাশ করলো। এই দুনিয়ায় তাদের দুজনের দুজনকে ছাড়া আর কেউ নেই। স্বামী নামক মানুষটি তার ভুল বুঝতে পেরেছে, গত তিনমাস ধরে নূরের দেওয়া শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। অনুমতি ব্যতীত ঘরেও প্রবেশ করেনি। তার উপর জমে থাকা সমস্ত রাগ অভিমান পুরোপুরি লোপ না পেলেও মনের কিনারে কিছু জায়গা পেয়েছে আদ্রিয়ান । আসলেই তো এই লোকটার সে ছাড়া আর কেই বা আছে?
" কেউ নেই? আমি ছাড়া সবই তো ছিলো। "
নূরের আকষ্মিক প্রশ্নে আদ্রিয়ান পেছন ফিরে এক পলক তার দিকে তাকালো। অত:পর ধোয়া থালাবাসন রাখতে রাখতে বললো,
" তোমার চলে যাওয়ার পর যখন জ্বরে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলো তখন কেউ যত্ন করে দুমুঠো খাইয়ে দিতে আসেনি। শরীর ভেঙে এসেছিলো, একদিন ধরে বিছানায় পড়েছিলাম অফিস থেকে ফিরে। ডায়রিয়া হওয়ার পর ওয়াশরুমে যাওয়ার শক্তিটুকু পর্যন্ত ছিলো না আমার মাঝে। কাপড় ভিজিয়ে ফেলার পর পরেরদিন আবারও দূর্বল শরীর নিয়ে পরিস্কার করেছি সব। আয়নার দিকে তাকানোর সুযোগ পায়নি এই একমাস, চুলে হাত দিলে মনে হলো ঘাসে হাত বুলাচ্ছি। প্রচন্ড মাথাব্যথায় কেউ যত্ন নিয়ে হাত বুলিয়ে দেয়নি। কেই বা দিবে? মা নেই, বউ ও নেই। "
" চাচা কোথায় ছিলো?"
" চাচ্চু নিজের বাড়িতে ছিলো আর আমি এই বাড়িতে । চাচ্চু বলেছিলো আসবে কিনা কিন্তু আমিই না করেছি, অসুস্থতার কথা বলে চিন্তায় ফেলতে চাইনি, বয়স আটাশ হয়ে এসেছিলো যে, এই বয়সে এসে এসব মানায় না। এই সময়টাতে বুঝলাম এই পৃথিবীতে আমার জন্য কেউ নেই তুমি ছাড়া । আমি মা''রা গেলেও বোধহয় কেউ টের ও পাবে না।"
" এতোটা অবহেলা করেছেন নিজের প্রতি? যদি কিছু একটা হয়ে যেতো? ডাক্তারের কাছে যাননি কেন?"
" বেঁচে থাকার সব আশা'ই যে হারিয়ে ফেলেছিলাম। "
চলবে,,,,,,,,
( সবাই রেসপন্স করুন। ১.৫কে করে দিন জলদি।)
গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/