#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৫০)
( অনুমতি ব্যতীত কপি করার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।)
নূর আদ্রিয়ানের কথায় দীর্ঘশ্বাস ফেললো। কথায় আছে ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। অতীতকে যত মনে পড়বে ততই মন ভার হবে। রান্নাঘরের সমস্ত কাজ শেষে আদ্রিয়ান ও নূর নিজেদের ঘরে চলে গেলো। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে এই সময়, তাতে যেন গরম আরও বেড়েছে। আদ্রিয়ান নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে, ঘুম আসছে না তার। গত তিনমাস যাবত ঘুমের ঔষধ খেয়েই ঘুমাতে হয় আদ্রিয়ানের। হঠাৎ আপনাআপনি দরজা খুলে যাওয়াতে আদ্রিয়ান বেলকনি থেকে উঁকি দিয়ে দেখলো নূর এসেছে, তার হাতে একটা বাটি। হয়তো কিছু এনেছে। নূর বাটি নিয়ে আদ্রিয়ানের পাশে বসে তার দিকে এগিয়ে দিলো। পায়েস নিয়ে এসেছে নূর। আগে রাতের খাবার খাওয়ার পর আদ্রিয়ানের জন্য মিষ্টি জাতীয় খাবার উঠিয়ে রাখা হতো। বিশেষ করে পায়েস। পায়েস তো রান্না হয়নি তাহলে নূর কোথায় পেলো তা বুঝতে পারছে না সে। আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে বললো,
" পায়েস কবে রান্না হলো? আমি তো দেখলাম না। "
নূর চোরা চোখে তাকিয়ে বললো,
" খানিকটা দুধ বেচে গিয়েছিলো তাই ভাবলাম সেগুলো দিয়ে পায়েস বানিয়ে ফেলি। "
" এইটুকুই হয়েছে? তুমি খাবে না?"
" আমি খাবো না আপনি খান। "
নূর অতো বেশি মিষ্টি খায় না তাই আদ্রিয়ান আর জোর করলো না। কতদিন পায়েস খায় না সে। চেটেপুটে শেষ করলো সে। নূর আদ্রিয়ানের খাওয়া দেখে মিটমিট করে হাসলো । আদ্রিয়ান ভেবেছিলো নূর হয়তো চলে যাবে কিন্তু আদ্রিয়ানের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে সে বিছানায় বসে পড়লো। আদ্রিয়ান নূরকে বিছানায় বসতে দেখে আর উঠলো না চেয়ার থেকে। কিছু সময় দুজনের মাঝে নিরবতা বিরাজ করলো। আদ্রিয়ান কাজের ফাঁকে ফাঁকে নূরের দিকে তাকাচ্ছে অথচ ল্যাপটপে কোন কাজ করছে না। আন্তাজে টাইপ করে যাচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গিয়েছে, বেলকনিতে থাকা গাছের পাতায় টুপটাপ বৃষ্টির ফোটা চকচক করছে। রজনীর দ্বিতীয় প্রহর শেষে নূর আদ্রিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো,
" ঘুমাবেন না?"
" ঘুম আসছে না আপাতত। তুমি গিয়ে শুয়ে পরো। "
আদ্রিয়ান ভেবেছিলো নূর হয়তো তার ঘরে চলে যাবে কিন্তু সে কাথা মুড়ি দিয়ে আদ্রিয়ানের বিছানায় শুয়ে পরলো। আদ্রিয়ান নূরের কর্মকান্ড দেখে বিষ্ময় নিয়ে বললো,
" এখানে ঘুমাবে?"
নূর ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
" তো কোথায় ঘুমাবো? "
" না মানে, তুমি তো অন্য ঘরে ঘুমাও তাই বললাম। "
" দেখুন যা হওয়ার হয়েছে, অতীত তো আমরা বদলাতে পারবো না কিন্তু বর্তমান ও ভবিষ্যতকে ঠিকই সাজাতে পারবো। "
আদ্রিয়ান এখনো নিজের মধ্যে পরিপূর্ণ বিশ্বাস আনতে পারছিলো না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো নূরের দিকে। নুর তার মনের কথা বুঝতে পেরে আদ্রিয়ানকে বললো,
" আলো নিভিয়ে ঘুমাতে আসুন। কাল আবার অফিস আছে আপনার। "
আদ্রিয়ান আলো নিভিয়ে নূরের পাশে শুয়ে পরলো। নূর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছে অথচ আদ্রিয়ান পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নূরের দিকে। তিনমাস পর আজ সে ঘুমের ঔষধ ছাড়া শুয়েছে। নূর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কাঁথার একাংশ গড়িয়ে নিচে নেমে গেছে। ঘুমন্ত অবস্থায়ও মেয়েটার মুখে একরাশ প্রশান্তি। আদ্রিয়ান নিঃশব্দে কাঁথাটা টেনে নূরের গলা পর্যন্ত তুলে দিল। আঙুল ছুঁয়ে গেল কপালের ওপর এলোমেলো হয়ে থাকা কয়েকটি চুলের উপর । মুহূর্তেই হাত সরিয়ে নিল সে। নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। নূরের এক হাত সে আলতো করে নিজের হাতের উপর রাখলো, যেন নূর চলে গেলে সে টের পায়।ভোরের শেষ প্রহর পেরিয়ে পূর্ব দিগন্তে সূর্যের প্রথম আভা উঁকি দিতেই আদ্রিয়ান জেগে উঠলো৷ নূর পাশে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। তারাতাড়ি অফিসের জন্য তৈরি হয়ে নিলো সে, আজ মিটিং থাকায় সকাল সাতটায় পৌঁছাতে হবে তাই এতো তারাহুরো। নূরকে ঘুমাতে দেখে সে আর ডাকলো না, দ্রুত তৈরি হয়ে চলে গেলো। ঘুম ভাঙতেই আদ্রিয়ানকে দেখতে না পেয়ে নূর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সকাল নয়টা বাজে। আয়ানের কান্নার শব্দ শুনা যাচ্ছে নিচ থেকে। ইলহাম কবেই বেরিয়ে গিয়েছে। বাচ্চা দুটোকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে পায়রা। নূর ফ্রেশ হয়ে পায়রার কাছে যেতেই দেখতে পেলো সে ঝিমাচ্ছে আয়ানকে কোলে নিয়ে। চুলে জটলা পাকিয়ে এক অবস্থা হয়ে আছে। আয়ানের হয়তো খারাপ লাগছে, বাচ্চাটা সেই সকাল থেকে নাকি কেঁদেই চলেছে। আরহামও একই সাথে সুর মিলিয়ে কাঁদছে। নূর আয়ানকে কোলে নিতেই সে আরও জোরে কাঁদতে শুরু করেছে। নূর মনে মনে ভাবলো আদ্রিয়ানের কথা। সে থাকলে হয়তো কান্না থামাতে পারতো। পায়রা এখনো সুস্থ হয়নি তাই বেশি চলাফেরা ও করতে পারছে না। বেশ খানিকটা সময় কেটে গিয়েছে তবুও কান্না থামাতে পারছে না। একজন কাঁদলে আরেকজন উঠে কান্না করছে। আপাতত আয়ানকে কোলে নিয়ে হাঁটছে পায়রা। আরহাম ঘুমোচ্ছে শান্তিতে। নূর বোরকা পরে বেরিয়েছে দোকানে যাওয়ার জন্য । পায়রার ঔষধ শেষ তাই সেসব নিতেই বেরিয়েছে, সাথে লাড্ডু বানানোর জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনবে ভেবে রেখেছে। দোকান থেকে সব নিয়ে ফিরতে যাবে ঠিক তখনই কেউ নূর বলে ডেকে উঠতেই সে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো তার পুরোনো ক্লাসমেট রাফিন । অনেকদিন পর দেখা তাদের।
" নূর না তুমি?"
" তুমি হঠাৎ এখানে?"
" ঢাকা থেকে ফিরেছি গতকাল। তাই সোহেলের বাসায় যাচ্ছিলাম। তো তোমার স্বামী কেমন আছে?"
" ভালো আছে সে। "
" এখানে কি করছো? শ্বশুরবাড়ি কি এখানে?"
" হ্যাঁ সামনেই। আপুর ঔষধ নিতে এসেছিলাম। বাড়িতে কেউ নেই তো তাই। "
আদ্রিয়ান মিটিং শেষ করে বাড়ি ফিরতেই পথে দেখতে পেলো নূর একটা ছেলের সাথে খুব হেসে হেসে কথা বলছে। নিকাব পরা সত্ত্বেও তার চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
" আমি এবার আসি। "
নূর চলে যেতে নিলেই রাফিন আগ বাড়িয়ে তার দিকে একটা গোলাপ ফুল এগিয়ে দেয়। পাশেই ফুলের দোকান যেহেতু তাই সেখান থেকে হাত বাড়িয়ে ফুল নিয়ে নূরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
" হঠাৎ দেখা হওয়ায় কিছু দিতে পারলাম না। আপাতত ফুলটা রাখো। পরের বার দেখা হলে অবশ্যই ট্রিট দিবো। "
" না না! এসবের কি দরকার? "
" আরেহ নাও। বরকে দিয়ে দিও নাহয়। ভাই হিসেবে দিচ্ছি।"
রাফিনের কথায় নূর ফুলটা নিয়ে নেয় কোন প্রকার দ্বিধাদন্ড ছাড়া। অপরদিকে আদ্রিয়ান পলকহীন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার হাতে রাখা নূরের জন্য ফুলগুলো সে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দেয়। তার চাহনিতে আগুন জ্বলছে রীতিমতো। সহ্য করতে পারছে না সে। তবে কি শাহনাবের কথাই ঠিক? তার এই চেহারার জন্যই কি নূরের কাছে তাকে আর ভালো লাগছে না? গতকাল রাতেও তো নূর নিজ থেকেই তার কাছে এসে ধরা দিয়েছিলো, তবে? উত্তর খুঁজে পেলো না সে। পাগল পাগল লাগছে তার নিজেকে। বাড়ি ফিরে আদ্রিয়ানের বাইক দেখতে পেয়ে নূর সমস্ত জিনিসপত্র সামলে ঘরে গিয়ে দেখে আদ্রিয়ান বিছানায় বসে আছে। তার মাথায় উল্টোপাল্টা চিন্তা ধারা ঘুরপাক খাচ্ছে। নূর আদ্রিয়ানের কাছে আসতেই সে নূরের দিকে না তাকিয়ে আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। নূর এই ফাঁকে নাস্তা নিয়ে আসে একেবারে। প্রায় দুই ঘন্টা যাবৎ ওয়াশরুমে রয়েছে সে। এতোক্ষণ কি করছে বুঝতে পারছে না নূর। আদ্রিয়ান ওয়াশরুম থেকে বের হতেই তার রক্তবর্ণ চক্ষুদ্বয় দেখতে পায় নূর। হঠাৎ কি এমন হলো বুঝতে পারলো না। হয়তো লোকটার খারাপ লাগছে। নূর তার কাছে এগিয়ে এসে বললো,
" আপনার কি শরীর খারাপ করছে? চোখ মুখ এভাবে লাল হয়ে গিয়েছে কেন? "
" কিছু হয়নি।"
আদ্রিয়ান বিছানায় বসে সিগারেট ধরায়। নূর যতদিন এখানে ছিলো আদ্রিয়ানকে কখনো সিগারেট নিতেও দেখেনি। এই অবস্থায় সিগারেট খেলে তো শরীরের ক্ষতি হবে সেটা কি এই লোকটা বুঝতে পারছে না নাকি।
" আপন সিগারেট খাওয়া আবার কবে শুরু করলেন? এতোদিন তো দেখলাম না। "
আদ্রিয়ান নিশ্চুপ। নূর খাবার এগিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও আদ্রিয়ান তাকায়নি পর্যন্ত তার দিকে। হঠাৎ এহেন আচরণে বিরক্ত হয় নূর। সে বিরক্তিকর চাহনি তাক করে বললো,
" আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আমি কি বলছি? জবাব দিচ্ছেন না কেন? "
" ছেলেটা কে ছিলো?"
আদ্রিয়ানের কথায় নূর অবাক হয় কিছুটা। কার কথা বলছে আদ্রিয়ান।
" কোন ছেলে?"
" যে তোমাকে টেবিলের উপর রাখা এই ফুলটা যত্নসহকারে দিয়েছে।"
" আপনি দেখেছেন?"
আদ্রিয়ান নূরের কথায় তাচ্ছিল্য হেসে বললো,
" দেখে ভুল করে ফেলেছি? পরেরবার থেকে চশমা পরে নিবো যেন দেখতে না হয়।"
" আমি কবে বললাম যে ভুল করেছেন। আমার পুরোনো ক্লাসমেট ছিলো রাফিন। "
" ক্লাসমেট হলে কেউ ফুল দেয়?"
আদ্রিয়ানের প্রশ্নে সে থতমত খেয়ে যায়। আমতাআমতা করে সাফাই দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলে,
" এতোদিন পর দেখা। পাশেই ফুলের দোকান ছিলো তাই দিয়েছে। "
" ভালো। "
" খাবেন না?"
হঠাৎ আদ্রিয়ান নূরের উপর হামলে পড়ে। দুহাতে ঝাপটে ধরলো নূরের ছোট্ট দেহখানা। আদ্রিয়ানের শক্তপোক্ত শরীরের বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারলো না সে। এভাবে ধরায় ব্যথা পাচ্ছে সে তবুও কিছু বললো না। আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলো। আদ্রিয়ান নিজের গালে থাকা কাটা দাগ স্পর্শ করে হিসহিসিয়ে বললো,
" এই দাগের জন্য এখন আমাকে ঘৃণা লাগছে? আমায় আর ভালো লাগছে না তোমার? যদি এমনই হওয়ার কথা ছিলো তাহলে আগে চলে গেলে না কেন? এতো মায়া বাড়ানোর কি খুব প্রয়োজন ছিলো চড়ুই? "
" এসব আপনি কি বলছেন? ভুল ভাবছেন আপনি।"
" ভুল ভাবছি না, শাহনাব ঠিকই বলেছিলো আমি কুৎসিত। এই দাগ নিয়ে তুমি আমার মাঝে আগের মতো সৌন্দর্য খুঁজে পাবে না। আমায় ভালোবাসবে না। এই দাগ'ই সব নষ্টের মূল। "
হঠাৎ তার নিঃশ্বাস ভারী হতে শুরু করলো। নূর বুঝে উঠতে পারছে না আদ্রিয়ানের কি হয়েছে। হঠাৎ এত অস্থিরতা কেন? আদ্রিয়ানের হাত কাঁপছে। শান্ত হতে পারছে না সে।
" তোমাকে তো আমি চলে যেতে বলেছিলাম হাসপাতালে থাকার সময়। তখন কেন চলে গেলে না বলো! এখন আমাকে আর ভালো লাগছে না তোমার? বিশ্রী লাগছে? "
নূর ভীত কন্ঠে শুধালো,
" শান্ত হোন। আপনি ভুল বুঝছেন। ক্লাসমেট ছিলো আমার। ওর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। "
আদ্রিয়ান বোধহয় কিছুটা শান্ত হলো। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। নূর আদ্রিয়ানের গাল স্পর্শ করে বললো,
" আপনি আমার স্বামী। আপনাকে আমি সব রুপেই ভালোবাসি। আপনার সবকিছুই আমার পছন্দের, এমনকি এই দাগ টাও। "
সে আগ বাড়িয়ে, পা উঁচু করে ভালোবাসার স্পর্শ একেঁ দিলো তার গালের সেই দাগে। যেই দাগ নিয়ে আদ্রিয়ানের ভয় জমেছে। আদ্রিয়ান এক পলকে তাকিয়ে আছে নূরের দিকে, চোখে ক্লান্তি ভর করেছে। ঘুম হয়নি অতো বেশি। রাত তিনটের দিকে ঘুমিয়েছিলো বোধহয় সে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাকে। নূর আদ্রিয়ানকে বিছানায় বসিয়ে খাবারের থালা হাতে নিয়ে বললো,
" খেয়ে নিন। মনে তো হয় না কিছু খেয়েছেন বলে। "
সত্যিই কিছু খায়নি সে। খেতেও ইচ্ছে করছে না। কেমন যেন লাগছে তার। ঘুম কম হলে লাগারই কথা। খুব বেশি খেলো না, অর্ধেক খেয়ে সে ঔষধ নিতেই নূর জিগ্যেস করলো,
" কিসের ঔষধ খাচ্ছেন?"
" ঘুমের ঔষধ। ঔষধ না খেলে ঘুম আসে না। আমি এখন একটু ঘুমাবো।"
" কতদিন ধরে খাচ্ছেন এই ঔষধ? "
" তিনমাস যাবত খাচ্ছি। ঘুম আসে না নাহয়।"
" এভাবে প্রতিদিন খেলে অসুস্থ হয়ে যাবেন। ঔষধ ভালো জিনিস না। ঔষধ ছাড়াই ঘুমাতে যান।"
" তুমি বুঝতে পারছো না নূর। অভ্যাসে পরিণত হয়েছে আমার। আমি ঘুমাতে পারি না। "
নূর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানায় বসে অত:পর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,
" আমি ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি আসুন। "
যদিও সে জানে ঘুম তার চোখে ধরা দেবে না, তবুও নূরের অনুরোধ এড়াতে পারল না। ধীর পায়ে তার পাশে শুয়ে পড়তেই নূর তার চুলে হাত বুলাতে শুরু করলো কিন্তু ঘুম আসলো না। চোখ বন্ধ করে রেখেছে কিন্তু ঘুমাতে পারছে না। মিনিট দশেকের মতো এমন করেই কেটে গেলো, অত:পর নূর নিজের আদ্রিয়ানের পাশে শুয়ে দু'হাতের দৃঢ় আলিঙ্গনে তাকে আগলে নিলো। ধীরে ধীরে চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে নূর, আদ্রিয়ান চোখ বন্ধ করে নিলো। সমস্ত ক্লান্তি যেন নিমেষেই শেষ হয়ে গিয়েছে। দ্বিপ্রহরের সূচনালগ্নে সূর্য যেন সমগ্র আকাশের রাজত্ব নিজের দখলে নিয়ে তপ্ত কিরণ ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে। দীর্ঘক্ষণ পর আদ্রিয়ানের চোখের পাতা ধীরে ধীরে কেঁপে উঠল। অচেতন ঘুমের ঘোর কাটিয়ে সে মৃদু নড়েচড়ে উঠতেই অনুভব করল তার পাশে কারো অস্তিত্ব। তার এক আঙ্গুল কেউ একজন আঁকড়ে ধরেছে। পুরোপুরি চোখ খুলে তাকাতেই দেখেন আয়ান তার আঙ্গুল আঁকড়ে ধরেছে। বারবার মুখের কাছে নিতে চাচ্ছে। আদ্রিয়ান এক লাফ দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে, আয়ানকে কোলে নিয়ে নাকে নাক ছুঁইয়ে বললো,
" কিরে টমেটোর বাচ্চা, আমার আঙ্গুল নিয়ে কি করছিলি? "
আয়ান হা করে হাত নাড়িয়ে আদ্রিয়ানের মুখপানে তাকিয়ে থাকে। আদ্রিয়ান তা দেখে বলে উঠলো,
" আআ কি? ঘরে খাবার দেয় না? আমার আঙ্গুল খেয়ে নিচ্ছস। পুরাই একটা টমেটো। গোল গোল টমেটো ওয়ালা গাল।"
" তাকিয়ে কি দেখছিস টমেটো? বড়ো হয়ে আমার চেয়েও ভন্ড হবি দেখাই যাচ্ছে। "
চলবে,,,,,,
( সবাই ১.৫কে করে দিন জলদি। রেসপন্স করুন সবাই।)
গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/