ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

পর্ব 60

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গনের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(৫৪)

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।)

নূর আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ হাঁটছে, কেউ গল্প করছে। অথচ কেউ তাদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। দেশে থাকলে এতক্ষণে কত মানুষ তাদের নিয়ে উল্টো পালটা কথা বলত। আদ্রিয়ানের ডাকে নূরের ঘোর কাটলো, সে আদ্রিয়ানের দিকে তাকাতেই দেখে আদ্রিয়ান পাশে নেই, সে পেছন থেকে দোলনাতে ধাক্কা দিচ্ছে। নূরের আজ ভীষণ আনন্দ লাগছে, এই প্রথম সুখের ছোঁয়া অনুভব করছে সে। জীবনে অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ এই জায়গায় এসেছে সে। আদ্রিয়ান নূরের কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,

" যা ইচ্ছে তাই করো নূর, এখানে তোমায় বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই। শুধু তুমি আর আমি। "

এতো কষ্ট, সাধনার পর সুখের মুখ দেখেছে, এতো সহজে ছাড় দিবে কি করে। বাম পাশে কিছু বাচ্চারা খেলছে নিজেদের মতো, পার্কে লাইট লাগানো রয়েছে তাই চলতে ফিরতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। নূরের ইচ্ছে করলো এই খোলা আকাশের নীচে ছুটে বেড়াতে। আচমকা নূরকে দোলনা থেকে উঠে যেতে দেখে আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালো, ভাবলো নূরের হয়তো ভালো লাগছে না এখানে।

" কি হয়েছে? ভালো লাগছে না?"

" খেলবেন আমার সাথে?"

" খেলা তো যায়। আদেশ করুন, আমি পালন করতে এক পায়ে রাজি।"

" আমাকে ধরে দেখান। "

বলতে না বলতেই নূর দৌড়াতে শুরু করলো, আদ্রিয়ান ও তার পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করেছে। সে ইচ্ছে করেই খুবই ধীর গতিতে দৌড়াচ্ছে যাতে নূর ঠিক করে দৌড়াতে পারে।

রজনীর আঁধার ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে চারিপাশ। নীল আকাশের বুকজুড়ে জমেছে ঘন কালো অন্ধকার, নিভে গেছে দিনের শেষ আলোর রেশটুকুও। দূর দিগন্তে দু-একটি নক্ষত্র মিটমিট করে জ্বলছে। ইলহাম সবেমাত্র ফিরেছে ঘরে, পায়রা দুই ছেলেকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। আয়ানকে রাখাই যাচ্ছে না, সে কিছু সময় পরপরই কেঁদে উঠছে। তার জন্যে আরহামকেও ঠিক করে কোলে নিতে পারছে না। ফারজান কাজ শেষ করেই চলে যায়, মেয়েটা অপরিপক্ক তাই তার কোলে বাচ্চা দিতে সাহস পায় না পায়রা। আজ বিকালে তার কোলে দিয়ে গোসল করতে গিয়েছিলো পায়রা, ফিরে এসে দেখতে পায় আরহামের প্যান্ট ভিজে শুকিয়ে গিয়েছে অথচ বদলায়নি। তাই রেগে আর দেয় নি। আরহামকে মাত্র খাওয়াতে বসেছে পায়রা, ইলহাম পাশে বসে নাস্তা করছে। আয়ান ঘুমিয়ে ছিলো এতোক্ষণ, ছেলেটা ঘুমালেই যা একটু শান্ত থাকে। আজ সারাদিন প্রচুর কেঁদেছে। ঘুম ভাঙতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে আয়ান। অথচ আয়ানের পাশেই ইলহাম বসে নাস্তা করছে কিন্তু তার কোন হেলদোল নেই। পায়রা অনেক্ষণ যাবত লক্ষ্য করছে এই মুহুর্ত। একসময় রেগে সে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় আয়ানের নরম তুলতুলে গালে। আচমকা এতো জোরে চড় মারায় আয়ান কেঁপে উঠে আরও জোরে গলা ছেড়ে কাঁদতে শুরু করেছে। পায়রা রাগে ফুসফুস করতে করতে বললো,
" এই চুপ একদম, সারাক্ষণ ভ্যা ভ্যা করে কাঁদবে। তোকে নেওয়ার জন্য কেউ নেই। চুপ কর নয়তো... "

পায়রার কথা শেষ করার আগেই ইলহাম পায়রার চুলের মুঠি টেনে ঠাস ঠাস চড় মেরে দিলো। সারাদিন বাহিরে থাকায় ঠিক করে খেতেও পারেনি সে, যেই না খেতে বসেছে অমনি পায়রার এহেন কর্মকান্ড দেখে মেজাজ চড়ে গিয়েছে তার। সে পায়রাকে খাটের কোনায় ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করে বললো,

" নয়তো কি? কাল রাত থেকে দেখছি তুই ছেলেটাকে যখন তখন মারছিস। তুই কি ভেবেছিস তোর মতলব আমি বুঝি না? "

পায়রা নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে কিন্তু তার চোখে এখনো ক্রোধের আগুন জ্বলছে। ইলহাম নাস্তার প্লেট ছুড়ে ফেলে বললো,

" তোর ছেলেকে পালার জন্য আদ্রিয়ান সারাজীবন বসে থাকবে? ওর সংসার নেই? ওর সুখ সহ্য হচ্ছে না তোর, জালিম কোথাকার। তোর সাহস কি করে হয় আমার বাচ্চার গায়ে হাত তোলার। আর কোনদিন যদি দেখি তুই আমার ছেলেকে মেরেছিস, ওইদিনই তোকে আমি তালাক দিয়ে দিবো। কিছু না বলে বলে বাড় বেড়ে গিয়েছে তোর। ওইটুকু বাচ্চার গায়ে হাত তুলতে লজ্জ্বা করে না?"

" না করে না। বাপগিরি দেখাচ্ছেন? এতোক্ষণ যে পাশে কাঁদছিলো তখন কোথায় ছিলো আপনার এসব বাপগিরি? বাচ্চা দুটোকে সামলাতে গিয়ে খেতে পর্যন্ত পারি না। চুলে হাত দিতে পারিনি সকাল থেকে। শুধু জন্ম দিলেই বাবা হওয়া যায় না, বাবার হতে গেলে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সারাদিন পর রাতে ফিরে বাচ্চার সাথে খেলে ঘুমিয়ে পরেন, আমার সাথে কবে কথা বলেছেন মনে আছে আপনার?"

" আমার উপর জমিয়ে রাখা রাগ তুই আমার বাচ্চার উপর ঝাড়ছিস। কত মানুষ বাচ্চা পায় না আর তুই আছিস তোর নাটক নিয়ে। আদ্রিয়ানের জীবন নেই? সারাজীবন আমাদের জন্যই করে যাবে? বাচ্চা হয়েছে পর্যন্ত কোন কাজ করতে হয়েছে? ভাতটুকু পর্যন্ত মুখের সামনে এনে দিয়েছে নূর। একটু শুকরিয়া তো আদায় করতে পারো। "

পায়রা কোন আওয়াজ করলো না, সে জেদ ধরে বসে আছে এখনো। ইলহাম আয়ানকে কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু সে কান্না থামাচ্ছে না কিছুতেই। পার্কে নূরের সাথে সাথে বাকি বাচ্চারাও যোগ দিলো যারা ওইখানে ছিলো। সবাই মিলে কানামাছি খেললো কতক্ষণ। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আদ্রিয়ান ও নূর বাসায় ফিরেছে। লন্ডন আসার পর বাড়িতে আর ফোন করা হয়নি তাই আদ্রিয়ান ইলহামকে ভিডিও কল দিলো। ইলহাম ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আয়ানের ক্রন্দনরত স্বর শুনতে পেয়ে আদ্রিয়ানের বেশ খারাপ লাগলো। সারাদিন বাচ্চাটাকে দেখা হয়নি, কখন থেকে কাঁদছে কে জানে। ইলহাম ভিডিও কলে আয়ানকে দেখছে, ইশ! কলিজাটা পুড়ে যাচ্ছে তার, একটুও কোলে নিতে পারছে না। ইলহাম আয়ানকে ভিডিও কলে থাকা আদ্রিয়ানকে দেখাতেই সে কান্না থামিয়ে ডেবডেব করে আদ্রিয়ানকে দেখছে। সারাদিন দেখেনি তাই এখন দেখতে পেয়ে অভিমান জন্মেছে।

" কেমন আছে টমেটো? কাঁদছে কেন এতো?"

আদ্রিয়ানের কন্ঠস্বর শুনে আয়ান আবারও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তাকে কাঁদতে দেখে আদ্রিয়ান বলে উঠলো,

"কান্না করছে কেন টমেটো? ভাইয়া তো আছি। এখন থেকে রোজ কলে কথা হবে সোনা। কাঁদে না, তুমি কাঁদলে ভাইয়ার মন বসবে না তো। ভাইয়া তোমার জন্য অনেক অনেক খেলনা পাঠাবো কেমন? আদর না করলে তোমার আব্বাকে বকে দিবো খুব করে। এইতো, এবার একটু দুষ্টুমি করো। সারাক্ষণ কাঁদলে কিভাবে চলবে? ঘর তো ভেসে যাবে। "

আয়ানের গালে লাল দাগ দেখে আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে জিগ্যেস করলো,

" চাচ্চু, টমেটোর গালে কি হয়েছে? এলার্জি?"

ইলহাম তার কথায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

" পায়রা চড় মেরেছে। "

ইলহামের কথা শুনে আদ্রিয়ান বাকরুদ্ধ। এইটুকু ছেলের গায়ে হাত তুলেছে এই কথা বিশ্বাস করতে পারছে না। সে অবাক স্বরে জিগ্যেস করলো,

" কি বলছো এসব? চড় মেরেছে মানে? "

" তুই চলে যাওয়ার পর বেশি কাঁদছিলো তাই চড় মেরেছে। "

আদ্রিয়ানের বুকটা হাহাকার করে উঠলো, ইশ গাল হয়ে গিয়েছে আদুরে গাল'টা। তারা একটা সন্তানের জন্য কতটা কষ্ট যন্ত্রণা ভোগ করছে আর এরা মূল্য দিচ্ছে না। আদ্রিয়ান আয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,

"মা মেরেছে? তোমার আম্মাকে খুব করে বকে দেবো কেমন? আর কান্না করে না। কোলে আসবে টমেটো? কষ্ট হচ্ছে খুব তাই না?"

আয়ানের কান্না থেমেছে, সে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে হাত পা নাড়ছে। ইলহাম আয়ানকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ছাদে চলে গেলো। এখন কিছুটা ভালো লাগছে। ইলহামের মলিন চেহারা দেখে আদ্রিয়ান জিগ্যেস করলো,

" কি হয়েছে চাচ্চু, তোমাকে মনমরা দেখাচ্ছে কিছুদিন ধরে। "

" সারাদিন বাহির থাকি, ঠিক মতো খাওয়ার সুযোগ ও পাই না। জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে ওসবেই সময় চলে যায়। বাড়ি ফিরে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না, শুরু হয়ে যায় ওর কাহিনি। সারারাত জ্বালিয়ে মারবে ওর সাথে কথা বলার জন্য।আমিও তো মানুষ, আমারও বিশ্রামের দরকার আছে কিন্তু না। আমি ঘুমালেও দোষ। অনীহা চলে এসেছে ওর উপর। বাহিরেও ঝামেলা বাড়িতেও ওর জন্য দুদন্ড শান্তিতে কাটাতে পারি না। চিৎকার চেঁচামেচি করবে সারাক্ষণ। এখন দুটো বাচ্চা আছে, ওদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তো ভাবতে হবে আমার। একটা সুন্দর জীবন, ভবিষ্যৎ দিতে না পারলে আমি কেমন বাবা? এতো পরিশ্রম আমি কাদের জন্য করছি? "

" হয়তো চাচির মন মেজাজ ভালো নেই তাই। তুমি বসে সব ঠিক করে নাও। নারীর মন, তুমি না বুঝলে কে বুঝবে। তুমি ছাড়া আর কেই বা আছে ওর। "

" আয়ানকে তোরা সাথে করে নিয়ে গেলেই বোধহয় ভালো হতো। ছেলেটা তোর জন্য পাগল হয়েছে।"

" সব ঠিক হয়ে যাবে চাচ্চু। তুমি চাচির সাথে কথা বলে দেখো। একই ছাদের নিচে দুজনে মনমরা হয়ে থাকলে কি ভালো লাগবে?"

আদ্রিয়ান ফোন কাটতেই নূর পাশ থেকে বলে উঠলো,

" গতকাল রাতেও আয়ানকে চড় মেরেছিলো আপু।"

" তুমি কিছু বলোনি?"

" আমি গিয়েছিলাম কোলে নিতে কিন্তু দেয়নি। "

আদ্রিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকালো নূরের মলিন চেহারার দিকে। তার যে মন খারাপ হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তাই আদ্রিয়ান তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো,

" আয়ান তার সন্তান তাই অধিকার বেশি ও তার। চিন্তা করো না চড়ুই।"

নূর শুধুমাত্র মাথা নেড়ে সায় জানালো, অত:পর হুট করে ছুটে দৌড় দিলো রান্নাঘরের দিকে। হঠাৎ কি হলো বুঝতে পারেনি আদ্রিয়ান, তাই সেও নূরের পিছু পিছু রান্নাঘরে গেলো। ভাত বসিয়ে এসেছিলো চুলায়, পুড়ে গিয়েছে। সে তারাতাড়ি করে চুলা নিভিয়ে বললো,

" ভাতটা পুড়ে গেলো। আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম ভাতের কথা। সবটুকু ভাত নষ্ট। "

আদ্রিয়ান নূরের কথা শুনে স্মিত হেসে তাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বললো,

" এই সংসার তোমার। এখানে তুমি নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু করতে হবে, যখন যা মন চায় রান্না করতে পারবে, পুড়িয়ে ফেলতে পারবে। এটা তোমার সাম্রাজ্য, তোমার ইচ্ছেতেই সব হবে। এখানে তোমার কাউকে জবাবদিহিতা করতে হবে না, বুঝেছ? এই হচ্ছে সেই সংসার যার স্বপ্ন তুমি দেখেছিলে। যার মালিকানা তোমার হাতে। পুড়ে গিয়েছে আবার নতুন করে রাধবে, ইচ্ছে না হলে রান্না করতে হবে না। "

" এখন কি করবো তাহলে?"

" চলো বাহির থেকে খেয়ে আসি। রাত্রিও উপভোগ করা হয়ে যাবে সাথে বউয়ের সঙ্গ ও উপভোগ করা হয়ে গেলো। এক ঢিলে দুই পাখি। "

" দিন দিন বড্ড কঠিন শব্দচয়নে কথা বলছেন, কবি হয়ে গেলে খারাপ হতো না। "

" তুমি বললে হতেও পারি। "

দুজনেই বেরিয়ে গেলো আবার, রাস্তার ধারে আইসক্রিম বিক্রি করছে, তা দেখে নূর বলে উঠলো,

" আইসক্রিম খাবো। "

আদ্রিয়ান স্টলের সামনে এসে তিনটে আইসক্রিম কিনে নিলো। মানুষ দুজন আর আইসক্রিম তিনটা দেখে নূর জিগ্যেস করলো,

" তিনটা কেন? "

" দুটো তোমার। "

এখান থেকে রেস্টুরেন্ট খুব একটা দূর নয়। আদ্রিয়ান ও নূর কাছের একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলো কিন্তু সেখানে ভাত জাতীয় কিছুই নেই। আদ্রিয়ান দুটো ফ্রাইড চিকেন অর্ডার করলো। কিন্তু নূরের তাতে মন ভরলো না, সে ভাত পাগল মানুষ। রাতে ভাত খেতেই হবে তার। আদ্রিয়ান ফ্রাইড রাইস খুঁজেছিলো কিন্তু মেনুতে নেই। তাই কি আর করার। খাওয়া শেষে তারা বাড়ি ফিরে এলো কিন্তু নূরের পেট ভরেনি। আইসক্রিম দুটোই খেয়েছে তাও ভাতের খিদে রয়ে গিয়েছে। সে ঘরে গিয়ে শাড়ি বদলে থ্রি-পিস পরে নিলো। আদ্রিয়ানের দেখা নেই, লোকটা আবার কোথায় গেলো। শরীরে উড়না জড়িয়ে সে রান্নাঘরে এসে দেখলো আদ্রিয়ান রান্না করছে। এখন আবার কি রান্না করলো কে জানে। সামনে এগিয়ে দেখলো ফ্রাইড রাইস তৈরি। নূর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিগ্যেস করলো,

" মাংস তো নেই তাহলে ফ্রাইড রাইস কিভাবে বানালেন?"

" ডিম দিয়ে। খেয়েই দেখো। "

এই প্রথম আদ্রিয়ান রান্না করেছে। নূর এক চামচ মুখে তুলতেই বুঝলো স্বাদ বেশ ভালোই। দারুণ হয়েছে। ডিম দিয়েও এতো মজা হবে সে ভাবেনি।দুপুরেও খায়নি, তাই পেটে খিদে থাকায় সে মুখে পুরেই চলেছে অথচ আদ্রিয়ানকে সাধছে না। হঠাৎ মনে হলো আদ্রিয়ান তো সামনেই আছে, কিন্তু সে নিজেই একা একা সবটা খাওয়া শুরু করেছে, লোকটাকে একটু বললো ও না। কি মনে করেছে কে জানে। নূর খাবারভর্তি মুখ নিতে হাসলো, হেসে আদ্রিয়ানের দিকে চামচ বাড়িয়ে দিতেই আদ্রিয়ান স্মিত হেসে বললো,

" তুমি খাও। আমার পেট ভরা। "

নূর আর দেরি করলো না। সবটুকু নিমেষেই শেষ করে দিলো।

ইলহাম পায়রার কাছে এসে দেখলো সে বসে আছে খাটের এক কোনায়। সে হাতে চিরুনি নিয়ে পায়রার দিকে এগিয়ে এসে তার চুলের খোপা খুলে আঁচড়াতে শুরু করলো। পায়রার কান্না আসছে সে নিঃশব্দে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। ইলহাম তার কানের লতিতে অধর স্পর্শ করে বললো,

" সারাদিন বাইরে থাকি, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া ও হয় না। মাথা ঠিক ছিলো না। ক্ষমা করে দাও এবারের মতো। "

পায়রা নিশ্চুপ। ইলহাম চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বললো,

" কথা বলার ও রুচি আসছে না? "

উক্ত কথা বলতেই ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো পায়রা। সে ইলহামের বুকে মুখ গুজে কাঁদতে কাঁদতে বললো,

" আমাকেও ক্ষমা করে দিন। আমি আপনাকে বুঝতে পারি নি। সবসময় নিজের টাই ভেবে এসেছি। "

" আর কখনো ছেলের গায়ে হাত তুলো না। তোমার কাছে আমার একটাই অনুরোধ। "

" বুঝেছি।"

" ভালোবাসি আমার অর্ধাঙ্গীনীকে।"

" আমিও ভালোবাসি আপনাকে।"

চলবে,,,,,,,

(রেসপন্স করবেন সবাই। ১.৫ কে করে দিন জলদি। রেসপন্স না করলে গল্প কিভাবে দিবো। পেইজের অবস্থা খারাপ।)

গল্প নিয়ে প্রশ্ন কিংবা গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 60 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন