#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(১৮)
কপি করা নিষিদ্ধ।
"তোর সাহস কি হয় তুই আমার কলারে হাত দিস?"
শাহনাব আদ্রিয়ানের কথা শুনে আদ্রিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে বললো,
" শুধু কলার কেন, তোকে এই মুহুর্তে আমি এখানে পুঁতে রাখবো।"
শাহনাবের কথা শুনে আদ্রিয়ানের মেজাজ তড়িৎ গতিতে খারাপ হয়ে গেলো।একটু পরেই ইন্টারভিউ দিতে যেতে হবে আর এখনি শাহনাবের সাথে ঝামেলাটা বাজতে হলো। শাহনাব তেড়ে আসতেই আদ্রিয়ান ক্ষোভের বশে শাহনাবের গাল বরাবর ঘুষি মারে। শাহনাবের ঠোঁট কেটে গড়গড়িয়ে র'ক্ত পরছে, শাহনাব আদ্রিয়ানের কলার ধরে তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়।এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে ভাঙা একটা কাচের বোতল পরে আছে পাশে। শাহনাব তা দেখতে পেয়ে হাতে তুলে নেয়। রাগের বশবর্তী হয়ে যেই না আদ্রিয়ানের মাথায় মারতে যাবে ঠিক সেই সময়েই কেউ একজন এসে হাত ধরে তাকে থামিয়ে দেয়।শাহনাব পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে ইলহাম শাহ দাঁড়িয়ে আছে। আদ্রিয়ান ইলহামকে দেখে নিজের শরীরে থাকা ধুলো ঝেড়ে পরিস্কার করতে লাগলো। ইলহাম শাহনাবের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
"তোমাদের মারপিট করতে হয় তো অন্যকোথাও গিয়ে করো। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এসব শোভা পায় না।"
শাহনাব হাতে থাকা কাচের বোতল ফেলে ইলহামের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
" আপনি খুব ভালো করেই জানেন চাচা, আমি কেন এসব করছি। আপনার ভাতিজা আমার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।আমার বেঁচে থাকার উৎস কেড়ে নিয়েছে। "
শাহনাবের কথায় ইলহাম নিজের কোটের পকেটে থাকা চশমা চোখে লাগিয়ে ফিঁচেল হেসে বলে,
" এসব তোমাদের ব্যক্তিগত ব্যপার শাহনাব।আমি দেশের জনগণের খবর রাখি তোমাদের ব্যক্তিগত শত্রুতামির খবর না।"
আদ্রিয়ান নিজের চুলে হাত বুলিয়ে শাহনাবের কাছে এসে বলে,
"এখনো তো খেলা সবেমাত্র শুরু। আস্তে আস্তে তোর পুরো অস্তিত্বটাকে ছাড়খার করে দিবো।"
ইলহাম আদ্রিয়ানের কাঁধে চাপড় মেরে বললো,
"ইন্টারভিউ'র সময় হয়ে যাচ্ছে। জলদি বের হো।"
ইলহামের কথা শুনে আদ্রিয়ান বাইকে উঠে বসলো, শাহনাব রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।তবে আদ্রিয়ানের কোন হেলদোল নেই সে ভাবলেশহীন ভাবে চলে গেলো।আদ্রিয়ান যেতেই ইলহাম পাশের টঙ থেকে এক কাপ চা নিয়ে তাতে চুমুক বসিয়ে বললো,
" বুঝলে শাহনাব, কিছু জিনিস জোর করে আদায় করে নিতে হয় সম্মতির অপেক্ষা না করে।নাহয় আম ও যাবে ছালা ও যাবে।"
বলেই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো সে। শাহনাব ঘৃণিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইলহামের দিকে। ইলহামের চায়ের বিল মিটিয়ে চলে গেলো, তবে শাহনাব এখনো দাঁড়িয়ে আছে সেই জায়গায়। আজ নূরকে সব সত্যিটা জানিয়ে তবেই যে যাবে। গতকাল রুশানের কাছ থেকে নূরের মার খাওয়ার কথা শুনে মেজাজ প্রচন্ড খারাপ তার।কথায় আছে কেউ চেয়ে পায় না আর কেউ না চেয়েই পেয়ে যায় কোনপ্রকার সাধনা ছাড়া।
নূর ক্লাসে এসে দেখতে পায় প্রভা তার জন্য জায়গা রেখে দিয়েছে আগে থেকেই প্রভাকে দেখতে পেয়ে সে এগিয়ে যায় তার কাছে। নূর পাশে বসতেই প্রভা রাগ দেখিয়ে বলে,
"কাল থেকে এতোবার ফোন করলাম ধরলি না কেন?"
প্রভার কথা শুনে নূরের মনে পড়ে গতকাল তো তার ফোন ভেঙে ফেলেছিলো আদ্রিয়ান।তবে সত্যি কথাটা বললো না।সে আমতাআমতা করে বললো,
" শোন না,কাল হুট করেই ফোনটা হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই ধরতে পারিনি।"
নূরের কথায় প্রভার রাগ কিছুটা কমে, কিছুক্ষণ পরেই একজন স্যার প্রবেশ করলো তাদের পরীক্ষা নিতে।
চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে এসেছে আদ্রিয়ান । বাহিরের প্রচন্ড রোদে ঘেমে এক অবস্থা আদ্রিয়ানের। ফোন বের করে দেখে প্রায় বারোটা বাজতে চলেছে। নূরের পরীক্ষা শেষ হবে এখন। আদ্রিয়ান দ্রুত গতিতে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরলো কলেজের উদ্দেশ্যে । শাহনাব এই রোদের মাঝেও দাঁড়িয়ে আছে নূরের কলেজের সামনে। পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিছু সময় আহেই।নূর বের হয়ে এসে দেখে আদ্রিয়ান এখনো আসেনি, নূরকে দেখা মাত্রই শাহনাব ছুটে এলো তার দিকে। নূর শাহনাবকে দেখেও এক প্রকার এড়িয়ে চললো। শাহনাব তার কপালে জড়ো হওয়া বিন্দু বিন্দু ঘাম তার শার্টের হাতা দিয়ে মুছে নিলো। নূরকে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শাহনাব বললো,
"নূর আমার সাথে কথা বলবে না?তুমি আদ্রিয়ানের আসল সত্যিটা জানো না। আমি জানি আদ্রিয়ান তোমাকে কেন বিয়ে করেছে।"
নূর এদিক ওদিক তাকিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে শাহনাবকে বললো,
"আপনি চলে যান শাহনাব ভাই।আমি আপনার সাথে কোনরূপ কথা বলতে চাই না।"
নূরের মুখ থেকে এমন কথা শুনে শাহনাব বাকরুদ্ধ। সে নূরের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
"তুমি বুঝতে পারছো না নূর। তুমি অনেক বড়ো ভুল করছো।আমি জানি গতকাল আদ্রিয়ান তোমাকে মেরেছে আমার সাথে কথা বলায়, তাই তুমি ভয় পাচ্ছো। তোমার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আমি সব সামলে নিবো।"
শাহনাবের বাধনছাড়া কথায় নূর হতাশ কন্ঠে বললো,
"আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না শাহনাব ভাই। এখন আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, আপনি আমার সাথে আর যোগাযোগ করবেন না দয়া করে।"
শাহনাবের মনে হলো কেউ তার বুকে ভীষণভাবে আঘাত করছে।নূরের মুখ থেকে এসব শুনে তার খুব কষ্ট হচ্ছে তবুও সে হাল ছাড়লো না। নূরের দিকে তাকিয়ে করুণ কন্ঠে বললো,
"আদ্রিয়ান তোমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেনি নূর।আদ্রিয়ান তোমাকে ভালোবাসে না। এসব ওর নাটক। আদ্রিয়ানের উদ্দেশ্য ছিলো.... "
আদ্রিয়ানের বাইকের শব্দ পেয়ে নূর বিচলিত হয়ে রাস্তার দিকে তাকায়।আদ্রিয়ানকে দেখতে পেয়ে সে সোজা আদ্রিয়ানের সামনে এসে দাঁড়ায়। নূরকে এভাবে চলে আসতে দেখে শাহনাব করুণ চোখে তাকায় তার দিকে।আদ্রিয়ান হেলমেট খুলে তার উষ্কখুষ্ক চুল ঝেড়ে নূরের দিকে তাকিয়ে বলে,
" পরীক্ষা শেষ হয়েছে কখন?"
নূর আমতাআমতা করে বলে,
"আপনি আসার পনেরো মিনিট আগেই শেষ হলো।"
আদ্রিয়ান নূরের হাত থেকে ফাইল নিতেই সে বাইকে উঠে বসে।আদ্রিয়ান হেলমেট পরতে পরতে শাহনাবের দিকে তাকিয়ে বলে,
"দিনকাল কেমন যাচ্ছে তোর?আশা করি খুব ভালোই যাচ্ছে।"
নূর আদ্রিয়ানের কথার মানে বুঝতে পারলো না তবে শাহনাব যে রেগে আছে সেটা তার মুখ দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আদ্রিয়ান বাঁকা হেসে বাইক স্টার্ট দেয়। বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব বেশিদূর না হওয়ায় কিছু সময়ের মাঝেই তারা পৌঁছে যায় বাড়িতে। রাহেলা শাহ ফারজানার উপর রাগ ঝাড়ছেন ঠিকঠাক ভাবে কাজ না করায়। আদ্রিয়ান একটা কল আসায় বাইরেই দাঁড়িয়েছে কথা বলার জন্য । নূর ধীরপায়ে নিজের ঘরে যেতে নিলে রাহেলা শাহ নূরকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
" এই মেয়ে। এখন ফেরার সময় হলো তোমার?"
নূর ভয়ে ভয়ে তাকায় রাহেলা শাহ'র দিকে। রাহেলা শাহ নূরকে তাচ্ছিল্য করে বলে,
"বিয়ে করে সংসার সামলাবে, শ্বাশুড়ির কাজে সাহায্য করবে তা না জর্জ ব্যারিস্টার হতে এসেছেন তিনি।শুনো মেয়ে এই বাড়িতে থাকতে হলে আমার কথামতো চলতে হবে।আমার বাড়ির সকল কাজ করে দিয়ে তবেই তুমি কলেজে যেতে পারবে। "
নূর রাহেলা শাহ'র কথায় মাথা নিচু করে সায় জানিয়ে বলে,
"আচ্ছা, আম্মা।"
" অন্যান্য বাড়ির বউরাও পড়ালেখা করে সংসার সামলায়।এমন ভাব করছে যেন তিনি একমাত্র পড়ালেখা করছেন। আমি তো বাপু বুঝি না মেয়ে মানুষের বিয়ের পর এতো পড়াশোনার দরকার কি? "
আদ্রিয়ান বাইক রেখে ঘরে ঢুকতেই শুনতে পায় নূরকে বলা রাহেলা শাহ'র কথা। নূর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে কারো অস্তিত্ব টের পেতেই থেমে যান রাহেলা শাহ। তিনি ফারজানাকে তাড়া দিয়ে বললেন,
" ভালো করে ঘর মুছ তুই।কাজের বেলায় কোন দায়িত্বজ্ঞান নেই।"
আদ্রিয়ান রাহেলা শাহ'র কাছে এসে বললো,
"নূর আমার স্ত্রী মা। নূরের সাথে আপনি এমন ব্যবহার করতে পারেন না।"
আদ্রিয়ানের কথায় রাহেলা শাহ আমতাআমতা করে বললেন,
"কাজ না করলে কি আমি কিছুই বলবো না?একটা কাজ ও ঠিক করে করে না। কিছুই পারে না।"
আদ্রিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
"আমার স্ত্রীকে আমি যা খুশি বলবো কিন্তু আমি ছাড়া অন্য কেউ যদি নূরের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলবো না।"
রাহেলা শাহ নির্বাক চাহনিতে তাকিয়ে রইলেন আদ্রিয়ানের দিকে।এতোদিন ধরে তিনি আদ্রিয়ানকে নূরের কোন ব্যপারে কথা বলতে দেখেননি তবে আজ কেন হঠাৎ নূরের পক্ষ নিচ্ছে সে।নূর পাশে দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিলো। হঠাৎ আদ্রিয়ান তার পক্ষ নেওয়ায় সে যেন আকাশ থেকে পড়লো। নূরের অস্তিত্ব যেন আদ্রিয়ানের অন্য এক রুপের দেখা পেলো। ফারজানা ঠোঁট টিপে হাসতেই রাহেলা শাহ'র প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো। তিনি ফারজানাকে ধমক দিয়ে বললেন,
"তুই কাজ কর ঠিক করে, নাহয় আজই তোকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করবো আমি।"
আদ্রিয়ান নূরের দিকে তাকিয়ে বললো,
"এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন ঘরে না গিয়ে?"
নূর আদ্রিয়ানের কথা শুনে দ্রুত উপরে উঠে গেলো। নূর যেতেই আদ্রিয়ান ও তার পিছু পিছু চলতে শুরু করলো। তারা দুজনে চলে যেতেই রাহেলা শাহ ধপাশ করে বসে পড়লেন সোফায়৷ ফারজানা ব্যঙ্গার্থ স্বরে বললো,
"বড়ো চাচি, আদ্রিয়ান ভাই বোধহয় ভাবিকে ভালোবাসতে শুরু করেছে । আপনিই তো বলেছিলেন পুরুষ মানুষ ভালোবাসলে তবেই বউয়ের পক্ষ নেয়৷ এবার মনে হয় ভাবীর কপাল খুলেছে।"
ফারজানার কথা শুনে রাহেলা শাহ সোফায় থাকা কুশন তার দিকে ছুড়ে ফেলে বললো,
"দূর হো মুখপুড়ি।কাল থেকে তুই কাজে আসবি না।"
ফারজানা রাহেলা শাহ'র কথা শুনে মুখ বাঁকিয়ে বললো,
" কারো উপর রাগ ঝাড়তে না পেরে আমার উপর মেটাচ্ছে।পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না বুঝলে। "
ফারজানা বরাবরই বাঁচাল প্রকৃতির তাই রাহেলা শাহ কথা বাড়ালেন না, যত কথা বাড়াবেন ততই কথা পেচাবে এই মেয়ে।
নূর গোসল সেরে রান্নাঘরে নিচে আসতেই দেখতে পায় রাহেলা শাহ বসে আছেন সোফায়। নূর তাকে দেখে ভয়ে ভয়ে রান্নাঘরে ঢুকলো। নূরকে রান্নাঘরে যেতে দেখেই তিনি নূরকে ডেকে বলেন,
"নূর, এখানে এসো।"
রাহেলা শাহ'র কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে নূর হাতের প্লেট রেখে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নূরকে আসতে দেখে তিনি বলেন,
"আদ্রিয়ানকে খাবার দিকে আমার ঘরে এসো।"
নূর সায় জানিয়ে বলে,
"আসছি আম্মা।"
নূর তাড়াতাড়ি করে আদ্রিয়ানের জন্য খাবার নিয়ে উপরে চলে গেলো। আদ্রিয়ান ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে নূর তার জন্য ভাতের প্লেট রেখে চলে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান ভেবেছিলো নূর হয়তো তার জন্য খাবার আনতে গিয়েছে। আজ প্রচন্ড রোদে মাথা ধরেছে কিছুটা। নূর রাহেলা শাহ'র ঘরে যেতেই দেখতে পান তিনি বিছানায় বসে আছেন। নূর তার সামনে এসে বললো,
"আম্মা ডেকেছেন?"
রাহেলা শাহ নূরের হাতে ঘর মুছার কাপড় দিয়ে বললো,
"ঘরটা নোংরা হয়ে আছে। মুছে কাপড় গুলো ধুয়ে দাও।আমার কোমরের ব্যথা টা ভীষণ বেড়েছে।"
নূর রাহেলা শাহ'র ব্যথার কথা শুনে শুষ্ক হেসে বললো,
"সমস্যা নেই আম্মা।আমি করে দিচ্ছি।"
নূর কোমরে উড়না বেঁধে ঘর মুছে দিয়ে উঠতেই রাহেলা শাহ বলেন,
"ওদিকটায় তোমার পায়ের ছাপ পড়েছে, আবার মুছে দাও।"
নূর রাহেলা শাহ'র কথা শুনে তার দেখিয়ে দেওয়া জায়গায় আবার মুছে দিয়ে উঠতেই তিনি আবার বলে উঠেন,
"এদিক ময়লা পরিস্কার হয়নি ভালো করে।"
নূর তাকিয়ে দেখে সেখানে কোন ময়লা নেই, জায়গাটা একদম পরিস্কার। পরিস্কার দেখে নূর রাহেলা শাহ'র দিকে তাকিয়ে বললো,
"আম্মা এদিকে তো পরিস্কার আছে। তাহলে?"
"পরিস্কার থাকলে কি আমি মুছতে বলতাম?সারাদিন কলেজের নাম করে দিন কাটিয়ে এসেছে এখন কাজের বেলায় যত বাহানা।"
রাহেলা শাহ'র মুখে কটুক্তি শুনে নূর মাথা নিচু করে নিলো। আবারও সেই জায়গা পরিস্কার করে দিতেই রাহেলা শাহ তাকে নতুন করে ঝর ঝাড়ু দিতে বললেন। এভাবে বারবার একই জায়গায় মুছতে বলায় তার কোমরে ব্যথা ধরে গিয়েছে।ঘির ঝাড়ু দিতেই তিনি নূরকে বললেন,
"কাপড়গুলো ধুয়ে দাও।"
নূর বাথরুমে যেতেই দেখতে পায় কমে করে হলেও বিশটা শসড়ি ভেজানো রয়েছে। এতোক্ষণ ঘর মুছার পর এগুলো ধুতে হবে ভেবেই কান্না আসছে তার। নূরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি বললেন,
" কি হলো দাঁড়িয়ে আছো কেন?যাও সব ধুয়ে ফেলো।"
নূর তার কথা শুনে বাথরুমে গিয়ে একটা একটা করে শাড়ি পরিস্কার করতে শুরু করে। দুটো শাড়ি পরিস্কার করতেই তিনি আবার প্রথম শাড়িটিভেগিয়ে দিয়ে বললেন,
"ঠিক ভাবে পরিস্কার হচ্ছে না।সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে পরিস্কার করো।"
নূর রাহেলা শাহ'র কথা শুনে বললো,
"আপনার সামনেই তো পরিস্কার করলাম, তখন তো কিছু বলেননি।"
রাহেলা শাহ হাতে থাকা ভেজা শাড়ি নূরের পায়ের সামনে ফেলে বললো,
"ঠিক করে পরিস্কার করতে না পারলে নাচতে নাচতে আসার কি প্রয়োজন ছিলো? একটা কাজ ও ঠিক করে করতে পারো না।"
চলবে,,,,,,,,
রেসপন্স করুন সবাই।বোনাস পর্ব ও গল্পের সকল আপডেট জানতে জইন হোন আমার গ্রুপে
https://facebook.com/groups/4214405902220456/