ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

২০তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(২০)

কপি করা নিষিদ্ধ

নূরের কথা শুনে আদ্রিয়ান তার দিকে তাকায়, মেয়েটা কাঁপছে থরথর করে। আদ্রিয়ান উঠে আরও দুটো কাথা বের করে নূরের শরীরে জড়িয়ে দেয়। থার্মোমিটার বের করে জ্বর মেপে দেখে এখনো জ্বর প্রায় একশত দুই। আদ্রিয়ানের বেশ অসস্থি লাগছে, আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি তাকে। নূর পিটপিট করে চোখ খুলে দূর্বল শরীরে উঠতে চায়লে আদ্রিয়ান ধমকে উঠলো ,

"কি হয়েছে, হঠাৎ উঠছো কেন?"

নূর দুর্বল কণ্ঠে বললো ,

" আমি একটু বাথরুমে যাবো। "

"ঠিক আছে যাও।"

নূর ধীর পায়ে এগিয়ে যায় বাথরুমের দিকে, আদ্রিয়ান হেলান দিয়ে শুয়ে ছিলো তবে কিছু একটা পরে যাওয়ার আওয়াজে যে ছুটে যায় বাথরুমের দিকে। বাথরুমে যেতেই দেখতে পায় নূর দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার পাশে বলতি গড়াগড়ি করছে। আদ্রিয়ানকে দেখে নূর অসহায় কন্ঠে বললো,

"পায়ের সাথে লেগে পরে গেছে। "

"ঠিক আছে। কোন কিছু দরকার হলে ডাকতে পারো আমায়। "

নূর মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আদ্রিয়ান বাথরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বলে উঠে,

"ধুর! কি এক জ্বালা। অসহ্য লাগছে এসব। "

নূর বাইরে বেরিয়ে এসে আদ্রিয়ানকে দেখতে পায়। আদ্রিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুয়ে পরে বিছানায়। নূর এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে আজ পানি আনা হয় নি।জল তেষ্টা পেয়েছে খুব।আদ্রিয়ান শুয়ে পরেছে তাই আর আদ্রিয়ানকে ডাকলো না সে।এখন একটু ভালো লাগছে তার, জ্বর কমে এসেছে কিছুটা। নূর আস্তে করে দরজা খুলে বেরিয়ে যায় পানি নিতে। রাতের বেলা জ্বরের জন্য ভালো করে খেতে পারেনি। এখন পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। রান্নাঘরে যেতেই দেখতে পায় ফ্রিজে তরমুজ রাখা আছে । আর কিছু না ভেবে অর্ধেক তরমুজ কেটে খাওয়া শুরু করে। মাত্র কামর বসিয়েছে ঠিক সেই মুহুর্তেই পাশে কারো ছায়া দেখতে পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। এই মাঝরাতে কেই বা আসবে এখানে। মনে সাহস জুগিয়ে পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় আদ্রিয়ান মূর্তির মতো তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আদ্রিয়ানকে দেখতে পেয়ে বিষম খেয়ে উঠে নূর। আদ্রিয়ান দ্রুত এগিয়ে পানির গ্লাস তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে,

"ষ্টুপিড। এতো রাতে এখানে দাঁড়িয়ে খাচ্ছো কেন? বেডরুমে যেতে পারোনি?"

নূর আদ্রিয়ানের কথায় পাত্তা না দিয়ে আবারও কামর বসালো তরমুজে। ঠিক মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না, জ্বরের কারণে মুখ তেতো হয়ে আছে। আদ্রিয়ানকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নূরের দিকে। নূর হাতের তরমুজ নিয়ে হেলেদুলে চলে গেলো রুমে, তরমুজের রস গড়িয়ে পড়ছে হাত থেকে। আদ্রিয়ান তা দেখে ক্ষিপ্ত মেজাজে বিরবির করে বললো,

" কেমন মেয়ে জুটেছে আমার কপালে। একটা বাটিতে নিয়ে যে খেতে হয় সেই জ্ঞান ও নেই। "

আদ্রিয়ান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা পছন্দ করায় এসব তার কাছে অসস্থি মনে হচ্ছে। নূর বিছানার এক কোণে বসে খাচ্ছে আর আদ্রিয়ান অপর পাশে ঘুরে শুয়েছে। নূরের দিকে ফিরে শুলে যেন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। নূর খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে শুয়ে মিনমিন করে বললো,

"কাল জ্বর সেরে গেলেই বাঁচি। নাহয় পরীক্ষাটা আর দেওয়া হবে না।"

সূর্যের আলোর লাল আভা ছড়িয়ে পরেছে আকাশ জুড়ে। চড়ুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে নীরব পরিবেশ। এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে আদ্রিয়ানের।আজ অফিসে প্রথম দিন তার, সময়মতো পৌঁছাতে হবে। সে আড়মোড়া ভেঙে পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে নূরের জায়গা খালি, তারমানে সে আগেই উঠে পরেছে। আদ্রিয়ান চোখ কচলে উঠে দেখতে পায় নূর বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চুল শুকাচ্ছে। সময় বাজে সাতটা, আদ্রিয়ানকে সাড়ে নয়টার মাঝে পৌঁছাতে হবে অফিসে। একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে মেনেজারের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাকে। মূলত ইলহামের জন্যই আদ্রিয়ান এই চাকরিটা পেয়েছে। আদ্রিয়ান ফ্রেশ হয়ে নীল রঙের একটি শার্ট পরে নেয়। রাহেলা শাহ'কে গতকালই জানিয়েছিলো চাকরির কথা, ছেলের উন্নতি হচ্ছে দেখার পর তিনি আনন্দে বিমোহিত। ছেলের বখাটেপনা ও হেয়ালি ভাব মোটেও পছন্দ নয় তার কিন্তু এখন চাকরি হয়েছে শুনে ভীষণ খুশি। আদ্রিয়ান তৈরি হয়ে নীচে নামতেই দেখে নূর তার জন্য নাশতা সাজিয়ে রেখেছে টেবিলে। চা ও পরোটার পাশে সিদ্ধ ডিম দেখতে পেয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে যায় তার।আদ্রিয়ানকে নাশতা দিয়ে নূর চলে যায় তৈরি হতে। প্রতিদিনের মতো বোরকা পরে নিচে নেমে আসতেই দেখতে পায় চা শেষ হলেও ডিম খায়নি আদ্রিয়ান। রাহেলা শাহ নূরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,

"তোমাকে না বলেছিলাম আদ্রয়ানকে ডিম দিয়ে আসতে তাহলে দাও নি কেন?"

"আমি দিয়েছিলাম, উনি খাননি।"

"তোমার চালাকি আমি বুঝি না ভেবেছো? যাও আদ্রিয়ানকে দিয়ে এসো। "

নূর ডিমের প্লেট হাতে নিয়ে আদ্রিয়ানের কাছে আসতেই দেখে সে জুতা পরছে, নূর তার সামনে প্লেট এগিয়ে দিয়ে বললো,

"খেয়ে নিন।"

"নিয়ে যাও এসব আমার চোখের সামনে থেকে। আমি ডিম খাই না।"

"আম্মা আপনাকে খেতে বলেছে খেয়ে নিন।"

"একবার বললে কানে যায় না তোমার?"

"না যায় না। আপনাকে খেতে বলেছে খেয়ে নিন।"

ইদানীং নূরের মুখে মুখে কথা বলাটা পছন্দ হচ্ছে না আদ্রিয়ানের। সকাল সকাল নূরকে এভাবে তর্ক করতে দেখায় আদ্রিয়ানের রাগান্বিত হয়ে নূরের ঘাড় চেপে ধরলো তড়িৎ গতিতে, অত:পর প্লেট থেকে ডিম উঠিয়ে নূরের মুখে জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে বললো,

" খুব তর্ক করতে শিখেছিস না তুই? এখন তুই গিলবি এই ডিম। জলদি খা।"

হঠাৎ পুরো ডিম ঢুকিয়ে দেওয়ায় মুখ নাড়তে পারছে না সে। ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের দিকে তাকাতেই সে বাঁকা হেসে বলে,

"আমার সাথে চালাকি করতে আসবি না তুই। তুই যদি চলিস ডালে ডালে আমি চলি পাতায় পাতায়। ফের যদি আমার সাথে তর্ক করিস ভালো হবে না। "

রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানের কাছেই আসছিলেন কিন্তু পথিমধ্যে নূরকে খেতে দেখে তার মেজাজ সপ্তম পর্যায়ে। আদ্রয়ান হেলমেট নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে, নূরের মুখে এখনো কিছুটা অংশ রয়ে গিয়েছে। রাহেলা শাহ নূরের কাছে আসতেই সে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে বেরোতে নিলে রাহেলা শাহ ব্যাঙ্গার্থ স্বরে বলে উঠেন,

" সামান্য একটা ডিম দিতে বলেছিলাম সেটাও খেয়ে বসে আছে। কি পেটুক মেয়েরে বাবা। "

নূর সবেমাত্র বেরোতে নিয়েছিলো কিন্তু সেই সময় রাহেলা শাহ'র কথা শুনে ঘুরে তাকায় তার দিকে, অত:পর গম্ভীর কন্ঠে বললো,

"আমি খেতে চাইনি, উনি জোর করে আমার মুখে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।"

রাহেলা শাহ'কে জবাব দিয়ে নূর বেরিয়ে যায়। নূরের কথা শুনে তিনি রীতিমতো রাগে ফুসছেন। সুরাইয়া শাহ এখন মোটামুটি কিছুটা সুস্থ তিনি। লাঠিতে ভর করে এগিয়ে এসে বসলেন সোফায়। রাহেলা শাহ'কে বিচলিত অবস্থায় দেখে তিনি জিগ্যেস করেন,

"কি হয়েছে রাহেলা?"

"আম্মা, আদ্রিয়ান হয়তো নূরের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আদ্রিয়ান আমায় এই বাড়ি থেকে বের করে দিবে।অনেক কষ্টে এই ছেলে লালন পালন করেছি আমি।শেষ বয়সে এসে আমি আমার রাজত্ব হারাতে পারবো না।"

সুরাইয়া শাহ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

"তো তুমি কি করতে চাইছো?"

"আদ্রিয়ান আর নূরের বিচ্ছেদ।আমি আদ্রিয়ানের আবার বিয়ে দেবো।"

"আদ্রিয়ান কোন ছোট বাচ্চা নয় রাহেলা। তুমি বললে আর আদ্রিয়ান নাচতে নাচতে নূরকে ছেড়ে দিবে?তুমি দেখোনি নূরকে বিয়ে করার জন্য আদ্রিয়ান কিভাবে অস্থির হয়ে উঠেছিলো। যতই প্রতিশোধের বিয়ে হোক না কেন, কোন পরপুরুষ যদি নূরের দিকে তাকায় ও আদ্রিয়ান সহ্য করবে না কখনো। শাহনাবের সাথে কথা বলার নূরকে কিভাবে মেরেছিলো দেখেছিলে তুমি?"

"সেই জন্যেই তো চিন্তা হচ্ছে আম্মা।এতো বছর ধরে এই সংসার একটু একটু করে আগলে রেখেছি আমি।এক নিঃশ্বাসে আমি সব হারাতে পারবো না।"

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন