ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন প্রাঙ্গনের বৃষ্টি

২২তম পর্ব

লেখক: কংকা চৌধুরী

#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি

#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী

(২২)

কপি করা নিষিদ্ধ। ভায়োলেন্স যাদের পছন্দ নয় তারা এড়িয়ে চলবেন।

যদি না যাই।"

আদ্রিয়ানের লালবর্ণে ছেয়ে যাওয়া চোখদুটো দেখে নূরের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে ভয়ে।সে আদ্রিয়ানের পাশ কেটে চলে যেতে চাইলে আদ্রিয়ান হাত দিয়ে তার পথ আটকে ফেলে। নূরের শরীরে শীতকাটা দিয়ে উঠেছে।হঠাৎ পুরো ঘর অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়ায় নূর আঁতকে উঠে, বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। এর মাঝে টুকটাক বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আদ্রিয়ান নূরের মুখ আজঁলাভরে আঁকড়ে ধরলো। অন্ধকারের মাঝেও আদ্রয়ান নূরকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। চাঁদের আলোয় নূরের বিচলিত চেহারা আদ্রিয়ানকে আকৃষ্ট করছে। নূর আদ্রিয়ানের বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও আদ্রিয়ানের শক্তপোক্ত দেহের সামনে নূরের ছোট্ট দেহখানা কিছুই না।

" আমায় যেতে দিন প্লিজ।দোহায় লাগে আপনার;এমন কিছু করবেন না।"

নূর আদ্রিয়ানের কাছ থেকে সরে যাওয়ার জন্য মোচড়ামুচড়ি করার চেষ্টা করতেই আদ্রিয়ান নূরকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দেয় মুহুর্তেই। আদ্রিয়ান এগিয়ে আসতে আসতে নূরের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,

"আজ তোমার নিস্তার নেই আমার কাছ থেকে। চড়ুই!"

শেষের "চড়ুই" শব্দটি নূরের কানে আসতেই শরীর কেঁপে উঠে।

________

ইলহাম সবেমাত্র ফিরেছে , আজ সকাল থেকেই মেজাজ খুব খারাপ তার।শত্রুপক্ষের দল বেশিই উড়ছে ইদানীং। গত দুদিন পনেরো লাখ টাকার লস হয়েছে তার। পায়রা ইলহামের জন্য খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছে কখন ফিরবে সে। এই নতুন বাড়িতে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ নেই। সারাদিন একা একা কাটাতে ভালো লাগে না পায়রার। নূরের ফোন ভেঙে যাওয়ায় তার সাথেও কথা বলতে পারছে না।ইলহামকে দরজা খুলে ভেতরে আসতে দেখে পায়রা এগিয়ে গেলো ইলহামের কাছে।প্রতিদিনের মতো ইলহামের কাছে এসে দাঁড়ালো। ইলহাম প্রতিদিন নিয়ম করে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ও ফেরার পর পায়রার কপালে ভালোবাসার পরশ একেঁ দেয়, তবে আজ ভিন্ন।আজ সে পায়রাকে উপেক্ষা করে চলে যায় নিজের ঘরে। যতই চিন্তায় থাকুক না কেন ইলহাম, কখনো পায়রাকে উপেক্ষা করে চলে না তবে আজ এমন কি হলো যে ইলহাম তার উপস্থিতিতে বিরক্তবোধ করছে। ইলহাম ফোন হাতে নিতেই দেখতে পেলো চিরচেনা একটা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে,

" তোর প্রাণপাখিকে সামলে রাখিস ইলহাম শাহ।নাহয় দেখা যাবে, পাখি অন্য খাঁচায় বন্দী হয়ে আছে।"

যা দেখে ইলহামের মেজাজ বিগড়ে গিয়েছে।মেসেজে লিখা উক্ত বাক্যটি দেখে ইলহামের বুঝতে বাকি রইলো না এসব কে করছে।হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আসছে তার। এর মাঝেই পায়রা চা নিয়ে এসেছে তার জন্য।

"আপনার কি শরীর খারাপ?কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করছেন?"

এই মুহুর্তে পায়রার কথাও বিরক্ত লাগছে ইলহামের। সে নিজেকে সামলে বললো,

"কিছু হয় নি।আমাকে একটু একা থাকতে দাও।"

পায়রা দমে গেলো না ইলহামের কথায়।বরং জোর দিয়ে বললো,

" কি হয়েছে খুলে বলুন আমায়। কি নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করছেন? "

" বলছি তো কিছু না।কিছুক্ষণ একা থাকলে ঠিক হয়ে যাবো।"

" একা একা নিজের ভেতর গুমড়ে ম'রলে কোন কিছুই ঠিক হবে না। আপনি আমাকে খুলে বলুন কি হয়েছে।"

পায়রার নাছোড়বান্দা কথায় ইলহাম নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পায়রার এগিয়ে দেওয়া চায়ের কাপ হাত থেকে নিয়ে মেঝেতে ছুড়ে মারে।

"একবার বললে কানে যায় না তোমার? এত জেদ কেন তোমার,তোমার এসব জেদ দেখতে দেখতে আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছি। যেদিন থেকে আমার জীবনে এসেছ সেদিন থেকে একটা না একটা ঝামেলা লেগেই রয়েছে। আমি জাস্ট বিরক্ত তোমার এসব কর্মকাণ্ডে। "

ইলহামের কথায় পায়রা অশ্রুসিক্ত চোখে ইলহামের দিকে তাকিয়ে বলে,

"আমি আপনাকে বিরক্ত করি? আপনার জীবনে আসা টা কি আমার ভুল? "

" হ্যাঁ ভুল। চলে যাও আমার চোখের সামনে থেকে।"

পায়রা কথা বাড়ালো না আর। চুপচাপ বেরিয়ে গেলো সেই ঘর থেকে।বেশ কিছু সময় ইলহাম নিজের চুল আঁকড়ে ধরে বসে রইলো। পায়রার সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। ইলহাম উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে বাকি ঘরগুলোতেও খুঁজে দেখলো পায়রাকে কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওয়া গেলো না।

" পায়রার সাথে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি আমার। রাগের মাথায় কতকিছু বলে ফেললাম।"

ছাঁদসহ বাগান সবজায়গায় খুঁজেও পায়রার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পেলো না ইলহাম।চিন্তায় কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে তার। মন কেমন অস্থির অস্থির লাগছে।রাত বাজে দুটো, এই সময় কোথায় খুঁজবে সে পায়রাকে।হঠাৎ মনে পড়লে স্টোর রুমে খোঁজা হয়নি। দৌড়ে গেল স্টোর রুমের সামনে কিন্তু দেখতে পেলো দরজা বন্ধ। ভেতর থেকে লক করে রাখা হয়েছে। ইলহাম বুঝতে পারলো পায়রা এই ঘরেই আছে, তাই সে দরজায় কড়া নেড়ে পায়রাকে ডাকলো,

"পায়রা,দরজা খুলো বউ।আমার ভুল হয়ে গিয়েছে, আমার ওইভাবে কথা বলা উচিৎ হয়নি।"

ইলহামের আকুতি মিনতিতেও ভেতর থেকে কোন শব্দ শুনতে পাওয়া গেলো না। ইলহাম কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করলো কিন্তু তবুও কোন ফল পাওয়া গেলো না।অত:পর আর কিছু না ভেবে দরজা ভাঙার প্রস্তুতি নিলো সে।দুই তিনবার ধাক্কা দেওয়ার পরেই দরজা খুলে গেলো।ইলহাম দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে দেখলো পায়রা মেঝেতে কাঁতরাচ্ছে।মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে তার। হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে পেয়ে ইলহাম বাকরূদ্ধ। সে কাঁপা কাঁপা পায়ে পায়রার কাছে এগিয়ে গেলো।পায়রার মাথা নিজের কোলে নিয়ে ভাঙা স্বরে বললো,

" কি করেছো তুমি পায়রা? কেন করলে এমনটা? "

পায়রার অধরযুগলে হাসি ফুটে উঠলো, সে আধো আধো চোখে তাকালো ইলহামের দিকে। অত:পর বলে উঠলো,

"আ-আ-আপনি তো বলেছিলেন যেন চলে যায় আপনার জীবন থেকে। তাই আপনার ই-ইচ্ছেটা পূরণ করে দিলাম। এখন আ-আর আপনার জীবনে কোন ঝা-ঝামেলা থাকবে না। পা-পায়রা নামক ঝামেলা থেকে চিরদিনের জন্য চিরদিনের জন্য মুক্তি দি......দিয়ে দিলাম আপনাকে।"

ইলহাম চোখের জল মুছে হুট করে কেঁদে উঠে বললো,

" আমার মতো একজন মানুষের কথায় এতো গুরুত্ব কেন দিলে পায়রা? আমার মত একজন নিকৃষ্ট মানুষের কথায় তুমি নিজের জীবন দিয়ে দিচ্ছো?আমি তো তোমাকে ছাড়া বাঁচতে চাই না। "

পায়রার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, ইলহাম পায়রাকে কোলে নিয়ে উঠলে গেলে দেখতে পায় বি'ষের বোতল গড়াগড়ি করছে মেঝেতে।ইঁদুর মা'রার বি'ষ খেয়েছে পায়রা। হাতের সামনে আর কিছু না পেয়ে এই পথ বেছে নিয়েছিলো সে। ইলহাম পায়রাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে নিজের ফোন বের করে কল করে তার দলের ছেলেদের।

" দ্রুত হাসপাতালে আয় তোরা। "

মুহুর্তের মাঝেই ইলহাম পায়রাকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যায়। হাসপাতালে ডাক্তার নেই, রয়েছে কিছু নার্স। ইলহামের দলের ছেলেরা আসতেই তাদের সাথে ডাক্তার ও চলে এসেছে।ডাক্তার ডেকে নিয়ে এসেছে তারা। ডাক্তার পায়রাকে দেখে তারাতাড়ি ICU তে নিয়ে যায়।ইলহাম বাহির থেকে চিন্তায় গুমরে ম'রছে। চারদিকের চিন্তা ভাবনা তাকে ঘিরে ধরেছে।

ঘন্টা দুয়েকের মাঝে ডাক্তারকে বেরোতে দেখে ইলহাম দৌড়ে তার কাছে এসে জিগ্যেস করলো,

" ডাক্তার আমার স্ত্রী কেমন আছে?"

"ঠিক সময়ে নিয়ে আসায় বড়ো কোন ক্ষতি হয়নি।বি'ষ তেমন শক্তিশালী না হওয়ায় খাওয়ার পরেও তেমন একটা এফেক্ট করেনি। এখন সুস্থ আছে ওয়াশ করার পর।"

"আমি দেখা করতে পারবো তো?"

"হ্যাঁ যান, দেখা করে আসুন।"

ইলহাম ধীর পায়ে এগিয়ে এলো পায়রার কাছে।পায়রা ওপাশ করে ফিরে আছে, তার দিকে তাকাচ্ছে না।ইলহাম স্মিত হেসে বললো,

"আমার উপর এতো রাগ,যে একদম আমায় ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলে।"

পায়রা তখনো চুপ করে অন্যদিকে ফিরে রয়েছে।তার চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। ইলহাম পায়রার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো,

"একবার আমার দিকে তাকাও পায়রা।আমি কথা দিচ্ছি তার কখনো এভাবে কথা বলবো না।"

পায়রা কান্নার ঢোক গিলে বললো,

" আমি তো আপনার জীবনের ঝামেলা। বাঁচালেন কেন?"

চলবে,,,,,,,

যারা ইলহামের সংসার সুখের বলছিলেন তারা দেখুন আমি আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছি

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন