#মন_প্রাঙ্গণের_বৃষ্টি
#লেখনীতে_কংকা_চৌধুরী
(২৪)
কপি করা নিষিদ্ধ।
আদ্রিয়ানের মুখ থেকে এ কথা শুনে নূর উঠে দাঁড়ালো ধুলো বালি ঝেড়ে, আদ্রিয়ান ক্রুদ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে তার দিকে। রাহেলা শাহ ব্যঙ্গার্থ স্বরে আদ্রিয়ানকে বললেন,
"জিগ্যেস করো এই ভরদুপুরে কোথায় গিয়েছিলো। কি এমন কাজ ছিলো যে ঘন্টা খানেক সময় লেগে গেলো ফিরতে?"
রাহেলা শাহ'র কথায় নূর উড়নার কোণা শক্ত করে চেপে ধরলো, অত:পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
"আমার কাজ ছিলো তাই বের হতে হয়েছে।"
আদ্রিয়ান কঠোর স্বরেই জিগ্যেস করলো,
"কি এমন কাজ ছিলো এই সময়ে? যার জন্য বাড়ি থেকে বের হতে হয়েছে?"
" আমি ঔষধ কিনতে গিয়েছিলাম। আমার প্রয়োজন ছিলো তাই বেরিয়েছি।"
" এক হাজার টাকার কি এমন ঔষধ প্রয়োজন ছিলো তোমার? বাড়ির পাশে ফার্মেসী থাকতে অতো দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কি ছিলো?"
নূর হাতের মুঠোয় থাকা ভাংতি টাকাগুলো আদ্রিয়ানের মুখ বরাবর ছুড়ে মারলো।
" আপনার এক পয়সাও অবৈধ খরচ করিনি আমি।বিশ্বাস না হলে গুণে নিন।"
রাহেলা শাহ নূরের এই কর্মকান্ডে তার দিকে তেড়ে এসে বললেন,
" শুনো মেয়ে, অতো বাড় বেড়ো না। দোষ করে আবার বড়ো বড়ো কথা বলতে লজ্জ্বা করছে না?"
" আমি কোন দোষ করিনি। আমার প্রয়োজন ছিলো তাই আমি বের হয়েছি।এতে দোষের কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না আমি।"
রাহেলা শাহ আদ্রিয়ানের কাছে এসে ক্রন্দনরত কন্ঠে বললো,
" এই ব্যবহারের পরেও চুপ করে থাকবে? তোমার সামনে তোমার মায়ের সাথে কেমন ব্যবহার করছে। তুমি না থাকলে তো আমায় নিজের বাড়ি থেকেই বের করে দিবে।"
এতোদিনে নূর বুঝে গিয়েছে রাহেলা শাহ'র চালচলন।আদ্রিয়ান মায়ের কথায় রাগান্বিত হয়ে নূরকে কোনকিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বললো,
" আজ থেকে এই বাড়ির দরজা তোমার জন্য চিরকালের মতো বন্ধ। "
নূর এক পলকে তাকিয়ে রইলো আদ্রিয়ানের পানে।অত:পর কিছু একটা ভেবে হাতের চুরি দুখানা হাত থেকে খুলে ছুড়ে মারলো আদ্রিয়ানের পায়ের সামনে।নূর চুরি খুলে ফেলায় আদ্রিয়ান অবাক হলো বেশ। কথিত আছে, বিবাহিত মেয়েদের চিহ্ন হলো হাতের চুরি আর নাকের নথ ।নূরকে চুরি খুলতে দেখে বুকের মাঝে অজানা ঢেউ উথাল-পাতাল করতে লাগলো। সুরাইয়া শাহ লাঠিতে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে নূরের কাছে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,
" ও বউ, আদ্রিয়ান পোলা মানুষ। রাগের মাথায় একটু আধটু বইলা ফেলছে দেখে তুমিও ওমন বাচ্চা মানুষের মতো করবা? হাতের চুরি খুললে স্বামীর অমঙ্গল হয়, চুরি পরো নূর।"
নূর দুহাতে চোখের জল মুছে এক কদম পিছিয়ে গেলো।
" যে পুরুষ কোনকিছু বিবেচনা না করে তার স্ত্রীর চরিত্রে কলঙ্গের দাগ লাগাতে পারে আশা করি সে পুরুষ কখনো স্বামী হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। স্বামী হতে হয় আগলে রাখার মতো, যে কিনা সব ঝড় সামলে তার স্ত্রীকে আগলে রাখবে; তার ভালো মন্দের খোঁজ রাখবে। "
আদ্রিয়ান চুপ করে তাকিয়ে রইলো নূরের দিকে, নূর এবার আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,
" এতোদিন আপনার সব অত্যাচার সহ্য করেছি আমি। মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি দিনের পর দিন।কিন্তু আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়। আপনার মতো একজন নিকৃষ্ট মনের মানুষের সাথে থাকার চেয়ে রাস্তায় থাকা শ্রেয়। "
আদ্রিয়ান দাঁতে দাঁত খিঁচে দাঁড়িয়ে রইলো, নূর তার শেষ চিহ্নটুকু খুলে ফেলে দিতেই আদ্রিয়ানের মেজাজ তুরঙ্গে উঠে যায়। সে তার আত্মসম্মান ধরে রাখতে নিজের ঘরে যেতে যেতে বলে উঠলো,
" চলে যাচ্ছো চলে যাও, দিনশেষে বেহায়ার মতো ফিরে আসতে যেন না হয়।আদ্রিয়ান শাহ এক কথার মানুষ। "
" আমার জীবন চলে গেলেও আপনার মতো একজন মানুষের কাছে কখনো ফিরবো না।"
নূর উল্টো পথে হাটা শুরু করেছে, এক বার ও ফিরে তাকালো না পিছনে।আদ্রিয়ান সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে একবার পিছন ফিরে তাকালো, কিন্তু নাহ! নূর দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে সব পিছুটান ফেলে। রাহেলা শাহ ফ্লোর থেকে টাকাগুলো কুড়িয়ে নিল, ফ্লোরে পরে থাকার চুরি ও নাকফুল সে ফেলে দিলো দরজার বাইরে। সুরাইয়া শাহ তা দেখে আফসোসের সুরে বললেন,
" তোমার ভাগ্যে ভীষণ দুর্গতি রয়েছে রাহেলা। ছেলের সংসারটা এভাবে না ভাঙ্গলেও পারতে। "
" আমি আদ্রিয়ানের ভালোর জন্যই করেছি সব।আদ্রিয়ানের জন্য আমি আরও ভালো ঘরের মেয়ে আনবো। না বুঝে ছোটলোক বাড়ির মেয়ের সাথে জড়িয়ে পরেছে। আদ্রিয়ান এই বিয়েতে সুখী নয় আম্মা।"
" তুমি একদিন খুব পস্তাবে রাহেলা। আদ্রিয়ান প্রথম প্রথম হয়তো ভালবাসেনি কিন্তু ধীরে ধীরে সে দুর্বল হয়েছে নূরের প্রতি যা তুমি লক্ষ্য করোনি।"
" এসব আপনার ভ্রান্ত ধারণা আম্মা। আদ্রিয়ানের জন্য তাই ভালো হবে যা আমি চাইবো।"
সুরাইয়া শাহ আর কথা বাড়ালেন না, রাহেলাকে বোঝানো আর সম্ভব নয় বুঝে গিয়েছেন।রাহেলা শাহ চলে যেতেই তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে দরজার সামনে এলেন ফেলে দেওয়া চুরি ও নাকফুল কুড়িয়ে নিতে।তার বিশ্বাস আদ্রিয়ান নূরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।
অশান্ত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আবির্ভাব ঘটেছে,গ্রামীণ রাস্তা হওয়ায় চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছে,নূর হেঁটে চলেছেন নিজের মত, গলাটা শুকিয়ে গিয়েছে ভীষণ চেষ্টা পেয়েছে। শাহ বাড়ি থেকে নূরের বাড়ি অনেকটা দূরে। পাশে একটা চায়ের দোকান দেখতে পেয়ে নূর থামলো সেই দোকানের সামনে,মধ্য বয়স্ক মহিলা চালায় দোকানটি।নূর বিব্রতবোধ করছে তার সামনে যেতে। নূরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেই মহিলা নিজ থেকেই আগ বাড়িয়ে জিগ্যেস করলো,
" কি মেয়ে, কোন সমস্যা? "
নূর আমতাআমতা করে বললো,
" একটু পানি পাওয়া যাবে? আসলে গলা শুকিয়ে গিয়েছে।"
" এইখানে পানির বোতল রয়েছে, খেয়ে নাও।"
নূর একটা টুলে বসে বেশ অর্ধেকটা পানি খেলো, সেই মহিলা চা বানাতে বানাতে নূরকে উদ্দেশ্য করে বললো,
" এই সন্ধ্যায় একা একা কি করছো,তাও একা রাস্তায়। যদি কোন বিপদ ঘটে?"
" আমার বাড়ি বেশি দূরে না।আমি ঠিক চলে যেতে পারবো।"
" দিনকাল ভালো না।একা বের হতে গেলে কেন? এই সময় রাস্তাঘাটে কত বখাটে ছেলেপুলে থাকে; ধারণা আছে?"
উনার কথা শুনে নূর কিছুটা ভয় পেলো, মনে মনে আল্লাহ'কে ডাকতে লাগলো যেন কোন বিপদ না হয়।আদ্রিয়ান নিজের ঘরেই বসে ছিলো,মনটা কেমন অশান্ত লাগছে তার,ভীষণ অস্থির অস্থির লাগছে। কোন কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।নিজেই তো বের করে দিয়েছে নূরকে তবে কেন এমন শূন্য শূন্য লাগছে। মনকে এসব চিন্তাভাবনা থেকে দূরে রাখতে সে অফিসের ফাইল বের করলো কিন্তু ঠিক করে একটা কাজ ও করতে পারছে না। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে সে তাকাতেই দেখতে পায় সুরাইয়া শাহ এসেছেন। তিনি ধীরপায়ে এগিয়ে আসলেন আদ্রিয়ানের কাছে।শরীরে তেমন জোর নেই বিধায় আজকাল ঠিকভাবে চলাফেরা করা সম্ভব হয় না। সারাক্ষণ শুয়ে বসেই কাটাতে হয়। আদ্রিয়ান তাকে দেখে ফাইলপত্র সরিয়ে রাখলো।
" কি করছো দাদুভাই?"
" এইতো কাজ করছিলাম। কিছু বলবে?"
সুরাইয়া শাহ বেশ নরম সুরে বললেন,
" রাগের মাথায় মেয়েটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে, এখন যে রাত হয়ে আসছে, রাস্তাঘাটের অবস্থা তো ভালো না। না জানি কোন সময় কি বিপদ হয়ে বসে। তুমি একটু বুঝিয়ে শুনি এ মেয়ে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনো।"
আদ্রিয়ান দৃষ্টির সরিয়ে কঠোর স্বরে বললো,
" সে নিজের ইচ্ছেতেই গিয়েছে, আমি কেন ফিরিয়ে আনবো।"
" রাগ, অভিমান, আত্মসম্মান সবকিছুর ঊর্ধ্বে সে তোমার স্ত্রী আদ্রিয়ান। আর যদি তার কোন ক্ষতি হয়ে যায়,নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে? রাগ অভিমান ফেলে মেয়েটাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনো।"
আদ্রিয়ানের মন তবুও গললো না সুরাইয়া শাহ'র কথায়। সে অন্যদিকে তাকিয়ে বসে আছে। সুরাইয়া শাহ নাতির অবস্থা বুঝতে পেরে বললেন,
" সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে আসছে, এভাবে একা একটা মেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে বিষয়টা কেমন দেখাবে বলো? শত হোক নূর তো তোমার স্ত্রী।"
আদ্রিয়ান নিজেও চাইছিলো বেরাওতে কিন্তু নিজের আত্মসম্মানের কথা ভেবে এতোক্ষণ যাবত সে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।তবে এখন সুরাইয়া শাহ'র কথা শুনে সে কপট রাগ দেখিয়ে ফোন পকেটে ঢুকিয়ে বললো,
" ঠিক আছে আমি যাচ্ছি নূরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। তুমি বলছো দেখেই কিন্তু আমি যাচ্ছি।"
সুরাইয়া শাহ স্টাডি টেবিলের উপরে রাখা ভাতের প্লেট দেখে আলতো হেসে বললেন,
" ঠিক আছে।"
সেই বিকেলে রাখা প্লেট যেমন রেখে গিয়েছিলো রাহেলা ঠিক তেমনি রাখা আছে,আদ্রিয়ান ছুঁয়েও দেখেনি তারমানে।আদ্রিয়ান বেরিয়ে যেতেই সুরাইয়া শাহ সেই প্লেট নিয়ে বেরিয়ে এলেন।আদ্রিয়ানের অবস্থা টের পেয়ে তিনি মৃদু হাসলেন।যখনি সে কোন বিষয় নিয়ে উদিগ্ন হয় তখন সে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না।আদ্রিয়ান বাইক স্টার্ট দিতে গিয়ে দেখলো তেল শেষ। এই মুহুর্তেই সব শেষ হতে হলো। আর উপায় না পেয়ে হেঁটেই রওনা দেয়। নূর অন্ধকার রাস্তায় হাঁটছে, তাদের বাড়ি যেতে হলে দুটো রাস্তা দিয়েই যাওয়া যায়। একটা পাকা রাস্তা ও আরেকটা ছোট রাস্তা যেখানে ঝুলন্ত ব্রিজের খাল পার করে যেতে হবে।পাকা রাস্তায় গেলে ঘন্টা খানেক সময় লাগবে তাই নূর সেই ব্রিজের সামনে যেতে নিলে দেখতে পায় হারিকেন জ্বালিয়ে কিছু দূরেই তিন-চার জন ছেলে জুয়া খেলছে। নূর তা দেখে ঢোক গিলে উল্টো পথে রওনা হলো। নূরকে দেখে সেখান হতে একটা ছেলে তার পিছু পিছু চলতে শুরু করলো। হাতে কোন ফোন না থাকায় অন্ধকারেই চলতে শুরু করেছে নূর।পেছন থেকে ছেলেগুলো নূরকে টিটকারি মারতে শুরু করলো। বিপদ ঘনিয়ে এসেছে বুঝতে পেরে নূর দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। হঠাৎ কেউ একজন তার হাত খপ করে ধরায় সে ভয় পেয়ে যায়। পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় চারজন থেকে একটা ছেলে বাঁকা হেসে তার হাত ধরেছে।নূর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করায় ছেলেটি বিশ্রী রকম হেসে বললো,
" কোথায় যাচ্ছো সুন্দরী।"
এক বিপদ যেতে না যেতেই আরেকটা হাজির।নূর হাত ছাড়াতে নিলে বাকি তিনজন ও এগিয়ে আসলো, নূর কম্পিত স্বরে বললো,
" আমি কিন্তু চিৎকার করবো।ছাড়ুন আমায়।"
" তোমার কি মনে হয়, এই নির্জন রাস্তায় তোমার কোন আশিক এসে বাঁচাবে তোমায়।"
উক্ত কথা বলার সাথে সাথেই ছেলেগুলো ভয়ে নূরের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। হঠাৎ কি এমন হলো যে তাদের মুখশ্রী বদলে গেলো।পেছনে কারো উপস্থিতি টের পেতেই নূর তাকিয়ে দেখলো র'ক্তচক্ষু নিয়ে আদ্রিয়ান তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
" আদ্রিয়ান ভাই আপনি এখানে!"
আদ্রিয়ান কোন কথা না বলে যে ছেলেটি নূরের হাত ধরেছে তার হাতের আঙ্গুল উল্টো দিকে মুচড়ে দিলো। মুহুর্তেই গগন কাঁপানো চিৎকার দিয়ে উঠলো ছেলেটি। এমনভাবে ভেঙেছে যেন হাতের আঙ্গুল থেতলে গিয়েছে। বাকি ছেলেগুলো সেই ছেলেটির অবস্থা দেখে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো। আদ্রিয়ান পেছন ফিরে নূরের দিকে তাকিয়ে দেখলো নূর সোজা পথে চলে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান তার কাছে এসে পথ আটকে বললো,
" বাড়ি ফিরে চলো।"
নূর নিজের মতো এগিয়ে চলছে যেন সে আদ্রিয়ানের কথা শুনতেই পায়নি। আদ্রিয়ান নূরের হাত ধরে তার কাছে টেনে নিয়ে রাগান্বিত স্বরে বললো,
" মাঝরাস্তায় তামাশা না করে বাড়ি চলো। আজ এমনিতেই অনেক রঙ তামাশা করে ফেলেছো।"
" আমি তামাশা করছি? আমি আপনার সাথে ওই বাড়িতে ফিরবো না। কখনো না। "
" নূর! আমার মাথা খারাপ করো না।বাড়ি চলো।"
"কোন বাড়ি? আমি কোথাও যাবো না আপনার সাথে, আপনার সাথে আর একদিন থাকাও সম্ভব না। আমি চলে যাচ্ছি আমার বাপের বাড়ি।"
আশেপাশের মানুষ জমা হয়ে দেখছে তাদের।আদ্রিয়ান নূরের কথায় তার গাল চেপে ধরে বললো,
" তোর ভাগ্য ভালো, তোকে আমি নিতে এসেছি।নাহয় তোর মতো মেয়েকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোন ইচ্ছেই নেই আমার।নাটক বন্ধ করে চল আমার সাথে।"
চলবে,,,,,,
রেসপন্স করবেন সবাই।